Adsterra 7

         

         

Follow

‘সায়েন্টিফিক ম্যাটেরিয়ালিজম’ঃ কতখানি সায়েন্টিফিক? PAGE-208

  




‘সায়েন্টিফিক ম্যাটেরিয়ালিজম’ঃ কতখানি সায়েন্টিফিক?

 


একবিংশ শতাব্দীতেও, আমরা যতই ‘বিজ্ঞানের যুগে’ রয়েছি বলে গর্ব করি না কেন, প্রকৃত সমস্যা ও সমস্যার মূল কারণ সম্বন্ধে মানুষ এখনাে সচেতন নয় ;কিছু জড় আবিষ্কার করে মানুষ তাদের ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য, ‘Comforts' পাবার চেষ্টা করছে, কিন্তু এইসব কমফোর্ট’সত্ত্বেও মৃত্যুর মতাে ভয়ংকর আঘাত, "Kick of Nature'  প্রকৃতির লাথি (শ্রীল প্রভুপাদ) ভােগ করাই আমাদের অনিবার্য ভবিতব্য। এইভাবে, মানুষের বৈজ্ঞানিক প্রতিভা ও নির্বুদ্ধিতা সমান্তরালভাবে চলছে —আইনস্টাইন সেটি লক্ষ্য করেছিলেন; তাঁর হাস্যরসাত্মক মন্তবঃ : "Two things are infinite: the universe and human stupidity ; and I'm not sure about the universe*” ‘অর্থাৎ দুটি বস্তু অসীম, অনন্ত । বিশ্বব্রহ্মান্ড এবং মানবীয় নির্বুদ্ধিতা, আর আমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্বন্ধে নিশ্চিত নই"(নির্গিলতার্থ  —মানুষের নির্বুদ্ধিতা সম্বন্ধে নিশ্চিত!)। আমরা নিয়ন্তা নই, নিয়ন্ত্রিত।


আপনি নিজেকে স্বাধীন ভাবতে পারেন, কিন্তু আপনি কি প্রকৃত স্বাধীন বা স্ব-অধীন? জড়বিজ্ঞান বা মেটিরিয়াল সায়েন্স আমাদের জড়বাদ শেখায়। কিন্তু জড়বাদ আমাদেরকে এই মেটেরিয়াল নেচার বা জড়াপ্রকৃতির বলয়ে বেঁধে রাখে। অথচ আমাদের চেতন সত্তা জড় নয়, পরম চেতনের, পরাশক্তির অংশ। 

দুই বিরােধী শক্তি জড় ও চেতনের সহাবস্থান অসমঞ্জস, বিসদৃশ, সেজন্য এ-জগতে কেউ সুখী নয়। 


এখানে পদে পদে মৃত্যুর অন্ধকার বিবর, পদে পদে আত্মপরিচিতি হারানাের আশংকা। সকল জড়বাদীই ঐ অন্ধকার মৃত্যুবিবরে নিপতিত হয়ে ধ্বংস হচ্ছে। অথচ সায়েন্টিফিক ম্যাটোরিয়ালিজ’নামক মােহগ্রস্ত কনসেপ্ট  বা ধারণা এই দাবী করে:::- এর চেয়ে ভিন্নতর কোন অস্তিত্বের কথা যেন আমরা না ভাবি ---আমরা যেন জড়বস্তুর জারক রসে ডুবে থাকি, মনকে সম্পৃক্ত রাখি।


 “ঈশ্বর বলে কেউ নেই, যদি কেউ থাকে তাহলে আমিই--- ঈশ্বরােহহং অহং সুখী —ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ মােহিত বুদ্ধি মানুষদের আসুরিক মত ব্যাখ্যা করেছেন পাঁচ হাজার বছর পূর্বেই। এই রকম মানুষ কখনাে পরম পবিত্র মহান পুরুষ ভগবানের প্রতি অনুরক্ত হয় না। ভগবদগীতায় এই শ্রেণীর মানুষদের চারটি ভাগে শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে (ভ.গী ):


 ১. মৃঢ় —কেবল কঠোর জড় কর্ম বা পরিশ্রম করে সুখী হওয়া যায় বলে মনে করে  

২. নরাধম-- মানুষদের মধ্যে যারা সবচেয়ে অধম (The lowest of human being);

 ৩. মায়া-অপহৃত-জ্ঞান ঃ ভগবানের বহিরঙ্গা মায়ার আবরণাত্মিকা ও বিক্ষেপাত্মিক শক্তি দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে; 


৪. আসুরিকস্বভাব বিশিষ্ট—যারা ভগবৎ-বিদ্বেষী ক্রুর  ।।

ভগবদগীতায় বিশেষতঃ শেষােক্তদের জীবনের গতিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে —যদিও তারা বিশ্বাস করতে চাইবে না কিন্তু সেটিই প্রকৃত সত্য ও চেতনার বিবর্তনের বিপরীত গতিপথে (devolution or regression) পশু যােনি বা জীবাণু প্রজাতিতে দেহ লাভ  (ভ.গী )।

কেবল জড় বস্তুর তথ্য সংগ্রহে নিমগ্ন থাকলে চেতনা জড়ভাবাপন্ন, মলিন, তমসাবৃত হয়ে উঠবে এবং প্রকৃতি সেই চেতনার উপযােগী একটি দেহ-পােশাক সরবরাহ করবে - এটিই স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম। পরমচেতন ব্যক্তিত্ব, পরমেশ্বর ভগবান সমস্ত জ্যোতির প্রকাশক উজ্জ্বল পুরুষ(জ্যোতিষামপিতজ্জ্যোতিস্তমসঃ পরমুচ্যতে ভ.গী )। পক্ষান্তরে নভেজাল জড়বাদ বা বস্তুবাদ একখন্ড তমসা —নিরেট আঁধার ছাড়া কিছুই নয়। বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে আমাদের। জীবনের সময় সীমিত, আর সেই পছন্দের স্বাধীনতার ব্যবহারের উপর নির্ভর করছে জীবনের আগামী ভবিতব্য, পরিণতি। 


মানব সমাজের মঙ্গলের জন্য বৈদিক নির্দেশ জড়ের তমিস্রা থেকে চিজ্জগতের আলােকে যাওয়া, মৃত্যুশীলতা থেকে অমৃতত্বের স্তরে যাওয়া :: তমসাে মা জ্যোতির্গময়, মৃত্যোর্মাহমৃতং গময়।।


প্রকৃতিনা প্রকৃতির নিয়ন্তা পুরুষঃ কার অধীনতা বেছে নেবেন? মূঢ় ও মহাত্মা নিরূপণের মানদন্ডঃ বদ্ধজীব প্রকৃতির অধীন হয়ে– জরা মৃত্যু দ্বারা পীড়িত হওয়া। এটি কল্পনা নয়, বাস্তবতা। তেমনি প্রকৃতির নিয়ন্তা শ্রীকৃষ্ণের প্রত্যক্ষ অধীনতা স্বীকারও অবাস্তব কিছু নয়, বাস্তব সত্য। কিন্তু, ভগবদ্গীতার তথ্যঃ মূর্খ , মূঢ়েরা জড়াপ্রকৃতির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ও মােহিত::::: সেজন্য বার বার মৃত্যুর ভয়ংকর স্বাদগ্রহণ তাদের ভবিতব্য -অপ্রাপ্য মাং নিবর্তন্তে মৃত্যুসংসার বর্ত্ননি (ভ.গী.)। পক্ষান্তরে , যাঁরা ভগবানের সনাতন শাশ্বত চিন্ময় প্রকৃতি, দৈবী প্রকৃতি আশ্রয় করে ও অনন্য চিত্তে ভগবদ্ভজনে ব্রতী হয়, তাঁরা মহাত্মা ঃ  মহাত্মানস্তু মাং পার্থ দেবীং প্রকৃতিমাশ্রিতাঃ।


“হে পার্থ, মােহমুক্ত মহাত্মাগণ আমার দেবী প্রকৃতির আশ্রয় করেন। তারা আমাকে সর্বভূতের কারণ ও অবিনাশী জেনে অনন্য চিত্তে আমার ভজনা করেন।”

মূর্খ  ও মহাত্মা নির্ধারণের একটি মাপকাঠি, ক্রাইটেরিয়া :: কে কোন প্রকৃতিকে আশ্রয় করেছে। আমরা “ভগবান নেই”বলে অনেক তর্ক করতে পারি, কিন্তু ভগবানের এই প্রকৃতির ভয়ংকর অধীনতা ও সেই অধীনতার চরম পুরস্কার জরা-ব্যাধি আর মৃত্যু থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি না। 


এই জড়া প্রকৃতিকে (material nature) ভগবদ্গীতায় নিকৃষ্টা (Inferior) বলা হয়েছে । নিকৃষ্ট বুদ্ধি মানুষেরাই ভগবানের নিকৃষ্ট শক্তি, নিকৃষ্টা জড়া প্রকৃতিতে থাকতে পছন্দ করবে। সেজন্য ভগবান বলেন (ভ.গী ), যাঁরা বুদ্ধিমান, ‘বুধাভাবসমন্বিতা’,তারা অনন্যচিত্তে তাঁর শরণাগত হন।


“আমি জড় এবং চেতন জগতের সব কিছুর উৎস। সব কিছুই আমার থেকেই প্রবর্তিত হয়। সেই তত্ত্ব অবগত হয়ে যাঁরা শুদ্ধভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন, তারাই যথার্থ তত্ত্বজ্ঞানী।”


ননাবেলজয়ী জড়বিজ্ঞানী পূর্ণজ্ঞানী ও মহাত্মা নন। যিনি ভগবান বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণকে সর্বকারণের কারণ বলে জানতে পেরেছেন তিনিই প্রকৃত জ্ঞানী– সুদুর্লভ মহাত্মা ‘বাসুদেব সর্বম -ইতি স মহাত্মা সুদুর্লভ', এটিই ভগবদগীতার সিদ্ধান্ত।


শ্রীল প্রভুপাদ : “By devotional service or by the most confidential knowledge, one can understand very easily how the different energies of the Lord are working. One part of energy is manifesting the material world; the other (superior) part of His energy is manifesting the Spiritual world. And the via-medium energy is manifesting the living entities who are serving either of these above mentioned energies. The living entities serving material energy are struggling hard for existence and happiness, which is presented to them as illusion. But those in the spiritual energy are placed under the direct service of the Lord in eternal life, complete knowledge and perpetual bliss."




Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Ads Tera-5

         

         

         

Adsterra Social Bar

Popular Posts

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION

Adstera 1