Follow

হাঙ্গরের দেহে আধুনিকতম টেকনােলজির ইলেকট্রো-সেন্সর।Page-90

  হাঙ্গরের দেহে আধুনিকতম টেকনােলজির ইলেকট্রো-সেন্সর।



 এই পৃথিবী গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্রের বিভিন্ন রেখার উপর সমুদ্রের আয়ন-সমৃদ্ধ জল সঞ্চালিত হয়, ফলে কোনাে একটি স্থানের আশপাশের একটি ক্ষীণ কিন্তু সুন্দরভাবে চিত্রায়িত একটি বৈদ্যুতিক ম্যাপ তৈরী হয়। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য জানতে পারছেন কয়েক দশক ধরে। মানুষ পূর্বে না জানলেও সেই ইলেকট্রিক ম্যাপকে ব্যবহার করার অতি সূক্ষ্ম, নিখুঁত ও শক্তিশালী ইলকেট্রিক রিসেপ্টর যন্ত্র ব্যবহার করছে, মহাসমুদ্রের হাঙর। 


হাঙরের দেহে ইলেট্রিক্যালি চার্জড মলিকিউল ইলেকট্রোলাইট’ থাকে। পার্শ্বরেখা বরাবর বিন্যস্ত রয়েছে ইলেকট্রিক্যালি কন্ডাক্টিভ সেল বা বিদ্যুৎ-পরিবাহী কোষের সারি, যাদের বলা হয় অ্যাম্পুলাস। চারপাশের ইলেকট্রিক্যাল পােলারিটি বা বৈদ্যুতিক মেরুর সামান্য পরিবর্তনও এই কোষে ধরা পড়ে, তৈরী হয় মৃদু ইলেকট্রিক চার্জ, ফলে নিউরাে-ট্রান্সমিটারগুলি বিমুক্ত হয়ে নিকটবর্তী সেন্সরি নার্ভস বা স্নায়ুমন্ডলকে বার্তা পাঠায়, যা সেই বার্তা নিয়ে যায় মস্তিষ্কে। সেখানে তা বিশ্লেষণ করে শার্ক, হাঙর। 


হাঙর যখন জল দিয়ে যায়, তখন এইভাবে ২ কিলােমিটার দূর পর্যন্ত শিকারের গতিবিধি বুঝতে পারে, নিজের অবস্থান বুঝতে পারে, স্বজাতীয়দের অবস্থান ধরতে পারে।।


কর্টেজ সাগরে পিটার ক্লিমলির  করা ফিল্ড স্টাডিজে জানা যাচ্ছে যে স্ক্যালপ্ড হ্যামারহেড হাঙরের একটি বিল্ট-ইন-কম্পাস’ সেন্সর রয়েছে, যার সাহায্যে তারা সমুদ্রতলের “ম্যাগনেটিক  হাইওয়েজ’ ধরে রাত্রিতে সঠিকভাবে নিখুঁত লক্ষ্যের দিকে চলতে পারে। অন্য জীবের কোষীয় কার্যকলাপ থেকে যে অতি ক্ষুদ্র ইলেকট্রিক ফিল্ডের সৃষ্টি হয়, তাও ধরতে পারে হাঙরের ইলেকট্রিক সেন্সর; গ্রেট হ্যামার হেড শার্ক তাদের সেন্সর কোষ বা অ্যাম্পুলাস গুচ্ছ লাগানাে হাতুড়ি আকৃতি মাথাটি জলের মধ্য দিয়ে সঞ্চালন করে তখন সেটি মেটাল ডিটেক্টরের সেন্সর প্লেটের মতাে কাজ করে। বালির গভীরে লুকিয়ে থাকা স্টিং রে মাছেদের  অব্যর্থ হদিশ হাঙরকে দেয় তাদের বিল্ট-ইন ইলেকট্রো ডিটেক্টব।।



হাঙরের ইলেকট্রোসেন্সিটিভিটি বা বিদ্যুৎ-সংবেদনের মাত্রা দেখে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়েছেন। অ্যাকুইরিয়ামে হাঙর বাঁচানাে কঠিন;স্যান্ডিনামের একটি সাদা স্ত্রী-হাঙরকে ১৯৯৮-এ সান ফ্রান্সিসকোর সুবিশাল স্টেইনহার্ট অ্যাকুইরিয়ামে রেখে পরীক্ষা করেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা দেখেছেন যে সাদা হাঙরেরইলেকট্রিক সেন্সর ১২৫ মাইক্রোভােল্ট অর্থাৎ এক ভােল্টের এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ মাত্রার ইলেকট্রিক ফিল্ড বুঝতে পারে। 



স্মুথ  ডগফিশের ক্ষেত্রে তা আরও সূক্ষ্ম ;ইলাসমেব্রাঞ্চ ইলেকট্রোসেপসানেব গবেষণায় অগ্রগণ্য বিজ্ঞানী অ্যাড্রিয়ানাম কালমিন্এর করা গবেষণা পত্র অনুসারে, স্মুথ ডগফিশ ০.৫ থেকে ৮ -হার্টজ এর অতি ক্ষীণ ফ্রিকোয়েন্সিও ধরতে পারে এবং প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ৫ন্যানাে ভােল্ট (১ ভােল্টের ১০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ হচ্ছে ১ ন্যানোেভােল্ট) পরিমাণ ইলেকট্রিক ফিল্ডের সংকেত ধরতে সক্ষম। 


১৯৯৮ সালে স্টিভ কউজুরা পরীক্ষা করে দেখান যে বনেট হেড হাঙর প্রতিবর্গ সেন্টিমিটারে ১ ন্যানােভােল্টের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ইলেকট্রিক ফিল্ড ধরতে পারে ;এর অর্থ হচ্ছে একটি ফ্লাশলাইট ব্যাটারিকে ইলেকট্রোডের সঙ্গে যুক্ত করলে যে বিদ্যুৎ ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় সেই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মহাসমুদ্রে ১০,০০০ কিলােমিটার দূরে বিদ্যুৎ তরঙ্গ যত ক্ষীণ হবে, এক বর্গ সেন্টিমিটারে ১ ন্যানাে ভােল্ট তার সমান। অর্থাৎ এর ৫০ লক্ষগুণ বেশি হলে তবে বিদ্যুতের সংবেদন পাবে একজন মানুষ।




ঐরকম ক্ষীণতম বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের সংবাদও হাঙরের কাছে ধরা পড়ে স্পষ্ট ও নিখুঁতভাবে, JAWS  বইয়ের লেখক পিটার বেঞ্চলির কথায় তা “চাঁদহীন অমাবস্যার রাতে একটি লাইট হাউসের আলােক সংকেত দেখার মতই স্পষ্ট ও বাস্তব।”*


Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION