Page

Follow

জীবনের উদ্ধব কি আকস্মিক রাসায়নিক দুর্ঘটনা? ||ব্যাকটেরিয়া || সরলতম কোষেও কম্পিউটার মাদারবাের্ডের জটিলতা PAGE-53

 

 সরলতম কোষেও কম্পিউটার মাদারবাের্ডের জটিলতা

PAGE-53



একটি সরলতম কোষ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার দেহে সংযুক্ত রয়েছে একটি রােটার মােটর, যেটি ৪০টি যন্ত্রাংশের সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরী। এই মােটর যখন ঘােরে তখন এর সংগে সংযুক্ত সিলিয়া বা ফ্লাজেলাগুলি সঞ্চালিত হয়, ফলে ব্যাকটেরিয়াটি জলে নির্দিষ্ট দিকে চলতে পারে। মােটরটি উভয় দিকে ঘুরতে সক্ষম। ২০টি জিনের শতশত DNA এর ইনস্ট্রাকশানে তৈরী হয় এই উন্নতমানের ডিজাইনিং–এর নিদর্শন রােটার মােটর। এই টেকনােলজি ছাড়া বাঁচবেনা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া কোষ। 



নাসার তৈরী প্রপেলার মােটর নয়, 
ব্যাকটেরিয়ার টেকনাে ওন্ডার


বাঁদিকে ও আণুবীক্ষণিক জীব ব্যাকটেরিয়ার ফ্লাজেলামের ফিলামেন্ট, হুক ও রােটারি মােটর। কোষপর্দা ও কোষ প্রাচীরের মধ্যে তার নীচে মােটরের রেখাঙ্কিত চিত্রে অবিকল প্রতিরূপ, নিখুঁত, উদ্দেশ্যমূলক ও জটিল ডিজাইন।* 


বিজ্ঞানী মাইকেল বেহে পৃথিবীর তথাকথিত ‘সরলতম’ এককোষী জীবের একটি এই ব্যাকটেরিয়ার রােটারি মােটরের জটিলতা ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, “ব্যাকটেরিয়া ফ্লাজেলাম সম্পূর্ণ আক্ষরিক অর্থেই একটি আউটবাের্ড মােটর, যা ঐ ব্যাকটেরিয়া তরলে সাঁতার দেওয়ার জন্য ব্যবহার করে। এটা ঠিক জলের মধ্য দিয়ে চলার জন্য কোন নৌকার পিছনে মােটর লাগানাের মতাে।


 গ্যাসােলিনের পরিবর্তে এই মােটরে কোষের এক দিক থেকে অন্যদিকে চলতে থাকা অ্যাসিড-প্রবাহ ব্যবহৃত হয়েছে। মােটরের যন্ত্রাংশগুলাে একত্রে সংবদ্ধ রাখার জন্য অনেক নাট ও বােল্ট ও রয়েছে, এবং একটি হুক-অঞ্চল রয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে সঞ্চারণক্ষম অঙ্গ (ড্রাইভ শ্যাফট) এবং প্রপেলার ঘােরার এক সার্বিক সংযােগস্থল। যেখানে একটি আঁকশি (অ্যাংকর) রয়েছে, যা সমগ্র যন্ত্রকাঠামােটিকে কোষপর্দার সাথে আটকে রাখে এবং যখন প্রপেলার ঘােরে তখন সেটিকে নির্দিষ্ট স্থানে সংবদ্ধ রাখে।

“যখন আমি এই যন্ত্র কাঠামাের ছবি দেখাই, তখন মানুষ প্রশ্ন করেছে এটি নাসার ডিজাইন কিনা। আমি যখন তাদের বলি যে এটি কোষের মধ্যেকার একটি জৈব যন্ত্র কাঠামাে, তারা সাথে সাথেই এই সত্য স্বীকার করে যে এটি কখনাে ডারউইন কথিত আপনা-আপনি ক্রমাগত প্রক্রিয়ায় (রেনডম প্রসেস) তৈরী হওয়া সম্ভব নয়, বরং এটি সুপরিকল্পিতভাবে ডিজাইন করা।”


কোষ বিভাজন ঃ ব্যাকটেরিয়া কোষকে প্রােটোসেল ও ইউক্যারিওটিক সেলের যােগসূত্র ভাবা হয়; সরল’এই কোষের বিভাজন প্রক্রিয়া কিন্তু রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার অত্যন্ত উন্নত জ্ঞানের ('Sophisticated knowledge of chemistry, Physics) পরিচয়বাহী। 


 কোণ বিভাজন ছাড়া চলবে না জীবন, জীবনের গতি; অথচ একটি কোষের বিভাজন—জটিলতম একটি প্রক্রিয়া। সরল’এককোষী ব্যাকটেরিয়ায় কোষ বিভাজন হতে হবে এই সব শর্ত পূরণ করে ।


 ১. ডি.এন.এ রেপ্লিকেশন – জেনেটিক কোডের অণুগুলির ঠিক বিন্যাসের ডুপ্লিকেট কপি বা প্রতিলিপি তৈরী।।


 ২. সাইটোকিনেসিস – সাইটোপ্লাজম ও মেমব্রেন এর বিভাজন সহ কোষ পদার্থের বিভাজন (সেল হাউসিং)। এই প্রক্রিয়াটি কোষ বিভাজনের পূর্বেই ঘটতে হবে, নাহলে নবগঠিত কোষ ক্রমাগত আকারে ছােট হতে থাকবে।


 ৩. প্রােটিন সিন্থেসিসঃ কোষে অবশ্যই প্রােটিন অণুসমূহ থাকতে হবে ডি-এন-এ রেপ্লিকেশন ও মেমব্রেন তৈরীর জন্য।। 


৪. ডি-এন-এ বিভাজন—নতুন অপত্য কোষের জন্য এটি জরুরী। 


৫. ডি-এন-এ রেপ্লিকেশন ও সাইটোকিনেসিসের মধ্যে সুসমন্বয়।


ব্লুপ্রিন্টের  আগে বাড়ী, না বাড়ীর আগে ব্লুপ্রিন্ট ? 


একটি সরলতম ব্যাকটেরিয়া কোষেও ২০০০ ধরনের প্রােটিন থাকে। প্রতিটি প্রােটিনঅণু শত শত অ্যামাইনাে অ্যাসিডের সুনির্দিষ্ট বিন্যাস বা সিকোয়েন্সে তৈরী হয়। প্রােটিন অণুর কাঠামাে নির্মাণ করে অ্যামাইনাে অ্যাসিডের এই সিকোয়েন্স নিয়ন্ত্রণ করে ডি এন এ জিন। প্রতিটি ডি.এন. এ-তে চারটি লেটার-বেসের প্রােটিন-বিন্যাস বা নিউক্লিওটাইড থাকে A.T.G. C, চারটি পদার্থের আদ্যাক্ষর ঃ অ্যাডেনাইন, থাইমিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিন। 



কোষের গঠন কেমন হবে, এই চার ধরনের পদার্থের বিভিন্ন সিকোয়েন্সে বিন্যাসের কোডের মাধ্যমে তা লিপিবদ্ধ থাকে। ডি.এন.এ কোড হচ্ছে কোষের ব্লুপ্রিন্ট। প্রশ্ন হচ্ছে কোনটি আগে।

—ব্লুপ্রিন্ট আগে না কোষ আগে ? একটি বহুতল বাড়ী কি ব্লুপ্রিন্ট ছাড়া নির্মাণ করা যায় ? ব্লুপ্রিন্ট ছাড়া পৃথিবীর সরলতম একটি কোষের আপনা থেকে উদ্ভূত হওয়ার সম্ভাব্যতা মেপেছেন বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী ফ্রাংক স্যালিসবেরি। তাঁর কথায় ঃ

“একটি মাঝারি মাপের প্রােটিনে প্রায় ৩০০ অ্যামাইনাে অ্যাসিড অন্তর্ভুক্ত থাকে। এদের সিকোয়েন্স কন্ট্রোল করার জন্য ডি.এন.এ শৃঙ্খলে ১০০০ নিউক্লিওটাইড থাকতে হবে।

যেহেতু’ড়ি.এন,এ-তে চার ধরনের নিউক্লিওটাইড থাকে, সেজন্য ১০০০ লিংক যুক্ত একটি ডি.এন.এ শৃঙ্খলে নিউক্লিওটাইডের বিন্যাস থাকতে পারে ৪^১০০০ সংখ্যক রূপে। সামান্য একটু বীজগণিত ব্যবহার করলে আমরা দেখতে পাই যে ৪^১০০০ =১০^৬০০। ১০ কে ১০ দিয়ে ৬০০ বার গুণ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১ এর পর ৬০০ শূন্য। এই সংখ্যা আমাদের ধারণার অতীত।



আবার , ডি.এন.এ -এর প্যাঁচানাে সিঁড়ির মতাে , ‘ডাবল-হেলিক্স স্ট্রাকচার ও এর হাজার হাজার নিউক্লিওটাইড-লিংকগুলির জটিল কোডিং ম্যাকানিজম দুরকল্পনাতেও আনতে পারেন না বিবর্তনবাদী-বিজ্ঞানীরা। তাহলে, ডি.এন.এ ব্লুপ্রিন্ট ছাড়াই কি ভাবে তৈরী হলাে কোষ হাউস, কিংবা কোষ-হাউস ছাড়াই কোথা থেকে এলাে ডি.এন.এ, জিন ? কোনটি প্রথমে ?


 ডি-এন-এ স্ট্রাকচারের সহ-আবিষ্কর্তা, নােবেল জয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিকঃ । 


“আমাদের কাছে এখনাে পর্যন্ত যত জ্ঞান আছে, সেই সমস্ত জ্ঞান অধীত করে একজন নিষ্কপট সৎ ব্যক্তি কেবল এইটুক বলতে পারেন যে, জীবনের প্রক্রিয়াটি চলার জন্য এত অসংখ্য শর্ত পূরণ করার প্রয়ােজন হয়েছে যে এক অর্থে জীবনের উদ্ভবকে এই মুহূর্তে প্রায় অলৌকিক বলে মনে হচ্ছে।”


"An honest man, armed with all the knowledge  available to us now, could only state that in some sense the origin of life appears at the moment to be almost a miracle. So many are the conditions which would have had to have been satisfied to get it going."

DNA -এর সহ আবিষ্কর্তা নােবেলজয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক



“The data at the core of life is not disorganized, it's not simply orderly like salt crystals, but it's complex and specific information that can accomplish a bewildering task-the building of biological machines that far outstrip human technological capabilities." S8

-Lee Strobel

অর্থাৎ- “জীবনের মর্মকেন্দ্রে তথ্যাবলী বিশৃঙ্খল নয়, এটি কেবল লবণের ক্রিস্টালগুলির মতাে সুবিন্যস্ত নয়; এর জটিল ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসম্ভার এক হতবুদ্ধিকর কাজ সম্পন্ন করতে পারে – এক জৈব যন্ত্রব্যবস্থাসমূহের নির্মাণ, যা মানুষের প্রযুক্তিগত সামর্থ্যকে বহুগুণে অতিক্রম করে যায়।”





Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline