Adsterra 7

 

Follow

হিউম্যান জিনােম প্রােজেক্ট || জীবদেহে অভাবনীয়, বিস্ময়কর প্রযুক্তির ব্যবহার ||বিস্ময়কর ডি.এন এ ডিজিটাল মাস্টার ব্লুপ্রিন্ট || Page-76

  জীবদেহে অভাবনীয়, বিস্ময়কর প্রযুক্তির ব্যবহার



১৯৫৩ - দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে পতাকা প্রােথিত করে বিশ্ববিখ্যাত হলেন এডমন্ড হিলারী ও শেরপা তেনজিং নােরগে – ১৯৫৩ সালে। এই সালেই আরেকটি অসাধ্য সাধন করে যুগ্মভাবে নােবেল পুরস্কার পান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক এবং জেমস ওয়াটসন। 


তারা কোষের নিউক্লিয়াসের গভীরে আবিষ্কার করেন জেনেটিক স্ট্রাকচার, ক্রোমােজোমের ডি.এন.এ অণুতে সুসজ্জিত এক সংকেতলিপি। ডি.এন.এ (ডিঅক্সি-রাইবাে নিউক্লিকঅ্যাসিড) ডাবল-হেলিক্স (প্যাচানাে সিঁড়ির মতাে) স্ট্রাকচারের এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের কাছে এর মধ্যে সুবিন্যস্ত কোড বা সংকেতলিপি পরীক্ষা ও আবিষ্কারের এক নতুন দরজা খুলে দেয় , শুরু হয় ব্যাপক গবেষণা।


এখন এরঅর্ধশতাব্দী পর, ডি.এন.এ কোডের সংকেত অনেকটাই উদ্ধার করতে পেরেছেন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা, যদিও এখনও অজানা রয়েছে অনেক কিছু। এর ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বিজ্ঞানের নতুন নতুন শাখা, যেমন জেনেটিকস, টেলেগনি, জেনেটিক ইঞ্জিনীয়ারিং। ২০০১ সালে মানুষের সমস্ত জিনের ম্যাপ তৈরীর কাজে হাত দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা – হিউম্যান জিনােম প্রােজেক্ট সেই প্রকল্পের নাম। উন্নত কমপিউটারের সাহায্য নিয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা চলেছে মানুষের কোষের ক্রোমােজোমে নথিবদ্ধ দেহ তৈরীর গােপন কোড, নকশা বা জেনেটিক সংকেতলিপি।


বিস্ময়কর ডি.এন এ ডিজিটাল মাস্টার ব্লুপ্রিন্ট।

প্রতি কোষে সর্ববৃহৎ লাইব্রেরীর সমান তথ্য।


অসংখ্য ইটে যেমন একটি সুবিশাল ইমারত তৈরী, তেমনি এক বা অসংখ্য কোষে তৈরী একটি জীবদেহ। একটি মানব দেহ প্রায় ১০,০০০,০০০০,০০০,০০০ (১০০ট্রিলিয়ন বা এক কোটি কোটি) কোষের সমষ্টি। প্রত্যেক কোষের মধ্যে থাকে একটি নিউক্লিয়াস, আর নিউক্লিয়াসের মধ্যে নির্দিষ্ট জোড়ায় ক্রোমােজোম, যেমন মানুষের দেহের কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমােজোম থাকে (জনন কোষ

বাদে)।প্রত্যেক ক্রোমােজোমে রয়েছে প্যাঁচানাে সিঁড়ির মতাে ডি.এন.এ -অণু, চারটি নিউক্লিওটাইডের সুনির্দিষ্ট সাংকেতিক বিন্যাসে যা গঠিত। সাম্প্রতিকতম প্রযুক্তি, যেমন এক্স-রে ক্রিস্টালগ্রাফি বিজ্ঞানীদের কাছে ডি.এন-এ কোড-মেকানিজমের গভীর বিস্ময় অভিব্যক্ত করছে।


বিজ্ঞানীরা যখন মানুষের ডি.এন.এ অণুর সংকেত উদ্ধার বা ‘ডি-কোড’ করতে শুরু করলেন, তারা সেখানে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং অনবদ্য এক ‘ল্যাংগুয়েজ’, ভাষা-বিন্যাস দেখতে পেলেন, যা প্রায় ৩০০ কোটি জেনেটিক লেটার বা অক্ষরের সমষ্টি।


ঐ অক্ষরের রয়েছে বর্ণমালা,শব্দ, ভাষা-সবই। মানুষের একটি কোষের ডি.এন-এতে রয়েছে ৩০০ কোটি নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্সের ডিজিট্যাল কোড: এতে যে ইনফরমেশন বা তথ্য ধরা আছে, সেটা ১২ সেট বিশ্বকোষ বা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাব ৩৮৪ খন্ডে যত তথ্য ধরা আছে, তার সমান -অর্থাৎ ডি.এন-এ ইনফরমেশান ডিকোড করে ল্যাংগুয়েজ আকারে লিখলে সেটা একটি লাইব্রেরীর ৪৮ ফুট লম্বা তাক ভরে দেবে। অথচ সাধারণ অণুবীক্ষণেও দেখা যায় না ডি.এন-এ!


ওয়াশিংটনের ডিসকভারি ইনস্টিটিউটের দি সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচারের ডাইরেক্টব, ডঃ স্টিফেন মেয়াব ডি.এন.এ ইনফরমেশন টেকনােলজিকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে অসাধারণ আবিষ্কারগুলির একটি বলে অভিহিত করেছেনঃ 

"One of the most extraordinary discoveries of the twentieth century was that DNA actually stores informations - the detailed instructions for assembling proteins - in the form of a four-character digital code



Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION