Follow

বায়ুর উপাদান এর ভারসাম্য ||খাদ্য ভারসাম্য || জল || ভৌত পরিবেশের সুসমন্বয় || দূষণহীনতা|| Page-65

 


প্রত্যাশা ও বাস্তবতা ও প্রভেদ সীমাহীন। 
* বিবর্তনবাদীদের এই প্রত্যাশার সংগে বাস্তব জগতের প্রবল গরমিল। 



শঙ্খলা ও সুপরিকল্পনাঃ অসংখ্য দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়। কেবল কয়েকটি ? 

বায়ুর উপাদানের ভারসাম্য ::

লক্ষ লক্ষ প্রজাতির কোটি কোটি প্রাণিকুল প্রতিমিনিটে নিঃশেষিত করে চলেছে লক্ষ লক্ষ টন অক্সিজেন। কেবল একজন মানুষেরই অক্সিজেন প্রয়ােজন হয় প্রতিদিন ১৬ কেজি।


 ছােট্ট এই পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০০ কোটি। সমগ্র প্রাণীজগৎ যে হারে অক্সিজেন নিঃশেষ করে, তাতে প্রকৃতির  অক্সিজেন ভান্ডার কয়েক দশকেই নিঃশেষিত হবার কথা। বেড়ে যাবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড—যা নিঃশ্বাসে ছাড়ে প্রতিটি প্রাণী।


প্রাণীদের প্রতিকল্প উদ্ভিদেরা বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস-অণুকে সালােকসংশ্লেষে পরিণত করে কার্বোহাইড্রেড় খাদ্যে—প্রাণীদের অমৃতে।  পরিত্যাগ করে অক্সিজেন। কোটি কোটি বছর প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের এই সুষ্ঠ আদান-প্রদানের ফলে বায়ুতে অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ থাকে অবিকৃত, বায়ুতে বজায় থাকে সমতা। 


প্রকৃতি অন্ধ ভৌত শক্তি – কোন বুদ্ধি নেই তার; প্রতিটি জীব-প্রজাতি সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে একাকী – কেউ তাকে বাঁচার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাহায্য করে না – বিবর্তনবাদ অনুসারে।


 তাহলে সৃষ্টির ঊষালগ্নে প্রথম জীবকোষগুলি কি নিজেদের মধ্যে সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যে অতঃপর তারা উদ্ভিদ ও প্রাণী —দুই শ্রেণীতে বিভক্ত হবে, সুনির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাসীয় আদান প্রদান করে কোটি কোটি বছর ধরে রক্ষা করবে বায়বীয় ভারসাম্য ? কিভাবে গড়ে উঠল সুনির্দিষ্ট ফিজিওলজির মেকানিজম্ ?


খাদ্য ভারসাম্য :: 

প্রাণীর খাদ্য তৈরী করে উদ্ভিদ, সৌর আলােক ব্যবহার করে। সােলার-পাওয়ারে তৈরী খাদ্য খেয়ে দেহ গঠন করে প্রাণী। জীবের মৃত দেহাবশেষ থেকে উপাদান গ্রহণ করে উদ্ভিদ। প্রাণীদেহগুলি ও উদ্ভিদ দেহগুলি (বায়ােমাস) যদি এভাবে পারস্পরিক খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত (Consumed) না হতাে, বিপন্ন হত জীবজগতের অস্তিত্ব। এই ব্যবস্থা কি ঘটনাচক্রে উদ্ভূত?


জল: 

স্থল ভাগের জীবজগতের জন্য প্রয়ােজন মিষ্টি জলের অফুরন্ত সরবরাহ। প্রতিদিন কোটি কোটি গ্যালন জল প্রয়ােজন ;আনতে হবে লবণাক্ত সমুদ্র থেকে। সেজন্য প্রতিটি মহাদেশের অরণ্য-উপত্যকা-সমভূমির বুক চিরে বয়ে চলেছে মিষ্টি জলের রূপালি ধারা; সূর্যালােকে সমুদ্রের লবণ ফিল্টার হয়ে তৃষিত ধরণীর বুকে নেমে আসে সম্পূর্ণ দূষণহীন বিশুদ্ধ ও সুপেয় মিষ্টি জলের ধারাপাত, অবগাহন করে ধরিত্রী। মাটির নীচের ভান্ডারে সঞ্চিত হয় জল। তৃষ্ণা মেটায় প্রাণী, উদ্ভিদ। কোলকাতাবাসীর পানীয় জল সরবরাহ করে এমনই এক স্রোতস্বিনী–গঙ্গা।। সভ্যতার আক্রমণে অবশ্য প্রাকৃতিক এইসব ব্যবস্থা গােল্লায় যেতে বসেছে। যেমন,একটি রিপাের্ট অনুসারে গ্লোবাল ওয়ার্মিং  জন্য-গঙ্গোত্রী গ্লেসিয়ার গলে যাচ্ছে বছরে ৩০ মিটার করে। ১২০০ বর্গমিটার এই গ্লেসিয়ার গলতে কত দিন? ৩০-৪০ বছরে শুকিয়ে যাবে। গঙ্গার ধারা, একাধিক রিপাের্ট রয়েছে বিজ্ঞানীদের । 


রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে এ বিষয়ে সমীক্ষা করা জরুরী— ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে। ভূগর্ভের জল-সঞ্চয় ক্রমশঃ কমতে থাকায় শঙ্কিত চীনও। সম্প্রতি আরবের একটি দেশ হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করে দক্ষিণ কোরিয়া কোম্পানীকে ভার দিল তিন হাজার কি. মি. দীর্ঘ পাইপ লাইন বসাবার— জল আনার জন্য। ভবিষ্যতে গ্যাসের দরে কিনতে হতে পারে মিষ্টি জল, বিবর্তনের মাধ্যমে যদি তৃষ্ণা কমানাে না যায়!


 ভৌত পরিবেশের সুসমন্বয় (Syncronisation) :

আলট্রা ভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মিতরঙ্গ জীবজগতের পক্ষে বিপজ্জনক; আর পৃথিবীকে মুড়ে রেখেছে ওজোন গ্যাসের ‘কোটিং’বা আবরণ । যদি এই ওজোন কোটিং না থাকত, সমস্যায় আক্রান্ত হত জীবকুল। একই কথা প্রযােজ্য মহাজাগতিক বিকিরণ বা রেডিয়েশন সম্বন্ধে। পৃথিবীর পরিধির বাইরে ৮০০ কিলােমিটার দূর থেকে ১৬০০০ কিলােমিটার পর্যন্ত একটি রেডিয়েশন বেল্ট, ভ্যান অ্যালেন তেজস্ক্রিয় বলয় ঘিরে রয়েছে পৃথিবীকে (এই বলয় ভেদ করে সত্যিই মার্কিন মহাকাশচারীরা চাঁদে গেলে তেজস্ক্রিয়তায় তাঁদের দেহ ঝাঁঝরা হত বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা*)। পৃথিবী থেকে ঐ বেল্টের দূরত্ব কমলে বিপন্ন হতো  জৈব অস্তিত্ব। সূর্য থেকে নির্গত তাপ সম্বন্ধেও একই কথা প্রযােজ্য।


 একইভাবে, জলভাগ আর স্থলভাগের সামঞ্জস্য লক্ষ লক্ষ জীব-প্রজাতির জন্য অনুকুল। এই আনুপাতিক বিন্যাসের জন্য ঠিক নির্দিষ্ট প্রয়ােজনীয় পরিমাণে গড় বৃষ্টিপাত হয়; তা না হলে, ভারসাম্য না থাকলে পৃথিবীতে হয় প্লাবনের আধিক্য হতাে, না হলে হতাে অনবচ্ছিন্ন খরা।


 বছরের ঋতু পরিবর্তনও জরুরী:শীত ও গ্রীষ্ম —দুটিই জীবজগতের জন্য প্রয়ােজনীয়। গ্রীষ্মের খরা ও বর্ষার জল—উদ্ভিদের পুষ্টি ও বিকাশের জন্য দুটিই অপরিহার্য। সারা বছর অবিশ্রান্ত বৃষ্টি বা অবিরাম খরা—দুটিই উদ্ভিদের জন্য প্রতিকূল। উদ্ভিদ বিপন্ন হলে সেই বিপন্নতায় সংক্রামিত হবে প্রাণীরাও। কিন্তু রয়েছে সুন্দর সামঞ্জস্য। তবে মানুষের সভ্যতার বিকৃতি-জনিত প্রাকৃতিক বিশৃঙ্খলার কথা স্বতন্ত্র। প্রকৃতির নিজস্ব ভৌত পরিবেশের সামঞ্জস্য প্রশ্নাতীত। সবই ‘ঘটনাচক্রে’? 


দূষণহীনতা::প্রতিদিন কোটি কোটি জীব দেহত্যাগ করছে। ঐ দেহগুলিতে তৎক্ষণাৎ ডিকম্পােজিশন বা পচনক্রিয়া শুরু হচ্ছে। কিছু কালের মধ্যে দেহগুলি মিশে যাচ্ছে পরিবেশে। কোন জীবদেহ থেকে দুষিত বিষাক্ত গ্যাস বের হয় না। একটি বনে গেলে দেখা যায়, কিভাবে মৃত উদ্ভিদ, পাতা মিশছে মাটিতে। মানুষ এত বুদ্ধিমান, কত বুদ্ধির সংগে তৈরী করেছে শহর, কিন্তু প্রতিটি আলট্রামডার্ন শহর থেকে প্রতিদিন নির্গত হয় টন টন গ্রীন হাউস গ্যাস। পক্ষান্তরে প্রকৃতির সুবিপুল ফ্যাক্টরি সম্পূর্ণ দূষণহীন। অ্যাসিডেন্টাল?




Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION