Page

Follow

মহাবিশ্বের উদ্ভব : দুর্ঘটনা না সুপরিকল্পনা ? সরল জল ঃ ‘অলৌকিক’ বিস্ময়।PAGE-43

  সরল জল ঃ ‘অলৌকিক’ বিস্ময়।

PAGE-43



 ভগবান প্রতিটি ক্ষুদ্রতম জিনিসেরও সযত্ন ব্যবস্থা করে বিশ্বজগতের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে জীবসমূহ তাদের অস্তিত্বের জন্য প্রয়ােজনীয় সমস্ত কিছুর সরবরাহ পেতে পারে – একটি সরল উদাহরণ হতে পারে জল—সরল হলেও ‘জলবৎ তরলং’নয় আদৌ। 

এক বিন্দু জলে ৯,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ (নয় হাজার মিলিয়ন বিলিয়ন) পরমাণু থাকে। যে সংখ্যা বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুসারে এই গ্যালাক্সিতে যত তারা রয়েছে তার  চেয়েও: বেশি। 


এই পরমাণুগুলি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে সুসংবদ্ধ হওয়ায় যে জল  অনু তৈরি হয়  তার বিশেষ চরিত্র বিস্মিত করছে বিজ্ঞানীদের। নােবেলজয়ী বিজ্ঞানী জন  ওয়াল্ডঃ 


I  think that water is also the strangest molécule in the whole of chamistry, and its rangest property is that ice floats. If ice did not float-1 doubt he would exist in ihe universe.


” অর্থাৎ “আমি মনে করি সমগ্র রসায়ন বিজ্ঞানে জল  হচ্ছে আশ্চৰ্যতম অণু, এবং এর সবচেয়ে আশ্চর্য বস্তু-সম্পদ হচ্ছে এই যে বরফ জলে ভাসে যদি বরফ জলে না ভাসত, তাহলে বিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব থাকত কিনা আমার সন্দেহ আছে”।



নােবেলজয়ী এই বিজ্ঞানী আরাে বলেন, “সাধারণত, শীতল হলে সব বস্তু আয়তনে সংকুচিত হয়— জলও সংকুচিত হয় চার ডিগ্রী তাপমাত্রা পর্যন্ত। তারপর, চার ডিগ্রী থেকে শূন্য ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত—সেখানে এটি জমতে শুরু করে, আর জল আয়তনে বাড়তে থাকে, এত দ্রুত বাড়তে থাকে যে যখন বরফ হয়, তখন তা জলের থেকে হাল্কা হয়ে জলে ভাসতে থাকে।



..... অন্য কোন পদার্থের ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। যদি জল অন্য পদার্থের মতাে আচরণ করত, তাহলে ঠান্ডা হলে এটি ক্রমাগত ঘন হতে থাকত। ঘনীভূত জল, বরফ, জলের নীচে চলে যেত; আর এখন যেমন জলের উপরিভাগ জমে বরফ হয়, তখন জলের নীচের ভাগ জমে বরফ হতাে, ফলে সম্পূর্ণ জল (নদী, সমুদ্র, হ্রদ) কঠিন বরফে পরিণত হত। আর বড় আয়তনের বরফ এমনকি গরম করা হলেও গলতে অনেকটা সময় নেয়। 


এই জন্য, শীতকালে জলের উপর বরফের হাল্কা আস্তরণের নীচে সব ধরনের জীব’জলচর প্রাণী, উদ্ভিদ বেঁচে থাকে। আর যখন আবহাওয়া উষ্ণ হয়, তখন বরফ দ্রুত গলে যায়। যদি বরফ জলে না ভাসত, তাহলে কোনাে জলচর জীব শীতকাল অতি বাহিত করতে পারত কিনা  সন্দেহ।


 এই ব্রহ্মান্ডের কোন গ্রহে যদি কয়েক কোটি বছরে একবারও এইরকম সামগ্রিক হিমায়ন, জলের বরফ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটত, তাহলে কোনরকম প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা শেষ করার জন্য সেটাই হতাে যথেষ্ট”।



জলের চারটি অপূর্ব গুণ-বৈশিষ্ট্য জীবজগতের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। 


১. নিম্ন তাপমাত্রায় জলের বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন শােষণের ক্ষমতা ;


 ২. ঘনীভবনের তাপমাত্রার (0 ডিগ্রী ) চার ডিগ্রী উপরের তাপমাত্রায় জলের ঘনত্ব সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়, আয়তন সবচেয়ে কমে, যার জন্য প্রবল শীতেও উপরের স্তরের নীচে (under surface) হ্রদ, সমুদ্র, নদী তরল থাকে। 


৩. বরফের ঘনত্ব জলের চেয়ে কম, আয়তনে বড়, সেজন্য বরফ জলে ভেসে থাকে, ডুবে যায় না।


৪. জমে যাওয়ার সময় জল প্রচুর পরিমাণে তাপ নির্গত করে।

পৃথিই ব তিন ভাগ জুড়ে  বিস্তৃত জলের বিশেষ ধর্মগুলি জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় ছিল অত্যন্ত অপরিহার্য ।


 জলে এই বৈশিষ্ট্যগুলি রাখার জন্য জলের বিশেষ আণবিক ঘনত্বের ব্যবস্থা রয়েছে। সাড়ে চার গ্রাম জলের মধ্যে অণুর সংখ্যা ১০২৩—অর্থাৎ ১০ এর পর ২৩টি শূন্য দিলে যা হয়।


 জলের  বর্ণহীন, গন্ধহীন স্ফটিক-স্বচ্ছ হওয়ার পিছনে রয়েছে বহুতর উদ্দেশ্য; প্রাণীদেহের সিংহভাগই জল, প্রতিদিন আমরা তৃষ্ণা মেটাই জল পান করে; বর্ণ-গন্ধ-রাসায়নিক বস্তু জলের সাথে যুক্ত থাকলে “জলই জীবন’-এর পরিবর্তে জল হতাে অস্তিত্বহীনতার অপর নাম।



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline