Page

Follow

মহাবিশ্বের উদ্ভব : দুর্ঘটনা না সুপরিকল্পনা ? পরমাণু থেকে সৌরজগৎ : শৃঙ্খলা সবখানেই।PAGE-42

  পরমাণু থেকে সৌরজগৎ : শৃঙ্খলা সবখানেই।

PAGE-42




 অপরিমেয়রূপে বিশাল গ্রহ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণু, ছায়াপথ গুচ্ছ বা গ্যালাক্সির ক্লাস্টার থেকে শুরু করে পরমাণুর বিন্যাস—এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্রই নিখুঁত ও অপূর্ব শৈল্পিক বিন্যাসের নিদর্শন সুস্পষ্ট। এই সুশৃঙ্খলা বিজ্ঞানীদেরও বিস্ময়ে অভিভূত করে। 


মহাকাশচারী জন গ্লেন ঃ “সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের সুবিন্যাস  শৃঙ্খলা ... গ্যালাক্সিগুলি তাদের নিজ নিজ সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে চলেছে... এগুলাে কখনাে কেবল আপনা থেকে ঘটতে পারে? এটি কি কেবল একটি অ্যাকসিডেন্ট যে একগুচ্ছ ফ্লোর্ট-সাম ও ডেট-সাম হঠাৎ নিজেদের থেকেই সুনির্দিষ্ট গতিবেগে ঘুরতে শুরু করল ?



” তার সিদ্ধান্ত ঃ “ কোন শক্তি সব কিছুকে কক্ষপথে স্থাপন করেছে, এবং তাদেরকে সেখানে সংবদ্ধ রেখেছে”। 


‘ডিসকভার পত্রিকা ঃ “আমরা অপার বিস্ময়ে বিশ্বজগতে শৃঙ্খলার অস্তিত্ব দেখছি, আর আমাদের মহাবিশ্ববিদ (কসমােলজিস্টস) এবং পদার্থবিদগণ ক্রমাগতভাবে সুশৃঙ্খলার নতুন ও বিস্ময়কর নিদর্শনের সন্ধান পাচ্ছেন...এটি একটি অলৌকিক ব্যাপার...।”


 আমরা যখন শান্তভাবে ও মনােযােগ সহকারে এই বিস্ময়কর বিশ্বজগতের কথা চিন্তা করি, তখন আমরা প্রতিটি স্তরেই পরমাণুর গঠনে, অণুর মধ্যে, সৌরজগতে এবং ব্রহ্মাণ্ডে সর্বত্রই অপূর্ব শৃঙ্খলা-বিন্যাস ও সুপরিকল্পনার সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পাই। 


মহাবিশ্ব বা ‘cosmos’ শব্দটির অর্থই হচ্ছে ‘এক সুশৃঙ্খল, সুসমঞ্জস ও সুবিন্যস্ত বিশ্বব্যবস্থা’ (an orderly, harmonious, systematic universe') 


প্রতি পরমাণুতে শৃঙ্খলা । 

 একটি পরমাণুর মধ্যে রয়েছে নিউট্রন ও প্রােটন কণাযুক্ত নিউক্লিয়াস এবং তার চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান ইলেক্ট্রন কণা। যেমন ইট সাজিয়ে অট্টালিকা তৈরী হয়, তেমনি এই সব পরমাণু দিয়ে সমস্ত বস্তু তৈরী।

 


একটি বস্তু থেকে আরেকটি বস্তুর পার্থক্য তৈরী হয় পরমাণু কেন্দ্রের নিউক্লিয়াসের নিউট্রন ও প্রােটনের সংখ্যা এবং তার চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের সংখ্যার তারতম্যের জন্য। 



এজন্য পরমাণুসমূহের চমৎকার এক সজ্জা বা বিন্যাস ও শৃঙ্খলা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন উপাদানের ১৪ রকমের স্ফটিক কাঠামাের বিন্যাস দেখতে পাই, যেমন FCC, BCC, HCP ইত্যাদি। 



কিন্তু এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট বিন্যাস কোথা থেকে এল?


আণবিক স্তরে, পরমাণুর ঠাস বুনুনি এমন অপূর্বভাবে বিন্যস্ত যে কয়েকটি পরমাণুর অবস্থানের সামান্য একটু হেরফের, কিংবা অণুর জ্যামিতিক গঠনের সামান্য বিচ্যুতি পদার্থের রং কমলা থেকে লালে পরিবর্তিত করে দিতে পারে, মৃদু কোনাে সুগন্ধকে কটু দুর্গন্ধে এবং মিষ্টি স্বাদের বস্তুকে তেতাে বস্তুতে পরিবর্তিত করে দিতে পারে।


একদিকে আমরা হাইড্রোজেনের মতাে ক্ষুদ্র পরমাণু দেখতে পাই যার মধ্যে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকবে, অন্যদিকে আমরা দৈত্যাকার অণু দেখি, যেমন প্রােটন ও নিউক্লিক অ্যাসিড সমূহ (DNA ও RNA), যার মধ্যে সুনির্দিষ্ট কার্যকলাপ সংঘটিত করার জন্য অগণিত পরমাণু থাকে। 



এখানে এইসব পরমাণুগুলি বিস্ময়করভাবে জটিল অথচ সুনির্দিষ্ট প্যাটার্নে সজ্জিত থাকে, যেমন ডি.এন.এ অণুর দুটি হেলিক্স।


এই সমস্ত বিস্ময়কর জিনিসগুলি আগে থেকেই বিদ্যমান। বিজ্ঞানপ্রকৃতির এইসব অদ্ভুত রহস্যকে আবিষ্কার করছে মাত্র। আমাদের মনে রাখা উচিত, আমরা এইসব বিন্যাস, অণুপরমাণুর জটিল ডাইনামিক স্ট্রাকচার তৈরী করছি না—কেবল গবেষণার দ্বারা জানতে পারছি মাত্র;


 আগে থেকেই এগুলি ডিজাইন-করা রয়েছে। আমরা এইরকম অগণিত দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে পারি, সেখানে আণবিক বিন্যাস (Molecular networks) এতই চমকপ্রদ ও সূক্ষ্মভাবে সজ্জিত যে রসায়ন-বিজ্ঞানীরা সেই সবচেয়ে নিপুণ হাতের অদ্ভুত কলানৈপুণ্য এবং তার বুদ্ধিমত্তা সম্বন্ধে বিস্মিত না হয়ে পারেন না, যিনি এই সমস্ত অপরূপ শৈল্পিক বিন্যাসের বন্দোবস্ত করেন, যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে বস্তুরাজির মধ্যে এত বৈচিত্র্য, এত স্বাদ, গন্ধ, রং বৈশিষ্ট্য। 



বিজ্ঞানী ম্যাক্স বর্ন, কোয়ান্টাম ফিজিক্সের একজন অন্যতম পুরােধা ব্যক্তিত্ব ঃ


 “I saw in it (the atom) the key to the deepest secret of nature, and it revealed to me the greatness of the creation and the creator.” অর্থাৎ “আমি একে (পরমাণুকে) প্রকৃতির গভীরতম রহস্যের চাবিকাঠি বলে অবলােকন করেছিলাম, আর এটি আমার কাছে সৃষ্টি ও স্রষ্টার মহনীয়তা অভিব্যক্ত করেছিল।” 



 ড. ভাস্কর বালিগা, নিউক্লিয়র সায়েন্টিস্ট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়র ফিজিক্স সাইক্লিক অ্যাসিলারেটর ডিভিশনের প্রফেসার এবং হেডঃ

“নিউক্লিয়াসের স্ট্রাকচারটা ঠিক কীরকম, এখনও আমরা বুঝে উঠতে পারি নি। নিউক্লিয়াস ভেঙে আমরা দেখার চেষ্টা করছি, কী দিয়ে নিউক্লিয়াস তৈরী।


 প্রােটন, নিউট্রন এবং এইরকম কিছু ক্ষুদ্র কণার কথা আমরা জানি, কিন্তু ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আরও কি কি কণা নিউক্লিয়াসে আছে, এখনও আমরা সম্পূর্ণভাবে জানতে পারি নি। নিউক্লিয়াসের আচার-আচরণ আমরা যা দেখতে পাই তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আজও আমরা খুঁজে পাইনি। আমরা খুঁজে চলেছি —The search for the unknown is a never-ending process. আমরা যত এগােচ্ছি তত ধাঁধায় পড়ছি। যত জানতে পারছি তত অজানা রয়ে যাচ্ছে। আমরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ছি —কী বিরাট পরিমাণ অজানা জিনিস আমাদের সামনে আছে, এখনও কী বিরাট জ্ঞান আমাদের দরকার!



এই যে বিস্ময়, এই বিস্ময়ই আমার কাছে ঈশ্বর।” ...... “ক্ষুদ্র পরমাণুর আরও ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসের মধ্যে যে প্রচন্ড শক্তি লুকিয়ে আছে এবং নিউক্লিয়াস ভাঙলেই যে সেই শক্তি অনর্গল ধারায় বার হয়ে পড়ে এ কেমন করে হয় ? কে এই শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে ? নিশ্চয়ই আরও বড়াে কোনাে শক্তি আছে।”



কার্বন-৬০ অণু : পরমাণু থেকে অণু। C60 অণুর অদ্ভুত সুন্দর গঠন এক শৈল্পিক চিন্তাভাবনার সুস্পষ্ট স্বাক্ষর বহন করছে। এই C60 অণুটি আবিষ্কার করে রবার্ট কার্ল এবং রিচার্ড স্মলি ১৯৯৬-এ রসায়নে নােবেল পুরস্কার লাভ করেন। 



এর বিজ্ঞানগতু নাম ‘টার্নকূেটেড ইকেসাহেড্রন’ হলেও এর সুসমঞ্জস্য গঠনবিন্যাসের জন্য আমেরিকান স্থপতি আর বাকমিনিস্টারের উদ্ভাবিত জিও ডেসিক গম্বুজের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায়  একে ‘বাকি বল’ বলা হয়।


 এর ৩২টি মুখ, ১২টি পঞ্চভুজ এবং ২০টি ষড়ভুজ। এই অণুর ৬০টি শীর্ষ বিন্দুর প্রতিটিতে একটি করে কার্বন পরমাণু রয়েছে। এর স্ফটিক স্বচ্ছ কাঠামাের মধ্যে পটাসিয়ামের মতাে অ্যালকালি পরমাণু প্রবেশ করালে এটি অপেক্ষাকৃত উচ্চতর তাপমাত্রায় (৪০ ডিগ্রী কেলভিন) সুপার কন্ডাক্টিভিটি বা অতিপরিবাহিতার শক্তি অর্জন করে। 


প্রফেসর চার্লস টাউনস্ঃ “.. আমাদের ব্রহ্মান্ড এবং আমরা বিশিষ্ট সৃষ্টি.....। আমরা যখন আমাদের ভৌত বিশ্বব্যবস্থা পরীক্ষা করি, আমরা দেখতে পাই যে বৈদ্যুতিক শক্তি, পারমাণবিক শক্তি এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তিসমূহ অবশ্যই এক অত্যন্ত বিশেষ সম্পর্কে সম্বন্ধিত হতে হবে, যাতে আমাদের বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সবকিছু যেমন এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি তেমন রূপে রূপায়িত হতে পারে।


 যদি পারমাণবিক ও বৈদ্যুতিক শক্তিসমূহকে অতি সামান্য পরিমাণেও বিঘ্নিত করা হয়, তাহলে বর্তমানে অস্তিত্বশীল পদার্থের রাসায়নিক বৈচিত্র্য আমরা দেখতে পেতাম না। আমরা সেক্ষেত্রে কেবল হাইড্রোজেনের মতাে সরলতম পরমাণু বা সবচেয়ে ভারী কিছু উপাদান পেতাম। 


একইভাবে, যদি অভিকর্ষজ ও পারমাণবিক শক্তির মধ্যেকার ভারসাম্য বিঘ্নিত করা হয়, তাহলে আমরা দেখতাম যে নক্ষত্রগুলি আর দীর্ঘজীবী নয়, দীর্ঘকাল ধরে  তা আর আলােকের শক্তির উৎস নয়, এবং ভৌত ধ্রুবকের কোন একদিকে বিচ্যুতির ফলে নক্ষত্র-নির্গত শক্তি হত অত্যন্ত বিপুল, যেমন বিস্ফোরণে হয়ে থাকে। 



যদি ভিন্ন আরেক দিকে তাদের ঐ বিচ্যুতি ঘটত, তাহলে নিঃসৃত শক্তি হত ক্ষুদ্র পরিমাণের, এবং তারাগুলি শীঘ্রই ব্ল্যাক হােলে পরিণত হত। ভৌত  বিশ্বব্যবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করলে, আমরা দেখব যে এক অত্যন্ত সূক্ষ্ম , সংকীর্ণ এবং বিশেষ সমন্বয় এই বিশ্বের পৃথিবীর এবং বিভিন্ন ধরনের জীব-প্রজাতির অস্তিত্বকে সম্ভব করেছে”।

 জর্জ ওয়াল্ড, নােবেলজয়ী, হাভার্ডের প্রফেসর ঃ  “একটি প্রােটন বা নিউট্রনের ভর ইলেকট্রনের ভরের চেয়ে প্রায় ২০০০ গুণ বেশি – ১,৮৪২ গুণ বেশি – শেষ বার আমি যা পরীক্ষায় দেখেছি। সেইজন্য পরমাণুর সমগ্র ভরথাকে নিউক্লিয়াসে, যেজন্য ইলেকট্রন যেভাবেই এর চারদিকে ঘুরতে থাকুক, পরমাণুটি স্থিত থাকে। বিশ্বব্রহ্মান্ডের সবকিছু স্থিত থাকার এটাই একমাত্র কারণ, এবং আমাদের ব্রহ্মান্ডের শক্ত গঠনকাঠামাের সেটিও একমাত্র কারণ।.



..যদি প্রােটন ও ইলেকট্রনের ভর কাছাকাছি বা সমান হতো , তাহলে তারা পরস্পরের চতুর্দিকে ঘুরত। তখন বিশ্বব্রহ্মান্ডের সবকিছু , হতাে তরল। 



 “কেমন করে এটা, হতে পারে যে ইলেকট্রন ও প্রােটনের মতাে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী দুটি কণিকার ইলেকট্রিক চার্জের রিমাণ সংখ্যাগতভাবে একবারে সমান — প্রােটন যতটা পজিটিভ তড়িৎধর্মী, ইলেন্দ্র কণা নিখুঁতভাবে সেই একই পরিমাণে নেগেটিভ তড়িৎধর্মী? এটি একটি বৈধ বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন...। 


১৯৫৯-এ আমাদের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দুজন জ্যোতিপদার্থবিদ (astrophysicist) লিট নর্লটন ও বন্ডি রয়াল সােসাইটি অব লন্ডনের সেমিনারে একটি পেপার প্রকাশ করেন; সেখানে তারা দেখান যে প্রােটন ও ইলেক্ট্রনের চার্জের পার্থক্য অতি ক্ষুদ্র -2*10^-18e -যা হচ্ছে প্রােটন বা ইলেকট্রনের নিজস্ব ক্ষুদ্র চার্জঃ সুতরাং তাদের চার্জের পার্থক্য e এর দুই হাজার কোটি বা ২ এর পর ১৮টি শূন্য দিলে যা হয়, তত কোটি ভাগের এক ভাগ (two billion billionths of e)। 


তাঁরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে তাঁদের চার্জের পার্থক্য যদি অতি নগণ্য পরিমাণেও হ্রাস বৃদ্ধি হতাে, তাহলে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মান্ড তড়িৎধর্মী (charged) হয়ে যেত, হয় পজিটিভ, নাহলে নেগেটিভ। আর যেহেতু সমধর্মী তড়িৎ পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, সেজন্য ব্রহ্মান্ডের সবকিছুই একে অপরকে বিকর্ষণ করত। ফলে বিশ্ব কেবলই সম্প্রসারিত হতে থাকত। প্রসারিত হতাে, কিন্তু আর কিছু গঠিত হতাে না 

—কেননা চার্জের অতি ক্ষুদ্র প্রভেদই মাধ্যাকর্ষণ বলকে পরাভূত করার জন্য যথেষ্ট হতাে—পদার্থকে যা পরস্পর সংবদ্ধ রাখে। 


ফলে আমরা কোন গ্যালাক্সি, তারকারাজি, গ্রহ – কিছুই পেতাম না ...... এবং সব চেয়ে খারাপ কথা—কোন পদার্থবিদকেও পেতাম না। 


 


Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline