Page

Follow

মহাবিশ্বের উদ্ভবঃ দুর্ঘটনা না সুপরিকল্পনা :বিগ ব্যাং নিয়ে বিগ প্রশ্ন। PAGE-31

 

 মহাবিশ্বের উদ্ভবঃ দুর্ঘটনা না সুপরিকল্পনা :বিগ ব্যাং নিয়ে বিগ প্রশ্ন। 

PAGE-31


বিজ্ঞানীদের এই বিশ্বসৃষ্টি তত্ত্ব সম্বন্ধে কি বিজ্ঞানীরাই নিঃসংশয় ? আদপেই নয়;বরং মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব কেবলই মহা মহা প্রশ্নের সৃষ্টি করে চলেছে, যার উত্তর দান করা তাদের সামর্থ্যের অতীত। 


ফলে এই তত্ত্ব যে নানা অসংগতিতে ভরা, তা তাদের স্বীকারােক্তিতেই স্পষ্ট। আইনস্টাইনের পর যিনি প্রায় আইনস্টাইনের সমগােত্রীয়ের মর্যাদা পেতে চলেছিলেন, সেই স্টিফেন হকিং সত্য স্বীকারের তাড়নায় অনাহূত হয়ে উপস্থিত হলেন আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে (জুলাই, ২০০৫), পদার্থ বিজ্ঞানীদের সতেরােতম বিশ্ব সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন জেনারেল রিলেটিভিটি অ্যান্ড গ্রাভিটেশন’-এ;




 সেখানে এক ঘন্টার বক্তৃতায় হকিং তার ব্ল্যাক হােল থিওরীতে ভুল থাকার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন। হকিং এক সময় মন্তব্য করেছিলেন যে গণিত-পদার্থবিদ্যার সূত্রগুলি প্রয়ােগ করে একদিন বিশ্ব রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হবে।


 কিন্তু তিনি এখন স্বীকার করছেন যে এই কাজ কার্যত অসম্ভব। বিশ্ব সৃষ্টির রহস্যের তত্ত্ব নানা অসংগতিতে পরিপূর্ণ, এবং অসম্পূর্ণ। এমনকি একটি সামগ্রিক তত্ত্ব-সূত্র তৈরীর জন্য বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিকতম প্রয়াসও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে, যেমন লুপ কোয়ান্টাম গ্রাভিটি, স্ট্রিং থিওরী, এম-থিওরী ইত্যাদি। 



স্টিফেন হকিংঃ “হতে পারে যে সীমিত সংখ্যক বিবৃতির সাহায্যে বিশ্বের তত্ত্ব সূত্র রচনা করা সম্ভব নয়...... আমরা এবং আমাদের পর্যবেক্ষণীয় বস্তুরাজি উভয়েই আমাদের বর্ণণীয় ব্রহ্মান্ডের অংশ। 


এইভাবে গডেলের থিওরেমের মতাে একটি ভৌত তত্ত্ব স্ববর্ণনধর্মী। সেইজন্য প্রত্যাশা করা যেতে পারে যে ঐরকম তত্ত্ব হয় অসংগতিপূর্ণ হবে, অথবা অসম্পূর্ণ হবে। এপর্যন্ত আমরা যত তত্ত্ব আবিষ্কার করেছি, তা অসংগতিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ উভয়ই.....। 


কিন্তু মানুষ অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়বেন—যদি একটি পরম তত্ত্ব তৈরী করা না যায়—যাকে সীমিত সংখ্যক নীতিসূত্রের সাহায্যে গঠন করা যায়। আমিও ঐ শিবিরে ছিলাম, কিন্তু এখন আমি মত পরিবর্তন করেছি। 


আমি আনন্দিত যে আমাদের অনুসন্ধান কোনদিনই সম্পূর্ণ হবে না, এবং আমরা সর্বদাই নতুন আবিষ্কারের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে থাকব। এটা ছাড়া আমরা বদ্ধ হয়ে পড়ব, থেমে যাব ...।” *


হতাশ জনগণকে হকিং আশ্বাস বাণী শােনাচ্ছেন যে তাঁরা নতুন নতুন আবিষ্কার করতেই থাকবেন, কেননা অনুসন্ধান কখনাে শেষ হবার নয়।


 এতেই বিজ্ঞানী হকিং নিজে আনন্দিত বােধ করছেন। কিন্তু যারা আন্তরিকভাবেই পরম সত্য সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী তারা আশ্বস্ত হবেন কিভাবে? 


কেন স্টিফেন হকিং সহ দায়িত্বশীল বিজ্ঞানীরা স্বীকার করছেন না যে তাদের মেথডােলজি বা পদ্ধতির মধ্যেই রয়েছে গলদ, যার জন্য তাঁদের সত্য আবিষ্কারের চেষ্টাটাই সার হচ্ছে, সম্ভব হচ্ছেনা সত্যে উপনীত হওয়া ?


 এভাবে কোনদিনই সত্যে উপনীত হওয়া যাবে না জেনেও কেবল ‘বদ্ধ হয়ে পড়ার ভয়ে ক্রমাগত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে গৌরবের কি আছে?


“আমাদের সামনে এখনও একটা বিরাট প্রশ্নচিহ্ন, পৃথিবীতে আমরা এসেছি কেন? আর কোথা থেকেই বা এসেছি ....? এক আশ্চর্য জগতের মধ্যে রয়েছি আমরা। চারপাশে যা কিছু দেখছি, সেগুলাে কী? ব্রহ্মান্ডের প্রকৃতিই বা কী? মহাবিশ্বে আমাদের অস্তিত্বের অর্থই বা কী?”

—স্টিফেন হকিং ; আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম ,


শুধু হকিং নন, বিগ ব্যাং নিয়ে তাদের বিগ হতাশা গােপন করেননি অনেক প্রথিতযশা বিজ্ঞানীই। সর্বজনগ্রাহ্য সত্যে পৌছানাে যে সম্ভব হয় নি, স্বীকার করা হয়েছে জ্ঞানের বিশ্বকোষ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাতে।


 এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ঃ

“এইটি দৃঢ়নিশ্চিতভাবে অবগত হওয়া উচিত যে সৌরজগতের উদ্ভবের কোনাে তত্ত্বই  অদ্যাবধি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়নি। সমস্ত মতবাদগুলিই অত্যন্ত অসম্ভব উদ্ভট—সব কাল্পনিক ধারণায় পূর্ণ।


 সেজন্য আসল অসুবিধাটি হচ্ছে এমনকি সামান্য পরিমাণেও সম্ভাব্যতার অনুষঙ্গ আছে এমন একটি তত্ত্বও খুঁজে বের করা।”*



 ‘দি ফার্স্ট থ্রি মিনিট’ বইয়ে স্টিভেন উইন্সবার্গ ঃ

“জ্যোতির্পদার্থ বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড়মাপের সমস্যাগুলির একটি হচ্ছে গ্যালাক্সিগুলির গঠনের তত্ত্ব, যে সমস্যার সমাধান আজ মনে হচ্ছে অত্যন্ত সুদূরপরাহত।** 



‘এনসাইক্লোপিডিয়া অইগনরেন্স’-এ ‘অরিজিন অব আর্থ, মুন অ্যান্ড প্লানেটস  ’বিভাগে ইংল্যান্ডের রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সােসাইটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাকরে :

‘জ্যোতির্বিজ্ঞানে সমস্ত অ-সমাধিত সমস্যাগুলির মধ্যে সম্ভবতঃ সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য সমস্যাহচ্ছে, সৌরজগতের উৎপত্তির সমস্যা। 




* কেনেথ আর বােল্ডিং , প্রেসিডেন্ট , আমেরিকান অ্যাসােসিয়েশন অব দি অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স:-           


 "বিশ্বসৃষ্টির তত্ত্ব ... অত্যন্ত অনিশ্চিত , বিপদগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ, কেবল এইজন্য যে এটি এক ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধনমুনার সাহায্যে এক অত্যন্ত বিপুল বিশ্বব্যবস্থার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।



”** সিফেন হকিং, বিশ্ববিশ্রুত বিশ্বতত্ত্ববিদ বিজ্ঞানী : 


“হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ বিশ্বব্রহ্মান্ডকে বিস্ময়বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখে এসেছে। এই বিশ্ব কি অন্তহীন ভাবে প্রসারিত , না কি এর কোন সীমা রয়েছে? আর , কিভাবে এর উদ্ভব হয়েছে ? বিশ্বব্রহ্মান্ড কি চিরকাল বিদ্যমান রয়েছে? 


এই দুই দৃষ্টিকোণের মধ্যে বিতর্কশতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলছে , কিন্তু কোন স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়নি।



”*** সিদ্ধান্তে যে পৌঁছানাে যায় নি, সেটি মডার্ন কসমােলজি পড়লে যে কেউ উপলব্ধি করতে পারেন। বিগ ব্যাং থিওরীর জন্ম সালে, ১৯৪৮ এই’তা না হলে কেন আবির্ভাব হবে নতুন আরেকটি মতবাদের -স্টেডি-স্টেট থিওরী বা স্থির বিশ্বতত্ত্বের? 


স্টেডি-স্টেট থিওরী ঃ ১৯৪৮ -এ ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ ফ্রেড হয়েল, জার্মান বন্ডি ও টমাস গোল্ড বিশ্বব্রহ্মান্ডের সম্পূর্ণ নতুন মডেল স্থাপন করেন ; আকস্মিক বিস্ফোরণে বিশ্বের উদ্ভবকে তারা তত্ত্বগতভাবে অসংগতিমূলক বলে বুঝেছিলেন।



তাঁরা উপস্থাপন করেন “পারফেক্ট কসমােলজিক্যাল প্রিন্সিপল”, যাতে এই সত্য উঠে আসে যে বিশ্বব্রহ্মান্ড সবসময় একই অবস্থাতেই রয়েছে (“at any tinue the Universe appears the same, overall, from any location.)।


 বিস্ফোরণ হতে অকস্মাৎ ব্রহ্মান্ড শুরুর তত্ত্বকে তাঁরা কাল্পনিক কাহিনী বলে নস্যাৎ করেন। যদিও এই তত্ত্বটিও মানতে নারাজ সব জ্যোতির্বিজ্ঞানী। নির্গলিতাৰ্থ, কোন তত্ত্বেই পূর্ণ ঐক্যমত্য নেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের, অর্থাৎ কোন তত্ত্বই পূর্ণ প্রমাণসম্মত (full-proof) নয়।




Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline