Page

Follow

হরিণ থেকে জিরাফ ।।জিরাফের লম্বা গলা ।। চার্লস ডারউইন মতবাদ।। কিভাবে জিরাফ পেল তার লম্বা .........গলা। | Page-62

 

 কিভাবে জিরাফ পেল তার লম্বা .............গলা। 





জিরাফ আগে আফ্রিকার অন্যান্য সাধারণ তৃণভােজীদের মতােই দেখতে ছিল – ছিল সাধারণ হরিণ, কিন্তু যখন অন্যান্য প্রাণীরা মাটির সবুজ ঘাস আর নীচু ডালের পাতা খেয়ে দিব্যি বেঁচে থাকল, জিরাফ হতে চলা হরিণ বুঝল যে  তার যােগ্যতমের উদ্বর্তন নীতি অনুসারে বেঁচে থাকা নির্ভর করবে আরাে আরাে উঁচু ডালের পাতা খাওয়ার উপর। তাই, হরিণ (সবাই নয়) একদিন গলা বাড়ালাে আকাশের দিকে। এটা কিছুকাল ধরে চলতে থাকল, মা-বাবা হরিণের কাছ থেকে শিশু হরিণেরাও এই আর্ট অব লিভিং শিখে উঁচু ডালের পাতা খাওয়ার প্র্যাকটিস চালিয়ে গেল সমানে, ফলে প্রজন্ম ধারায় বাড়তে লাগল গলা। যারা সবচেয়ে উঁচু ডালের পাতা খেতে পারল, তারাই কেবল বেঁচে  অন্যেরা অনাহারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। তৃণভূমির অন্য সব সদস্যরা মরে গেল—কেননা তারা এত গর্বিত ছিল যে তারা মাটি থেকে মুখ তুলে গাছের পাতা খাওয়া অভ্যাস করতে অস্বীকার করেছিল। লম্বা গলা হরিণদের গলা হতে থাকল আরাে আরাে লম্বা --হরিণ হল জিরাফ। সবচেয়ে লম্বা গলা জিরাফেরাই বেঁচে থাকল কেবল, অন্যেরা অনশনে প্রাণত্যাগ করল।


তারপর বহুদিন চলে গেছে – লক্ষ লক্ষ বছর। সবুজ তৃণরাশিতে ভরে গেছে তৃণভূমি।। কিন্তু জিরাফ, অর্থাৎ হরিণ আজও বজায় রেখেছে লম্বা গলা, লম্বা পা, মাটির থেকে মাথা প্রায় ২০ ফুট- প্রায় দোতলা বাড়ির সমান! এই হচ্ছে জিরাফের আদি জন্মকথা। 



চার্লস ডারউইনঃ “সুতরাং এইভাবে প্রকৃতির অধীনে বর্দ্ধমান  নবীন জিরাফ শ্রেণীদের মধ্যে যেসব সদস্য সবচেয়ে উঁচু ডালের পাতার: সন্ধানে দক্ষ ছিল এবং স্বজাতীয়দের ক্রমাগত মৃত্যুর মধ্যে যারা কেবল অন্যদের চেয়ে এক-দু ইঞ্চিও গলা লম্বা করতে পারল, তারাই সংরক্ষিত হল প্রকৃতিতে। এই প্রক্রিয়া চলল সুদীর্ঘ কাল ধরে...... আর নিঃসন্দেহে এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে সমন্বিত হয়েছিল পূর্বসুরীদের থেকে অর্জিত প্রত্যঙ্গের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারজনিত ফলশ্রুতি; আমার কাছে এটা প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছে যে, যেকোন সাধারণ খুরযুক্ত চতুষ্পদ এইভাবে জিরাফে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে।”


মনে মর্মান্তিক রকমের বিয়ােগান্তক দৃশ্যটির ছবি আঁকুন : আফ্রিকার গভীর অরণ্যে উপত্যকায় তৃণভূমিতে ঘাসের আকাল, ছােট গাছের আকাল, গাছের নীচু ডালের আকাল। চলছে লম্বা গলার – গলা বাড়ানাের ভয়ংকর প্রতিযােগিতা বাঁচার লড়াই। যাদের গলা এমনকি “এক-দু ইঞ্চিও বড়” (ডারউইন), তারা টিকে থাকছে, বাকিরা মরে পড়ে থাকছে অনাহারে। সেই সময় মরা জিরাফগুলাের পাশ কাটিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ছােট-গলাযুক্ত তৃণভােজীরা। অ্যান্টিলােপ আর মৃগসারেরা- যথেষ্ট খাবার রয়েছে তাদের। তাহলে মৃত জিরাফেরা কি অত্যন্ত গর্বোদ্ধত হওয়ায় তাদের ২০ ফুট উঁচু মাথা নামিয়ে ঘাস খেতে অস্বীকার করেছিলাে। নাকি সেটা এত লম্বা ছিল যে নােয়ানাে ছিল অসম্ভব? না, তারা গলা নামাতাে ঠিকই, কেননা জল তাে মিলত না গাছে, সেটা মিলত মাটিতেই। ডারউইনের জিরাফগুলাে অনাহারে মারা গিয়েছিল, তৃষ্ণায় নয়।।


* "So under nature with the nascent giraffe, the individuals which were the highest browsers, and were able during dearths to reach even an inch or two above the others, will often have been preserved, By this process long-continued ......... combined no doubt in a most important manner with the inherited effects of increased use of parts, it seems to me almost certain that any ordinary hoofed quadruped might be converted into a giraffe."

- Charles Darwin,


এখনকার নিও ডারউইনিজম বা নব্য ডারউইনবাদের ব্যাখ্যাও সামান্য ইতর-বিশেষে একই রকমের।

গল্পের এখনাে ইতি হয়নি। জিরাফের উদ্ভবের তত্ত্বটির একটু হােম ওয়ার্ক সেরে নেওয়া যাক — “অনেক অনেক দিন আগে, হরিণেরা মৃত্যু থেকে রেহাই পেতে উঁচু ডালের  পাতা খেতে লাগল। হরিণ হল জিরাফ। যেহেতু কেবল দীর্ঘতম গলার জিরাফেরাই টিকে থাকল, এক-দুই ইঞ্চি ছােট গলারাও ছিটকে গেল প্রতিযােগিতা থেকে, সেজন্য কেবল পুরুষ জিরাফেরাই বেঁচে থাকল – কেননা কোন স্ত্রীজিরাফ পুরুষ জিরাফের মতাে অত লম্বা ছিল না। সেজন্যই আজ আফ্রিকায় কোন স্ত্রী জিরাফ নেই।”


এ গল্পের সমাপ্তি। বিশ্বাস করছেন না? তাহলে ডারউইনের উদ্ধৃত উক্তিটি পড়ে নিন বার কয়েক। তারপর, আসুন আমরা ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর একনিও ডারউইনবাদী প্রফেসারের ক্লাস করে ফেরা ছাত্রের অভিজ্ঞতা শুনিঃ-

“এই ইসুটি ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর একটি প্রি-মেড ক্লাসের আলােচনায় উঠেছিল। তাঁর বিষয়বস্তু বােঝাতে লেকচারারের উৎসাহের ঘাটতি ছিল না, আর আমি খুব নিশ্চিত যে, কিভাবে জিরাফ তার লম্বা শুড় পেয়েছিল, তার উপস্থিত ব্যাখ্যায় এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের অসীম শক্তিতে ছাত্রছাত্রীদের ভালই প্রত্যয় জন্মেছিল।।


“কিন্তু আমি লেকচারারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, পুরুষ ও স্ত্রী জিরাফের উচ্চতায় কোন পার্থক্য আছে কিনা। তিনি মিনিট খানেকনীরব রইলেন, যাতে প্রশ্নের সম্ভাব্য তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, “আমি জানি না । আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব তারপর তিনি ক্লাসে ব্যাখ্যা করলেন যে যদি এই পার্থক্য (স্ত্রী ও পুরুষ জিরাফের গলার দৈর্ঘ্য) বেশ কিছুটা হয়, তাহলে তা জিরাফের উদ্ভবের ঐ ব্যাখ্যাকে ভোতা করে দিতে পারে, যদি না পুরুষ জিরাফেরা অসাধারণভাবে ভদ্র হয়ে পিছনে সরে দাঁড়িয়ে স্ত্রীদেরকে একইভাবে বাঁচার সুযােগ করে দেয়........।


“তিনি অবশ্য আর কখনাে আমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য ফিরে আসেননি, কিন্তু কিছু সময় পরে আমি নিজেই উত্তরটা খুঁজে পেয়েছিলাম। জোনস-এর হিসাব অনুসারে স্ত্রী জিরাফ পুরুষের  চেয়ে ২৪ ইঞ্চি (২ ফুট) ছােট। এই হিসাব ক্যাননের দ্বারা সমর্থিত হয়েছে। আরও আগ্রহােদ্দীপক হচ্ছে, রীডার্স ডাইজেস্ট প্রকাশনা 'The Living World of Animals 'এ (১৯৭০;পৃ-১০২) স্ত্রী-পুরুষের সম্ভাব্য পার্থক্য তিন ফুট পর্যন্ত হতে পারে। বলে জানানাে হয়েছে।”


“তবুও লাইফ ম্যাগাজিন জিরাফকে প্রাকৃতিক নিবাচনের সবচেয়ে বিশ্বাসযােগ্য দৃষ্টান্ত বলে উপস্থাপন করেছে।”

-আহার সি, কাস্টাল ‘ডারউইনস এনিগমা বইয়ের লেখক লুথার ডি সান্ডারল্যান্ড দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জিরাফ ইতিবৃত্তের ফাঁপা অংশগুলিতে ::

“বিবর্তনবাদীরা ব্যাখ্যা করতে পারেন না কেন জিরাফই একমাত্র চতুস্পদ জীব যার গলা সত্যিকারেই এত দীর্ঘ হল (৬-৯ ফুট), যেখানে জগতের অন্য সব জীবেরা বড় গলা ছাড়াই বেঁচে থাকল। অনেক ছােট-গলাযুক্ত প্রাণীরা অবশ্য জিরাফ যে অঞ্চলে থাকে সেই একই অঞ্চলে জিরাফের পাশাপাশি বহাল তবিয়তে থেকে গিয়েছিল। এমনকি ডারউইন এই সম্ভাব্য সমালােচনার কথা (যার মীমাংসা প্রথমেই হওয়া উচিত) তার 'দি অরিজিন” বইয়ে উল্লেখও করেছিলেন, কিন্তু সেটার ব্যাখ্যা তিনি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন, বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করেন।”


“তাছাড়াও, জিরাফের লম্বা গলার উদ্ভব বা এর জটিল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উৎপত্তির কোন বিশ্বাসযােগ্য কার্যকর বিবরণ বিবর্তনবাদীরা দিতে পারেন না। এই বিস্ময় উদ্রেককারী রক্তচাপ ব্যবস্থা ২০ ফুট উঁচু মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের জন্য অত্যন্ত উচ্চমাত্রার রক্তের চাপ সৃষ্টি করে এবং তারপর জিরাফ যখন জল খেতে গলা নামায়, তখন অতি দ্রুত সেই চাপ কমিয়ে দেয় প্রাণীটির মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচানাের জন্য। প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ফসিলের জন্য সারা পৃথিবীতে তীব্র খোঁড়াখুঁজির পরও, পৃথিবীর মিউজিয়ামগুলি এমন একটি জীবাশ্ম দেখাতে পারে না, যা জিরাফের সঙ্গে অন্য কোন জীবের অন্তর্বর্তী যােগসূত্র তৈরী করে।”


এইরকম অজস্র প্রশ্নের প্রতি মুক ও বধির না থেকে জিরাফ উদ্ভবের এই অলৌকিক ইতিবৃত্ত উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।

একটা অত্যন্ত সহজ দৃষ্টান্তে আমরা এইরকম উদ্ভট গল্পের  অবাস্তবতা বুঝতে পারব। আফ্রিকার মতাে জঙ্গলে প্রতিটি জীব প্রজাতির টিকে থাকার জন্য সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম শক্তি-সামর্থ্যক্ষমতা প্রত্যেকের রয়েছে। হরিণ ঘন্টায় ১০০ কি.মি. ছোটে , আর সবচেয়ে দ্রুতগামী প্রাণী চিতাবাঘ ছুটতে পারে ১১০ কি.মি. । কিন্তু দু মিনিট ফুটলেই দেহের উষ্ণতা বাড়ে চিতার, ফলে গতিবেগ ক্রমশ কমে ঘন্টায় ৯০ কিমিতে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ক্রমাগত উচ্চ গতিসীমায় ছুটতে পারে হরিণ। চিতাবাঘের বেঁচে থাকতে হলে হরিণ শিকার করতেই হবে, সেজন্য অতি দ্রুত তাকে শিকার পাকড়াও করতে হয়। এজন্য মাত্র ৩-s সেকেন্ডের মধ্যে উচ্চতম গতিবেগ ১১০ কিমি প্রতিঘন্টা-তুলতে পারে চিতা। হরিণ ও চিতার মধ্যে কঠোর দৌড় প্রতিযােগিতা আফ্রিকার অরণ্যের নিত্য দিনের দৃশ্য। ধরা যাক,হরিণ – পরিবর্তিত হয়ে ক্রমশঃ পরিণত হচ্ছে জিরাফে। জিরাফের গতিবেগ খুব বেশি হলে ঘন্টায় ৩০ কি.মি। প্রশ্ন হচ্ছে, এদের দেখে কি ঘুমিয়ে থাকত দুরন্ত চিতাবাঘ—আফ্রিকান লেপার্ডরা, জাগুয়াররা, সিংহরা? ছােট্ট হরিণের ধীরগতি (কোটি কোটি বছর ধরে) রূপান্তরের সময় কিভাবে তারা প্রতিহত করেছে এইসব মূর্তিমান মৃত্যুকে?


হরিণ তার গতিবেগে পরাস্ত করে চিতাকে। জিরাফ তার মহিমময় উচ্চতা আর আকৃতির দ্বারা স্বভাবতই চিতার নাগালের বাইরে। কিন্তু উভয়ের মধ্যবর্তী কিছু—কেমন করে রক্ষা করল তাদের অস্তিত্ব? প্রশ্ন হারিয়ে যাবে অরণ্যের গভীরে—মিলবে না উত্তর।




Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline