Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা ,জীবনের মৌল সমস্যা বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি-দুঃখ দোষ-অনুদর্শন PAGE-26

  জীবনের মৌল সমস্যা

বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা

PAGE-26





 জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি-দুঃখ দোষ-অনুদর্শন


বিজ্ঞান  ও ধর্ম সম্বন্ধে জানার এই ব্লোগ্গিং এর  সূচনায় ছিল সাফল্যে-উচ্চকিত বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস আর অ্যাডভেঞ্চার-পিয়াসী দুঃসাহসী-মেয়ে কল্পনার প্রসঙ্গ।



‘ইউরেকা’ বলতে বলতে উল্লসিত হয়ে সিসিলির বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস ছুটেছিলেন রাজা হেরনের কাছে, মুকুটে খাদ মেশানাের সমস্যার সমাধান দেখিয়েছিলেন তিনি সন্তুষ্ট রাজা তাঁকে প্রচুরভাবে পুরস্কৃত করেছিলেন।

কিন্তু কিছু দিন পর—অন্য চিত্র। শত্রুর আক্রমণে বিধ্বস্ত, অবরুদ্ধ রাজধানী। জ্যামিতির জটিল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন আর্কিমিডিস—বালিতে দাগ টেনে ভাবছেন তন্ময় হয়ে...... আকস্মিকভাবে নেমে আসে রােমান শত্রুসৈন্যের তীক্ষ্ণধার তলােয়ারের জোরালাে আঘাত বালির রেখাচিত্রের উপর লুটিয়ে পড়ে খন্ডিত শির, মৃত্যু চিরতরে ছিনিয়ে নেয়, অদৃশ্য করে দেয় বিজ্ঞানীকে।


কৌতূহলী জ্ঞানান্বেষী কিশােরী মেয়ে কল্পনা নীল মহাকাশে বিচরণের স্বপ্ন পূরণের অভিযানে ভেসে পড়ে। কিভাবে সেই স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটেছিল, সকলের জানা।


 ২৬শে এপ্রিল ২০০৪-এ আমেরিকার টেক্সাসের আকাশে ঘন্টায় ১৮ হাজার কিলােমিটার গতিতে বায়ুমণ্ডলে ছুটতে থাকা মহাকাশ ফেরিযান কলম্বিয়া হাজার হাজার ডিগ্রী আগুনের তাপে ঝলসে যায়, বিস্ফোরণে টুকরাে টুকরাে হয়ে ছড়িয়ে পড়ে যন্ত্রাংশ ও সাত মহাকাশচারীর দেহ।


 টেক্সাসের ৩০ কিলােমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঝলসানাে যন্ত্রাংশ, দেহাবশেষ, ছাই। এই প্রকৃতিতে আমাদের এই জড় দেহ কত ভঙ্গুর প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববাসী।


এই পৃথিবীতে, প্রকৃতির শক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন জগতে রােমান্টিকতায় মােহিত প্রত্যেক মানুষকেই কি চরমে এই পরিণতির শিকার হতে হচ্ছে না? 


“মানুষ প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্যে প্রকৃতিকে জয় করেছে,”লিখেছেন জেবরােনস্কি—তাঁর টেকনােলজি ফর ম্যানকাইন্ড প্রবন্ধে। প্রকৃতি অতএব এখন মানুষের বশীভূত দাসী ; সায়েন্স আর টেকনােলজি এখন আমাদের জীবনের সমস্ত সংকট-সমস্যার নিরসন করে জীবনকে সর্বসুখময় করে তুলেছে। 


যদি কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকে, তা সম্পূর্ণ করে দেবে ভবিষ্যতের বিজ্ঞান। কিন্তু, সেই জে. বরােনস্কি এখন কোথায়? নিশ্চিহ্ন। প্রকৃতি তাকে মুছে দিয়েছে এই জগৎ থেকে। প্রকৃতির টাইমফোর্সের অপ্রতিরােধ্য আক্রমণের শিকার এই প্রকৃতিতে জড়দেহধারী প্রত্যেকেই।



 বড় বড়বিজ্ঞানীরাও জরাগ্রস্ত হন, রােগগ্রস্ত হন, পতিত হন মৃত্যুর করাল গ্রাসে। অতএব, প্রকৃতিকে জয় করার স্বপ্ন দিবাস্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। 


পৃথিবীর সব অ্যাটম বােমা প্রজ্বলন্তদ্যুতি সূর্যে  নিক্ষেপ করলেও যেমন সূর্য থাকবে অটুট, তেমনি মানুষের সমস্ত প্রয়াস অচিরেই ব্যর্থ করে প্রকৃতি বজায় রাখবে তার আধিপত্য। 


কিছুতেই প্রকৃতির নিয়ন্তা হতে পারেনা  মানুষ। মৃত্যুর মতাে জীবনের প্রকৃত সমস্যাগুলি সমাধানে কাজে আসছে না জড় বিজ্ঞান। ভাগবতগীতায়  এই জগৎকে শ্রীকৃষ্ণ অভিহিত করেছেন ‘দুঃখালয়ম অশাশ্বতম  বলে, অর্থাৎ এই জগৎ দুঃখ-দুর্দশার আলয় এবং অনিত্য-অস্থায়ী।



 বিজ্ঞানীরাও বলছেন যে এই বিশ্ব একদিন ধ্বংস হবে, ঘটবে মহাপ্রলয়। আর এখানে, এই দুঃখময় জগতে জীবন কেমন ? ভঙ্গুর, রােগজরাগ্রস্ত, ক্ষণস্থায়ী, আর ভগবদ্গীতায় সেটি বােঝাতে জড় দেহের দোষ অনুদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছেঃ জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি-দুঃখ দোষানুদর্শনম 




জড়দেহের যে মৌল সমস্যা থেকে কখনই মুক্ত হওয়া সম্ভব নয় ঃ জন্ম-মৃত্যু, জরা ও ব্যাধি। 


জন্ম :: মাতৃগর্ভে মাসের পর মাস একটি ব্লাডারের মধ্যে আঁটসাট অবস্থায় থাকা আদৌ সুখকর কিছু নয়। শ্রীমদ্ভাগবতে মাতৃগর্ভে থাকার যন্ত্রণা ব্যাখ্যা করা হয়েছে তৃতীয় স্কন্ধের কপিল-দেবহূতি সংবাদে।



 ৬ মাস দেহগঠনের পর শরীরে চেতনা আসায় শিশুর স্পর্শ অনুভূতি আসে। মায়ের কটু, ঝাল, তিক্ত আহারে শিশু কষ্ট পায়। আধুনিক আলট্রাসােনােগ্রাফিতেও দেখা যায় শিশু কখনাে কখনাে প্লাসেন্টার মধ্যের বিভিন্ন দূষিত বস্তু-মিশ্রিত ক্লেদ খাচ্ছে। 


জন্মের পরই শিশু উচ্চস্বরে কেঁদে তার গর্ভবাসের সুখের কথা ঘােষণা করে। প্রতিবার মৃত্যুর পর বদ্ধ জীবকে গর্তে প্রবেশ করতে হয় নতুন শরীর ধারণের জন্য।* লক্ষ লক্ষ বার, অবিরাম চলতে থাকে এই আবদ্ধ হবার যন্ত্রণাভােগ— আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এই সমস্যার সমাধানে আদৌ কোনাে কাজে আসে না।



ব্যাধি ঃ বার্ড ফ্লু ভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে WHO বা রাষ্ট্রসংঘের স্বাস্থ্যবিভাগের প্রধান থাইল্যান্ডে গেলেন পর্যবেক্ষণে । তিনি নিজেই আক্রান্ত হলেন; বার্ড ফ্লু দুই দিনেই কেড়ে নিল তার জীবন! পৃথিবীর মানুষের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব যার হাতে, তিনি রােগের কাছে পরাভূত হলেন   ||




 শক্রদেশের মানুষকে ধ্বংস করে যুদ্ধ জয় করে নিজের অস্তিত্ব সুনিশ্চিত করার জন্য প্রথম পরীক্ষামূলক পরমাণু বােমা বানিয়েছিলেন আমেরিকো ফার্মি ,


'পরমাণু বােমার শক্তি প্রচন্ড, কিন্তু তার দেহটি কত ভঙ্গুর, বােঝা যায় যখন ক্যানসার জীবাণুর আক্রমণে ৫৩ বছরেই অকালেই ধ্বংস হয়ে যায় তার দেহটি। 


চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনেক অগ্রগতি হয়েছে, আসছে নতুন নতুন টেকনােলজি। কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গও তৈরী করা হচ্ছে- এমনকি নকল হৃৎপিন্ডও বাজারে আসা কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন। 


স্টেম সেল রিসার্চ ও ক্লোনিং অনেক রােগ থেকে মানুষকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু সােজা কথায় যদি প্রশ্ন করা যায় মানুষ কি ব্যাধির বিভীষিকা থেকে মুক্ত? 


পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ হাসপাতাল, নার্সিংহােম আর কোটি কোটি রােগী প্রমাণ করে যে ব্যাধি মানুষের নিত্য সাথী। প্রায় প্রতিটি মানুষের মৃত্যু হলে চিকিৎসক তার ডেথ সার্টিফিকেটে কোন রােগের নাম লেখেন। রােগ যদি নির্মূলই করা যেত তাহলে ঐরােগে মৃত্যু ঘটবে কেন মানুষটির?


 কলেরা, প্লেগের মতাে কিছু রােগ দমিয়ে রাখা গেলেও সূচনা হচ্ছে নতুন নতুন রােগের। বিশ্বজুড়ে এই মহামারীর আকার নিয়েছে। আফ্রিকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের এইডসে মৃত্যু হতো  -প্রতি ৬জনে ১জন এইডসে আক্রান্ত হতো ।



 ভারতে ১০ কোটি মানুষ সুগারে আক্রান্ত।পৃথিবীতে প্রতি মিনিটে লক্ষ লক্ষ মানুষ রােগাক্রান্ত হচ্ছে। মেডিক্যাল টেক্সট বুকে হাজার হাজার রােগের তালিকা। অতএব জড় দেহে রােগ অপ্রতিরােধ্য মৃত্যু হার কমানাে গেলেও রােগের যন্ত্রণা কম বেশি সহ্য করতে বাধ্য হয় সকলেই। 


যেমন বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বিশ্বরহস্য সমাধানের সূত্র বের করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু মােটর নিউরােন ডিজিজে মেরুদন্ডের স্নায়ু ছিড়ে যাওয়ায় জীবনের মতাে উঠে দাঁড়াবার ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। জড় দেহে ব্যাধির নির্যাতন থাকবেই। একটি থামালে আরেকটি।। 



জরা 

 ২০০৩ সাল। ভারতে, দিল্লীতে আলােকোজ্বল মঞ্চে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার নিতে চলেছেন এভারেস্ট বিজয়ী নায়ক এডমন্ড হিলারী –এভারেস্ট জয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। 



নাম ঘােষণা হতেই ধীর স্থলিত পায়ে লাঠিতে ভর করে মঞ্চে উঠে আসছেন ৯০ বছরের লােলচর্ম এক বৃদ্ধ, প্রতি পদক্ষেপে সতর্ক—যেন এভারেস্টশিখরে ওঠার শেষ মুহূর্ত। 


এভারেস্ট যথাস্থানেই আছে, যথা অবস্থায় আছেন কি এভারেস্ট বিজয়ী ? এখন যদি এভারেস্ট আহ্বান করে আরেকবার হিলারীকে? এভারেস্ট জয় করেছিলেন হিলারী, জয় করতে পারেননি সময়ের স্রোতকে, জরাকে। 


কাল স্রোত – অপ্রতিরােধ্য তার গতি, টাইম-স্পেস-মােশন নিয়ে আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব প্রণয়ন করেছেন ক্লাসিক বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। রােধ করতে পারেননি প্রকৃতি-দত্ত দেহে সময়ের গতি—মােশন অটাইম। 


পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দর যুবক-যুবতীও লালিত্য-সুষমা-যৌবন দীপ্তির শেষ বিন্দুটুকু হারিয়ে হয়ে ওঠে কদাকার, শক্তিহীন, হতশ্রী। 


জরা কবলিত হয়ে ন্যুজ দেহে কেবল প্রকৃতির নিয়মের অমােঘতার জাজ্বল্যমান বিজ্ঞাপনে পরিণত হয় তারা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যৌবন দীর্ঘস্থায়ী করার গবেষণা অব্যাহত।


 নানা হরমােন, স্টেম সেলে কারিকুরি, জিন-এ পরিবর্তন বা সংকরায়ণ, শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এজেন্ট বের করে দেহের কোষ জীর্ণকারী  আক্রান্ত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। 





ফ্রীরেডিক্যালস ’উৎপন্ন হওয়াকে বন্ধ করা প্রভৃতি নানা ফন্দি আবিষ্কারের প্রয়াস অব্যাহত। কিন্তু এভাবে ১০-২০ বছর কিংবা এমনকি ৫০০-বছর দেহের বাহ্য-জৌলুস কিছুটা ধরে রাখা গেলেও জরা সম্পূর্ণ প্রতিরােধ করা সম্ভব বলে কল্পনাতেও আনেন না কোন বিজ্ঞানী।

 চিরস্থায়ী যৌবন এক কষ্টকল্পনা –কোন মেডিকেশানই পারবে না ৯০ বছরের হিলারীকে যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া আগের মতাে এভারেস্ট শিখরে আরােহণ করাতে। জীবনের অন্যতম মৌল সমস্যা, বার্ধক্য প্রত্যেকের জীবনে নেমে আসবেই, নিঃশেষিত হবে সমস্ত সৌন্দর্যবিভাস, শক্তি-সৌকর্য, বল-স্বাস্থ্য। 


জরার আক্রমণে বিশ্ববিশ্রুত নােবেল লরিয়েটরাও হয়ে যান পলিত-কেশ, শূন্য-দন্ত, লােলচর্ম। জড়জীবনের এটি অপরিহার্য মৌল বৈশিষ্ট্য।



 মৃত্যুঃ ২০০২-এর ২৬শে ডিসেম্বর সুন্দর সকালে ভারত মহাসাগরের হাজার হাজার মাইল তটরেখা জুড়ে আছড়ে পড়ল ভয়ঙ্কর জলতরঙ্গ – সুনামি। মানুষের সাজানাে বাড়ীঘর নিমেষে ভূমিস্যাৎ হয়ে ভেসে গেল খােলামকুচির মতাে। লক্ষ লক্ষ মানুষ কীটপােকার মতাে মরল।


 আন্দামানে ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যন্ত সুদক্ষ সুঠামদেহী ২২জন সৈন্যেরও জীবনাবসান হল, নভােনীলে যারা বিমানের পাখা মেলে উড়তে অভ্যস্ত ছিল প্রাণ হারালেন দক্ষিণ ভারতের পরমাণুশক্তিকেন্দ্রের চার পরমাণু বিজ্ঞানীও। 


বিপুল পরমাণু শক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করতে পারলেও এই প্রকৃতিতে তাদের অস্তিত্বকে নিরাপদ করতে পারেননি তারা।।


মিডিয়ার একটি খবর। মুম্বই থেকে দক্ষিণ ভারতের সমুদ্র উপকূলে ছুটি কাটাতেএসেছিলেন এক তরুণ দম্পতি, তাদের একমাত্র শিশুসন্তানকে নিয়ে। সী-বীচের ছবির মতাে হােটেলে উঠেছিলেন তারা। সমুদ্রতটে প্রাতঃভ্রমণের সময় চোখে পড়ল ছুটে আসা ভয়ংকর জলােচ্ছাস। তারা যখন হােটেলের ঘরে ঢুকলেন, পিছনে তাড়া করে এলাে ২০ ফুট উঁচু ঢেউ। 


মুহূর্তে লন্ডভন্ড হয়ে ভেসে গেল ঘরের আসবারপত্র। নিজেরাও প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলেন তারা -কোন মতে সামলে নিলেন নিজেদের। যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সবে, এলাে পরবর্তী ঢেউ।


 তরুণ বাবা আঁকড়ে ধরলেন ভেসে যাওয়া তাদের প্রাণ-প্রতিম ছেলেটিকে, কিন্তু চোখের সামনে জলের তােড়ে ভেসে গেল তার জীবনসঙ্গিনী। কিছুক্ষণ পর, সমুদ্রতটের ধ্বংসস্তুপে আবিষ্কার করলেন তাঁর স্ত্রীর নিথর নিস্পন্দ দেহটি। সরকারি ব্যবস্থায় অগ্নিদেব গ্রাস করল তার দেহকে বিলীন করল অতীতের গর্ভে, চিরদিনের জন্য।



কিন্তু এভাবেই কি প্রতিদিন হাজার হাজার পরিবার থেকে এক এক করে সময়-সুনামির অদৃশ্য ভয়ংকর স্রোত ছিনিয়ে নিচ্ছেনা তাদের প্রিয়জনদের? সুনামি নিয়েছিল ৩ লক্ষ মানুষের জীবন। সময় সুনামির গ্রাসে রয়েছে বর্তমানের ৬০০ কোটি মানুষ, ২১৫০ সালের মধ্যে বিস্মৃতির গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে সবাই। কালের ভয়ংকর করাল গ্রাস নিষ্কৃতি দেবে না কাউকেই।


বিজ্ঞানীরা কি ভাবছেন—এই কাল শক্তির ধ্বংসাত্মক আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তাঁরা কী টেকনােলজি উদ্ভাবন করছেন? এখনাে করা যায় নি, তবে আশা রাখেন ভবিষ্যতকে ঘিরে। 


অনুজীবতত্ত্ব বা জিন প্রযুক্তি হয়ত মানুষকে দিতে পারবে দীর্ঘজীবন, কাঙ্ক্ষিত অমরত্ব। কিন্তু তাহলে জনসংখ্যা ? আশাবাদী বিজ্ঞানী ডেরেক এইচ. আর. বার্টনের (রসায়নে নােবেল, ১৯৬৯) কণ্ঠে তাই একই সাথে মিশ্রিত হয় হতাশার সুর ঃ


 “আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে অনুজীবতত্ত্ববিদরা  একদিন এই বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে পারবে। আমরা চিরকাল বাঁচতে পারব। অবশ্য তার ফলে বিশ্ব জনসংখ্যা অনন্তে পৌঁছাবে। সত্যিই সমস্যা বটে।


”** তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর পর কেটে গেছে ৪০ বছর। কিন্তু এবিষয়ে বিন্দুমাত্রও অগ্রগতি হয়নি – দুর্ভাগ্য স্যার বার্টনের, কেননা তাঁকে বিদায় নিতে হচ্ছে। ভবিষ্যৎ দেখার জন্য আর বেঁচে উঠেছিলেন তারা। সমুদ্রতটে প্রাতঃভ্রমণের সময় চোখে পড়ল ছুটে আসা ভয়ংকর জলােচ্ছাস। তারা যখন হােটেলের ঘরে ঢুকলেন, পিছনে তাড়া করে এলাে ২০ ফুট উঁচু ঢেউ। 


মুহূর্তে লন্ডভন্ড হয়ে ভেসে গেল ঘরের আসবারপত্র। নিজেরাও প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলেন তারা -কোন মতে সামলে নিলেন নিজেদের। যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সবে, এলাে পরবর্তী ঢেউ।


 তরুণ বাবা আঁকড়ে ধরলেন ভেসে যাওয়া তাদের প্রাণ-প্রতিম ছেলেটিকে, কিন্তু চোখের সামনে জলের তােড়ে ভেসে গেল তার জীবনসঙ্গিনী। কিছুক্ষণ পর, সমুদ্রতটের ধ্বংসস্তুপে আবিষ্কার করলেন তাঁর স্ত্রীর নিথর নিস্পন্দ দেহটি। সরকারি ব্যবস্থায় অগ্নিদেব গ্রাস করল তার দেহকে বিলীন করল অতীতের গর্ভে, চিরদিনের জন্য।




কিন্তু এভাবেই কি প্রতিদিন হাজার হাজার পরিবার থেকে এক এক করে সময়-সুনামির অদৃশ্য ভয়ংকর স্রোত ছিনিয়ে নিচ্ছেনা তাদের প্রিয়জনদের? সুনামি নিয়েছিল ৩ লক্ষ মানুষের জীবন। সময় সুনামির গ্রাসে রয়েছে বর্তমানের ৬০০ কোটি মানুষ, ২১৫০ সালের মধ্যে বিস্মৃতির গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে সবাই। কালের ভয়ংকর করাল গ্রাস নিষ্কৃতি দেবে না কাউকেই।


বিজ্ঞানীরা কি ভাবছেন—এই কাল শক্তির ধ্বংসাত্মক আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তাঁরা কী টেকনােলজি উদ্ভাবন করছেন? এখনাে করা যায় নি, তবে আশা রাখেন ভবিষ্যতকে ঘিরে। 


অনুজীবতত্ত্ব বা জিন প্রযুক্তি হয়ত মানুষকে দিতে পারবে দীর্ঘজীবন, কাঙ্ক্ষিত অমরত্ব। কিন্তু তাহলে জনসংখ্যা ? আশাবাদী বিজ্ঞানী ডেরেক এইচ. আর. বার্টনের (রসায়নে নােবেল, ১৯৬৯) কণ্ঠে তাই একই সাথে মিশ্রিত হয় হতাশার সুর ঃ


 “আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে অনুজীবতত্ত্ববিদরা  একদিন এই বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে পারবে। আমরা চিরকাল বাঁচতে পারব। অবশ্য তার ফলে বিশ্ব জনসংখ্যা অনন্তে পৌঁছাবে। সত্যিই সমস্যা বটে।


”** তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর পর কেটে গেছে ৪০ বছর। কিন্তু এবিষয়ে বিন্দুমাত্রও অগ্রগতি হয়নি – দুর্ভাগ্য স্যার বার্টনের, কেননা তাঁকে বিদায় নিতে হচ্ছে। ভবিষ্যৎ দেখার জন্য আর বেঁচে থাকতে দিচ্ছে না প্রকৃতি তাঁকে। 


রাবণ দেখে যেতে পারেননি তার স্বপ্নের স্বর্গের সিঁড়ি, তার অস্তিত্ব ছিল শুধু স্বপ্নে। তেমনি প্রকৃতির ‘ডেস্ট্রাকটিভ টাইম ফোর্স’ – ধ্বংসাত্মক কাল শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা একটি শিশুর ছােট দুটি হাতে হাজার হাজার মাইল দীর্ঘ সুনামি-জলােচ্ছাসকে প্রতিহত করার সমান। 



সামান্য চেষ্টা চলছে কোষের হেফ্লিক লিমিটকে বাড়িয়ে কোষের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির, সেই সাথে আয়ু বৃদ্ধির। কিন্তু এই প্রয়াস সফল হলেও সামান্য ১০-২০ বছর কিংবা একশাে’-দুশাে বছর পরমায়ু বৃদ্ধি আর ‘চিরকাল বেঁচে থাকা এক নয়। 


অহমিকাপূর্ণ মানব প্রজাতির বড় বড় মহাবিজ্ঞানীরা ১০০ বছরে অদৃশ্য হয়ে গেলেও বটগাছ বেঁচে থাকে ৫০০ থেকে ১০০০ বছর, সিকোইয়া গাছ বেঁচে থাকে ২৫০০ বছর। এমনকি কোলকাতার চিড়িয়াখানার কচ্ছপটিও দোর্দন্ড প্রতাপ ব্রিটিশদের আসতে, যেতে আর মরতে দেখেছে। 


প্রকৃতির ব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য বিজ্ঞানীরা; এখনাে মৃত্যুকে তারা মানুষের নির্ধারিত আয়ুর (১০০ বছর) চেয়ে বিলম্বিত করার প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে পারেননি, তবে তা ত্বরান্বিত করার কৌশল বের করেছেন নিপুণতার সঙ্গে। এক কোটি মানুষকে একটি বােমায় খতম করার প্রযুক্তি একেবারে তৈরী অবস্থায় রয়েছে, কেবল বােতাম টেপার অপেক্ষা!




‘মৃত্যু সংসারসাগরাৎ’–ভগবদ্গীতায় (১২/৭) এই জগৎকে মৃত্যুর এক মহাসাগর বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই ভবমহাসাগরের ‘কালরূপ সুনামি তরঙ্গ অপ্রতিরােধ্য গতিতে সকলকে গ্রাস করে, সকলেই অসহায় ভাবে পতিত হয় কালগ্রাসে। 


প্রথম পরমাণু বােমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানাের পর তার অবিশ্বাস্য ধ্বংস-শক্তি প্রত্যক্ষ করে বিজ্ঞানী ওপেনহাইমারের ধ্বংসাত্মক কালশক্তির কথা মনে পড়ে, তার কণ্ঠ দিয়ে বেরিয়ে আসে গীতার শ্লোক – কালোহস্মি লােকক্ষয়কৃৎ প্রবৃদ্ধো, “Time' I am the great destroyer of the worlds” (আমি সর্ববিধ্বংসী কাল, ভগী-১১/৩২)।১৯।



মানুষের বাঁচার স্বপ্ন চিরন্তন, কবিকণ্ঠে তারই প্রতিধ্বনি –‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে। কিন্তু এই আশা হতাশায় পরিণত হয়, কাল শক্তি সকলকে জীর্ণ, নিঃস্ব, ধ্বংস করে। 


তাই আরেক কবি প্রকাশ করেন সত্য —‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে? 


অতএব, জড়া প্রকৃতির দ্বারা কবলিত প্রত্যেককেই জরা ব্যাধির আক্রমণ সহ্য করতে বাধ্য হতে হবে এবং মৃত্যুর সঙ্গে অন্তিম সাক্ষাৎকারের জন্য তৈরী থাকতে হবে। 

প্রত্যেককে, যতক্ষণ ভগবদ্গীতার তথ্য পরম বিজ্ঞান অনুসারে জীবনের মৌল ভুলের নিরসন না করা হচ্ছে।




Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline