Adsterra 7

 

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা ,কেবল জড়বস্তুর বাহ্যিক রূপায়ণ। সভ্যতা নয়, অমৃতত্ব লাভই লক্ষ্য, PAGE-24


কেবল জড়বস্তুর বাহ্যিক রূপায়ণ।
সভ্যতা নয়, অমৃতত্ব লাভই লক্ষ্য

PAGE-24

 শ্রীল প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেন, "They have created modern civilization by utilising dull inert matter"। জড়বস্তুর সমন্বয়ে নানা রূপদান করে আকাশচুম্বী বাড়ী, ঝকঝকে গাড়ী আর রাস্তা তৈরী করা প্রকৃত সভ্যতা নয়। কেননা এভাবে জীবনের মুল সমস্যাগুলি থেকে মুক্ত হওয়া যায় না, যেমন জরা, মৃত্যু।



 আমরা নশ্বর অচেতন জড় বস্তু নই- শাশ্বত চেতন আত্মা। আত্মা শাশ্বত, তাই অমরত্ব এর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। সেজন্য আমাদের উপলব্ধি করতে হবে কেন আমরা শাশ্বত ব্রহ্মবস্তু, আত্মা, তবুও আমাকে মৃত্যুর মতাে প্রকৃতিদত্ত চূড়ান্ত অপমান ও নির্যাতন ভােগ করতে হচ্ছে কেন। 


অমৃতত্ব লাভ অবাস্তব নয়; প্রত্যেকেই স্বরূপত অমর। নিজের চেতনাকে প্রকৃতির গুণগুলি থেকে মুক্ত করে এই নির্যাতনকারী স্ফিয়ার, কালের পরিধির বাইরে যাওয়ার সূত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবদগীতার মাধ্যমে মানবজাতিকে জানিয়েছেন।


 পশুপ্রবৃত্তির তাড়নায় আজীবন অধীর শশব্যস্ত থেকে জীবনীশক্তির অপচয় এক চরম মূর্খতার নামান্তর। শ্রীল প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেছেন যে আধুনিক সভ্যতা রজোগুণের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নত মনে হয়--কেবল ইন্দ্রিয়তৃপ্তির আকাঙ্খ ও লােভগুলিকে প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্যে বিপুল পরিমাণে চরিতার্থ করার চেষ্টা।


 পক্ষান্তরে বৈদিক সভ্যতার লক্ষ্য ছিল সত্ত্বগুণের বিকাশ। যেজন্য বর্তমানে প্রায় প্রতিটি মানুষ তার জড়বাসনাগুলি পূরণের জন্য উন্মাদের মত ছুটছে।


দেহ জড় উপাদানে তৈরী, আর ধ্বংসশীল, সেজন্য দেহের সুখতৃপ্তিভিত্তিক সভ্যতা, দেহকেন্দ্রিক সভ্যতা যত বাহ্য-চাকচিক্যময়, জৌলুসপূর্ণ ও উন্নত মনে হােক না কেন, তা নিয়ে আসে পারমার্থিক অন্ধত্ব এবং বিপর্যয়।

যথার্থ জ্ঞান ব্যতীত সভ্যতার বিপর্যয়কর পরিণতি অনিবার্য। জড়বাদী বিজ্ঞানীরা জড় বস্তুর বাইরে আর কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না; সেজন্য তাঁদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর—বিশ্বের উদ্ভব হয়েছে কেবল জড়ীয় দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণের ফলে, প্রাণের উদ্ভব হয়েছে আকস্মিকভাবে হঠাৎ ঘটে যাওয়া রাসায়নিক বিক্রিয়ায়, আর মানুষের উদ্ভব হয়েছে অ্যামিবা থেকে বিবর্তনের ধারায়।


 অথচ, এই সৃষ্টির সবচেয়ে যে মহার্ঘ বস্তু জীবন বা প্রাণ কি পদার্থ সে বিষয়ে আজও তথাকথিত বিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে। তবুও এই বৈজ্ঞানিক কুসংস্কার’ তাঁরা প্রচার করছেন। তাঁদের এই পারমার্থিক অন্ধত্বের পরিণাম কত ভয়াবহ হতে পারে, বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করবে তা একদিন। 


বর্তমানে শিক্ষায়তন গুলিতে কেবল জড়শিক্ষার প্রভাবে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে এই অন্ধত্ব সঞ্চারিত হচ্ছে। অন্ধং তমঃ প্রবিশন্তি যে অবিদ্যাং উপিসতে’ –অবিদ্যা বা জড়বিদ্যার উপাসনা করলে অন্ধকার তমােময় জগতে প্রবেশ করতে হয়, বলা হয়েছে ঈশােপনিষদে।


 ভগবদ্বিমুখ জড়বাদী শিক্ষা মানুষকে সেই তম অন্ধকারময় অজ্ঞানতার গভীর প্রদেশে নিয়ে যাচ্ছে। বড় বড় চিন্তাবিদ , নােবেল লরিয়েটরাও জীবন, বিশ্ব, প্রজাতির উদ্ভব সম্বন্ধে প্রকৃত সত্য অবগত নন, কিন্তু তাঁরাই এখন সমাজের দিক প্রদর্শক।


এইভাবে ভগবদ্বিমুখ, নাস্তিক, দিগ্ভ্রান্ত এই সভ্যতা বাহ্য জৌলুসের অন্তরালে চলেছে গহন-গভীর অন্ধকারের দিকে, বিপর্যয় আর ধ্বংসের দিকে। গরু প্রভৃতি পশুর দেহ ভক্ষণ করে মদ্যপান আর উচ্ছ্রিঙ্খল জীবন যাপন করে মানুষ ক্রমশই তমােভাবাপন্ন হয়ে উঠছে; 


আর ভগবদগীতার বিজ্ঞান অনুসারে চেতনা তমােগুণে আচ্ছাদিত হলে পরবর্তী জন্মে নিম্নতর চেতনার উপযােগী মনুষ্যেতর প্রজাতির দেহ লাভ করতে হয় প্রকৃতির অমােঘ নিয়মে। 


এইভাবে, সমগ্র সভ্যতা যেমন বিপদাপন্ন তেমনি জ্ঞানের অভাবের জন্য পরিশীলিত, সুস্থসুন্দর, উন্নতি সংস্কৃতি ও যথার্থ পারমার্থিক জ্ঞানের অভাবে ব্যক্তি মানুষের জীবনের ভবিতব্যও বিপদাপন্ন। 


অথচ, যান্ত্রিকতা ও উচ্চ প্রযুক্তির স্ফীত গর্বের আবরণে আমরা সুচতুর কৌশলে আবৃত করে রেখেছি নিজেদের জ্ঞানের দৈন্য, সব্যতার অন্তঃসারশূন্যতা, সংস্কৃতির ক্লেদকলুষতা। পরিণতির জন্য আমাদের প্রত্যেকের তৈরী থাকতে হবে। প্রকৃতির নিয়ম ইনভিন্সিবল —অনতিক্রম্য অমােঘ।

''Science without spirituality will be destructive .We need to bring the elements of spirituality in science in order to combat the destructive as pacts of  sciences .

Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION