Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা ,বিজ্ঞান নয়, দায়ী বৈজ্ঞানিক ‘ব্লাইন্ড ফেইথ’PAGE-25

 

 বিজ্ঞান নয়, দায়ী 
 বৈজ্ঞানিক ‘ব্লাইন্ড ফেইথ’

PAGE-25



 "...... Whatever our beliefs or theories, whatever our religious practices or research protocols, it is ever essential to keep in mind the bigness of the universe and the smallness of the human being." -Oscar Arias



অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার , অর্থহীন লােকাচার মানবীয় জীবনধারাকে অচল , অসার, পঙ্কিল করে তােলে , সে কথা অনস্বীকার্য। সেজন্য বিজ্ঞান যুক্তিবাদের জয়গানে মুখর, বিশ্বাসের নয়। বিশ্বাস বা আনুমানিক মতবাদ বিজ্ঞান নয় , বিশ্বাসই। 


বিজ্ঞান সত্যাশ্রয়ী, সত্যকেন্দ্রিক

– অনুমানাশ্রয়ী নয় , কল্পনাকেন্দ্রিক নয়। বিজ্ঞানীর বিচরণ সত্যের জগতে, বাস্তবতার জগতে —আজগুবি ধারণা আর বিশ্বাসের কল্পলােকেনয়। সেজন্য কোনাে সত্যে উপনীত হবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Scientific methodology) হচ্ছে ::-

প্রকল্প গ্রহণ (Hypothesis)


পরীক্ষা (Experimentation)


পর্যবেক্ষণ (Observation)


সিদ্ধান্ত (Conclusion)


এইভাবে প্রত্যেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে উপনীত হবার জন্য আমরা আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলিকে ব্যবহার করি। 



আমাদের চক্ষু – কর্ণ -নাসিকা - জিহ্বা - ত্বকের সাহায্যে বাস্তবতা সম্বন্ধে তথ্য - উপাদান সংগ্রহ করি , মস্তিষ্কে তার প্রক্রিয়াকরণ (Processing) করি , তারপর অনুসিদ্ধান্ত গ্রহণ → পরীক্ষা > পর্যবেক্ষণ -এর মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হই। 


এইভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত গুলি বিশ্বাস , কল্পনা, মতবাদ নয় , সর্বজনমান্য বৈজ্ঞানিক সত্য।। কিন্তু এই পদ্ধতি কতখানি ত্রুটিহীন, ফুল-প্রুফ ? 


মানুষের ইন্দ্রিয় , মন ও মস্তিষ্কের সামর্থ্যের তাে সীমাবদ্ধতা রয়েছে , তাহলে কিভাবে বলা যাবে যে মানুষের গৃহীত সিদ্ধান্ত সব সময় নির্ভুল , ত্রুটিহীন হবে , ‘সত্য’ হবে? 


বিশ্বজগৎ , জীবন ও পরম নিয়ন্তা সম্বন্ধে জানার জন্য আমাদের সীমিত ইন্দ্রিয়গুলি ও মন কতখানি পর্যাপ্ত? ম্যাকমিলিয়ান জিমি যথার্থই মন্তব্য করেছেন : “The human mind has great possibilities to dig deeper" and deeper into scientific and technological discoveries. On the other hand one must admit that the mind is very limited. The human mind, science and technology can never fully understand the immensity of God ".


সেইজন্য আমরা দেখি যে বৈজ্ঞানিক মতবাদগুলিরও ক্রমাগত পরিবর্তন ঘটছে। কয়েকটি দৃষ্টান্ত : 



১. লুই পাস্তুরের সময় ভাইরাস বা জীবাণুর কথা জানা ছিল না মানুষের। অনুবীক্ষণ

আবিষ্কারের পর ক্ষুদ্র জীবাণুদের জগৎ দৃশ্যমান হয়। 


২. ‘একশ’ বছর আগেও বিজ্ঞানীরা মনে করতেন গাছের প্রাণ নেই। জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমাণ করে দেখানাের পর তাদের ধারণার পরিবর্তন হয়। 


৩. নিউটনের সূত্রগুলি একসময় বিজ্ঞানের বেদবাক্য বলে ছাত্রদের শেখানাে হত। এখন সেগুলির মধ্যে নানা গলদ খুঁজে পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কোয়ান্টাম গ্রাভিটি-তত্ত্ব সনাতন গ্রাভিটি-তত্ত্বের ধারণায় অনেক পরিবর্তন এনেছে। 


৪. আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। এরপর কোয়ান্টাম ফিজিক্স , হাইজেনবার্গের আনসার্টেনটি প্রিন্সিপল্  পদার্থ ও শক্তি সম্বন্ধে নূতন নতুন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করছে। স্থির সত্য বলে কিছু জানা যায়নি আজও। 


৫. প্রথিতযশা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ৩০ বছর আগে ব্ল্যাক হােল থিওরী ব্যাখ্যা করেন। তিনি আশা করেছিলেন যে ২০০৩-৫ সালের মধ্যে আবিষ্কার করা সম্ভব হবে মহাজগতের রহস্য-সূত্র। 



২০০৫-এ তিনি ঘােষণা করেছেন , তাঁর কথিত ব্ল্যাক হােল থিওরী ত্রুটিপূর্ণ। আর মহাজগতের রহস্য আবিষ্কার সম্বন্ধে তাঁরা যে তিমিরে ছিলেন , এখনাে সেই তিমিরেই। 


তবুও অনেকেই এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী যে কোন ধর্মশাস্ত্রের অতিপ্রাকৃত পরিধিতে প্রবেশ না করেই বস্তুবাদী পরিপ্রেক্ষিত থেকেই সবকিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব। একে বলা হয় ‘সায়েন্টিফিক ম্যাটেরিয়ালিজম বা বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ। সায়েন্টিফিক ম্যাটেরিয়ালিজমের দুটি প্রধান ভিত্তিগত ধারণা হচ্ছেঃ

১. বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পস্থাপদ্ধতিই জ্ঞান অর্জনের একমাত্র নির্ভরযােগ্য পথ। 

২. জড় পদার্থ (বা শক্তি) বিশ্বব্রহ্মান্ডের এক মৌল বাস্তবতা। 


একজন জড়বাদী বিশ্বাস করেন যে দৃশ্যমান জগতের সবকিছুকেই ভৌতিক নিয়মে পদার্থ বিদ্যা-রসায়ন প্রভৃতির নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায়, কেননা সবই সংঘটিত হচ্ছে অন্ধ

ভৌত শক্তির নিয়মে ( By the blind forces of Nature'). 


বিগত শতাব্দীতে এই সূত্র ধরে বিজ্ঞান এগিয়েছে, ব্যাখ্যা করেছে দৃশ্যমান জগতের, প্রজাতির, প্রাণের। সেই ব্যাখ্যা পড়ানাে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের, প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেগুলি পড়েই জগৎ জীবন সম্বন্ধে নিজেদের ধারণা তৈরী করছে। 


এখন অবস্থা এমন যে যথার্থ যুক্তিবাদী মানুষ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর, যাঁরা বিজ্ঞানীদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিতে পারেন, “আপনাদের এই ব্যাখ্যাগুলি কি যথার্থই বিজ্ঞান, যথার্থভাবে গৃহীত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত, না কল্পিত মতবাদ?


” যে তিনটি অত্যন্ত মৌলিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নের সম্মুখীন, সেগুলি হচ্ছে ।


১. মহাদুর্ঘটনায় মহাবিশ্বের উদ্ভব ও এক মহাবিস্ফোরণ থেকে, কোনরকম নিয়ন্তার তত্ত্বাবধান ছাড়াই, আপনা থেকে, পদার্থ ও শক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় উদ্ভব হয়েছে মহাবিশ্বের, সৌরজগতের, পৃথিবীর।।


২. জড় থেকে জীবনের উদ্ভবঃ প্রাণের উদ্ভব হয়েছে ঘটনাক্রমে, অ্যাকসিডেন্টালি অথবা বাইচান্স’, কিছু জড়ীয় রাসায়নিক পদার্থের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলে।





৩. বানর থেকে মানুষের উদ্ভব ও মানুষ সহ সমস্ত প্রজাতিগুলির উদ্ভব হয়েছে এক কোষী জীবের ক্রমবিবর্তনের ধারায়।


 এক একটি প্রজাতি থেকে সৃষ্টি হয়েছে অন্য আরেকটি প্রজাতির – অভিব্যক্তির ধারায়। 


এই তিনটি ধারণা বিশ্বসভ্যতাকে জড়বাদের পক্ষে নিমজ্জিত করেছে।। এই মতবাদগুলি সঠিক হলে অবশ্যই শাস্ত্র ভুল। শাস্ত্রকে ভুল বলার আগে ভেবে দেখা দরকার ঃ


 এই মতবাদগুলি কি পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত? তাই যদি হতাে, তাহলে বিজ্ঞানীরা সকলেই একমত হতেন, মতদ্বৈধ থাকত না কারাে। 


যেমন আলােকের গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলােমিটার (2.99792458 X 10 m/s ); এবিষয়ে দ্বিমত নেই কারাে। 


এই তিনটি মৌলিক সিদ্ধান্ত যদি বিজ্ঞানসম্মত হতাে, তাহলে সেখানে অবশ্যই বিজ্ঞানীদের মধ্যে কনসেনশাস বা ঐক্যমত্য হতাে। কেন তা নয় ? কেন নানা বিজ্ঞানীর নানা মত, অনেক ক্ষেত্রেই যা পরস্পর বিরােধী ?



পরবর্তী তিনটি অধ্যায়ে আমরা দেখব এইগুলি নির্ভেজাল মানসিক জল্পনা (mental speculations), সত্য নয় —বলবেন বিজ্ঞানীরাই, প্রতিভাধর নােবেল লরিয়েটরা। সবসময় যে বুদ্ধির কসরৎ বা Intellectual Wranging -এর মাধ্যমে সত্যের সমীপবর্তী হওয়া যায় না ,মিথ্যা পর্যবসিত হয় মিথ্যাতে ,এই সহস্রাব্দে এই সত্যটি বিশ্ববাসীর কাছে উন্মােচিত হবে অবশ্যই।।


জিওদার্নো ব্রুনাে, গ্যালিলিও গ্যালিলি, সক্রেটিস যেমন প্রচলিত বিশ্বাসে আঘাত করে অপদস্থ হয়েছিলেন, বিজ্ঞানের মােড়কে চলতে থাকা কল্পিত মতবাদ, বিশ্বাস বা অন্ধবিশ্বাসে আঘাত করলেও সেইদশা না হলেও উপহসিত হবার ভয়ে এই চেষ্টা থেকে অনেকে সংকুচিত রাখেন নিজেদের। 


তবে বিজ্ঞানীরা সরব হচ্ছেন। বিজ্ঞানের নামে চলা এইসব অপসিদ্ধান্ত বা কুসংস্কার ক্ষতিগ্রস্ত করছে মানব সভ্যতার ভিত্তি। 


এই জীবনই শেষ জীবন’মনে করে চার্বাকীয় স্বার্থপরতায় পৃথিবীকে নির্লজ্জভাবে শােষণ করছে ‘সভ্য’মানুষ; নিজেকে ‘দি থার্ড শিম্পাঞ্জী বা বানরের বংশধর গণ্য করে সারভাইভ্যাল অব দি ফিটেস্ট’ নীতি গ্রহণ করে পারস্পরিক প্রতিহিংসায় যুদ্ধের জন্য তৈরী হচ্ছে হাইড্রোজেন বােমা হাতে।


 সুপার পাওয়ার দেশগুলির মধ্যে একটিও যুদ্ধ হলে প্রকাশ পাবে, বৈজ্ঞানিক অন্ধবিশ্বাস সভ্যতাকে কোন অন্ধগলির মধ্যে নিয়ে যেতে পারে।


 সূত্র ভুল হলে যেমন মেলে না অংক, তেমনি এই জড়সভ্যতা সম্পূর্ণভাবে দিগ্ভ্রান্ত মানুষের আত্মােপলব্ধিতে উন্নত হবার পরিবর্তে হাজার হাজার জড়বাদী বাসনার নেটওয়ার্কের গােলকধাঁধায় হারাচ্ছে পথ।


আমরা ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমী অব আর্টস্ অ্যান্ড সায়েন্সেস-এর সদস্য এবং ওয়ার্ল্ড কনস্টিটিউশন অ্যান্ড পার্লামেন্ট অ্যাসােসিয়েশান এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট রেইনহার্ট রিউজের মন্তব্য দিয়ে উপসংহার করব এই অধ্যায়ের আত্মঘাতী প্রজাতিতে পরিণত হতে না চাইলে দৃষ্টিভঙ্গী সংশােধন করতেই হবে আমাদের, যদি এতটুকু দায়িত্বজ্ঞান আমাদের থাকে 


 "Star rocketing scientific research, discoveries and realizations have ied us to a situation, where even if we put the last nuclear bomb in a pocket and shot it by rocket into the Sun (it would dissolve there), we would still not be free of it. We know about it and it is on our minds.

At this critical state of world peace, human survival and ecological imbalance, will the religions of the world help to balance out the situation for continuation of the human species on earth? This has to be done if we do not want to be a suicidial species.”



[ কৃষ্ণভাবনামৃত বিজ্ঞান এবং পাশ্চাত্যের জড়
বিজ্ঞানের সমন্বয়ে প্রকৃত উন্নত সভ্যতা। ]


এমন নয় যে সবকিছু বর্জন করে পুরানাে যুগে ফিরতে হবে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেন, রান্না করতে হলেও বিজ্ঞানের প্রয়ােজন। 


সমাধান-সূত্র হচ্ছে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানা এবং এই উচ্চতর জ্ঞানের ভিত্তিতে কেবল প্রয়ােজন অনুসারে জড়বস্তু ও শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করা। 


প্রাচ্য দর্শনের নির্যাস ভগবদ্গীতায় প্রদত্ত হয়েছে। ভগবদ্গীতার সূত্র অনুসারে আমরা পাশ্চাত্যের জড় জ্ঞানকে আত্মােপলব্ধি ও শ্রীকৃষ্ণকে উপলব্ধি করার পথ সুগম করতে ব্যবহার করতে পারি—আরাে স্পষ্টভাবে বললে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় ব্যবহার করতে পারি। 


জড় ও চিন্ময় সমস্ত শক্তির পরম উৎস পরম শক্তিমান পরমেশ্বর ভগবান, ঠিক যেমন তাপ ও আলােকের উৎস মহাদ্যুতিশালী সূর্য। সেজন্য কৃষ্ণভাবনামৃত বিজ্ঞানের শিক্ষা হচ্ছে সবকিছুকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতির জন্য ঝবহার করা। 


এভাবেই জড় বিজ্ঞান ও অধ্যাত্মবিদ্যার সিন্থেসিস্ ঘটানাে যায়, একে শ্রীল রূপ গােস্বামী যুক্তবৈরাগ্য বলে অভিহিত করেছেন। এভাবে সমস্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সদুপযােগ করা যায়:,   শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু  শ্মশান বৈরাগ্য শিক্ষা দেননি। 



এইভাবে সমস্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার হলে মানুষ সংযত করতে সক্ষম হবে আগ্রাসী লােভ, পৃথিবী হয়ে উঠবে নিরাপদ।


 কৃষ্ণভাবনামৃত বিজ্ঞান ও জড়বিজ্ঞানের সমন্বয়ে এক সুন্দর সভ্যতার অভ্যুদয় ঘটতে পারে। শুধু জড়বিজ্ঞান আমাদের সমস্যামুক্ত করতে পারে না কখনই। জীবনে মৌল সমস্যাগুলি সমাধানে বিজ্ঞান কতখানি সফল ?






Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline