Follow

পদ্মফুল।। ফুল এক অনন্য অনবদ্য আর্টওয়ার্ক ||নাস্তিক বিবর্তনবাদীরা কেন পদ্মফুলের রহস্য ভেদ করতে পারে না? Page-71

 

 ফুল এক অনন্য অনবদ্য আর্টওয়ার্ক



 হাজার হাজার রকমের বিচিত্র আকৃতি, বর্ণ, গন্ধের ফুলগুলির প্রতিটিই অনুপম শিল্প সুষমা, নান্দনিক বােধ (Aesthetic Sense) এবং সৌন্দর্যের অনন্য নিদর্শন। বিবর্তন প্রক্রিয়ায় ফুলের উদ্ভবের কি ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব?


একটি পদ্ম বীজকে ৫-৭ ফুট জলের নীচে ২ ফুট  কাদার নীচে পুঁতে দেওয়া হল। বীজ অঙ্কুর ছাড়ল। ২ ফুট কাদা আর ৫-৭ ফুট জল ভেদ করে পদ্মলতিকা উঠল উপরে। কাদার নীচে পদ্মবীজ ব্যস্ত রইল তার সৃষ্টি কর্মে – লতিকার মাথায় ধরল পদ্ম-কুঁড়ি।


 কুঁড়ি থেকে, যথাসময়ে, সুগন্ধিত ফুল। প্রতিটি পাপড়ির অনন্য রঙ অনন্য শিল্পমন্ডিত আকার। পাঁপড়িগুলির শিল্পময় সুশৃঙ্খল জ্যামিতিক বিন্যাস ফুলকে দিল এক স্টাইলিশ ডিজাইন –‘রেয়ার ওয়ার্ক অব আর্ট । ভিতরে, হলুদাভ কর্ণিকার-বৃত্ত, তাতে সােনালী পরাগরেণু, স্পর্শ করলে হাতে লেগে যায় বিন্দু বিন্দু সােনারেণু।


 তারপর সুগন্ধ, বিশেষ সৌরভ তৈরী হয় কমল-কোরকে, তৈরী হয় বিশেষ মধু—মকরন্দ, যা কেবল পদ্মেই মেলে। আঁধার ঘনালে পাপড়িগুলি বন্ধ হবার টেকনােলজি; প্রভাতে কুমুদ-বন্ধু দিবাকরের স্বর্ণকিরণছটার পরশে ঘুম ভাঙবে শৈল্পিক সৃষ্টি অরবিন্দের;ধীরে ধীরে পাপড়ি ছড়িয়ে মেলে ধরবে অনুপম সৌন্দর্য-বিভাস, অনবদ্য বর্ণে শােভায় শােভিত করবে নীল নিস্তরঙ্গ সরসী-সায়র।



সৃষ্টির এই শােভার সকল উৎকর্ষতার রচয়িতা ঐ অন্ধ, মস্তিষ্কহীন, গন্ধবােধহীন পদ্মবীজ? এই রচনা-কর্ম করার জন্য প্রাথমিক সম্বল ছিল মাত্র এক তাল কাদা আর একটু জল; পরে বাতাস আর সূর্যরশ্মি। বিশ্বের কোন ল্যাবে কোন নােবেলজয়ী একতাল কাদা আর জল থেকে রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করে রচনা করতে পারবেন এই শিল্পকর্ম ?


বিবর্তনবাদিদের মতে পদ্মবীজ এই কর্মটি করেছে তার অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে – কেবলই মৌমাছিদের আকর্ষণ করার জন্য, যাতে বংশ বৃদ্ধি হয়। মধুকর নিজে কবে থেকে শিল্পী যে তার জন্য এই শিল্প কর্ম? 


পদ্মগাছে সেই শিল্প বােধের অতিরিক্ত মাত্রাটির জন্ম বৃত্তান্ত সম্বন্ধে বিবর্তনবাদী কি বিবরণ দেবেন?


 সবচেয়ে বড় কথা, বিবর্তনবাদী কি তার নিজের বাসগৃহকে সৌন্দর্যে সাজান না? তার টেবিলে কি থাকেনা বিচিত্র ফুলেভরা ফুলদানি, উপহার দেন না ফুলের তােড়া ? কেন কেবল তার ঘরটি বেঁচে থাকার হাতিয়ারেই ভর্তি নয়? কেন এই সুন্দরায়নের আকুতি? ‘ যােগ্যতমের উদ্বর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কি?


দেখ রে নয়ন মেলে জগতের বাহার। চোখ মেললেই বিবর্তনবাদী দেখতে পাবেন এই অনবদ্য শিল্প সুষমার আ-দিগন্ত প্রকাশ—সারা সৃষ্টিতে, সমগ্র জগৎজুড়ে। বিচিত্র রঙের হামিং বার্ড যখন একটি পুষ্প-বক্ষে বসে থাকে, কিংবা নানারঙের প্রস্ফুটিত পদ্মশােভিত সরােবর জলে যখন মন্থর গতিতে সাঁতার কাটে শ্বেতশুভ্র কলহংস দল, সেই সৌন্দর্যের অভিপ্রকাশ কি কেবল অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়ােজনেই, স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্ভূত?


 সমুদ্র গভীরের রঙীন জীবজগৎ, রঙীন মাছের বহুবিচিত্র রঙের কারিকুরি, অনন্য-শিল্পসুষমার নিদর্শন। ছন্দে ছন্দে আবর্তিত এক ঝাক রঙীন মাছ যেন ছন্দোবদ্ধ দ্রুতসঞ্চারমান পংক্তির  চলমান কবিতা। রবীন্দ্র-অতুল-দ্বিজেন্দ্রর গীতিগুলি, শিল্প-কাব্য কর্মগুলি কি শুধুই বর্বর বাঁচার লড়াই আর স্বয়ংক্রিয়, অন্ধ জেনেটিক মিউটেশনের ফলশ্রুতি ?


 সমুদ্র ও স্থলের অগণিত কবিতা কি অন্য কথা বলে না, সুস্পষ্ট স্বাক্ষর রাখে না এক অনবদ্য সৌন্দর্যবােধ সম্পন্ন অসাধারণ এক কবির ? কিভাবে জলতলের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে মাছের দেহে তৈরী হয় কালার ডিজাইন, যা অভিভূত করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিল্পীকেও ?


 ময়ুর পাখার অনবদ্য রঙ-বৈচিত্র্য, সুবিস্তৃত শিখিকলাপের অনন্য শৈল্পিক ডিজাইন কি সৃষ্টির ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি ছাড়িয়ে অন্যতর কোন কাব্যিক সুষমা প্রকাশ করে না? যদি কোন শিল্পীকে ভয়ঙ্কর সুন্দরকে অঙ্কনে মপায়িত করতে বলা হয়, তাহলে তার ক্যানভাসে ফুটে ওঠে বাঘ কিংবা পশুরাজ সিংহের মুখচিত্র, কারও কল্পনাতেই এর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর ভয়াবহতা আর সৌন্দর্যের অভিব্যক্তির শৈল্পিক রচনা সম্ভব নয়। প্রকৃতি নান্দনিক সৌন্দর্য চিরকালই শিল্পীর শিল্পের অনুপ্রেরণা স্বয়ংক্রিয় বিবর্তনের মতবাদ দিয়ে কোনভাবেই এই নান্দনিক সৌন্দর্যসুষমার অভিব্যক্তি ব্যাখ্যা করা যায় না।


Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION