Adsterra 7

 

Follow

পরীক্ষাগারে প্রাণ তৈরি । প্রাণ এলো মহাকাশ থেকে ? জড়বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ||অ্যাসিড আর জীবনের পার্থক্য কতখানি?PAGE-54

 

পরীক্ষাগারে প্রাণ তৈরি । অ্যাসিড আর জীবনের পার্থক্য কতখানি? ||PAGE-54

পরীক্ষাগারে প্রাণ তৈরি । প্রাণ এলো মহাকাশ থেকে ? জড়বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা  ||অ্যাসিড আর জীবনের পার্থক্য কতখানি?


 স্ট্যানলি মিলার আর হেরল্ড উরের পরীক্ষায় কাচের জারে মিলেছিল কালচে রাসায়নিক আস্তরণ —অ্যামাইনাে অ্যাসিড। ভাবা গিয়েছিল সহজ হবে গবেষণাগারে জীবন তৈরী করা । 


কিন্তু আশা হারিয়েছে রহস্যের ধোঁয়াশায়। যখন ভগবানের সৃষ্টি-বৈচিত্র্যে অগণিত উৎস থেকে ঝরে পড়ছে জীবনের অনুপম নিঝর, প্রাণের নিরন্তর প্রবাহ, তখন গবেষণাগারে বায়ােকেমিস্ট কাচের জারে পিরিমিডিন বা গ্লাইসিনের মতাে কিছু অ্যাসিড যৌগ তৈরী করে দুরকল্পনায় ভাবছেন এইসব দিয়ে কোন দিন সফল হবে জীবন তৈরী।

 আজ পর্যন্ত কোন পরীক্ষাগারে জীবন দুরের কথা, মানুষের একটি চুল, ‘একটি ঘাসের ডগা কিংবা মশার একটি ঠ্যাং’ও তৈরী করা যায়নি।।



জড়বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা 


প্রাণ-এর রাসায়নিক সমীকরণ ঃ সব মৌল ও যৌগ পদার্থের আণবিক গঠন-

বিন্যাস  রাসায়নিক সংকেতের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু প্রাণ নামক চেতন পদার্থটির রাসায়নিক সংকেত জানা নেই কারাে। অর্থাৎ, প্রাণ বা জীবন কোনাে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জড় পদার্থ নয়। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে বস্তুকে দেড় লক্ষ গুণ বিবর্ধিতকরা যায়, কিন্তু দেখা যায় না প্রাণকে— যার অভাবে দেহ হয়ে যায় নিস্পন্দ।


গবেষণাগারে প্রাণ সৃষ্টিঃ টেস্টটিউবে যে মানৱ শিশুর জন্ম হয় বলে দাবী করা হয়— সেখানে জীবনের আধার শুক্রাণু-ডিম্বাণু নেওয়া হয় মাতা-পিতার কাছ থেকে। শিশু ভূমিষ্ঠ হয় মাতৃগর্ভ থেকেই। ক্লোনিং-এর ক্ষেত্রেও মাতা-পিতা থেকে কোষ নিয়ে নিউক্লিয়াস পরিবর্তন করে পরে তা প্রােথিত করা হয় মাতৃগর্ভে। কোষের ডি.এন.এ এবং ক্রোমােজোম তৈরীর ক্ষমতা নেই কোনাে মানুষের। জীবদেহ থেকে কোষ না নিয়ে গবেষণাগার থেকে কখনাে সৃষ্টি করা যায়নি প্রাণের।


জিন-সহ কোষের মধ্যে যতরকম রাসায়নিক উপাদান দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা তার প্রায় সবগুলিই পরীক্ষাগারে কোষ থেকে নিয়ে সংশ্লেষণ করতে পারেন। মাইক্রোবায়ােলজি এবং বায়ােকেমিস্ট্রির অগ্রগণ্য গবেষক বিজ্ঞানীরা এই সমস্ত রাসায়নিকগুলি একত্রিত করে তা থেকে টেস্ট টিউবে প্রথম কৃত্রিম প্রাণ-কণা সৃষ্টির প্রবল চেষ্টা করেছেন ও করছেন। কিন্তু সেই প্রথম সিন্থেটিক লাইফ’ এর সৃষ্টি আজও স্বপ্নই থেকে গেছে। রাসায়নিক পদার্থগুলাে সবসময়ই নির্জীবই থেকে গিয়েছে, হয়ে ওঠেনি প্রাণময়। যদি প্রাণ আবিষ্কৃত হত, নিমেষেই রাসায়নিক পদার্থ ইনজেক্ট করে বাঁচিয়ে তােলা যেত যেকোন মৃত ব্যক্তিকে। 


রাসায়নিক ও পদার্থবিদ্যাগত নিয়মকানুন প্রয়ােগ করে প্রাণের রহস্য উদঘাটনের এই চেষ্টা রহস্যকে কেবল আরাে ঘনীভূত করেছে। তাঁর “বায়ােলজি টুডে” বইয়ে নােবেলজয়ী রসায়নবিদ অ্যালবার্ট জেন্ট গিয়গি মন্তব্য করেছেন, “প্রাণের রহস্যের সন্ধান করতে করতে আমি অবশেষে এসে শেষ করেছি পরমাণু আর ইলেকট্রনে, যাদের মধ্যে আদৌ নেই প্রাণের অস্তিত্ব।


 এই দীর্ঘ অনুসন্ধানের মধ্যে কোথাও ‘প্রাণ’ আমার আঙুল গলে বেরিয়ে গেছে। তাই এই জীবনসায়াহ্নে এসে আমি আবার আমার ফেলে আসা পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলেছি.......... হারানাে প্রাণের সন্ধানে...।” ইন্ডিয়ান অ্যাসােসিয়েশন ফর দি কালটিভেশন অব সায়েন্সের প্রেসিডেন্ট (1985-1999), ইউনেস্কোর পরামর্শদাতা এবং কোলকাতা ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এস. কে, মুখার্জী ঃ “In cloning nothing substantial is there in resolving the problem of understanding the definition of life. No one has been able to produce even a synthetic cell...... I don't think we will ever be able to synthesize a cell”অর্থাৎ-“ক্লোনিং এর মধ্যে জীবনের সংজ্ঞা নির্ধারণের সমস্যা নিরসনের ক্ষেত্রে সারবত্তাপূর্ণ কিছুই নেই। কেউ এমনকি একটি কৃত্রিম কোষও তৈরী করতে পারেনি (জীবন সৃষ্টি তাে দূরের কথা)।........আমি মনে করি না যে আমরা কখনই কৃত্রিম উপায়ে একটি কোষ তৈরী করতে পারব।” –সবিজ্ঞান, B1, VI-2, p-54



প্রাণ এলো মহাকাশ থেকে ? 


পৃথিবী গ্রহে প্রাণের উৎসের সন্ধান না পেয়ে বহু বিজ্ঞানী ভিন্ন গ্রহ থেকে প্রাণ এখানে উল্কাপাত ধূমকেতু প্রভৃতির ফলে ছিটকে এসেছে (Extraterristrial origin), এই মতবাদের সাহায্যে নতুন বৈজ্ঞানিক আষাঢ়ে গল্প তৈরী করে চালানাের চেষ্টা করছেন। আন্টার্টিকায় পড়ে থাকা এক টুকরাে পাথরকে মর্দলগ্রহের উল্কা নির্ধারণ করে চলে প্রবল গবেষণা, আর অবশেষে সেখানে কিছু বিজ্ঞানী দেখতে পান ‘ভাইরাসের ফসিল’!


আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন একে শতাব্দীর উল্লেখযােগ্য ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। কিছু বিজ্ঞানী বাইরের গ্রহ থেকে প্রাণ আসার ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হয়ে পড়েন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের, গল্পটি মাঠে মারা যায়; অন্য বিজ্ঞানীরা হেসে উড়িয়ে দেন তিন ইঞ্চি পাথরে আঁকিবুকির ‘অকাট্য প্রমাণ। ফলে সেই গল্পের পাতা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ‘বিজ্ঞানীরা, তবে মহাকাশ থেকে প্রাণ আসার তত্ত্ব সমানে প্রচার করে চলেছেন কিছু বিজ্ঞানী।


জড় পদার্থকে কোনাে উপায়েই চেতন (Conscious) করা যায় না। সেজন্য কোন উদ্ভিদ, প্রাণী বা মানুষের মৃত্যু হলে কখনােই রাসায়নিক পদার্থ ইনজেক্ট করে ঐ শরীরে ফিরিয়ে আনা যায় না চেতনা। চেতনা, চেতন কণার উপস্থিতিই একটি দেহকে চেতনাময়, ব্যক্তিত্বশীল করে তােলে। চেতন পদার্থ দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হলে নিথর দেহটি পড়ে থাকে ব্যক্তিত্বহীন হয়ে , আচরণ করে জড়বস্তুর মতাে।



Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION