Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা ||আধুনিক বিজ্ঞান ও তার অগ্রগতি ||মঙ্গলগ্রহে মানুষ ||আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ||PAGE-3

  বিজ্ঞান ধৰ্ম ও বিশ্বসভ্যতা  :বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা ,আধুনিক বিজ্ঞান ও তার অগ্রগতি

PAGE-3


মঙ্গলগ্রহে মানুষ 

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে কর্ম তৎপরতার

বিরাম নেই। মঙ্গলে পাঠাতেহবে মানুষ। ১০০০ দিন অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর সময় লাগবে মঙ্গল থেকে ঘুরে আসতে।  এজন্য সবরকম গবেষণা চলছে। ২০০৬-এ এজন্য প্রথমে পাঠানাে হচ্ছে ইদুর- মার্স  গ্রাভটি বায়ােসাটেলাইট প্রােজেক্টের অধীনে। যদিও চন্দ্রাভিযানের সত্যতা নিয়ে বিস্তর সংশয়, তার মধ্যেই মঙ্গলে যাবার তােড়জোড় চলছে জোর কদমে।


এখনই সব উচ্চাশাপূর্ণ পরিকল্পনা বর্তমানে প্রযুক্তিবিদদের গবেষণাগারে আবদ্ধ রয়েছে। সচকিত চোখে বিশ্ববাসী দেখছে প্রযুক্তির নতুন নতুন বিস্ময়। দেওয়াল জোড়া প্লাজমা টিভিতে যেন পুরাে পৃথিবী গ্লোবটাই বিকিরণ করছে তার বিচিত্র রহস্য-সৌন্দর্য বিভাস। 

মােবাইল ফোনে শত ঘন্টা ভিডিও রেকর্ডিং, মিউজিক-রােমান্স-ওয়েবওয়ার্ল্ড-এ সন্তরণ। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড উপস্থিত করেছে নতুন পসরা। এর পরবর্তী আকর্ষণ ন্যানাে টেকনােলজি। এর কারসাজিতে বহু কিছু করা সম্ভব -যেমন এমন মােবাইল ফোন বানানাে সম্ভব, বিজ্ঞানীদের কথায় ‘পিঁপড়েরাও যা ব্যবহার করতে পারে।


বায়াে-টেকনােলজি বা জৈব প্রযুক্তির শাখাতেও রয়েছে নতুন প্রতিশ্রুতি। জেনেটিক টেকনােলজির দৌলতে বাজারে ইতিমধ্যেই এসে গেছে জি.এম.সীড(জেনেটিক্যালি মােডিফায়েড সীডস)। 



এই বীজ দিয়ে চাষ খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করবে (যদিও এর সুদূর প্রসারী প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে এখনাে এই বীজ ব্যবহারের অনুমােদন দেওয়া হয়নি প্রায়। সমস্ত দেশে)। 


মানুষের জিন-ম্যাপ তৈরী হচ্ছে—হিউম্যান জিনােম প্রােজেক্ট-নামে বহু লক্ষ ডলারের রিসার্চ-প্রকল্পে তৈরী করা হচ্ছে মানুষের জিনের মানচিত্র। ক্লোনিং এর মাধ্যমে মানুষের হুবহু নকল জেরক্স কপি তৈরী এখন কেবল অনুমােদনের অপেক্ষা।



 স্টেম সেল রিসার্চ বা অপত্য কোষ গবেষণা বহু দুরারােগ্য রােগের নিরাময়ে অব্যর্থ ভূমিকা নেবে বলে। জীববিজ্ঞানীদের অনুমান। 

 এমনকি, হিউম্যান মেশিন হাইব্রিড বা মানুষ ও যন্ত্রের সঙ্করায়নের প্রয়াসও শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। 


মানুষের মাথায় মাইক্রোচি জাতীয় কপিউটার যন্ত্রাংশ লাগিয়ে ইলেকট্রোডের সাহায্যে মস্তিষ্কের নার্ভ-লাইনের সাহায্যে জুড়ে নতুন শক্তিধর মস্তিষ্ক সম্পন্ন মানুষ তৈরীর চেষ্টা চলছে। সিন্থেটিক বায়ােলজি নামে নতুন শাখার জন্ম হয়েছে। 



এছাড়া মনের সব আবেগ-প্রবেগগুলি ঔষধ প্রয়ােগে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা করায়ত্ত করার জন্য মাইন্ড-এনহ্যান্সিং ড্রাগস’ তৈরীর জন্যও চলছে জোরদার গবেষণা।


বিশ্বের বিজ্ঞানীরা সংঘবদ্ধভাবেও এখন অনেক কাজ করছেন। যেমন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন ISS বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন।


 বিশ্বের ১৬টি দেশের উদ্যোগে ১০৮ মিটার লম্বা ও ৮৮ মিটার চওড়া স্টেশনটিমহাকাশে ভূপৃষ্ঠের ৪০০ কি.মি. উপরে এসেম্বল  করা হয়েছে বহুমুখী গবেষণার জন্য। 



এমনকি বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাশূন্যের ভারহীন পরিবেশে হৃদ্যন্ত্রের জটিল রােগের নিরাময় অনেক সহজসাধ্য হতে পারে। চলছে তারও গবেষণা। রাশিয়ার ‘মির’ স্টেশন থেকে বহুগুণ বড় এই স্পেস স্টেশন প্রযুক্তিবিদদের অন্যতম গর্বের বস্তু। 


শুধু বিশালাকৃতি মানমন্দির নয়; বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে স্থাপন করছেন টেলিস্কোপ—যার সাহায্যে নক্ষত্র, কোয়াসার,  নীহারিকা, ধূমকেতু গ্যালাক্সির রহস্য  জানা যাবে । 

যেমন মহাশূন্যে ক্রিয়াশীল হাবল টেলিস্কোপ। সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ সম্বন্ধে জানতে পাঠানাে হচ্ছে নানা মহাকাশযান  -যেমন পাইওনিয়ার। মঙ্গলগ্রহকে জানতেনাসার পাথফাইন্ডার, ইত্যাদি। 



ভবিষ্যতে ফোটন রকেটে চেপে হিমায়িত মানুষকে পাঠানাে হতে পারে দূরেরনক্ষত্রলােকে এমনই উচ্চাভিলাষ পােষণ করার মতাে বিজ্ঞানীদের অভাব নেই আজ।কমপিউটার ল্যাপটপ ওয়েব-ইন্টারনেট, এসব এখন মানুষের অপরিহার্য সঙ্গী।


 তথ্য প্রযুক্তি বা ইনফোটেকের বিপ্লব পৃথিবীকে অনেক কাছাকাছি এনেছে। শুধু ওয়েব সার্ফিং করলেই পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের তথ্যাবলী ঘরের পি.সিতে, এমনকি মােবাইল ফোনেই দৃশ্যমান।


এইভাবে বিজ্ঞানীদের অব্যাহত গবেষণা মানব সভ্যতার মৌল চরিত্রের পরিবর্তন ঘটিয়ে চলেছে; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির দ্বারা এই প্রকৃতিতে মানুষের অবস্থানকে আরও নিরাপদ, সুখময়, বিলাসপূর্ণ করে তােলার জন্য বিজ্ঞানীদের প্রয়াস অব্যাহত।


 সর্বত্রই এখন বিজ্ঞানের জয়গান। টেকনােলজি ফর ম্যানকাইন্ড প্রবন্ধে লেখক জেবরােনস্কি মন্তব্য করেছেন, “মানুষ এখন প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্যে প্রকৃতিকে জয় করেছে। 


প্রকৃতিকে, প্রকৃতির শক্তিকে বশীভূত করে তার সম্পদকে মানুষের ভােগ্যপণ্য তৈরীতে প্রয়ােগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এখন মানুষের অন্যতম অস্ত্র, অবলম্বন, ভরসাস্থল।


 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারই এখন বর্তমানে মানব সভ্যতার উন্নতি-প্রগতি পরিমাপের মানদন্ড।  সভ্যতার উন্নতি ও মানুষের জীবনের মানের উন্নতি পরিমাপের এখন একমাত্র মানদন্ড হচ্ছে কত পরিমাণে সে এইসব ‘ইউসফুল, এঞ্জয়ে গ্যাজেটস্ এন্ড টুলস ব্যবহার করতে পারছে তার উপর। 


ফলে, মানুষের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য যেভাবে হােক ভােগ্যপণ্য। সংগ্রহ, বিলাসদ্রব্য কেনা। এই নয়া পণ্যবাদ বা কনজিউমারিজম বাণিজ্যিক  সংস্থাগুলির ক্রমাগত বিজ্ঞাপনের দৌলতে সভ্যতা-সংস্কৃতির চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছে। 


পণ্যক্রয়ই এখন জীবনের নির্গলিতাৰ্থ, সার-সর্বস্ব, একমাত্র উদ্দেশ্য, সমস্ত কর্মতৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু। 


সমস্ত সরকারগুলির লক্ষ্য তাদের দেশবাসীর ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি করতে থাকা। শিক্ষাব্যবস্থাও এই উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এইভাবে আমাদের ধারণা, উন্নত হচ্ছে মানুষের জীবনের মান, সভ্যতার হচ্ছে ‘অগ্রগতি।

বিজ্ঞান যত উন্নত হচ্ছে ,আমাদের দৈনন্দিন জীবন ততটা দূষিত হয়ে যাচ্ছে ,এখন আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস এর জন্য বায়ু  সম্পূর্ণরূপে শুদ্ধ নয়। শহরের  বায়ু তো  একেবারে অশুদ্ধ। বায়ু দূষিত হওয়ার কারণে বায়ুতে CO২ এর পরিমান বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে মেরুর বরফ গলছে ,তাই আমাদের এই উন্নত বিজ্ঞানের অগ্রগতি কে মানুষ ,জীব ও জীবন এবং প্রকৃতির সুবিদার্থে কাজে লাগালে কেমন হয় ? আপনারা নিচে কমেন্টে জানান। ধন্যবাদ। 
Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline