Page

Follow

মহাবিশ্বের উদ্ভব : দুর্ঘটনা না সুপরিকল্পনা ? বৈদিক মহাবিশ্বতত্ত্ব। (Vedic Cosmology),বেদান্তের ‘বিগ-ভিশান’*মন্ডেল। PAGE-45

 

 বৈদিক মহাবিশ্বতত্ত্ব। (Vedic Cosmology),বেদান্তের  ‘বিগ-ভিশান’*মন্ডেল। PAGE-45




সৃষ্টির সাথে সাথে সৃষ্টি সম্বন্ধে জানা ও সৃষ্টিকে ব্যবহার করার ম্যানুয়াল বা নির্দেশিকা বৈদিকশাস্ত্র স্মরণাতীতকাল পূর্বে দেওয়া হয়েছে । মহাবিশ্বতত্ত্ব অবগত হওয়ার জন্য বৈদিক শাস্ত্রে রয়েছে ‘বিগ ভিশন’ মডেল। 


মহাবিশ্ব যে মেটেরিয়াল নেচার বা জড়াপ্রকৃতির থেকে উদ্ভূত, সেই জড়াপ্রকৃতি পরমপুরুষ পরমেশ্বর ভগবানের অধ্যক্ষতায় সব কিছু সম্পাদন করে, তিনিই সবকিছুর ইনটেলিজেন্ট ডিজাইনার’, বুদ্ধিমান রূপকার, উৎস। বৈদিকশাস্ত্রে রয়েছে সেই তথ্য; ভগবদ্গীতায় তিনি স্বয়ং ব্যাখ্যা করেছেন সবকিছু।



আধুনিক যুগে মানুষ নিজেদের ইন্দ্রিয়-পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্য বা সেন্সরি ডেটা দিয়ে পরম সত্যে পৌঁছাতে আগ্রহী ; সেজন্য তারা তাদের নিজেদের জল্পনা কল্পনা দ্বারা রচনা করে চলেছে নানা মতবাদ —বিগ ব্যাং থিওরী, এম-থিওরী ইত্যাদি। 


আমরা এই অধ্যায়ে দেখেছি অবিতর্কিত সত্যে পৌঁছানাের পরিবর্তে কেবল জল্পনা আর ভ্রান্তির ঘেরাটোপে পথ হারিয়েছে জড়বিজ্ঞান।


বৈদিক মহাবিশ্বতত্ত্বের অসীম গভীরতা ও ব্যাপ্তি পাশ্চাত্যের মনীষাকে বিস্ময়-বিমুগ্ধ করেছে। আধুনিক ইংরাজী কবিতার জনক কবি টি.এস.এলিয়ট থেকে শুরু করে এরভিন শ্রয়েডিংগার, পরমাণু বিজ্ঞানী ওপেনহাইমার, আইনস্টাইন, এবং রাষ্ট্রপতি ও পরমাণু বিজ্ঞানী ডঃ আবদুল কালাম উপনিষদ ও ভগবদ্গীতার বিস্ময়কর তত্ত্ববিজ্ঞানের প্রতি তাঁদের মহা সন্ত্রম ব্যক্ত করেছেন।


 বিশ্ববিশ্রুত চিন্তাবিদ হেনরি ডেভিড থরাে বলেন ঃ “In the morning I bathe my intellect in the stupendous and cosmogonal philosophy of the Bhagavadgita, in comparison with which our modern world and its literature seen  puny and trivial.


” অর্থাৎ “প্রভাতবেলায় আমি আমার বুদ্ধিকে ভগবদগীতার মহাবিস্ময়কর ও মহাজাগতিক দর্শনে নিস্নাত করি, যে-দর্শনের সঙ্গে তুলনায় আমাদের আধুনিক বিশ্ব ও তার সমগ্র জ্ঞানভান্ডারকেনিতান্তই ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ বলে মনে হয়।



”বৈদিক মহাবিশ্বতত্ত্বের অসীম ব্যাপ্তির তুলনায় মাইক্রোস্কোপ ও টেলিস্কোপ নির্ভর বিজ্ঞানীদের জড়-জ্ঞানের ক্ষুদ্র পরিধি এবং তাঁদের তথাকথিত মনােগত জল্পনা-কল্পনা (Mental Speculations') এবং বৌদ্ধিক কসরৎ ('Intellectual wranglings') অত্যন্ত puny and trivial (ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ) বলে প্রতিভাত হয়, জানিয়েছেন গীতা-প্রেমী থরাে।



বিগ ব্যাং নয়, ব্রহ্মান্ডের শুরু ধ্বনি বা শব্দ থেকেঃ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিকতম তথ্য



আদৌ বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ হয় নি। বিস্ফোরণ দিয়ে নয়, বরং ব্রহ্মান্ডের প্রকাশ হয়েছে ধ্বনিতরঙ্গ দিয়ে। এমনই জানাচ্ছেন বর্তমানের অগ্রগণ্য বিশ্বতত্ত্ববিদ বিজ্ঞানীরা। নাসার মহাকাশযানের ‘হাইরেজোলুশন ম্যাপিং' থেকে প্রাপ্ত ডেটা বা তথ্যসম্ভার থেকে মহাজাগতিক ধ্বনিতরঙ্গের মডেল পুনর্গঠন ও বিশ্লেষণ করে জ্যোতির্বিদ্রা দেখেছেন যে ব্রহ্মান্ডের শুরু হয়েছে মহাবিস্ফোরণ নয়, একটি নিম্ন কম্পনের গুঞ্জন ধ্বনি থেকে (low moan')।


 এই সিদ্ধান্ত কি ওঁকার ধ্বনি তরঙ্গ থেকে বিশ্বপ্রকাশের বৈদিক মহাবিশ্বতত্ত্ব মডেলের অভ্রান্ততা প্রতিপন্ন করছে না? অবশ্য বেদ স্বতঃপ্রমাণ মরণশীল মানুষের জল্পনার উপর এর প্রামাণিকতা নির্ভর করে না। তবুও  সাম্প্রতিকতম সায়েন্টিফিক ডেটা বৈদিক মহাবিশ্ব সমর্থন করছে—এটি একটি সদর্থক দিক। প্রকাশিত খবরে বলা হয় ? 

“The Universe began not with a bang but with a low moan, building into a roar that gave way to a deafening hiss. And those sounds gave birth to the first stars, says an astronomer at the University of Virgnia in Charbttesvilla, Us, after reconstructing the cosmic cacophony from data teared out from the highresolution mapping by NASA space-craft.”

বৈদিকশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে পরম পুরুষ পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন জড়বস্তু, চিদ্বস্তু ও সমগ্র শক্তিজি —সবকিছুর পরম উৎস, পরম নিয়ন্তা (Supreme Controller), এবং সর্বকারণের কারণ (Cause of all causes)। সমগ্র সৃষ্টি-বৈচিত্র্য উৎসারিত হচ্ছে সেই সর্বকারণের কারণ আদি পুরুষ ভগবান থেকে।



 যেমন ব্রহ্মসংহিতায় বলা হয়েছেঃ


একোপ্যসৌ রচয়িতুং জগদন্ডকোটিং

যৎশক্তিরস্তি, জগদন্ডচয়া যদন্তঃ।। 

অভান্তরস্থং পরমাণুচয়া-অন্তরস্থং

গােবিন্দম্ আদিপুরুষং তমহং ভজামি।। 


“শক্তি ও শক্তিমান অভেদ, অভিন্ন—তাই পরমেশ্বর ভগবান এক তত্ত্ব। তার শক্তি কোটি কোটি ব্রহ্মান্ড রচনাকার্যে অপৃথরূপে (undifferentiated) বিদ্যমান। সমস্ত ব্রহ্মান্ড তাঁর মধ্যে বর্তমান এবং তিনি যুগপৎ সমস্ত ব্রহ্মান্ডের সকল পরমাণুর মধ্যে পূর্ণরূপে অবস্থিত ।


 সেই আদিপুরুষ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীগােবিন্দকে আমি ভজনা করি।” বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে, পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হচ্ছে পরমাণু । আর অসংখ্য তারা, ধুমকেতু, চন্দ্র, সূর্য ও গ্রহলােক (Planetary systems) সমন্বিত সুবিশাল ব্রহ্মান্ড (Universe) হচ্ছে বিশালাকায় এক একটি গােলক। 


আমরা যে ব্রহ্মান্ডে বাস করছি, তার ব্যাস ৬০০ কোটি কিলােমিটার। এইরকম ব্রহ্মান্ড একটি নয়, কোটি কোটি, অসংখ্য। সব পদার্থ ও শক্তির উদ্ভব-স্থল কারণ সমুদ্রে (Causal Ocean) কোটি কোটি ব্রহ্মান্ড-গুচ্ছ (Clusters of unixerse) বিদ্যমান। 


পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা পরমাণু নিয়ে গঠিত ব্রহ্মান্দ্রে সরকিছু। বিজ্ঞানী ডালটন পরমাণু আবিষ্কার করলেন এক শতাব্দীও হয়নি, কিন্তু বৈদিক শাস্ত্রে স্মরণাতীত কাল ধরে পরমাণু সম্বন্ধে তথ্য রয়েছে।


 অথচ গোঁড়া-ভাবাপন্নদের কাছে শাস্ত্র কল্পনা। বিশ্ববিশ্রুত চিন্তাবিদেরা চিরকাল বৈদিক শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্ভম পােষণ করে আসছেন। শ্রীমদ্ভাগবতেও নানা স্থানে পরমাণু সমন্ধে তথ্য রয়েছে, যেমন ৫.১৪.২৯ শ্লোকঃ “পরমাণু-আদিঃ” “পরমাণু দিয়ে সবকিছুর শুরু হয়েছে”;ষষ্ঠ স্কন্ধের ১৬ অধ্যায়ের ৩৬ শ্লোকে ?


পরমাণু পরমমহতাে-

স্বমাদ্যন্তান্তরবর্তী ত্রয়বিধুরঃ

আদ্বান্তেপিচ সত্ত্বানাং

যদ ধ্রুবং তদেবান্তরালেপি৷৷ 


“এই জগতে পরমাণু থেকে শুরু করে বিশাল ব্রহ্মান্ড এবং মহত্তত্ত্ব পর্যন্ত সব কিছুরই আদি, মধ্য এবং অন্তে আপনি বর্তমান রয়েছেন। অথচ আপনি আদি, অন্ত এবং মধ্য রহিত সনাতন। এই তিনটি অবস্থাতেই আপনার অবস্থা উপলব্ধি করা যায় বলে আপনি নিত্য। যখন জড় জগতের অস্তিত্ব থাকে না, তখন আপনি আদিশক্তিরূপে বিদ্যমান থাকেন।


” পরমাণু পরমমহতাে—'পরমাণুর সমন্বয়ের ফলে রচিত এই ব্রহ্মান্ড সহ কোটি কোটি ব্রহ্মান্ড নিয়ে গঠিত জড় মহাবিশ্ব (Material World), সমগ্র জড় জগৎ— যার অকল্পনীয় বিস্তার মানবীয় বুদ্ধির অগম্য। 


আর এই জড় জগৎ, জড়মহাবিশ্ব ভগবানের বহিরঙ্গা শক্তিতে (External nature) স্থিত। পরমাণু (atom) ও পরমাণু দিয়ে তৈরী পদার্থ (matter) এবং শক্তি (Energy) ভগবানের অপরিমেয় বুদ্ধিমত্তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 



ভগবানের সেই বুদ্ধিমত্তার অভিব্যক্তি দর্শন করেছেন নিউটন ,আইনস্টাইন। আইনস্টাইন বুঝতে পেরেছিলেন যে মানবীয় ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের পক্ষে প্রকৃতিতে অভিব্যক্ত সেই মহাবুদ্ধিমত্তার সামগ্রিক উপলব্ধি কখনােই সম্ভব নয় (I am trying to comprehend an infinitesimal part of intelligence manifest in nature") 


কিভাবে পরমাণু দিয়ে রচিত সমগ্র গ্রহ-নক্ষত্রপুঞ্জ, এবং বিপুলায়তন ব্রহ্মান্ডপুঞ্জ ভগবানের শক্তিতে বিদ্যমান থাকে? সকল উপনিষদের সার-নির্যাস স্বরূপ গীতােপনিষদে,ভগবদগীতায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে সবকিছুই ভগবানের দ্বারা গ্রথিত, আধারিত, ঠিক যেমন কোন মণিময় রত্নহারের মণিগুলি গ্রথিত থাকে একটি সূত্রে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন :-|

“হে ধনঞ্জয়! আমার থেকে আর শ্রেষ্ঠ কেউ নেই সূত্রে যেমন মণিসমূহ গাঁথা থাকে, তেমনই সমস্ত বিশ্বই আমাতে ওতপ্রােতভাবে অবস্থান করে।



” আধুনিক স্ট্রিং থিওরী কি কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এই সত্যের ? এই তত্ত্ব অনুসারে পরমাণুর নিউট্রন-প্রােটন-কোয়ার্কস্ ইলেক্ট্রন প্রভৃতিকে গ্রথিত রাখে এক সূত্রাকার বিশেষ শক্তি। সেজন্যই এই তত্ত্বের বিশেষ নামকরণ - ‘স্ট্রিং। পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্ব সাম্প্রতিকতম তত্ত্বগুলির একটি। 


মানুষকে এইবিষয়ে নিঃসন্ধিগ্ধ করতে অর্জুনের অনুরােধ মেনে ভগবান শ্রীকৃষও তাঁকে  তাঁর  বিশ্বরূপ(Universal Form) প্রদর্শন করেন।




 ভগবদ্গীতায় তার বিবরণ রয়েছে। ১৯৪৫এর ১৬ই জুলাই আমেরিকার লস্ আলাম সে প্রথম পরমাণু বােমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রাকৃতিকশক্তির ধ্বংসক্ষমতা প্রত্যক্ষ করে ওপেনহাইমার উচ্চারণ করেন গীতার বাণী, শ্রীকৃষ্ণের উক্তি –(“কালঃ কলয়তাম্ অহং”) “Time I am, the Destroyer” — তিনিই সর্বধ্বংসকারী কাল-শক্তি।

 বিজ্ঞানী কার্ল স্যাগান, জ্যোতির্বিদ ও কসমস বা মহাবিশ্ব নামক জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালের রচনাকার, গভীরভাবে বৈদিক কসমােলজির প্রতি আকৃষ্ট  হন। তিনি লেখেন । "The most sophisticated ancient cosmological ideas come from India. Hinduism [based on the Vedas] is the only religion in which time-scales correspond to scientific cosmology.


” অর্থাৎ “সবচেয়ে পরিশীলিত মহাবিশ্ব সম্পর্কিত ধারণা আসছে ভারত থেকে। হিন্দু ধর্মই (বেদভিত্তিক) একমাত্র ধর্ম যেখানে (বিশ্বের সৃষ্টি ধ্বংস-সম্পর্কিত) সময় সারণী বৈজ্ঞানিক মহাবিশ্বতত্তের সংগে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


”বৈদিক মহাবিশ্বতত্ত্ব অনুসারে আমাদের ব্রহ্মান্ডের উদ্ভব হয়েছিল 15.60*10^13 সৌর বছর আগে। পক্ষান্তরে আধুনিক মহাবিশ্বতত্ত্ব অনুসারে ব্রহ্মান্ডের সূচনা 15*10^9 বছর। আগে। বিগ-ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের মডেলের থেকে প্রাপ্ত বিশ্ব-উদ্ভবের সময়কাল থেকে বৈদিক শাস্ত্রের প্রদত্ত বিশ্বের সূচনাকাল 10^4 বছর আগে। 


বৈদিক শাস্ত্র ও বিগ ব্যাং থিওরি —উভয় তত্ত্ব অনুসারেই জড় বিশ্বব্রহ্মান্ড নির্দিষ্ট সময়কাল পরে ধ্বংস হয়ে যাবে।। বিজ্ঞানীরা যাকে বলেন ‘বিগ ক্রাঞ্চ, বৈদিক শাস্ত্রে তাকে বলা হয় মহাপ্রলয়। কিন্তু এখালেই ইতি নয়। ছন্দোবদ্ধ আবর্তন-চক্রে হবে আবার সৃষ্টি, আবার ধ্বংস, জড়া প্রকৃতিতে এইভাবে জ বিশ্বসমূহের উদ্ভব ও প্রলয় চলে শাশ্বত কাল ধরে —বৈদিক শাস্ত্রের তথ্য। 


কিন্তু প্রকৃতি যে দুটি, একটি জড়া প্রকৃতি (material nature) এবং অপরটি চিন্ময় প্রকৃতি, এবং উভয় প্রকৃত (Spiritual nature) থেকে জগৎ মহাবিশ্ব প্রকাশিত হচ্ছে —এই তথ্য জড়বিজ্ঞানে নেই। 



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline