Page

Follow

জেনেটিক কোড কি ধাপে ধাপে’ বিবর্তনে উদ্ভূত হতে পারে? Page-83

  জেনেটিক কোড কি ধাপে ধাপে’ বিবর্তনে উদ্ভূত হতে পারে? 





একটি প্রিন্টার থেকে যখন কোন মানুষের নিখুঁত রঙীন ছবি বেরিয়ে আসে, তখন বােঝা যায় কত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বুদ্ধিমত্তা এর পিছনে রয়েছে। তেমনি একটি মাত্র স্পার্মহেড কোষে ৩০০ কোটি নিউক্লিওটাইডের সিকোয়েন্সের সুনির্দিষ্ট জেনেটিক ভাষার নির্দেশ লিপি বা ইনস্ট্রাকশান ম্যানুয়াল তৈরী হয়ে বহির্জগতে আসে একটি নিখুঁত মানব শিশু। বিভিন্ন সার্কিট বাের্ড থেকে তৈরী হয় রেডিও, রিমােট কন্ট্রোল ডিভাইস, ডিজিট্যাল ক্যামেরা, কমপিউটার। প্রত্যেকটির জন্য সুনির্দিষ্ট ডিজাইনিং প্রয়ােজন।


জেনেটিক ম্যানুয়ালে ভুল থাকলে কি হবে? বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেবিকৃতি, রােগ। প্রত্যেক জীব প্রজাতির দেহই নিখুঁত— কোনাে প্রজাতির অঙ্গ অসম্পূর্ণ বা বিকৃত নয়। জেনেটিক ভাষায় ভুলের পরিমাণ কত? ১০ কোটিতে ১টি । আধুনিকতম হাইড্রোজেন ঘড়ি বা অ্যাটমিক ঘড়িতে এই ‘প্রিসিশান’ বা নিখুঁতত্ব প্রত্যাশা করা যায়। পৃথিবীর কোন মানুষ টাইপরাইটারে এত কম ভলের টাইপ করতে সক্ষম নয়। 



অ্যাকসিডেন্টালি, বা মিউটেশানে এইরকম নিখুঁত সিকোয়েন্স গড়ে উঠতে পারে, এমন ধারণা করা সম্ভব কেবল সমস্ত যুক্তিবােধ ও বিজ্ঞানকে বিসর্জন দিয়ে। পেনসিলভানিয়ার লে-হাই ইউনিভার্সিটির জৈব রসায়নবিদ বিজ্ঞানী প্রফেসর মাইকেল বেহে জেনেটিক ইনফরমেশনকে জীবদেহের মৌলিক ইনস্ট্রাকশান ম্যানুয়াল হিসাবে ব্যাখ্যা করেন, এবং এটি বােঝাতে কিছু দৃষ্টান্ত দেন। তিনি লেখেন::::------


ধাপে ধাপে জেনেটিক নির্দেশের তালিকা তৈরী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করুন। একটি মিউটেশন বা পরিব্যক্তি হচ্ছে জেনেটিক ইনস্ট্রাকশন যুক্ত লাইনগুলির একটি লাইনে পরিবর্তন (যার ফলে কোন প্রত্যঙ্গ উন্নত হবে, বা নতুন প্রজাতি হবে)। সুতরাং নির্দেশিকায় এইরকম নির্দেশ – “একটি ১/৪ ইঞ্চি নাট নাও” –এর পরিবর্তে মিউটেশান একে প্রভাবিত করে নির্দেশ দিতে পারে, “একটি ৩/৮ ইঞ্চি নাট নাও”। অথবা, “গােল রডটি নির্দিষ্ট গােল ছিদ্রে সংযুক্ত কর”,এর পরিবর্তে (আকস্মিক বা ঘটনাচক্রের) মিউটেশন-নির্দেশ হতে পারে এমন“গােল রডটি চতুষ্কোণ ছিদ্রে সংযুক্ত কর”...। মিউটেশন যা করতে পারে না, তা হচ্ছে একবারে সমস্ত নির্দেশগুলি (সুসমন্বিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে) পরিবর্তিত করা, যেমন ধরুন, “রেডিওর পরিবর্তে একটি ফ্যাক্স মেশিন তৈরী কর।”



মিউটেশনের ফলে সংঘটিত পরিবর্তন অনুকূলও হতে পারে, প্রতিকূলও হতে পারে। তবে নিঃসন্দেহে এটি কোন উদ্দেশ্যমূলক জটিল যন্ত্রব্যবস্থা তৈরী করতে পারে না, যেমন নির্দিষ্ট ইলেকট্রিসিটি-চার্জ যুক্ত নিউরােন বা স্নায়ু কোষ। স্নায়ুকোষের নেটওয়ার্কের অতি সূক্ষ্ম মেকানিজমের জন্য জটিল ডিজাইনিং প্রয়ােজন, যা অকল্পনীয় বুদ্ধিমত্তার নির্দেশক , ঘটনাচক্রের মিউটেশানে—এ এইরকম মেকানিজম তৈরী হওয়া, আর পাহাড়ের ধস থেকে একটি কোয়ার্টস ঘড়ি তৈরী হওয়া সমান কথা। এখানে দু-একটি বিষয় লক্ষণীয় :::


ইনফরমেশন (তথ্যাবলী) কোন স্বতন্ত্র বস্তু নয়, সেটি কোন বুদ্ধিমত্তার পরিকল্পনার ফলশ্রুতি। ইনফরমেশান থিওরির উপর সাম্প্রতিকতম গবেষণায় এটাই প্রকাশ পাচ্ছে যে ইনফরমেশানকে পদার্থ (matter) বা শক্তি (Energy) কোন শ্রেণীতেই ফেলা যায় না। এটি সত্য যে পদার্থ ও শক্তি ইনফরমেশান বহন করতে পারে, কিন্তু ঐ পদার্থ ও শক্তি নিজে ইনফরমেশান নয়।


দৃষ্টান্ত স্বরূপ, বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর অব্যক্ত বইয়ে তথ্য বিধৃত রয়েছে, কিন্তু বই বস্তুটি কাগজ, কালি – এগুলি তথ্য নয়, তথ্যের বাহক। যদি ঐ বইটি সরবে পড়া হয়, কলমে লেখা হয়, বা স্ক্যান করে কমপিউটারের মাইক্রো চিপসে রাখা হয়, তাতে তথ্যের কোন বিকৃতি হয় না, বাহক যেমনই হােক।


জেনেটিক কোডেও সেই একই নীতি দেখা যায়। কোটি কোটি ডি.এন-এ নিউক্লিওটাইড-বিন্যাস তথ্য বহন করে, জেনেটিক ভাষার নির্দেশ বহন করে, কিন্তু ভাষা নিজে ঐ বাহক ডি.এন.এ অণুর থেকে পৃথক। ঐ একই জেনেটিক ইনফরমেশান ল্যাংগুয়েজকে একটি বই আকারে লেখা যায়, কমপ্যাক্ট ডিস্কে ভরে রাখা যায়, অথবা ইন্টারনেটে সারা পৃথিবীতে পাঠানাে যায় তাতেও ইনফরমেশন কনটেন্টের কোন পরিবর্তন হবে না।*


অতএব ধীরগতির বিবর্তনে আপনা থেকে সুনির্দিষ্ট জেনেটিক ইনস্ট্রাকশান ম্যানুয়াল  তৈরীর ধারণাটিকে কল্পনার স্তরে সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য।



এছাড়া, একটি DNA অণু কোটি কোটি পরমাণুর সমন্বয়। কিভাবে অতসংখ্যক অনু একের পর এক সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সংবদ্ধ হয়ে DNA ইনস্ট্রাকশান ম্যানুয়াল তৈরি করল ?  উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে একটি জলের অণু দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন পরমাণুর সমন্বয় (H2O), আর জলের আণবিক ওজন ১৮; পক্ষান্তরে DNA ক্রোমােজোম অণর আণবিক ওজন ৮০ বিলিয়ন বা আট হাজার কোটি ; তাহলে কত সংখ্যক পরমাণু এখানে রয়েছে? হিসাব করা কঠিন। সঠিক বিন্যাসে আপনা থেকে সংযুক্ত হয়ে DNA ইনফরমেশন কোড গঠিত হওয়ার অতি সম্ভবনা যে শূন্য, সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। পেনসিলভানিয়া লে-হাই ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অব ইনফরমেশন সিস্টেমস, ওয়ার্নার গিটঃ

“The basic flaw of all 'evolutionary views is the origin of the information in living beings. It has never been shown that a coding system and semantic information  could originate by itself [through matter) .... The theorems predict that this will never be possible.

Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline