Page

Follow

জীবনের উদ্ধব কি আকস্মিক রাসায়নিক ঘটনা ? প্রচলিত তত্ত্বঃজীবন এক কেমিক্যাল অ্যাকসিডেন্ট | PAGE-49

 

 প্রচলিত তত্ত্বঃজীবন এক কেমিক্যাল অ্যাকসিডেন্ট 

PAGE-49



স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাসায়নিক পদার্থের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় (chance chemical reaction) জীবনের উদ্ভব হয়েছে এই মতবাদের প্রবক্তারা জীবনের উদ্ভবের ইতিহাস এঁকেছেন। এইভাবেঃ প্রথমে পৃথিবীর আবহমণ্ডল ছিল কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, অ্যামােনিয়া এবং জলে গঠিত।


 তারপর সূর্যালােক, এবং সম্ভবতঃ বজ্রপাত আর আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ থেকে নির্গত শক্তির দ্বারা ঐ সরল যৌগগুলি ভেঙে গেল, তাদের থেকে তৈরী হলাে নানারকম অ্যামাইনাে অ্যাসিডের। এই অ্যাসিডগুলি সমুদ্রে একীভূত হয়ে তৈরী করল প্রােটিনের মতাে কিছু অণুর। 


এইরকম বিক্রিয়ার ফলে পরিশেষে, ‘দি সেলফি জিন’ বইয়ের এই মতবাদের একজন প্রবক্তা ডকিন্স ব্যাখ্যা করেন, মহাসাগরের তরলিত রসায়ন এক “আদি জৈব তরল”-এ (“Primordial Organic Soup) পরিণত হল, কিন্তু সেটি এখনাে নির্জীব।


 তারপর, ডকিন্সের বর্ণনা অনুযায়ী, “আকস্মিক দুর্ঘটনাবশতঃ বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য এক অণু গঠিত হলাে ("a particularly remarkable molecule wasformed by an accident'), যে অণু ছিল নিজের প্রতিরূপ তৈরীর ক্ষমতাসম্পন্ন।


ডকিন্স স্বীকার করলেন যে এই ধরনের বিচিত্র অ্যাকসিডেন্ট ঘটা নিতান্তই অসম্ভব (exceedingly improbable), কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর মতে অবশ্যই কোনও না কোন ভাবে সেটি ঘটে গিয়েছিল, ঘটনাচক্রে – নেহাৎই দৈবক্রমে। 


তারপর ঘটনাক্রমে সমগ্রোত্রীয় অণুগুলি একত্রে সমাবিষ্ট হলাে এবং তারপর, আবারও অত্যন্ত অসম্ভব কোনাে দুর্ঘটনাক্রমে সেই সীমাবদ্ধ অণুগুচ্ছে তাদের চতুর্দিকে অন্যান্য প্রােটিন-অণুর সাহায্যে তৈরী করলাে এক সুরক্ষা-আবরণ বা মেমব্রেন, অর্থাৎ কোষ-পর্দা। 


বিজ্ঞানী ওপারিন এইভাবে ক্রমান্বয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জীবনের উদ্ভব বা কেমােজনির চলচ্চিত্র এঁকেছেন। অন্যান্য বিজ্ঞানীরা তাতে সংযােজন করেছেন তাঁদের ধারণা। এইভাবে জীববিজ্ঞানীদের দাবী, পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছিল প্রথম কোষের, যার মধ্যে ছিল প্রাণের দীপ্তি।। 


‘প্রিমর্ডিয়াল সুপ থেকে, রাসায়নিক তরল থেকে এইভাবে প্রাণের উৎপত্তি, সজীব জীব-কোষের উদ্ভব। ইচ্ছা-সংকল্প-অনুভবশীল সচেতন সত্তার উদ্ভবের এই মতবাদ আরাে অনেক জড়বিজ্ঞানী নানারকম ভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। শুধু ব্যাখ্যাই নয়, শুরু হয় জড় পদার্থ থেকে প্রাণ সৃষ্টির, প্রাণ-যুক্ত সজীব কোষ সৃষ্টির পরীক্ষা-নিরীক্ষা।


 প্রথমে স্ট্যানলি মিলার তার পরীক্ষাগারের এক পরীক্ষায় কাচের জারের গায়ে লেগে থাকা কিছু অ্যামাইনাে অ্যাসিডের চিহ্ন দেখে উদ্দীপিত হন। শুরু হয় সম্পূর্ণ নির্জীব, জড় এইসব রাসায়নিক থেকে জীবন্ত কোষ তৈরীর পরীক্ষা। ২০ বছরের কঠোর গবেষণার শেষে তাঁর মন্তব্য :


 “অ্যামাইনাে অ্যাসিডের আবিষ্কারের ফলে মনে হয়েছিল জীববিজ্ঞান অচিরেই প্রাণ সৃষ্টির গৌরব অর্জন করতে চলেছে। অথচ আজ ২০ বছর ধরে বিস্তর গবেষণার শেষে আমার মনে হচ্ছে, প্রাণ সৃষ্টি যতটা সহজ বলে মনে করেছিলাম, তা ঠিক ততটাই কঠিন।” 



এর পর চলে গেছে প্রায় আরাে একশাে বছর। পৃথিবী জুড়ে হয়েছে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রচেষ্টা। কিন্তু প্রাণসৃষ্টি  থেকে গেছে এক দুর-কল্পনা। ভবিষ্যতে তারা করে দেখাবেন, এই প্রতিশ্রুতি দ্বারা কোনাে মতবাদকে দেওয়া যায় না বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। 


ঠিক যেমন কারও যদি ব্যাঙ্কে টাকা না থাকে, আর সে ভবিষ্যতে  জমা করবে বলে একটি পােস্ট-ডেটেড চেকে বিশাল অংকের টাকা লিখে কিনতে যায় কোনো  ইমারত, তাকে বিফল হতে হবে। বিজ্ঞানী ডকিন্স তাঁর বইয়ের মুখবন্ধে নিজেই স্বীকার করেছেন যে জীবন উদ্ভবের এই বৃত্তান্ত প্রায় কল্প বিজ্ঞানের মতো::This book should be viewed as though  it  science fiction -মুখবন্ধ ,"দি সেলফিস জিন "।


এই তত্ত্বের অন্তর্নিহিত অসঙ্গতি


 কাল্পনিক যে-কোনাে মতবাদ নানা অন্তর্নিহিত সমস্যায় ভুগতে থাকে, তাকে যুক্তিগ্রাহ্য করা যায় না কিছুতেই। প্রিমর্ডিয়াল সুপ থেকে জীবন সৃষ্টির এই তত্ত্বে তাই রয়েছে বহু ফাটল, গহ্বর , জোড়াতালি। বিজ্ঞানীরাই ঐ প্রশ্ন তুলেছেন ঐসব অসামঞ্জস্য নিয়ে। কয়েকটি দৃষ্টান্ত দেওয়া হল।। 


অসঙ্গতি-১ঃ পৃথিবীর প্রারম্ভিক পরিমণ্ডলে কি অক্সিজেনের অস্তিত্ব ছিল? যদি আবহমণ্ডলে অক্সিজেন থাকত, তাহলে তৈরী হওয়া সরল যৌগগুলি সংবদ্ধ হয়ে অ্যামাইনাে অ্যাসিড তৈরী হওয়া সম্ভব হতাে না। আবার পরিমণ্ডলে অক্সিজেনের উপস্থিতি না থাকলে মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays) বিকীরণের প্রভাবে তৈরী হওয়ার পরই বিশ্লিষ্ট হয়ে যেত অ্যামাইনাে অ্যাসিডগুলি। 


বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক আবিষ্কার—৩.৫ বিলিয়ন অর্থাৎ ৩৫০ কোটি বছর পূর্বে লােহাতে অক্সাইড পাওয়া গিয়েছে অতএব ইতিপূর্বেও পরিবেশে ছিল অক্সিজেন। 



জৈব তরলের গঠনঃ


 অসঙ্গতি-২ঃঅ্যামাইনাে অ্যাসিডগুলি জলের মধ্যে ছিল,নাকি বাইরে? পরিমণ্ডলে অ্যামাইনাে অ্যাসিডগুলি গঠিত হওয়ার পর, অনুমান করা হয়েছে যে ঐ অ্যাসিডগুলি কোনােভাবে মহাসাগরের একই স্থানে গিয়ে পড়েছিল—যাতে করে “অর্গানিক স্যুপ” তৈরী হতে পারে। এখন, যদি অ্যামাইনাে অ্যাসিডগুলি জলের মধ্যে থাকে, তাহলে তারা সংবদ্ধ হয়ে প্রােটিনগুলি তৈরী হতে পারবে না, কেননা জল বড় অণুগুলিকে ভেঙ্গে দেয়—তাদের সংবদ্ধ হতে দেয় না ।


 আর, অ্যাসিডগুলি যদি জলের বাইরে থাকত, তাহলে মহাজাগতিক রশ্মি-বিকিরণের ফলে তারা মুহূর্তেই বিশ্লিষ্ট হয়ে যেত।


সুতরাং জৈব তরলের উদ্ভব হতে পারে না কখনই।“অন্য কথায়”, বিবর্তনবাদী ফ্রান্সিস হিচিং বলেন, “জীবন-উদ্ভবের এই বিবর্তন-ধারায় এমনকি এই প্রথম ও অপেক্ষাকৃত সহজ পর্যায়ের (অ্যামাইনাে অ্যাসিড-যৌগ তৈরী) মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়ার তত্ত্বগত সুযােগও সম্পূর্ণ ক্ষীণ, শূন্য।


”এর অর্থ, নােবেলজয়ী জৈবরসায়নবিদ জর্জ ওয়াল্ডের মতে “এটিই  হচ্ছে সবচেয়ে অসমাধানযােগ্য সমস্যা, আমাদের বিবর্তনবাদীদের যার মুখােমুখি হতে হয়”। —দি অরিজিন অব লাইফ জর্জ ওয়ার্ল্ড ,



জৈব তরল বা অর্গানিক স্যুপে কিভাবে গঠিত হল সুনির্দিষ্ট কিছু অ্যামাইনাে অ্যাসিড?


 অসঙ্গতি-৩ঃ প্রায় ১০০ রকমের অ্যামাইনাে অ্যাসিড রয়েছে, এর মধ্যে প্রয়ােজনীয় প্রােটিন অণু তৈরীর জন্য প্রয়ােজন ২০টি বিশেষ অ্যামাইনাে অ্যাসিডের কিভাবে আপনা থেকে বাছাই হলাে?


 তাছাড়া অ্যামাইনাে অ্যাসিডগুলির দু'ধরনের গঠনগত আণবিক বিন্যাস রয়েছে। কিছু ‘লেফট-হ্যাণ্ডেড’, কিছু ‘রাইট-হ্যাণ্ডেড’। যদি আকস্মিকভাবে তারা সংবদ্ধ হতাে, তাহলে উভয় ধরনের অ্যাসিডই সেখানে থাকত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, যে অ্যামাইনাে অ্যাসিডগুলি জীবন্ত কোষের জন্য প্রয়ােজনীয় প্রােটিন-অণু তৈরী করে, সেগুলি সবই লেফটহ্যাণ্ডেড। কিভাবে এটি সম্ভব যে আকস্মিকভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঠিক নির্দিষ্ট ধরনের, নির্দিষ্ট সংখ্যার এবং নির্দিষ্ট আকৃতির অ্যামাইনাে অ্যাসিডগুলি সমাবিষ্ট হল জৈব তরলে ? পদার্থবিদ জে. ডি. বার্ণাল স্বীকার করেছেন, “আমরা কোনদিনই এটির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হব না।”



কিভাবে ঠিক সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়ােজনীয় প্রােটিনগুলি গঠিত হল? 


অসঙ্গতি-৪ঃ জীব-কোষের জন্য যে প্রােটিনগুলি প্রয়ােজন, সেগুলি গঠনগতভাবে অত্যন্ত জটিল অণু। ২০টি নির্দিষ্ট লেক্ট-হ্যাণ্ডেড অ্যামাইনাে অ্যাসিড একটি সুনির্দিষ্ট সিকোয়েন্সে বা বিন্যাসে সংবদ্ধ হলেই কেবল জীবনের জন্য প্রয়ােজনীয় প্রােটিন উৎপন্ন হওয়া সম্ভব। আকস্মিকভাবে এটি কিভাবে সম্ভব? 


এটার তুলনা করা যেতে পারে সাদা ও লাল এই দুটি রঙের ১০০টি বিভিন্ন ধরনের বীন বা ডালের বড়াে এক স্কুপের সংগে। ডাল-দানাগুলি সম্পূর্ণভাবে মিশ্রিত। এখন, আপনি যদি ঐ স্কুপের মধ্য থেকে একটি বড় হাতা দিয়ে একহাতা ডাল-দানা তুলে আনেন, তাহলে সেগুলি কেমন হবে? প্রােটিন তৈরীর জন্য প্রয়ােজনীয় মৌল উপাদানগুলির প্রতীক স্বরূপ নির্দিষ্ট ডাল-দানা পেতে হলে, আপনার হাতে উঠে আসতে হবে কেবল লাল রঙের দানা একটিও থাকবে না সাদা।


 এছাড়াও এই লাল রঙের মধ্যেও থাকতে হবে ঠিক সুনির্দিষ্ট ২০টি ভিন্ন ধরনের ডাল-দানা এবং এর প্রত্যেকটিকে আবার ঠিক সুনির্দিষ্ট স্থানে বিন্যস্ত, সংহত থাকতে হবে। প্রােটিনের জগতের নিয়ম অনুযায়ী, উপরােক্ত নিয়মের সামান্য হেরফের হলেই এমন ত্রুটিপূর্ণ প্রােটিন উৎপন্ন হবে যা কাজ করতে পারবেনা। হাতাটি নাড়া চাড়া করলেই আমরা কি উপরােক্ত নির্দিষ্ট সংখ্যক দানার শৃঙ্খলাবদ্ধ বিন্যাস পেয়ে যাব? এ যেন সমুদ্রগর্ভে আকস্মিকভাবে তৈরী হলাে মুক্তার মালা।। বাস্তবে তা কখনই সম্ভব নয়। তেমনি, তাহলে বিজ্ঞানীদের কল্পিত ‘অগ্যানিক স্যুপে ’ সেটি ঘটা সম্ভব হয়েছিল কিভাবে?


আকস্মিকভাবে ঘটনাক্রমে যদি এমনকি একটি সরল অনুকে অর্গানিক স্যুপে   তৈরি হতে হয়  তাহলে অংকের নিয়মে সেই সম্ভাবনা কতটা? বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেন যে, সেই সম্ভাবনা হচ্ছে 10^113 – অর্থাৎ ১- এর পর ১১৩টি শূন্য দিলে হবে। সেই সংখ্যার ১ ভাগ। কত হাজার হাজার কোটি ভাগের এক ভাগ ? ১-এর পর চার লাইন পর পর শূন্য। কল্পনার অতীত, সম্ভাবনাসীমার বাইরে। 



তুলনীয় ? আপনা থেকে উদ্ভব হলাে একটি কোয়ার্টজ ঘড়ির। 

 জীব-কোষ তৈরী হতে হলে কিছু প্রােটিন গঠন কাঠামােগত (স্ট্রাকচারাল) উপাদান হিসাবে  কাজ করে এবং অন্যান্য কিছু প্রােটিন নানা এনজাইম হিসাবে কাজ করে। এনজাইমগুলি কোষের রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। এনজাইমের এই সহায়তা ছাড়া কোষের উদ্ভব অসম্ভব- কোষের মৃত্যু হতাে অনিবার্য। এইভাবে প্রােটিন অণুগুলির নানা বিন্যাসে দুভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়াটা যদি আপনা থেকেই ঘটতে হয়, তাহলে তার সম্ভাবনার হার কত? 10^40000 অর্থাৎ ১-এর পর ৪০ হাজার শূন্য।


গণিতবিদদের মত অনুসারে, যে ঘটনা ঘটার সম্ভাবনার হার ঠিক 10^113-এর ১ ভাগ পেরােলেই তা ঘটার আর কোনাে সম্ভাবনা থাকে না। তাহলে ১-এর পর ১১৩টি শূন্য। ভাগের এক ভাগ? গাণিতিক নিয়মে অসম্ভব (ম্যাথেম্যাটিক্যাল ইমপসিবিলিটি)। বিজ্ঞানীদের হিসাব মতাে ব্রহ্মান্ডে যত পরমাণু আছে, এই সংখ্যা তার চেয়েও বেশি।


“পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব কীভাবে হয়েছে,তা নিয়ে বৈজ্ঞানিকদের গবেষণার শেষ নেই। আজ পর্যন্ত অসংখ্য গবেষণা, অসংখ্য থিওরি এই নিয়ে তৈরী হলেও এ ব্যাপারে কোনও বিজ্ঞানীই এখনও শেষ কথা বলতে পারেননি।


Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline