Page

Follow

জীবনের উদ্ধব কি আকস্মিক রাসায়নিক ঘটনা ? জীবনের উদ্ভব ? রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ? জীবন কি?PAGE-48

 

 জীবনের উদ্ভব ? রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ? 

PAGE-48






জীবন কি কেবল দেহের উপাদানের যান্ত্রিক সমন্বয়ের পরিণতি? মহার্ঘ আমি, ব্যক্তিত্বের উদ্ভব কোথা থেকে? \


“We must pause, face to face, with the mystery and miracle of the Creation of  living things." লর্ড কেলভিন, পদার্থবিদ


লিজিয়ন অব অনার’—ফ্রান্সের অত্যন্ত সম্মানজনক অভিধায়  প্রবাদ প্রতিম চলচ্চিত্রকারকে সম্মানিত করতে ছুটে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসুয়ামিতের —কোলকাতায়। 


পুরস্কার গ্রহণে ফ্রান্সে যেতে পারেননি সত্যজিৎ রায়, অত্যাধুনিক আরােগ্যালয়ের তুষার-ফেননিভশয্যায় তিনি অন্তিম যাত্রার প্রহর গুণছেন তখন। সহাস্যে পুরস্কার হাতে তুলে দিলেন প্রেসিডেন্ট, লিজিয়ন অব অনার ; প্রতিসম্মান জানালেন অর্ধশায়িত শিল্পী, জানালেন তার আন্তরিক কৃতজ্ঞ বার্তা।


এক সপ্তাহ পর, যবনিকাপাত। বেদনাহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা,

ঘােষণা করেন জীবনাবসানের, মহাপ্রয়াণের, মৃত্যুর। দেহটি সবার সামনেই রয়েছে। 


ইনিই কি সত্যজিৎ নন? অবশ্য ততক্ষণে দেহে ‘ডিকম্পােজিট প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে রাখা যাবেনা বেশি সময়। অগ্নিশিখায় সমর্পণ করা হল তাঁকে; প্রজ্জ্বলন্ত বহ্নির গ্রাসে অদৃশ্য হল দেহ, পড়ে রইল কিছু ভস্ম।


 মিতের কাকে দিয়েছিলেন ‘লিজিয়ন অব অনার’? কোথায় সেই ব্যক্তিত্ব? এই ভস্ম, ছাই  কোন্ দ্যোতনা বহন করছে?

জীবন কি?


 বায়াে সায়েন্স, জীববিজ্ঞান বহুকাল চেষ্টা করেছে জীবনকে ধরার, অধরা প্রাণকে অনুবীক্ষণের নীচে ফেলে পরীক্ষা করার, সম্ভব হলে প্রাণের সঞ্জীৱনী রসায়ন তৈরী করার, যা প্রতিটি নিষ্প্রাণ -দেহকে করে তুলবে পুনরায় সজীব, প্রাণবন্ত।



কিন্তু অধরা থেকে গিয়েছে সেই স্বপ্ন। ধরা যায়নি জীবনকে, প্রাণকে। বােঝা যায়নি প্রাণের রহস্য, আজও। বায়ােসায়েন্সের কত শাখা বেরিয়েছে- মলিকিউলার বায়োলজি ,--- বায়ােকেমিস্ট্রি, বায়াে-ফিজিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনীয়ারিং। কিন্তু করা যায়নি প্রাণের রহস্যভেদ– জীববিজ্ঞানের পাঠ্যবইগুলিতে প্রাণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে স্বীকার করা হয়েছে সেকথা —প্রাণের সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব হয় নি আজও।


 জীবন সম্বন্ধে তথ্য বাদ দিয়ে রচিত হচ্ছে জীবন বিজ্ঞান’, পড়ানাে হচ্ছে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের। প্রাণের রহস্য সন্ধানে বিজ্ঞান’নামে সাড়ে তিনশাে পৃষ্ঠার একটি বই লিখেছেন অপরাজিত বসু।


 সেখানে প্রচলিত বিজ্ঞানের সাহায্যে ইন্দ্রিয়লব্ধ জৈব রাসায়নিক সংক্রান্ত জ্ঞানের সাহায্যে প্রাণের ব্যাখ্যা খুঁজেছেন তিনি; জানিয়েছেন বিশ্বের আধুনিক বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফল। 


কিন্তু বইটির ভূমিকাতেই তিনি জানিয়েছেন বইয়ের নির্গলিত নির্যাস ঃ “প্রশ্ন উঠেছে, জীবন সঠিকভাবে কোথায় অবস্থান করে? সঠিকভাবে জীবন বলতে কি বােঝায়? দেহের কোন কোন বৈশিষ্ট্য প্রাণের পক্ষে একান্তভাবে জরুরী?......... প্রশ্ন উঠেছে, কিন্তু জবাব পরিষ্কারভাবে মেলেনি। প্রাণের বস্তুগত ভিত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিঃসংশয় হলেও প্রাণকে সংজ্ঞায়িত করা বা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত তাদের পক্ষে এখনাে সম্ভব হয়নি।”



প্রাণকে যদি ‘সংজ্ঞায়িত করা না যায়, সােজা কথায় প্রাণ কি পদার্থ সেটাই যদি জানা না যায়, তাহলে তার বস্তুগত ভিত্তি সম্বন্ধে কিভাবে নিঃসংশয়’ হতে পারেন বিজ্ঞানীরা, সেবিষয়ে অবশ্য বেশি উচ্চবাচ্য করেননি লেখক। 


 কিন্তু জড়বিজ্ঞানে তাে বস্তুই সর্বেসর্বা—জড়পদার্থের বাইরে তাে কোন কিছুরই অস্তিত্ব নেই—সেজন্য প্রাণও অবশ্য বস্তুর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফল, প্রাণের ভিত্তি অবশ্যই বস্তু, প্রাণের উৎস অবশ্যই রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ। এমন ধারণা জড় বিজ্ঞানীদের।


কিন্তু সব রাসায়নিক দেহে থাকলেও প্রাণ চলে যায় কোথায়? উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করলেও কেন উৎপন্ন করা যায় না প্রাণ? আর প্রাণের বস্তুগত মিশ্রণ—রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ ইনজেক্ট করলেই তাে শরীরে পুনরাবির্ভাব ঘটার কথা প্রাণের—কিন্তু সেটা তাে করা যায় না কখনই ? কেন?


জীবন বা প্রাণ প্রকৃতপক্ষে কি, সে বিষয়ে কিছু না জানতে পারলেও এবং গবেষণাগারে প্রাণ সৃষ্টির ধারে কাছে যেতে না পারলেও জীবন এসেছে কোথা থেকে, কোথা থেকে উদ্ভব হয়েছে জীবনের, সে-বিষয়ে বিজ্ঞানীরা সরব; তাদের অসাধারণ কল্পনাশক্তি আর উদ্ভাবনী প্রতিভার দ্বারা তারা বেশ কয়েকটি তত্ত্ব তৈরী করে ফেলেছেন, যা স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে সারা বিশ্বেই পড়ানাে হচ্ছে।


সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য তত্ত্বগুলি হচ্ছে ঃ 

১. স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণ সৃষ্টির তত্ত্ব (Theory of Spontaneous Generation or Abiogenesis);

২. কসমােজোয়িক বা প্যান্টম্পার্মিয়া তত্ত্ব (Cosmozoic or Panspermia theory)

 ৩.জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তির তত্ত্ব (Theory of Chemical origin of life)। 


এই তত্ত্বগুলির মধ্যে বিজ্ঞানী হেকেলের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দৈবাৎ বা ঘটনাচক্রে প্রাণের উদ্ভবের তত্ত্বই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযােগ্য হয়েছে জড়বাদী বিজ্ঞানীদের কাছে, এবং সারা বিশ্বে বিশেষতঃ এই মতবাদটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখানাে হচ্ছে। 


ছাত্র-ছাত্রীরা জীবনের শুরুতেই হেকেলের এই মহা অনুমানকে সত্যি বলে ধরে নিতে শিখছে :::


জীবন, অতএব, মহার্ঘ কিছু নয় —এর উৎস কেবল কিছু অজৈব, রাসায়নিক জড় বস্তু মিথেন অ্যামােনিয়া, অ্যাসিড .....! 



প্রাণ সৃষ্টির কেমিস্ট্রি ঃ 


কিভাবে প্রাণহীন কিছু রাসায়নিক পদার্থ হঠাৎই হয়ে উঠল ‘জীবন্ত’? 



কিভাবে নিপ্রাণ কিছু রাসায়নিক বস্তু হঠাৎই হয়ে উঠল প্রাণবন্ত, সেটি ব্যাখ্যা করা সমস্ত বিবর্তনবাদী জীব-বিজ্ঞানীর কাছে এক অত্যন্ত ভীতিপ্রদ বিষয়। চার্লস ডারউইন যখন প্রথম তাঁর বিবর্তনবাদ উপস্থাপন করেন, তখন তিনি স্বীকার করেন যে পৃথিবীতে প্রাণ “প্রথমে এক বা একাধিক শরীরে স্রষ্টার দ্বারা প্রােথিত হয়েছে” (“Originally breathed by the Creator into a few forms or into one”)। কিন্তু বর্তমান বিবর্তনবাদীরা সাধারণত তাদের মতবাদেষ্টা ভগবানের উল্লেখ করেন না। পরিবর্তে তাঁরা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিভাবে আপনা থেকেই উদ্ভব হয়েছে প্রাণের, তারপর সৃষ্টি হয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির।






Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline