Page

Follow

মহাবিশ্বের উদ্ভব : দুর্ঘটনা না সুপরিকল্পনা ? সূর্য ও বিপুল, প্রচণ্ড শক্তি-অনিয়ন্ত্রিত? PAGE-44

 

 সূর্য ও বিপুল, প্রচণ্ড শক্তি-অনিয়ন্ত্রিত? 

PAGE-44



মহাকিরণশালী আদিত্য, সূর্য সমগ্র সৌরজগৎকে বিপুল পরিমাণে তাপ, আলাে এবং শক্তি সরবরাহ করে থাকে। ফোটন-প্রবাহ, ইনফ্রা-রেডের মাধ্যমে উত্তাপ, অপরিমেয় তড়িৎচুম্বকীয় শক্তি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক এনার্জি বিকিরণ করে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে পৃথিবীর জীবন রক্ষাকারী সকল শক্তি সরবরাহ করে।



সূর্য থেকে যে আলােক রশ্মি নিঃসৃত হয়, পৃথিবী পৃষ্ঠে পড়ে তার কেবল ২০০ কোটি ভাগের এক ভাগ।

সামগ্রিকভাবে সূর্য থেকে প্রচণ্ড শক্তি নিঃসৃত হয়, তার ১০ লক্ষ কোটি (হান্ড্রেড মিলিয়ন মিলিয়ন) ভাগের ৫ ভাগ মাত্র পৃথিবীতে পড়ে, এবং এই শক্তি পৃথিবীর সমস্ত শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত শক্তির থেকে ১০০,০০০ গুণ বেশি।



মাত্র এক সেকেণ্ড সূর্য থেকে যে শক্তি নিঃসৃত হয় (3.83 x 1026 জুল/ সেকেন্ড), সেই শক্তি বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিকতম হিসাব অনুসারে দশ হাজার মেগাটন ক্ষমতার হাইড্রোজেন পরমাণু বােমা বিস্ফোরণ থেকে নির্গত শক্তির সমান।


এই শক্তি নির্গমন চলেছে নিরবচ্ছিন্নভাবে, কোটি কোটি বছর ধরে। পৃথিবীর সমস্ত পরমাণু বােমাগুলি ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সূর্যে নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটালে সূর্যের প্রবল তেজে সেগুলি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, অমিতশক্তি আদিত্য থাকবে স্বমহিমায় ভাস্বর, অচঞ্চল। 


অন্য কথায় বলা যায়, সূর্য এক সেকেণ্ড সময়ে যে শক্তি নির্গত করে, তা মানুষ তাদের সমগ্র ইতিহাসে যত শক্তি ব্যবহার করেছে, তার সমগ্র পরিমাণের চেয়েও বেশি। সমগ্র জীবজগৎ ও  সৌরশক্তির অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক অংশ ব্যবহার করে পৃথিবীকে পূর্ণ করেছে প্রাণস্পন্দনে। 


সূর্য থেকে পৃথিবীর দিকে যে আলাে নির্গত হয়, তার পরিমাণ 12.3X10 ^22 ক্যালরি; এর ০.১শতাংশ মাত্র আলােক শক্তি সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় আবদ্ধ হয়। ATP অণুরূপে পরিবর্তিত হয়ে সৌরশক্তি খাদ্যরূপ সকল জীবদেহকে পুষ্ট করে। পনের কোটি কিলােমিটার দূরের এই একটি বাল্ব’ সারা বিশ্বকে আলােকিত করে।।




সূর্যের আলাের বৈশিষ্ট্যই লক্ষ করুন – কখনােই তার অনুকরণ করা যায় না। দিন – এত আলোকোদ্ভাসিত অথচ চোখকে পীড়িত করে না।


 শক্তি নির্গমনের অদ্ভুত ভারসাম্য 


কেন আমাদের পৃথিবীটা তুহিন-শীতল নয়? তার কারণ সূর্য-নিঃসৃত তাপরাশি সারা বছর পৃথিবীকে, জীবজগৎকে উত্তপ্ত রাখে, হােক না তা ২০০ কোটি ভাগের এক ভাগ।


 তা নাহলে সমগ্র মহাসাগর, এমনকি প্রাণীদের রক্ত আর উদ্ভিদের দেহ-রস পর্যন্ত জমে কঠিন হয়ে যেত। পরমাণু বিস্ফোরণে চলে সূর্যের কার্যকলাপ—তেজপ্রভা বিকিরণ । 



কিন্তু এই বিস্ফোরণ কি নিয়ন্ত্রণহীন ? তাহলে কেন কখনাে সূর্যের তাপ প্রচণ্ড বেড়ে যায় না, কখনাে কমে যায় না? পৃথিবীতে ঋতু-আবর্তন, শীত গ্রীষ্ম হয় পৃথিবী ও সূর্যের পারস্পরিক অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে সূর্যের তাপ সবসময়ই একই রকম ভাবে নির্গত হয়। 


কোটি কোটি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অদ্ভুতভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। কতটা নিখুঁত? 


একটি দৃষ্টান্ত ঃ সারা পৃথিবীতে প্রায় ১০০ বছরের বেশি তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা হচ্ছে। দেখা যায়, প্রত্যেক বছরের একই তারিখে তাপমাত্রার গড় এক, অর্থাৎ ২০০৪-এর ১লা জানুয়ারী । কোলকাতায় ১২ সেলসিয়াস তাপ হলে, ১০০ বছর আগেও তাই। 

গ্রীন হাউস এফেক্ট বা  অন্য পার্থিব আবহাওয়া ঘটিত কারণে হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে, কিন্তু সূর্য থেকে নিঃসৃত তাপের গড় পরিমাণ ভয়ংকরভাবে নিখুঁত। 


পৃথিবীর চেয়ে ৯ লক্ষ গুণ বড় এই মহাজ্বলন্ত সূর্যের । প্রচন্ড প্রবল তাপমাত্রার এত নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ‘অটোমেটিকভাবে’ ‘আপনা থেকে’ ঘটনাচত্রে হয়ে যাওয়া কতখানি যুক্তিসিদ্ধ ? সত্যিই কি সম্ভব?


সময় নিরূপণ করা হয় কিভাবে?


 বাস্তবিকই, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এত নিখুঁতভাবে সুসংবদ্ধ ও সুনিয়মিত, যে মানুষ তার সময়ের হিসাব রাখার জন্য মহাশূন্যে ভাসমান সূর্য-চন্দ্রাদি গ্রহ-উপগ্রহের গতিবেগের উপর নির্ভর করে।


 বিশ্বের এযাবৎ আবিষ্কৃত সবচেয়ে উন্নত হাইড্রোজেন ঘড়িও পুরােপুরি নিখুঁত নয়; ১০ বছরে এটিও দু'-এক সেকেণ্ড কম-বেশি হবে, কিন্তু সেই কম-বেশি ঠিক করা যাবে সৌর ব্যবস্থায় – গ্রহ-নক্ষত্রের আবর্তনের ভিত্তিতে।



 অর্থাৎ, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সুশৃঙ্খলা ও বিন্যাস অত্যন্ত নির্ভরযােগ্য—এই নির্ভরযােগ্যতা অসীম। প্রশ্ন হচ্ছে, যে কোনাে সুপরিকল্পিত ভাবে তৈরী টাইম-পিস বা ঘড়ি একটি সুশৃঙ্খল মনের সৃষ্টি, যে মনের ডিজাইন বা পরিকল্পনা করার ক্ষমতা রয়েছে। আর সুশৃঙ্খল, প্রতিভাধর মন কখনাে শূন্যে ভেসে থাকেনা - কেবল একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিরই থাকতে পারে সেটি। তাহলে এর চেয়ে বহু গুণে জটিল ডিজাইন ও নির্ভরযােগ্য শৃঙ্খলা যা সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি কন্দরে পরিব্যাপ্ত, তার সম্বন্ধে কি বলা যেতে পারে?


প্রসাদবারি পড়ে ঝরে ? 


গ্রীষ্মের দাবদাহে তৃষিত জীবকূল চেয়ে থাকে আকাশের দিকে —কখন বারিবাহ মেঘ বহন করে নিয়ে আসবে সুপেয় সুমিষ্ট জল। ভগবানের অনুপম ব্যবস্থাপনার এই দৃষ্টান্তটি অত্যন্ত সরল হলেও অনবদ্য- চমৎকার।


ধরা যাক দীর্ঘদিন মেঘের দেখা নেই। ভূগর্ভের জল-সঞ্চয় ক্ষীণ হয়ে আসছে। প্রযুক্তিবিদদের আমন্ত্রণ জানানাে হল ভারতবর্ষে জলসেচ করতে। সমুদ্রের লােনা জল যন্ত্র বসিয়ে ফিল্টার করে লবণমুক্ত করে মিষ্টি জল সেচ দিতে হবে। সম্ভব কি? কত বছর লাগতে পারে? আর শেষ পর্যন্ত সেই মহার্ঘ জল পাওয়ার জন্য বেঁচে থাকবে কতজন? কত ‘ম্যান-পাওয়ার’লাগবে, খরচ হবে কত টাকা? অভাবনীয়। 


ভগবানের ব্যবস্থাপনা অনুসারে, সূর্যালোক ফিল্টার করে কোটি কোটি গ্যালন লবণ-মুক্ত সুপেয় জল সমুদ্র থেকে পাঠিয়ে দেয়, আকাশমার্গে বয়ে নিয়ে আসে সেই জলসম্ভার পর্জন্যদেব, ঝরে পড়ে সুধাধারা.... কয়েক ঘন্টায় সারা ভারতে জলসেচ। প্রসাদবারি’, ভগবানের কৃপা, আশীর্বাদ, লিখেছেন কবিগুরু।




Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline