Adsterra 7

 

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা ,জটিল অর্থনীতি ও সংস্কৃতি PAGE-21

 

জটিল অর্থনীতি ও  সংস্কৃতি

PAGE-21


 পৃথিবীর মােট দূষণের ৬ ভাগের ১ ভাগের জন্য দায়ী আমেরিকা, অথচ ২০০৫-এ অনুষ্ঠিত বিশ্বরাষ্ট্রসমূহের সন্মেলনে গৃহীত কিয়েটো প্রােটোকলে আমেরিকা এই যুক্তি দেখিয়ে স্বাক্ষর করেনি যে এর ফলে তার অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। 


এইভাবে তথাকথিত ‘উন্নত দেশগুলির অর্থনীতি এত জটিল আকার ধারণ করছে যে তা সংরক্ষণ করতে বিপুল মেধার প্রয়ােজন। কেবল তেল ফুরালে পৃথিবীর অর্থনীতির কি মারাত্মক অবস্থা হবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।


 কৃষিক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ব্যবস্থা বর্জন করে উচ্চ প্রযুক্তির প্রয়ােগের ফলে প্রচুর ব্যয়বৃদ্ধি কৃষকদের কঠোর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পৃথিবীতে চাষীদের আত্মহত্যার হার ঊর্ধ্বগামী। 


এছাড়া যন্ত্রের প্রয়ােগের ফলে মানুষের প্রয়ােজন ক্রমেই কমে আসছে, বেকারত্ব বাড়ছে।


 সংস্কৃতি : বিশুদ্ধ জড়বাদ বা নাস্তিকতা অনুসারে ,জীবন প্রাপ্তি একটি দুর্ঘটনা – ঘটনাচক্রে জীবনের সৃষ্টি। মৃত্যুর পর কিছু নেই। 

তাই দেহ-সুখই চূড়ান্ত সুখ। এইভাবে দেহকেন্দ্রিক ও ভােগবাদ-সর্বস্ব জীবন ধারায় সংস্কৃতির যা চেহারা হবার কথা , সেটাই হচ্ছে।


 বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরীতে, মানুষ মানুষকে হত্যা করার কাজে প্রতিদেশে বাজেটের অর্ধেক ব্যয় হওয়াই প্রমাণ করে যে সভ্যতার ছদ্ম মুখােশের আড়ালে আমাদের সংস্কৃতি কত উন্নত। 


বিজ্ঞান মানুষের হাতে টেকনােলজি দিয়েছে, ‘পাওয়ার দিয়েছে , কিন্তু কোন উচ্চতর উদ্দেশ্যবােধ, উন্নত জীবনধারা বা বিকল্প সংস্কৃতির সন্ধান দিতে পারেনি। সারভাইভাল অব দি ফিটেস্ট’– কঠোর প্রতিযােগিতা—এই ডারউইনীয় মন্ত্রই সভ্যতার চালিকা শক্তি। 


তাই সর্বত্রই কঠোর প্রতিযােগিতা— স্ট্রাগল ফর এক্সিসটেন্স। অসম্ভব দ্রুতগতি ও প্রতিযােগিতার জীবনে বিধ্বস্ত বিপর্যস্ত হয়ে হতাশা-অবসাদ-ডিপ্রেসান প্রভৃতি মানসিক রােগের শিকার হয়েছেন পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। 


যত উন্নত দেশ, মনােবিকার তত বেশি। আমেরিকায় শতকরা ২০ জন কখনাে না কখনাে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বহু বাড়ীতেই এজন্য আগে থেকে হােমঅ্যাসাইলাম করা থাকে।


 ১৯৬০ সালের পর আমেরিকায় কিশােরদের মধ্যে অপরাধের হার। বেড়েছে ৬০০ শতাংশ। ঐ দেশে প্রতি পাঁচ জন মহিলার একজন প্রায় কখনাে না কখনাে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হন।


 প্রতিদিন নানা হিংসাত্মক ঘটনায় নিহত হয় গড়ে ৬০ জন মানুষ। বিবাহ বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি এদেশে। আধুনিক স্বাচ্ছন্দ্যগুলি চড়া দামে কিনতে গিয়ে অবিশ্রান্ত কাজের যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে মানুষ।


 মিলছে সুখের উপকরণ, হারিয়ে যাচ্ছে স্বস্তি। মানুষ উদ্বেগ-টেনশনে নানা রােগের শিকার হচ্ছে, বেছে নিচ্ছে আত্মহননের পথ। উন্নত দেশ জাপানে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী। 


জীবনের শুরুতেই প্রতিযােগিতার দুর্ভর পেষণ সহ্য করতে না পেরে নিভিয়ে দেয় জীবনদীপ। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয় যে দেশের মানুষের, সেই সুইডেনে নব্য প্রজন্মের ২০ শতাংশ সন্তান কখনাে না কখনাে তাদের পিতামাতাকে প্রহার করে। 


 পৃথিবীজুড়ে কসাইখানা , মদিরালয় ,জুয়াের ক্যাসিনাে আর বেশ্যালয়ের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এটি স্পেস এজ, তাই সবকিছুই বাড়ছে রকেট গতিতে। ক্রিকেট ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়ার রমরমা বাজার তৈরী হয়েছে ,হাজার হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয় সেখানে।



 বিশ্বায়নের স্রোতে অপসংস্কৃতিরও বিশ্বায়ন হচ্ছে। ভারত সহ বিশ্বে গড়ে তােলা হচ্ছে হাইটেক’কসাইখানা। সভ্য মানুষ গােগ্রাসে গরু শূয়াের খাচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নতদেশ  আমেরিকার শিকাগাে কসাইখানায় ঘন্টায় হাজার হাজার গরুকে স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক মেশিনে জবাই করে প্যাকে ভরে পাঠানাে হয়। 



যদি তােমরা যুদ্ধ বন্ধ করতে চাও, তাহলে আগে কসাইখানাগুলি বন্ধ করাে,বলেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক লিও টলস্টয়। রাষ্ট্রনেতৃবর্গ তাতে কর্ণপাত না করে গ্রামে গ্রামে কসাইখানার বন্দোবস্ত করছেন।


 শূকর পালন’, ‘মুরগী পালনের’দুর্গন্ধময় নরক এখন এই ভারতেও যত্রতত্র চোখে পড়বে।নানা বৈজ্ঞানিক’যুক্তি দেখিয়ে এই নারকীয় নিষ্ঠুরতাকে সহনীয় করে দেখানাের চেষ্টা হলেও, একদিন এই নিষ্ঠুরতার বীজ ভয়ংকররূপে আত্মপ্রকাশ করবে, সমগ্র পৃথিবীটাই হয়ে দাঁড়াবে মানুষের কসাইখানা, এটিই প্রকৃতির অমােঘ নিয়ম, সতর্ক করেছেন বিশ্বের মনীষীরা। 


আমাদের সংস্কৃতি এতই উন্নত, সারা বিশ্বে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শিশু তাদের মায়েদের গর্ভে নিহত হচ্ছে তাদের মায়েদেরই দ্বারা। যে ভ্রূণকোষ  পরিণত হওয়ার কথা একটি শিশুতে, বিজ্ঞানীরা সেই ভ্রূণকোষের বিকৃত রূপান্তর ঘটিয়ে নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরী করার চেষ্টা করছেন— বহুজাতিক কোম্পানীগুলির টাকায় এজন্য গবেষণা চলছে গালভরা নামে-স্টেম সেল রিসার্চ। 



মিলিয়ন বিলিয়ন টন পশু রক্তপান, গােমাংসে নিজের অস্তিত্ব পুষ্ট করার ফলে চেতনার যে অনিবার্য অবনতি দেখা দিচ্ছে, এইচ-বােমা বা অ্যান্টি-ম্যাটার বােমা তৈরীর প্রবণতা সেখান থেকেই উৎসৃজিত ,এবং মানুষের উপর একদিন তা প্রয়ােগের নিষ্ঠুর প্রণােদনাও সেখান থেকেই আসবে।।



যদি আপনি এমন ভাবেন যে আমাদের সংস্কৃতি ক্রমেই উন্নত হচ্ছে, সারা বিশ্বের প্রত্যেক দেশে হত্যা, ধর্ষণ, প্রভৃতি জঘন্য অপরাধগুলির বাৎসরিক সংখ্যার দিকে চোখ রাখুন। ক্রমবর্ধমান। 


 কেউ মিথ্যা কথা বলে কিনা শােনা যায় না, কোনাে নারী অসতী এমন দেখা যায় না। লিখেছিলেন গ্রীক পর্যটক মেগাস্থিনিস, তাঁর ইন্ডিকা গ্রন্থে। সেখান থেকে আমরা কতটা উন্নত হয়েছি তা জানতে মিডিয়াতে কিছুক্ষণ চোখ রাখাই যথেষ্ট।


Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION