Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা | উন্নত বিশ্ব কতখানি নিরাপদ ? পরিবেশ দূষণ ও তার কুফল। পরিবেশ বনাম শিল্পায়ন PAGE-6

  উন্নত বিশ্ব কতখানি নিরাপদ ? : পরিবেশ বনাম শিল্পায়ন

PAGE-6


‘পরিবেশ বনাম শিল্পায়ন’ নামে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন সিয়াটেল-এ ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের অর্থনীতির গবেষক প্রফেসর প্রবীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, 

“....তুভালু দ্বীপের সেই সব ছিন্নমূলদের প্রতিও বটে, যাদেরকে ঘরবাড়ি হারিয়ে আজ নিউজিল্যান্ডে গিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। সমুদ্রের জলস্তরের অস্বাভাবিক স্ফীতি শেষ করে দিয়েছে তাদের ভূখণ্ড। 


ঘরের পাশে বাংলাদেশেরও যে ওই হাল হবে না, জোর দিয়ে বলতে পারছি না। ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল   অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC) কিন্তু বছর বছর রিপাের্ট পেশ করছেন। তাতে ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন----- বাংলাদেশ আদৌ বাঁচবে? ...... 



নাসা’-র গােডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস  সায়েন্সের ডিরেক্টর  জিম হ্যানসেন। তাঁর বক্তব্য, 'গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কুফল আমরা এখনই পেতে শুরু করেছি। তিনি আরও বলেছেন, আগামী দশ বছরের মধ্যে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে ২১০০-এর মধ্যে সমুদ্রের জলতল দশফুট বেড়ে যাবে।


 সারা পৃথিবী জুড়ে বেশীর ভাগ বিনিয়ােগকারীরাই এই নিয়ে ভাবতে রাজি নন। কারণ অনেক ---প্রথমত, যে-কোনও লগ্নিকারীর কাছে খুব বেশী হলে ৩-৪ বছর সময় হল অর্থনীতির ভাষায় ‘লং-রান। একশাে বছরের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা হয় না। 


দ্বিতীয়ত, আপনার আমার দৈননিন অর্থনীতি বড় বেশী ‘ডিসকাউন্টিং ফ্যাক্টর’-নির্ভর। একশাে বছর পরের ক্ষতির পরিমাণ এই মুহুর্তে আপনার কাছে অতি নগণ্য, আর তাই আপনি বিশেষ চিন্তিত নন পরিবেশের ভারসাম্য থাকলাে কি থাকলাে না, সেই নিয়ে। 


তৃতীয়ত, আপনার আমার কোনাে ধারণা নেই সমুদ্রের জলতল দশফুট বেড়ে গেলে, কি পৃথিবীর তাপমাত্রা ৫-৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেড়ে গেলে কী হতে পারে (হিরােসিমা-নাগাসাকিতে বােমা ফেলার আগে বুঝতে পারিনি ক্ষতি কত হতে পারে)। যেটুকু ভাবতে পারি, সেটা বড় কষ্টকল্পিত।” ।



‘উত্তাপ বাড়ছে, সমৃদ্ধি ঘােরানাের পথে পৃথিবী শীর্ষক’  এখনই গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন প্রতিরােধে ব্যবস্থা না নিলে পৃথিবী হারাবে তার সমৃদ্ধি ও “আগামী শতকের মধ্যেই গড় তাপমাত্রা বাড়বে অন্তত পাঁচ ডিগ্রী। 


মেরুবরফ গলে সমুদ্র গ্রাস করবে ভূখণ্ড। বন্যা-খরা-ঝড়ে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে মানুষের। অন্তত কুড়ি কোটি মানুষকে ভিটে ছাড়া হতে হবে। সেই দুর্যোগে কি জীবন যাত্রার মান ধরে রাখতে পারবেন বিপন্নরা? গােটা দুনিয়ায় অর্থনীতির অন্তত পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধ্বসে যাবে এভাবেই।”



পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, সুন্দরবনের কাছে উপকূলে ১০২ টি দ্বীপ ছিল এখন ১০০ টি। স্যাটেলাইটের ছবিতে দুটি দ্বীপের হদিশ না পেয়ে হতবাক হয়ে যান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসিয়ানােগ্রাফি বিভাগের ছাত্র-অধ্যাপক-গবেষকরা। 


সরেজমিনে তদন্ত করে এসে তারা দেখেন, সত্যিই দুটি দ্বীপ সম্পূর্ণ সমুদ্রগর্ভে চলে গিয়েছে। বকখালির অদূরে জম্বুদ্বীপের প্রায় অর্ধেক এখন জলতলে। অবশিষ্ট সমস্ত দ্বীপগুলি ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রে ।


 যাদবপুরের স্কুল অব ওশিয়ানােগ্রাফিক স্টাডিজের ডাইরেক্টর সুগতা হাজরা জানাচ্ছেন, সমুদ্র বাড়ছে। আগামী দশকে এই বৃদ্ধি বছরে সাড়ে তিন মিলিমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে। কেবল সাগর দ্বীপেই এপর্যন্ত ৩০ কিমি ভূখণ্ড সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে। অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবনের দ্বীপগুলির নয় হাজার বর্গ কিমি জলতলে চলে যেতে পারে বলে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে।


ইতিমধ্যে ঘরবাড়ী হারিয়ে সাগরদ্বীপে আশ্রয় নিয়েছেন সাত হাজার পরিবেশ উদ্বাস্তু। প্রতি মাসেই বাস্তুহারা আসছে, ঘােড়ামারা লােহাচরা—এসব দ্বীপ থেকে। 


এজন্য সাগর দ্বীপ পঞ্চায়েত উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য একটি অঞ্চল নির্ধারণ করেছে। আগামী ১৪ বছরে ৭০ হাজার মানুষ পরিবেশ শরণার্থীতে পরিণত হতে চলেছে, জানাচ্ছেন সুগতা হাজরা। তারা এবিষয়ে বিশদ রিপাের্ট তৈরী করে কেন্দ্রের পরিবেশ দপ্তরে পাঠিয়েছেন।


Sea level rise in the twentieth and twenty-first centuries



সম্প্রতি নাসার গােডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার থেকে উত্তর মেরুর বরফের অবস্থার। উপর ২০ বছর ব্যাপী উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এক ব্যাপক সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। নাসার গবেষক, নাসার গােড়ার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের সিনিয়ার রিসার্চ সায়েনটিস্ট ডঃ জেঃ সি কসিও সমীক্ষার রিপাের্টে জানান, উত্তর মেরুর অধিকাংশ বরফ ৮০-র দশকের তুলনায় ৯০ -এর দশকে উষ্ণতর হয়েছে।


 ২০১৯ - সালে বরফের স্তর ছিল রেকর্ড পরিমাণ নীচুতে। এই সমীক্ষার জন্য সর্বাধুনিক ও উন্নতমানের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়—যেমন নিম্বাস-সেভেন উপগ্রহে সংযুক্ত স্ক্যানিং মাল্টি চ্যানেল। রেডিওমিটার, প্রতিরক্ষা বিভাগের (DMSP) F8,F11 ও F13 উপগ্রহ সমূহে সংযুক্ত স্পেশাল সেন্সর মাইক্রোওয়েভ ইমেজারস্ (SSMI), লেজার অলটিমিটার, AVHRR ইনস্ট্রমেন্টস্ ইত্যাদি।


 সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, 1981-2019 -এর মধ্যে 7°C পর্যন্ত কোথাও কোথাও উষ্ণতা বেড়েছে। সংকুচিত হয়ে আসছে গ্রীনল্যান্ডের আয়তন। বরফ কমার ফলে সূর্যের আলাে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যাবার হার কম হওয়ায় আবহাওয়া উষ্ণতর হচ্ছে। বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তর। আর্থ অজার্ভিং ফ্লিট’শ্রেণীর উপগ্রহগুলি প্রতিদিন পৃথিবীকে দশবার আবর্তন করে নিখুঁত ডেটা পাঠায়।


Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline