Page

Follow

ডি.এন.এ ডিজিট্যাল কোড || Page-79

  ডি.এন.এ ডিজিট্যাল কোড ঃ

আধুনিক ন্যানাে টেকনােলজিকেও লজ্জা দেয়। 



মানুষের একটি কোষের আয়তন এক মিলিমিটারের লক্ষ লক্ষ ভাগের এক ভাগ (10^-20^m ), আর ঐ কোষের নিউক্লিয়াসের ক্রোমােজোম কোষের একটি ক্ষুদ্র অংশ। একটি কোষের ২৩ জোড়া ক্রোমােজোমের সমস্ত ডি.এন.এ এগুলি পরপর জুড়লে হবে ৬ ফুট লম্বা — কিন্তু সাধারণ অণুবীক্ষণে তা দেখা যায় না। 


একটি DNA এক মিলিমিটারের ২০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ। সেই DNA জেনেটিক কোডে সংকেতবদ্ধ রয়েছে কোটি কোটি তথ্য নির্দেশ। অত্যাধুনিক ন্যানাে টেকনােলজিও এই অপরিমেয় সূক্ষ্মতার কাছে তুচ্ছ; এই টেকনােলজি আসলে অপার বিস্ময়ে হতচকিত করেছে বিজ্ঞানীদের।


 মাত্র চারটি ডিজিট -A.T. G. C.-এর বিভিন্ন রকম বিন্যাসে মানুষের শারীরিক গঠনকাঠামাের সমস্ত পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। দেহের উচ্চতা, চোখ, চুল, গায়ের রং প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য ছাড়াও একটি মাত্র কোষের ডি.এন.-এর ডিজিট্যাল কোডে ডিজাইন ধরা থাকে শরীরের সমস্ত অংশের ঃ ।

২০৬টি হাড়ের আকৃতি, গঠন কাঠামাে, সুম বৃদ্ধির ব্যবস্থা ;

৬০০ মাংসপেশী, প্রতি মাংসপেশীর হাজার হাজার তন্তু, বা ফাইবার ;

 ৩০ হাজার কোটি বিদ্যুৎ পরিবাহী  স্নায়ু  কোষ বা নিউরােন; 

মস্তিষ্কে ১০০০ ট্রিলিয়ন (দশ কোটি কোটি) নিউরােন সংযােগ; 

৯৭০০০ কিলােমিটার শিরা ধমনী; ৩০০০ ০০০ ০০০ ০০০০ (৩০ লক্ষ কোটি) কোষ, লক্ষ লক্ষ বিভিন্ন ধরনের কোষের প্রতিটির ৪০টি নিখুঁত যন্ত্রাংশ ও ডি.এন, এর প্রতিলিপি; । 


শরীরে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ডিজাইন, যেমন বিদ্যুৎ-চালিত পেসমেকার যুক্ত হৃৎপিন্ড, যা প্রতি ঘন্টায় প্রায় 5000 বার রক্ত সরবরাহ করবে শরীরের প্রতি কোয়ে, যেমন চোখ, চোখের 31,000,000 ফোটো রিসেপটর ——সবকিছুর নিখুত ডিজাইন থাকে ডি. এন. এ-তে।।


আমাদের যদি একটি মাত্র কোযের ডি, এন, এর ডিজিট্যাল সংকেতলিপি ডি-কোড করে ভাষার আকারে লিখতে হয়, তাহলে তা হবে বড় একটি লাইব্রেরীর প্রতিটি ৫০০ পৃষ্ঠার ৯০০ টি বই। এই সমস্ত ইনফরমেশান নিখুঁত বিন্যাসে সংবদ্ধ থাকে খালি চোখে দেখা যায় না  , এমন একটি কোষের নিউক্লিয়াসের ক্রোমােজোমে।


অণুজীবতত্ত্ববিদ মাইকেল ডেল্টনঃ “এক চা-চামচ ডি.এন. -এ তে যত ইনফরমেশন থাকতে পারে, তা দিয়ে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত প্রজাতির যত জীব জন্মেছে, তাদের সবার শরীরের সমস্ত কোষের সমস্ত প্রােটিন তৈরী হতে পারে, এবং তারপরও এপর্যন্ত যত বই লেখা হয়েছে তার সমস্ত তথ্য সংকুলানের জন্য যথেষ্ট জায়গা সেখানে থেকে যাবে।


মাত্র এক চামচ ডি.এন -এ তে এত ইনফরমেশান থাকতে পারে। বর্তমানে কমপিউটার মাইক্রোচিপসও কি এই সূক্ষ্মতার ধারে কাছে আসতে পারে? বাস্তব সত্যিটা হচ্ছে, এই টেকনােলজি মানবীয় কল্পনার বাইরে। 


ডি, এন, এ- জ্যামিতি ::- জীবকোষের কোটি কোটি নিউক্লিওটাইড বর্ণমালা যুক্ত DNA এর স্থান সংকুলানেরও প্রতিলিপি তৈরীর জন্য নিখুঁত জ্যামিতিক নকশার প্রয়ােগ রয়েছে দেখা যাচ্ছে। মানুষের একটি কোষের ২৩ জোড়া ক্রোমােজোমের ডি.এন -এ গুলির এক একটি ১০ হাজার বা তারও বেশি জোড়া-বন্ধন বা base pairs (10 kilobase  pairs, 10 kbp) -এ তৈরী। প্রতিটিতে জেনেটিক বর্ণমালায় নিউক্লিওটাইডস-এর নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট বিন্যাস। একটি কোষের ডি.এন.এ.- ৩০০ কোটি নিউক্লিওটাইডের সম্মনয় । কোষ বিভাজনের সময় প্রতিটি ডি.এন -এ স্ক্র্যান্ডের হেলিক্যাল ফর্ম থেকে নিখুঁত,জেরক্স কপি তৈরী হয়, যাকে বলা হয়  আর এন এ ট্রান্সক্রিপশান বা প্রতিলিপি তৈরী – প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ। 


এজন্য চাই নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট জ্যামিতিক নকশা ও নিখুঁত পরিমাপের কয়েল। এজন্য তিন ধরনের জ্যামিতিক নকশা ডি.এন. এ-তে রয়েছে : B’ Form -এই রকম ডি.এন. -এই কোষে বেশি; এটি 2 ন্যানােমিটার চওড়া, আর প্রতি 10 bp (বেস পেয়ার) 3.4 ন্যানােমিটার লম্বা। প্রতি 10.6 bp-তে এই DNA-360° পাকানাে থাকে। ডিহাইড্রেডেড DNA-তে A Form আর কিছু মিথাইলেটেড DNAতে দেখা যায় Z Form, অনেক ক্ষেত্রে যা B Form-এর মিরর-ইমেজ বা আয়না-প্রতিবিম্বের মতাে |




আমরা জীবতত্ত্ববিদ বাঙালী বিজ্ঞানী অরুণ কুমার শর্মার বক্তব্য শুনব; তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমীর প্রফেসর ও এককালীন প্রেসিডেন্ট, ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার, ফেডারেশন অব এশিয়ান সায়েন্টৈফিক অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড সােসাইটিজ-এর প্রেসিডেন্ট ::

একটা মানুষের যত কিছু ক্যারাকটারিস্টিক, সব নিবন্ধ রয়েছে একটা স্পার্ম-হেডের ডি-এন- এর মতো  স্পার্ম হেডে ডি.এন-এ থাকে ৭.৩ পিকো গ্রাম* এই ৭.৩ পিকোগ্রাম ডি.এন -এ মানুষের সমস্ত ক্যারাকটারিস্টিক কন্ট্রোল করে। ডি-এন -এ দেখতে অনেকটা লােহার ঘােরানাে সিঁড়ির মতাে, কয়েল যেমন হয়, তেমন আর কি! খুব পাকানাে কয়েল! 

কয়েলটাকে যদি আপনি টেনে সােজা করে দিতে পারেন তাহলে তা দৈর্ঘ্যে এক মিটারের উপর চলে যাবে। বুঝুন তাে, এক মিটারের উপর একটা জিনিস কুন্ডলীর আকারে কম্প্রেসড রয়েছে এমন একটা জিনিসের মাথায়, যাকে খালি চোখে দেখা যায় না। 

একবার ভাবুন তাে, নেচার কি পরিমাণ কম্প্যাক্টনেস এখানে দেখিয়েছে। আরও বুঝতে পারবেন যদি। আমি বলি, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে যত ডি.এন.-এ আছে—মানুষের শরীরে যত কোষ আছে, প্রত্যেক কোষেই তাে ডি.এন. -এ আছে, এবং একইরকম ডি.এন. -এ আছে, তা প্রত্যেকটা কোষ থেকে ডি.এন-এ বার করে এনে পর পর যদি জুড়তে পারেন, দেখবেন চাদে পৌঁছে গেছেন। ভাবুন একবার, এটা কী করে হয়? আমরা ভাবতে পারি না, কোনােভাবেই আমরা এটাকে আমাদের কম্প্রিহেনশনের মধ্যে আনতে পারি না।”



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline