জড় থেকে চেতনের রাজ্যে উত্তরণ। জড়-অনুভবের সীমানা ছেড়ে শাশ্বত জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ || Page-126

  জড় থেকে চেতনের রাজ্যে উত্তরণ।

 জড়-অনুভবের সীমানা ছেড়ে শাশ্বত জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ



আইজাক নিউটন তাঁর ‘Laws of Motion বা গতিসূত্র আবিষ্কার করার পর বলেছিলেন যে যদি কেউ তাকে বিশ্বের সমস্ত জড়পদার্থ-কণা এবং তাদের ‘Momenttum' বা ভরবেগ সম্বন্ধে তথ্য দিতে পারে, তাহলে তিনি জগতের সমস্ত কিছুর ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারবেন। নিউটন ভগবৎ-সচেতন ছিলেন, তাই তার এই মন্তব্য ছিল জড়পদার্থ সম্বন্ধে। বর্তমানের বিজ্ঞান নিউটনের মেকানিস্টিক কনসেপট নিয়েছে, বিকশিত করেছে, এবং ভগবৎ-চেতনা বর্জন করে আবর্তিত হচ্ছে পূর্ণ জড়বাদের পরিধিতে।।


জড় বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিশ্বজগত কেবল জড় পদার্থকণা ও শক্তির সমন্বয়। স্টান্ডার্ড। মডেল অনুসারে সেগুলি এইরকমঃ


মৌল জড় বস্তুকণা 

(Fundamental Particles)


SL No.ফার্মিয়নস পদার্থকণা
(Matter Particles)
বোসন শক্তিবাহক কণা
(Force Carrier Particles) 





1
 (a) গ্রুকন (b) ফোটন
(c)Z Bosons(d) W Bosons
(+গ্রাভিটি Gravitons) 






ফার্মিয়নস পদার্থকণা
(Matter Particles)


SL No.(a)কোয়ার্কস(b )লেপ্টনস 
1(i )ছয় ধরনের কণা(Particles)
(ii )ছয় ধরনের প্রতিকণা(Antiparticles)
 পরমাণুর প্রােটন ও নিউট্রন-
প্রতিটি 3 Quarks দিয়ে গঠিত।
(i )ছয় ধরনের কণা(Particles)
(ii )ছয় ধরনের প্রতিকণা
(Antiparticles) পরমাণুর প্রােটন
ও নিউট্রন-প্রতিটি 3
 Quarks দিয়ে গঠিত।



এই হচ্ছে বর্তমান জড়বিজ্ঞানে আবিষ্কৃত সমস্ত পদার্থ ও শক্তির সামগ্রিক রূপরেখা। বিজ্ঞানী অশােক সেন তার “সার্চ ফর এ ফাইনাল থিওরী অব ম্যাটার” বইয়ে (Resonance, Jan-2000, p-4) জানাচ্ছেন, এমন কোন নিশ্চয়তা নেই যে এই মৌল বস্তুকণা ও শক্তির চেয়ে উচ্চতর শক্তিসমূহ (Energies) নেই। বেশীদূর যেতে হবেনা, যিনি জড় নিয়ে পরীক্ষা করছেন, সেই চেতন জীববিজ্ঞানী নিজের কথা ভাবলেই সন্ধান পাবেন উচ্চতর শক্তির -তার ব্যক্তিত্বের, জৈবনিক বৃত্তির উৎস, জড়দেহে চেতনার অভিপ্রকাশের উৎস- জীবন, প্রাণ বা আত্মা। জড় পদার্থ বিজ্ঞানী' (dual matter) না, বিজ্ঞানী জড়পদার্থে গভীর রহস্য আবিষ্কার করে নােবেল পেতে পারেন, কিন্তু তিনি নিজে কি, বলতে পারবেন না।  মেকানিস্টিকল’জ অব নেচার সমগ্র জড় পরমাণু ও জড়জগতের বর্ণনা, ব্যাখ্যা, ভবিষ্যদ্বনী  দিতে পারে, কিন্তু একটি ক্ষুদ্র চেতন জীব—একটি পিপড়ে ছেড়ে দিলে সে কোন দিতে যাবে, কি করবে, দিতে পারবে না তার ভবিষদ্বাণী;কেননা ঐ পিপড়ে জীবটির ব্যক্তিতের চেতনার উৎস জড়বস্তু নয়, জড়নিয়মের অধীন নয়।।

‘হেরে গেলেন হকিং' শিরােনামের একটি সংবাদ-নিবন্ধে ৫ই মার্চ, ২০০৬ - আনন্দবাজারে পথিকগুহ লিখেছেন, কিভাবেন কবেতার স্বীকারােক্তিতে হকিং জানিয়েছেন মহাকর্ষ, তড়িৎচুম্বকীয় বল, দৃঢ় বল ও মৃদু বল —চারটি বলের একটি একমেবাদ্বিতীয়ম ঐক্য সূত্র বের করা অসম্ভব। 

পথিক গুহ লিখেছেন, “কেমন হয়, যদি ওসামা বিন লাদেন ঘােষণা করেন যে, তিনি বেছে নিয়েছেন অহিংস আন্দোলনের পথ? বা জর্জ ডব্লিউ বুশ কবুল করেন যে, ইরাকে হানা দেওয়ার জন্য তিনি অনুতপ্ত, ক্ষমা চাইবেন সাদ্দাম হুসেনের কাছে ?

 এরকম উলটপুরাণের মতন একটা কান্ড সম্প্রতি ঘটছে বিজ্ঞানের দুনিয়ায়। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের লুকাসিয়ান প্রফেসর, স্টিফেন উইলিয়াম হকিং এই মুহুর্তে জীবিত বিজ্ঞানীকূলে যিনি বিখ্যাততম —তিনি ঘােষণা করেছেন, এখন তার মনে হচ্ছে, পদার্থবিদ্যার চূড়ান্ত কোন সূত্রে পৌঁছানো, অর্থাৎ সব থিওরির মূল থিওরি আবিষ্কার, হয়তাে সম্ভব হবেনা কোন দিন।”

কিন্তু, বিজ্ঞানীদের বহুযত্নলালিত বিশ্বাস যে ঐ চারটি বলের ঐক্য সূত্রকারী তত্ত হবে ‘থিওরী অব এভরিথিং', সব কিছু ব্যাখ্যা করতে পারবে সেটি, সেই বিশ্বাসের যৌক্তিকতা কতটুকু ? 

ঐ জড়ীয় তত্ত্ব ছুঁতে পারবে জড় পদার্থকণা জড় শক্তি, কিন্তু জীব সত্তার গহন গভীরের চেতনার বর্ণালী আলােক ঝর্ণা ? প্রেম, ভালবাসা, আবেগ মহাসমুদ্রের নিয়ত উত্থানপতনশীল তরঙ্গ-বিভঙ্গ ? এই চেতন ক্ষেত্রকে সভয়ে এড়িয়ে চলতে বাধ্য পদার্থতত্তবিদ : জড়ের পরিধিতেই তার আবর্তন। তাই চেতন সবকিছু, এমনকি খােদ তার নিজ সত্তা তার কাছে অধরা। জড় বিজ্ঞানের অনতিক্রম্য সীমা এখানেই। পথিক গুহ লিখেছেন।

“স-অ-ব?না, সে জন্য অনেক বিজ্ঞানী,বিশেষত যারা জীববিদ্যা বা মনস্তত্তের গবেষক, আপত্তি জনান ‘এভরিথিং 'শব্দটায়। জীবনানন্দের লাইন ধার করে বলি, কোনও এক মানুষীর মনে / কোনও এক মানুষের তরে / যে-জিনিস বেঁচে থাকে হৃদয়ের গভীর গহূরে—তা কি কখনও ব্যাখ্যা করতে পারবে থিওরি অব এভরিথিং ? মনে হয় না। নামকরণের এই এ-টি মেনে নিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানীরা। তাদের সাফাই ঃ মাইন্ডনয়, তাদের বিচার্য শুধু ম্যাটার।”

ম্যাটার বা জড়ের সঙ্গে জীবন বা চেতন সত্তার পার্থক্য কতটুকু? একটি জীবিত ব্যক্তির সাথে একটি মৃতদেহের পার্থক্যের সমান বললে আংশিক বলা হয়। মৃতদেহকে কেউ অলঙ্কারে  ভূষিত করে না। তেমনি ম্যাটারকে জানাই জানার সীমা নয়, সেই জ্ঞান গৌরবের নয়। চেতন সত্তাকে জানা না হলে সেই অন্ধ ভৌতিক জ্ঞান কেবল তমিস্রা।


Click Here >>>Subscribe






Comments

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner