Page

Follow

মহাবিশ্বের উদ্ভব : দুর্ঘটনা না সুপরিকল্পনা ?বিগ ভিশান :: মহাবিশ্ব দুটি ,PAGE-46

 


 বিগ ভিশান ::  মহাবিশ্ব দুটি 
PAGE-46


বৈদিক শাস্ত্রের কাছে কিভাবে জড় বিজ্ঞান ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ’ তা বােঝার জন্য বৈদিক শাস্ত্রের এই তথ্যই যথেষ্ট। বেদান্ত অনুসারে পরমাণুগুলি জড় পদার্থ, জড়শক্তি-নিঃসৃত, এবং পরমাণু দিয়ে তৈরী ব্রহ্মান্ড এবং অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ড নিয়ে তৈরী এই জগৎ হচ্ছে জড় জগৎ (Material World)।


 কিন্তু এই জড় জগৎই সৃষ্টির শেষ নয়। বৈদিক মহাবিশ্বতত্ত্ব অনুসারে এই জড় জগতের একটি শুরু আছে এবং আছে শেষ, সমাপ্তি। ঠিক যেমন আমাদের জড় দেহটির আছে শুরু ও শেষ। ভগবদ্গীতায় এই জুগৎকে বলা হয়েছে ‘দুঃখালয়ম অশাশ্বত”।


 এই জগৎ ধ্বংস’—জরা ও মৃত্যু অধ্যুষিত দুঃখের আলয় এবং অশাশ্বত –শাশ্বত নয়, নিত্য বা চিরস্থায়ী নয়। এই জগৎ একসময় ধ্বংস হয়ে যায়, যাকে বলা হয় মহাপ্রলয়। বিজ্ঞানীরাও এই কথা বলছেন। 


আধুনিক কসমােলজির ‘Oscillating Theory' বা ছান্দিক আবর্তন তত্ত্ব অনুসারে বিশ্ব প্রকাশ নির্দিষ্ট সময় পর সংঙ্কুচিত হয়ে সিংগুলারিটির অবস্থায় চলে যাবে। এইভাবে বিগ ব্যাং থেকে যেমন মহাবিশ্বের সুচনা হয়েছে তেমনি মহাসংকোচন বা বিগ ক্রাঞ্চ'- এর (Big Crunch) মাধ্যমে প্রলয় ঘটবে বিশ্বের । 


তখন পরিসমাপ্ত হবে জড়ীয় কাল ও স্থান(Time and Space)। ব্রহ্মান্ডের স্থিতি বিজ্ঞানীদের হিসাবে ২২ বিলিয়ন অর্থাৎ ২২০০



তখন পরিসমাপ্ত হবে জড়ীয় কাল ও স্থান(Time and Space)। ব্রহ্মান্ডের স্থিতি বিজ্ঞানীদের হিসাবে ২২ বিলিয়ন অর্থাৎ ২২০০কোটি বছর। বৈদিক শাস্ত্রের হিসাব অনুসারে 311040*10^9*100 সৌর বছর। 


এই  সময় অন্তহীন মনে হলেও অনন্ত কালের পরিপ্রেক্ষিতে এই সময় বুদবুদের মতাে ক্ষণস্থায়ী। এই মহাপ্রলয়ের (Cosmic Dissolution) সাথে সাথে জড় সৃষ্টি (Material manifestation) অব্যক্ত বা অপ্রকাশিত হয়। সমস্ত জড় উপাদান বিশ্লিষ্ট হয়ে জড়ের উৎপত্তি বীজ ‘মহত্তত্ত্ব’ রূপে, মূলীভূত উপাদান রূপে অব্যক্তে পরিণত হয়। 


পরে যথা সময়ে ভগবান মহাবিষ্ণুর (শ্রীকৃষ্ণের স্বাংশ প্রকাশ) নির্দেশনায় জড়া প্রকৃতি দ্বারা আবার সমগ্র জড় সষ্টি প্রকাশিত হয়। অনেক বিজ্ঞানীরাও মনে করেন, বিগ ক্রাঞ্চ বা মহা সংকোচনের পর আবার ঘটে বিগ ব্যাং বিশ্বব্রহ্মান্ডের উদ্ভব।


সাম্প্রতিকতম বৈজ্ঞানিক মতবাদ “M-Theory অনুসারে সৃষ্টি ও প্রলয় চলে ছন্দায়িত চক্রে। বিজ্ঞানীদের মতবাদের সংগে শাস্ত্রের মৌল পার্থক্য হচ্ছে, জড়-বিজ্ঞানীরা জড় পদার্থ ও শক্তিকে অনিয়ন্ত্রিত (Uncontrolled) মনে করেন, যা অবাস্তব কল্পনা মাত্র। .


 জড় সৃষ্টি এই ভাবে বার বার ব্যক্ত বা প্রকাশিত ও অব্যক্ত বা অপ্রকাশিত হতে থাকে। এই ব্যক্ত-অব্যক্ত হতে থাকা এই জড় জগতের অতীত অপর একটি জগৎ রয়েছে, যা চিরস্থায়ী শাশ্বত সনাতন; সমগ্র জড়জগৎ ধ্বংস হয়ে গেলেও যে-জগৎ ধ্বংস হয় না ::


 “কিন্তু আর একটি-অব্যক্ত প্রকৃতি রয়েছে, যা নিত্য এবং ব্যক্ত ও অব্যক্ত বস্তুর অতীত। সমস্ত ভূত (matter; material world) বিনষ্ট হলেও তা বিনষ্ট হয় না।”



ভগবানের এই পরা বা চিন্ময় শক্তি, অন্তরঙ্গা চিন্ময় প্রকৃতি অপ্রাকৃত ও শাশ্বত; এবং এই প্রকৃতি-সৃষ্ট জগত ও শাশ্বত, সনাতন, অপ্রাকৃত। এই জগতে ধ্বংসাত্মক কালশক্তির কোনাে অস্তিত্ব নেই। 


বিজ্ঞানীরা জড়া প্রকৃতির মায়া-বিরচিত সৃষ্টি-বৈভব দেখতে পান, জড় জগতের পরিধির অতীত চিন্ময় প্রকৃতির (Spiritual Nature) অনন্ত ও শাশ্বত সৃষ্টি বৈভব তারা অবগত নন। 


বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে, এই অপ্রাকৃত জগৎ অ-জড়, চিন্ময় বা চেতনাময় (Spiritual)। এই অ-জড় মহাবিশ্বের (Antimaterial.world) বিস্তার অনন্ত, অসীম কোটি কোটি ব্রহ্মান্ড-সমন্বিত ধ্বংসশীল, ক্ষণস্থায়ী জড়জগৎ যার এক নগণ্য অংশ মাত্র। 


আলােকবর্ষের হিসাবও যেখানে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। সেই শাশ্বত জগতে (Eternal World) রয়েছে চিরন্তন অন্তহীন জীবন (Immortal, eternal life), সেটিই সমস্ত জীবসত্তার আদি সনাতন আবাস স্থান, এই দুঃখালয় ও অশাশ্বত জড় জগৎ নয়।


 বিজ্ঞানীরা যত চেষ্টাই করুন, এই জগতে কেউই সুখী হতে পারেনা; সেজন্য সেই শাশ্বত জগতই যথার্থ বিজ্ঞানীদের প্রকৃত অনুসন্ধানের বিষয় হওয়া উচিত; মানুষকে জরা মৃত্যু ধ্বংসরহিত প্রকৃত গন্তব্যের প্রতি পথ প্রদর্শন যথার্থ  জ্ঞানী’-র অন্যতম দায়িত্ব। 


আশা করা যায় যে জড় বিজ্ঞান ক্রমশঃ সেই দিকে এগিয়ে চলবে। যে প্ল্যাংকের ধ্রুবক এখন কলেজের পাঠ্য, সেই বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাংক চিন্ময় জগতের বাস্তবতার কথা লিখেছেন তার 'Where science is Going' বইয়ে। 


Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline