Page

Follow

জীবন উপলব্ধির গভীরে বৈদিক শাস্ত্রের তথ্য || পরাশক্তি ||চেতনার উৎস ।।জড় পদার্থ ও চেতন পদার্থের পার্থক্য | জীবন কি শাশ্বত ? PAGE-59

 

 জীবন  উপলব্ধির গভীরে বৈদিক শাস্ত্রের তথ্য || চেতনার উৎস ।।জড় পদার্থ ও চেতন পদার্থের পার্থক্য |PAGE-59




দৃশ্যমান জগতের সবকিছুই দুই ভাগে বিভক্ত রূপে আমরা উপলব্ধি করি : জীব (animate) ও জড় (inanimate, dull matter)। জীব অনুভূতিশীল, চেতন, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। জড় পদার্থ অচেতন, অনুভূতিবােধহীন, নিপ্রাণ, নির্জীব।


যে কোন জীবের মধ্যে চেতনা (Consciousness) ও ব্যক্তিত্ব (Personality) রয়েছে। প্রতিটি জীব একজন ব্যক্তি (Person)। উন্নত চেতনাসম্পন্ন জীব—যেমন মানুষের মধ্যে এই ব্যক্তিত্ব খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। 


 কিন্তু একজন মানুষের যখন মৃত্যু’হয়, তখন কি ঘটে? অন্তর্হিত হয় চেতনা, অনুভূতিশীল। ব্যক্তিত্ব, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। দেহটি তখন সম্পূর্ণভাবে জড় পদার্থের মতােই আচরণ করে। দেহটি এখন অচেতন, জড়।


মানুষের চেতনার উৎস সন্ধান করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা মানব মস্তিষ্কের প্রতিটি কোণ স্ক্যান করেছেন। মস্তিষ্কের এক হাজার কোটি নিউরােনের জটিল নেটওয়ার্কে বিস্তর অনুসন্ধান করেছেন। মস্তিষ্কের গভীরে পথ হারিয়েছে তাদের অনুসন্ধান মেলেনি চেতনার উৎস, জীবনের কেন্দ্রবিন্দুর হদিশ। 


তাছাড়া, প্রাণ ও চেতনা যে কেন্দ্রিত থাকে না মস্তিষ্কে, সেটা বােঝা যায় বিভিন্ন জীব-প্রজাতি স্টাডি করে। গাছের কোন স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক নেই, কিন্তু আছে প্রাণ, জীবন। জেলিফিস কেবল স্বচ্ছ পলিব্যাগ এ পাশ থেকে দেখা যায় ওপাশ ; স্নায়ু, মস্তিষ্ক, ইন্দ্রিয়—প্রায় কিছুই নেই। আছে প্রাণ, চেতনা, ব্যক্তিত্ব। আছে প্রণয়তৃষ্ণা, ভালবাসা, অপত্যস্নেহ। জীবাণুর একটি মাত্র কোষেও রয়েছে জীবনের পূর্ণাঙ্গ অনুরণন।



বিভিন্ন জীব-এর মধ্যে বিচ্ছুরিত হচ্ছে চেতনার মৌল প্রবণতার দীপ্তিচ্ছটা। সেই চেতনার ভিত্তি, উৎস, অধিষ্ঠান বা সিটিং প্লেস কোথায়, বিজ্ঞানীরা খুঁজে পাননি আজও। কেবল খোঁজ চলেছে জড়ের মধ্যে, রাসায়নিকের মধ্যে, অ্যাসিড, প্রােটিনের যৌগের মধ্যে। জড়বস্তু কিভাবে চেতন’ (Conscious) হয়ে উঠতে পারে? সেই তথ্য জানা নেই কোন জড়বিজ্ঞানীর।


তাহলে চেতনার উৎস কি? ব্যক্তিত্বের উৎস কি? বৈদিক শাস্ত্রের উত্তর ও জীবনের উৎস একটি অ-জড় চেতন কণিকা (Antimaterial particle, spiriton),চেতন বস্তু, আত্মা। আত্মাই জীবন। দেহটি জড় পদার্থের তৈরী আধার, পােশাক। দেহ হতে আত্মা নিষ্ক্রান্ত হওয়া মাত্রই দেহটি পড়ে থাকে নিথর, নির্জীব, অচেতন।


ভগবদ্গীতা :

“আত্মার কখনও জন্ম হয় না বা মৃত্যু হয় না, অথবা পুনঃ পুনঃতাঁর  উৎপত্তি বা বৃদ্ধি হয় না । তিনি জন্মরহিত, শাশ্বত, নিত্য এবং পুরাতন হলেও চিরনবীন। শরীর নষ্ট হলেও আত্মা কখনও বিনষ্ট হয় না।”–২/২০


 “অব্যয় এই আত্মা অনাদি, নির্গুণ  ও জড়া প্রকৃতির অতীত। হে কৌন্তেয়! জড় দেহে অবস্থান করলেও আত্মা কোন কিছু করে না এবং কোন কিছুতেই লিপ্ত হয় না।”—১৩/৩২ 


আত্মার অস্তিত্ব :: বাস্তবতা না অন্ধবিশ্বাস ? 


বর্তমান জীববিজ্ঞান বা বায়ােলজি ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রি-নির্ভর; সেজন্য জীববিজ্ঞানীরা জীবনকে দেখছেন ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রির দৃষ্টিভংগী থেকে; এতে ধরা পড়ছে দেহ ও কোষের জৈবরসায়ন, ম্যাকানিজম, ধরা পড়ছে না জীবন। 


জীববিজ্ঞানের শাখাগুলির নাম করলেই  তা স্পষ্ট ঃ বায়ােকেমিস্ট্রি, বায়ােফিজিক্স, মলিকিউলার বায়ােলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি। জীববিজ্ঞানে জীবন সম্বন্ধে কোন তথ্য নেই, আছে দেহের যন্ত্রব্যবস্থা, কোষের কার্যকলাপ ইত্যাদির বর্ণনা। কিন্তু চেতনা, ব্যক্তিত্ব, জীবন কি কোষের রাসায়নিক ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া থেকে উৎপন্ন হয়? যদি হতাে, তাহলে বায়ােকেমিস্টরা জীববিজ্ঞানের এই সমস্যা বা ‘Puzzles’ গুলি যুক্তিসংগতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতেন :::::- 


• কোষগুলির রাসায়নিক ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার ফল চেতনা, জীবন হলে উপযুক্ত রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটিয়ে কয়েক মুহূর্ত আগের মৃত কোন দেহে বা কোষে ফিরিয়ে আনা যেত চেতনা, ব্যক্তিত্ব, জীবনের স্পন্দন।


• একটি মাত্র জীবিত কোষও আজ পর্যন্ত তৈরী করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

তাঁরা চেষ্টাই ত্যাগ করেছেন। কেন? 


• এতই উন্নত প্রযুক্তি এখন বিজ্ঞানীদের হাতে যে তাঁরা মাপতে পারছেন আলাের গতি,(c = 3x108 m/s) কিংবা পরমাণুর ইলেকট্রনের ভর ( 9.1085×10-28 গ্রাম।) । কিন্তু অধরা রয়েছে জীবন, জীবনীশক্তি।। 


*জীবনের সঠিক সংজ্ঞাই নির্ধারণ করা যায়নি।


* ‘Chemical equation বা রাসায়নিক সমীকরণের দ্বারা জীবন বা জীবনী শক্তিকে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।


চেতনার এই রহস্য বিশ্লেষণ জড়বিজ্ঞানে না থাকলেও পারমার্থিক বিজ্ঞান ভগবদগীতায় রয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চেতনার উৎস চিন্ময় কণা আত্মা কিভাবে একটি জড় দেহকে চেতনাময় করে, উপমার সাহায্যে তা ব্যাখ্যা করে বলেছেনঃ 


“ হে ভারত (ভরত বংশধর অর্জুন), এক সূর্য যেমন সমগ্র জগতকে প্রকাশ করে, ক্ষেত্রী (শরীরী, দেহী) আত্মাও সেইভাবে সমগ্র ক্ষেত্রকে(দেহকে) প্রকাশিত করে।” –১৩/৩৪

মৃতদেহ অচেতন। সকলেই সেটি প্রত্যক্ষ করি। চেতনা নেই সেই দেহে, সেই সাথে নেই ব্যক্তিত্ব। 

শ্রীল এ.সি.ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেছেন, দেহে চেতনার উপস্থিতিই আত্মার অস্তিত্বের প্রমাণ, চেতনাই আত্মার উপস্থিতির লক্ষণ - “Consciousness is the sympton of the soul” দেহে আত্মা না 
থাকলে, থাকে না চেতনা। ঠিক যেমন একটি গাড়ীতে চালক না থাকলে গাড়ীটি পড়ে থাকে নিশ্চল, নির্জীব।।

চেতনা জীবনের একটি অভিব্যক্তি। এই চেতনা, চেতন বস্তু জীবন কি জড়, ধ্বংসশীল ? বর্তমানে বিশ্বের খ্যাতনামা তাত্বিক বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করছেন যে চেতনা জড়বস্তুর রাসায়নিক ক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় না। 

• কোন রাসায়নিক পদার্থ ইনজেক্ট করে কোন মৃতদেহে ফিরিয়ে আনা যায় না জীবন,দেহকে করা যায় না সঞ্জীবিত।। 

• জীবনের প্রকাশ ঘটে দেহে চেতনার বিচ্ছুরণের মাধ্যমে। সেই চেতনা (Consciousness) কি বস্তু, চেতনার একটি প্রকাশ-বৈশিষ্ট্য স্বাধীন ইচ্ছা (Free will) কি, ব্যাখ্যা করতে পারেন না কোন বিজ্ঞানী।

এবিষয়ে একটি সাক্ষাৎকারে (৯ই জানুয়ারী, ২০০৩) ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স ক্যাম্পাসে নােবেলজয়ীবিজ্ঞানী চার্লস টাউস জানানঃ
"Now at least, some biologists recognize that we don't understand the puzzling nature and uniqueness of human life, free will and consciousness. What is really essential is to understand the genuine nature of consciousness. We really don't have a clear definition of censciousness in the first place.” 

“এখন অন্ততঃ কিছু জীববিজ্ঞানী স্বীকার করছেন, যে আমরা মানব জীবন, স্বাধীন ইচ্ছা ও চেতনার অনবদ্যতা ও স্বরূপ বুঝতে পারি না; এদের স্বরূপ আমাদের কাছে হতবুদ্ধিকর। যা সত্যিই প্রয়ােজন তা হচ্ছে চেতনার প্রকৃত স্বরূপকে উপলব্ধি। সত্যিই, প্রথম কথাই হচ্ছে। চেতনা কি তার কোন পরিষ্কার সংজ্ঞা আমাদের কাছে নেই।”

নীলস বাের ঃ “এটা স্বীকৃত সত্য যে আমরা রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় এমন কিছুই পাই না, চেতনার সংগে যার সামান্যতমও সম্পর্ক আছে। তবুও আমরা সবাই জানি যে চেতনা বলে একটি বস্তু আছে, কেবল এইজন্য যে সেটা আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে রয়েছে। 

সেজন্য চেতনা অবশ্যই প্রাকৃতিক অস্তিত্বের একটি অংশ হবে অথবা আরাে সাধারণভাবে বলতে গেলে চেতনা একটি বাস্তবতা, যার অর্থ, কোয়ান্টাম তত্ত্বে যে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের নিয়ম-কানুন দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ভিন্ন ধরনের কোন নিয়মের (Laws) কথা বিবেচনা করতে হবে (চেতনাকে বােঝার জন্য)।”

বিজ্ঞনী ইউজিন  উইগনার : "There are two kinds of reality or existence; the existence of my consciousness and the reality or existence of everything else.

”অথাৎ দুই ধরনের বাস্তবতা বা অস্তিত্ব রয়েছে। আমার চেতনার অস্তিত্ব এবং অন্য সবকিছুর অস্তিত্ব বা বাস্তবতা।”

 সায়েন্স পত্রিকায় বিখ্যাত বিজ্ঞানী মাইকেল পােলনি । "........... Once it is recognized, on other grounds, that life transcends physics and chemistry, there is no reason for suspending recognition of the obvious fact that consciousness is a principle that fundamentally transcends not only physics and chemistry but also the mechanistic principles of living beings.

” অর্থাৎ “... একবার যদি এই সত্যটি স্বীকৃত হয়, যে জীবন পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন শাস্ত্রের পরিধিকে অতিক্রম করে বিদ্যমান, তাহলে এই সুস্পষ্ট বাস্তব সত্যটির স্বীকৃতিকে স্তব্ধ করে রাখার কোন কারণ নেই যে চেতনা এমন বস্তু যা মূলগত ভাবে কেবল পদার্থবিদ্যা ও রসায়নশাস্ত্রকেই অতিক্রম করে যায় নি, এটি জীবসমূহের দৈহিক যান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপেরও অতীত।”

 রসায়ন বিজ্ঞানী এস.কে মুখার্জী (বােস ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ডাইরেকটর, ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমীর ফেলাে, ইন্ডিয়ান অ্যাসােশিয়েশান অব কালটিভেশন অব সায়েন্স এ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ::-
 “I fully agree that life is not composed of molecules. We cannot define it. But definitely life is not a thing composed of only atoms and molecules.,

“আমি সম্পূর্ণ একমত যে জীবন কিছু অণুর সমষ্টি নয়। আমরা জীবনকে সংজ্ঞায়িত করতে পারি না। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই জীবন কেবল কিছু পরমাণু ও অণুর সমাহারে গঠিত কোনাে বস্তু নয়।”

"We can admittedly find nothing in physics or chemistry that has even a remote bearing on consciousness. Yet all of us know that there is such a thing as consciousness, simply because we have in ourselves. Hence consciousness must be part of nature, or more generally, reality which means that, quite apart from the laws of phyics and chemistry quantum theory; we must also consider laws of quite a different nature."
স্যার রজার পেনরােজ (বিশ্বখ্যাত ম্যাথমেটিক্যাল ফিজিসিস্ট, স্টিফেন হকিং এর সংগে যুগ্ম Wolf-prize-1988 বিজেতা) : 
“As I have said, our present scientific knowledge cannot describe consciousness. .......We certainly don't believe that consciousness can be understood in terms of present day science.”
 “আমি যেমন বলেছি, আমাদের বর্তমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞান চেতনা সম্বন্ধে তথ্য দিতে পারে না।........ নিশ্চিতভাবেই আমরা (বিজ্ঞানীরা) বিশ্বাস করি না যে আজকের দিনের বিজ্ঞান দিয়ে চেতনাকে উপলব্ধি করা যেতে পারে।”

 ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে যে প্রকৃত জ্ঞানের সূচনা হয় জড় পদার্থ ও চেতন বস্তুর পার্থক্য উপলব্ধির মধ্য দিয়ে। জড়ের ধর্মের চেয়ে চেতন বস্তুর ধর্ম সম্পূর্ণ পৃথক, বিপরীত ধর্মী। ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে যে চেতনা নিঃসৃত হয় অতিক্ষুদ্র (চুলের অগ্রভাগের ১০ হাজার ভাগের ১ ভাগ) চেতন স্ফুলিঙ্গ চিন্ময় আত্মা (Spirit soul বা spiriton) থেকে। এই চিন্ময় কণিকা শাশ্বত,সনাতন, এবং অবিকারী বা অপরিবর্তনীয় বলে ভগবদ্গীতায় বর্ণনা করা হয়েছে।



জীবন কি শাশ্বত ?
 শক্তি সূক্ষ্ম হলে তার প্রভাব বা সামর্থ্য হ্রাস পাবে এমন কথা নেই—বরং বিপরীত হতে পারে। আলাের গতি, ফোটন কণার গতির কাছাকাছি কখনই যেতে পারে না স্থূল জড় বস্তুর গতি।

 পরমাণু শক্তি দিয়ে নিমেষেই ধ্বংস করা যায় একটি শহরকে। এই পরমাণু শক্তিকে আবিষ্কার, নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়ােগ করতে পারে চেতনশক্তি। এই চেতনশক্তি কি জড়ের চেয়ে শক্তিশালী নয়?

 ভর ও শক্তির নিত্যতা সূত্র (Theory of conservation of mass and energy) : এই সূত্র অনুসারে বিশ্বব্রহ্মান্ডের কোন পদার্থ ও শক্তি ধ্বংস হয় না, কেবল রূপান্তরিত হয়। যদি জড় বস্তু ও শক্তি ধ্বংস না হয়, জড়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যে চেতন পদার্থ, জীবন-যা এত শিল্প সৌকর্য তৈরী করে, সূর্যের আলােক বিচ্ছুরণের মতােই দেহে যার উপস্থিতি সৃষ্টি  করে চেতনার বিচ্ছুরণ, অভিব্যক্তি, সেই জীবন কেন ধ্বংস হয়ে শূন্যে পরিণত হবে?

জড় আধারে, দেহের মধ্যে জীবন বা আত্মার উপস্থিতির ফলে দেহকে জীবন্ত মনে হয়, বাস্তবে জড় পদার্থের তৈরী দেহটি সবসময়ই মৃত, নির্জীব, জড়। কেবল চেতন পদার্থের উপস্থিতিই দেহকে সক্রিয় করে। বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, তাঁর গ্রন্থাবলীতে ও কথােপকথনে দেহের বাইরে গেলেও(মৃত্যু) চেতন সত্তা থাকে সম্পূর্ণ অবিকৃত। চেতনার মৌল বৈশিষ্ট্যের বা ধর্মের কোন পরিবর্তন হয় না। এটিই বৈদিক শাস্ত্রের তথ্য। এজন্য কোয়ান্টাম পদার্থবিদ এরভিন শ্রয়েডিংগার, নােবেলজয়ী চার্লস টাউনস , নােবেলজয়ী ওয়ার্নার আর্বার, ইউজিন উইগনার, পরমাণু বিজ্ঞানী ডঃ আব্দুল কালাম জীবন সম্বন্ধে জানতে বৈদিক শাস্ত্রের দিকে ঝুঁকেছেন ।

পরাশক্তি (Superior Energy)

জীবন বা স্পিরিটন,* প্রাণকণাও বস্তু, কিন্তু বৈদিক শাস্ত্র ও ভগবদ্গীতা (৭/৫) অনুসারে, সেটি পরম চেতন বস্তু, ভগবানের পরা বা শ্রেষ্ঠতরশক্তি (Superior Energy)। পক্ষান্তরে জড় বস্তু হচ্ছে অপরা বা নিকৃষ্ট শক্তি (Inferior Energy)। পরাশক্তিই অপরা শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। জড় দেহে এই পরা শক্তির উপস্থিতির ফলেই দেহটির বৃদ্ধি হয়, কোষগুলি সক্রিয় থাকে। এই শক্তি, চেতন বস্তু আত্মা নিষ্ক্রান্ত হওয়া মাত্রই দেহে শুরু হয় পচন-ক্রিয়া।

 যে দেহ৮০-৯০ বছর কার্যক্ষম থাকে, সেই দেহটির চালক সজীব পরাশক্তি আত্মার নির্গমনের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পচে যেতে (Decompose) শুরু করে। প্রকৃত স্বরূপ-সম্বন্ধে (স্বরূপবিভ্রম) বিভ্রান্তির ফলে এই ধ্বংসশীল দেহকে ব্যক্তি মনে হয়, যা কিছু জড় বস্তুর সমাহার মাত্র, চেতন আত্মা থাকে অবহেলিত।


জীবন, চেতন বস্তু (Spiriton or Soul) যে জড় পদার্থ নয়, বিজ্ঞানীরাও ক্রমশঃ তা উপলব্ধি করতে পারছেন। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস হাক্সলি : “I understand the main tenet of materialism to be that there is nothing in the universe but matter or force ... It seems to me pretty plain that there is a third thing in the universe, to wit, consciousness, which .... I cannot see to be matter or force, or any conceivable modification of either."

“আমি উপলব্ধি করতে পারি যে জড়বাদের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে এই ধারণা যে এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে জড় বস্তু ও শক্তি ছাড়া আর কিছুই নেই.....। আমার কাছে এটি ভালভাবেই সুস্পষ্ট সরল। বিষয় যে ব্রহ্মান্ডে তৃতীয় আরেকটি বস্তু রয়েছে, অর্থাৎ, চেতনা, যাকে ...... আমি জড় পদার্থ বা জড় শক্তি বা উভয়ের সমন্বয়ে উৎপন্ন কোন কিছু বলে দেখতে পারি না।”



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline