Page

Follow

বিবর্তনবাদ ।। কল্পবিজ্ঞান যখন বিজ্ঞান ||চার্লস ডারউইন || কিপলিংয়ের রূপকথা ঃ কিভাবে হাতি পেল তার লম্বা নাক || Page-60

  বিবর্তনবাদ ।। কল্পবিজ্ঞান যখন বিজ্ঞান 



Nine-tenths of the talk of evolutionişts is sheer nonsense, not founded on observation and wholly unsupported by facts. This museunt is full of proofs. of the utter falsity of their views. In all this great museum, there is not a particle of evidence of the transformation of species."

ড. ইথেরিজ, জীবাশ্মবিদ, ব্রিটিশ মিউজিয়াম


বিগত দুটি শতাব্দীতে সমগ্র বিশ্ব-মানব সভ্যতাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। এমন মতবাদের কথা যদি ধরা হয়, তাহলে প্রায় অবিসংবাদিতভাবে প্রথমেই আসবে বিবর্তন মতবাদ এর নাম।।


কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীতে রচিত ‘বিবর্তনবাদ’ নামক মতবাদ কি বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীদেরই আক্রমণে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বসেরা সায়েন্স ফিকশানে পরিণত হতে চলেছে? বাস্তব সত্যটা তাই শুধু সময়ের অপেক্ষা ।

 জড়পদার্থের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় ‘জীবন’-এর এক জীবন্ত কোষের উদ্ভব এবং ঐ কোষ থেকে এই আধুনিক বিশ্বের সমস্ত জীব-প্রজাতির উদ্ভবের তত্ত্ব—অর্থাৎ বিবর্তনবাদের সপক্ষে বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা পরম যত্নে গত দেড়শাে বছর ধরে যেসব প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, গত দুই দশকের মলিকিউলার বায়ােলজি, বায়ােকেমিস্ট্রি, জেনেটিকস্ এবং নিউরােসায়েন্সের অভূতপূর্ব আবিষ্কারগুলি সেগুলিকে জঞ্জাল পাত্রে নিক্ষেপ করছে এবং তাঁদের ‘ঘটনাক্রমে’ (বাইচান্স), ‘আকস্মিকভাবে (অ্যাকসিডেন্টালি), আপনা থেকে-স্বতঃস্ফূর্তভাবে’ (স্পনটেনিয়াসলি), প্রাকৃতিক নির্বাচনপ্রক্রিয়ায়’ (ন্যাচারাল সিলেকশান) প্রভৃতি টার্মিনােলজি-র আশ্রয়ে কোনক্রমে টিকে থাকা এই বিবর্তন বা অভিব্যক্তি মতবাদকে সর্বশ্রেষ্ঠ বায়ােলজিক্যাল মাইথােলজি বা জীব বৈজ্ঞানিক আষাঢ়ে গল্প হিসাবে ইতিহাসে অচিরেই স্থান করে নিতে বাধ্য করতে চলেছে। নােবেলজয়ী সহ বিশ্বের অসংখ্য বিজ্ঞানীরা বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, একের পর এক ওয়েব সাইটে। তাঁরা সদ্য আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তথ্য গুলি পেশ করেছেন। 

বিবর্তনবাদ বা 'Evolution Theory'র পরিবর্তে বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে উপস্থাপন করছেন নতুন এক তত্ত্ব - ‘ইনটেলিজেন্ট ডিজাইন থিওরী’ বা ‘বুদ্ধিমত্তাপুর্ণ পরিকল্পিত সৃষ্টির তত্ত’।


ঊনবিংশ শতাব্দীতে ডারউইনীয় রেভােলুশনের মতােই এই তত্ত্ব বিজ্ঞানীমহলে সৃষ্টি করছে নবতর বিপ্লব। বিজ্ঞানীরা ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন থিওরীর সপক্ষে এতই বিপুল তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করছেন (এঁদের অনেকেই ছিলেন গোঁড়া বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানী) যে ঊনবিংশ শতাব্দীর ডারউইনবাদ কিংবা তারই বিবর্তিত বংশধর বিংশ শতাব্দীর পাংচুয়েটেড ইকুলিব্রিয়াম থিওরী’র মতাে অপ্রমাণিত কাল্পনিক মতবাদের দ্বারা তার প্রত্যুত্তর দেওয়া বিবর্তনবাদীদের পক্ষে ক্রমেই হয়ে উঠছে সাধ্যাতীত। 


ক্রমশই বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা প্ররিত্যাগ করছেন বিবর্তনবাদ। কার্ল সাগান, ডি.এন.এ বা জিন আবিষ্কারক ফ্রান্সিস ক্রিক (নােবেলজয়ী), নীলস বাের , জর্জ ওয়াল্ড (নােবেলজয়ী), চার্লস টাউনস (নােবেলজয়ী) সহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ তাত্ত্বিক বিজ্ঞানীরা নতুন প্যারাডাইমের (Paradigm) কথা বলছেন, যার মাধ্যমে ফিজিক্স বা কেমিস্ট্রির সীমিত পরিধির বাইরে গিয়ে জীবন ও জীব-প্রজাতিসমূহের অস্তিত্ব রহস্য অবগত হওয়া যেতে পারে। 


এর ফলে জীব বিজ্ঞানের জগতে খুলে যাবে নতুন দিক বিজ্ঞানীরা যে ইনটেলিজেন্ট ডিজাইন থিওরীর কথা বলছেন, বহু পূর্বেই ভগবদ্গীতা ও বেদ উপনিষদে সেই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে । কিভাবে একজন পরম চেতন পরিকল্পক, সুপ্রীম ডিজাইনার, সুপ্রীম বিইং এর দ্বারা পরিকল্পিত বিভিন্ন ধরনের জীব-প্রজাতির শরীরগুলির মধ্য দিয়ে। জীবাত্মা তার চেতনা বিকাশের সাথে সাথে এগিয়ে চলে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। বিজ্ঞান ও পারমার্থিকতার সিন্থেসিস বা সমন্বয়মূলক নতুন প্যারাডাইম গৃহীত হলে প্রকাশ্যে আসবে অসীম বিশ্বরহস্য, জীবনরহস্য।


বিবর্তনবাদ ।বড়দের বৈজ্ঞানিক রূপকথা?

গ্যালাপােগাস দ্বীপে ডারউইন

 বাণিজ্যিক জাহাজ এইচ.এম.এস বিল ইংল্যান্ড ছেড়ে দক্ষিণ আমেরিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয় ১৮৩১ এর শেষ দিনে। জাহাজে ছিলেন ২২ বছরের যুবক ডারউইন। গ্যালাপােগাস দ্বীপে জাহাজ পৌঁছালে ডারউইন সেখানে পাঁচ সপ্তাহ কাটান, লক্ষ্য করেন জীব বৈচিত্র্য। সেখানে তিনি কিছু ফিঞ্চ প্রজাতির পাখীর দেখা পান। প্রায় ১৪টি প্রজাতির ফিঞ্চ রয়েছে এই দ্বীপে।


“We are as much a product of blind forces as is the falling of a stone to earth or the ebb and flow of the tides. We have just happened, and man was made flesh by a long series of singularly beneficial accidents.

” অর্থাৎ, “এক টুকরাে পাথর মাটিতে পড়া বা জোয়ার ভাটা ঘটার মতােই আমরাও (মানুষ) ততটাই অন্ধ ভৌত শক্তির ফলে আপনা থেকে উদ্ভূত। কোন ক্রমে আমরা কেবল এমনটা হয়ে গেছি, অতুলনীয়ভাবে উপকারী দীর্ঘ এক প্রস্থ ঘটনাচক্রের ফলেই মানুষের দেহের সৃষ্টি হয়ে গেছে।”

অ্যান্টনি স্মিথ বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানী 'The HumanDegree' [J.B. Lippin. Cott.

Co., 1976] ::



 ডারউইন কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন, ডায়েরীতে লেখেন। কিন্তু তখন তার বিবর্তনবাদের কথা মনে হয়নি আদৌ ! ডারউইন ইংল্যান্ডে ফিরে আসার পর তার এক বন্ধু (জেন গােল্ড) ওই সব দেখে মন্তব্য করে যে, হতে পারে একটি থেকে অপরগুলির উদ্ভব হয়েছে। কোষের ডি.এন.এ কোডিং মেকানিজম সম্বন্ধে তাদের কোনাে ধারণাই ছিল না সেই সময়। 



কেবল বাহ্য আকৃতিবিচার করে এই ঘটনার প্রায় সাতাশ বছর পর ডারউইন বই লিখে উপস্থাপন করেন তার ন্যাচারাল সিলেকশান তত্ত্ব, ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার জাদুবলে কিভাবে তৈরী হয়ে যায় জটিল ও নিখুঁত ডিজাইনের এক একটি প্রজাতি। ১৮৫৯-সালে তাঁর ‘দি ডিসেন্ট অব ম্যান . দি অরিজিন অব স্পিসিস’ বইয়ে প্রথম ‘Evolution” শব্দটি ব্যবহার করেন। 


সায়েন্টিফিক ম্যাটেরিয়ালিজম-এর দাবি অনুযায়ী বিজ্ঞানীরা Creationism’ বা সব কিছু ভগবানের সৃষ্টি –এই সৃষ্টিবাদের বিপরীত, ভৌত, প্রাকৃতিক কারণে সব কিছুর উদ্ভব-মূলক একটি মতবাদ খুঁজছিলেন। সেই অভাব পূরণ করলেন ডারউইন; বহু বিজ্ঞানী নামধারী নাস্তিক লুফে নিলেন এই মতবাদ, যদিও লুই পাস্তুর-সহ বহু স্বনামখ্যাত বিজ্ঞানী গােড়া থেকেই এই মতবাদের অন্তর্নিহিত অসঙ্গতি ও গলদ তুলে ধরে একে বর্জন করেছেন। 


ডারউইন তাঁর কাল্পনিক ধারণাকে বিজ্ঞানের রঙ দিতে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শব্দ বা টার্মিনােলজি ব্যবহার করেন, যেমন প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) , পরিব্যক্তি (Mutation), অভিযােজন (Adaptation) , যােগ্যতমের উদ্বর্তন (Survival of the fittest) ইত্যাদি। এইসবের সাহায্যেই বিবর্তনবাদীরা সর্বসমাধানকারী জাদুকরের মতােই জীবজগতের অস্তিত্বের অন্তহীন বৈচিত্র্যের সব রহস্যই সমাধান করে থাকেন। কিন্তু তা করতে গিয়ে কি তাঁরা অজান্তে রচনা করে ফেলেন বড়দের রূপকথা ?


রুডিয়ার্ড কিপলিং তার সাংবাদিকতা ও রােমান্স গল্প লেখার পাশাপাশি ছােটদের জন্য পশু প্রাণীদের উদ্ভবের মজার গল্প লেখার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর ‘জাস্ট-সাে-স্টোরিস ’ (১৯০২) বইটি এইরকম মজার সব কল্পকাহিনীতে ভরা -কিভাবে উট পেয়েছিল তার কুঁজ , কিভাবে হাতি পেয়েছিল তার শুঁড় । ভারতের উপজাতীয় লােককথার ভিত্তিতে রচিত এই গল্পগুলিতে প্রকাশ পেয়েছে হাস্যরস, খেয়াল-খুশি আর নৈতিকতার ছোঁয়া।।

আমরা ডারউইনের ব্যাখ্যা এবং রুডিয়ার্ড কিপলিংয়ের জাস্ট-সাে-স্টোরি-এর কয়েকটি নমুনা নিয়ে তুলনা করব। রূপকথা আর বিজ্ঞানের ব্যবধান রেখা মুছে যাচ্ছে কিনা বিচারের ভার পাঠকের।।


কিপলিংয়ের রূপকথা ঃ
 কিভাবে হাতি পেল তার লম্বা নাক



একবার একটি শিশু হাতি তার মায়ের কাছে না থেকে দুষ্টামি করে এখানে ওখানে ঘােরাঘুরি করছিল। একটু দূরে গিয়ে সে একটি চকচকে রূপালী নদী দেখতে পেল, আর ব্যাপারটা তদন্ত করতে সে নদীর কাছাকাছি চলে গেল। নদীর কিনারায়, জলে একটি উচু ঢিবির মতাে কি ভাসছিল। সেটা কি হতে পারে পরীক্ষা করে দেখতে, ছােট্ট শিশু হাতিটি কৌতুহল বশতঃ ধারে গিয়ে ঝুঁকে দেখার চেষ্টা করল। হঠাৎ সেই ঢিবিটা লাফিয়ে উঠে গপ্  করে ছােট্ট হাতির নাকটি কামড়ে ধরল। কিপলিং বর্ণনা করতে থাকেন ::-

“তখন সেই ছােট্ট হাতিটি নদীর কিনারায় বসে পড়ে নাক ছাড়ানাের জন্য জোর করে টানতে থাকল, টানতে থাকল আর টানতেই থাকল। নাছােড়বান্দা কুমিরটিও কিনারার কাছে এগিয়ে এল, তার লেজের ঝাপটায় কিনারার জল ঘােলা হয়ে উঠল, আর বেপরােয়াভাবে সে বিপরীত দিকে টানতেই থাকল, টানতেই থাকল... টানতেই থাকল।”

আর বলা বাহুল্য, অনেকক্ষণ ধরে চলা এই মহাটানাটানিতে অত্যন্ত সঙ্গত কারণেই হাতির নাকটি হয়ে গেল বেজায় লম্বা। এইভাবে হাতির হলাে লম্বা শুঁড় ।।






Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline