Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা , শিক্ষা।PAGE-20

 

 বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা , শিক্ষা।

PAGE-20




দেহের অস্তিত্বের বাইরে নিজের আর কোনাে অস্তিত্ব নেই, এ-বিষয়ে চিন্তা-ভাবনার কোনাে প্রয়ােজন নেই—কেবল ভােগই জীবনের সারাৎসার, জড়বাদী মতবাদে মগজধােলাই হওয়ায় এটাই শেষ পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীরা শেখে। 


জীবন কি, সে সম্বন্ধে জড়বিজ্ঞানের কোনাে তথ্য না থাকায় জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কোন প্রকৃত জ্ঞান বর্তমানের শিক্ষাকেন্দ্রগুলি দিতে পারছে না নব্য প্রজন্মকে।


ফলে কেমন হয়ে উঠছেনব প্রজন্মের বিদ্যার্থী ? ২১ বছরের তরুণ ইঞ্জিনীয়ার নাইটক্লাব থেকে বেসামাল হয়ে নিজের গাড়ীতে ফেরার সময় ৬ জন ফুটপাথবাসীকে চাপা দেয়, সরি’ বলে দুঃখপ্রকাশ করে।

আফশােষ করে তার সুদৃশ্য গাড়ীটির বাম্পার ভেঙে যাওয়ায়।

বর্তমান কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের ট্রেন্ড :

“শহরের বিখ্যাত কলেজে হর্ষকামী, ধ্বংসের গানের সঙ্গে উন্মত্তের মতাে নাচছিল হাজার হাজার ছেলেমেয়ে। যৌবনের মজা। 


কোন দিকে চলেছে একুশ শতকী যৌবন ? সেখানে ছ'জনকে পিষে ফেলেও শুধু গাড়ির দুরবস্থা নিয়েই চিন্তিত থাকে যুবক ? 


...যে জগৎ তৈরি হল, তাতে যে কোনও জাগতিক বিষয়ে ফিল্ম তারকা বা তথাকথিত সেলিব্রিটিদের মতামত দার্শনিক, প্রবীণ অধ্যাপক বা ভাল গবেষকদের চেয়ে বেশি মূল্য পায়। 

এখন এক অদ্ভুত চাকচিক্যের দিন। তার জোরালাে আলাে পড়েছে আধুনিক যৌবনের উপর। নিজের জুতােজোড়ার ছাপ যতটুকু,ততটুকুই তার দুনিয়া, যে দুনিয়া.অবলীলায় আমাদের ভয়ঙ্কর অনুভূতিশূন্য হতে শেখায়।”


সূর্য কিরণের স্পর্শ ছাড়া পদ্মকুঁড়ি প্রস্ফুটিত হয়ে পরিণত হয় না সুন্দর সুরভিত কমলে। পরমচেতন ভগবানের সঙ্গে সংযােগ না হলে'ছাত্র-ছাত্রীদের চেতনাকুড়িও মেলেনা পাপড়ি।। 


কেবলই জড়দেহের প্রয়ােজনভিত্তিক, আহার-নিদ্রা-আত্মরক্ষা-বংশবৃদ্ধি-কেন্দ্রিক শিক্ষা কেবল দেহভােগ চেতনায় , আত্মকেন্দ্রিকতায় আবদ্ধ রাখে, চেন্নাদীপ্তি ম্লান হতে থাকেজড় বস্তুসংক্রান্ত নানা তথ্যের জড়ীয় তমিস্রার আঁধারে। 


অন্ধ তমং প্রবিশন্তি যেইবিদ্যা উপিসতে – ঈশােপনিষদে বলা হয়েছে, কেবল অবিদ্যার, জড় বিদ্যার আরাধনা মানুষকে অন্ধকার তমােময় অবস্থায় নিয়ে যায়।


আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে জড়বস্তু ভােগের উপযােগী বুদ্ধিমত্তা বেড়েছে মানুষের, সন্দেহ নেই। আমরা এখন রকেটে মহাকাশে পদচারণা করতে পারি পৃথিবী পৃষ্ঠের চারশাে  কি.মি. উপরে। 

কিন্তু আত্মােপলব্ধি রহিত কেবল ধ্বংসশীল হাড়-মাংস-জল রক্ত সর্বস্ব জড়দেহের সম্ভোগের জন্য এই জড়শিক্ষা কি মানুষকে আবেগ অনুভূতি-বর্জিত নিষ্ঠুর ভােগী শােষকে পরিণত করছে?


বিশ্বজুড়ে ভাঙ্গছে মূল্যবােধ,হার বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ, দুর্নীতি আর অপরাধের, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ।নয়ডায় যে ব্যক্তিটি ৪০টি শিশুকে নির্যাতন ও হত্যা করে, সে আই.এ.এস পাশ করেছে, উচ্চশিক্ষিত। 


বিদ্যামন্দিরে কেবলই ভগবৎ-প্রসঙ্গ-রহিত অবিদ্যার আরাধনা চলতে থাকায় ক্রমশই হারাচ্ছে পবিত্রতা।


 বিদ্যা অধীত করে বিদ্যার্থী কত সুন্দর হল, কত জ্ঞানী হল সেটার জন্য যখন পরীক্ষা নেন আধুনিক স্কুল-কলেজের শিক্ষাদাতাগণ, তখন পুলিশের সাহায্য ছাড়া তারা ওই কাজটি করার কথা কল্পনাও করতে পারেন না।


 মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ডিগ্রীর পরীক্ষা গুলিতে টোকাটুকি সামলাতে জেরবার হন;পুলিশ ছাড়া পরীক্ষা গ্রহণ দুঃস্বপ্ন। 


এইভাবে সবচেয়ে মেধাবীদের নির্বাচন করে ইঞ্জিনীয়ারিং আর মেডিক্যাল কলেজে যখন ‘উচ্চশিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠানাে হয়, তখন তারা সহপাঠীদের সঙ্গে যে ধরনের নির্মম আচরন - করে থাকে, রেগিং  যার পােশাকি নাম, তা ভাষায় প্রকাশ করা দুরূহ। 


এমন একদল ছাত্রের হিংস্র আচরণে সম্প্রতি উজ্জয়িনীতে নিহত হলেন একজন অধ্যাপকও। প্রতি বছরই রেগিং -এর শিকার হয়ে মৃত্যু হয় বা আত্মহত্যা করে বেশ কিছু ছাত্র।

গুরুকুল বা তপােবনের ঋষিমুনিদের আশ্ৰমিক শিক্ষাধারার আদলে রবীন্দ্রনাথ তৈরী করেছিলেন শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রম, কিন্তু নিজেদের ভাবাদর্শে লজ্জিত ভারত এই মডেল অনুসরণ  করেনি; বরং পাশ্চাত্য মডেলই চলছে স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটিতে। 


ফলে যুবসমাজ চটুল উন্মাদনা, মূল্যবােধহীনতা আর ভােগসর্বস্বতায় নিমজ্জিত হচ্ছে। তারা জানতে পারছে না জীবন কি, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি। 


 আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বলেন, পৃথিবীজুড়ে জড় দেহের পরিচর্যার জন্য লক্ষ লক্ষ কলেজ ইউনিভার্সিটি রয়েছে, 


কিন্তু সায়েন্স অব সােল, আত্মার বিজ্ঞান শিক্ষা দেবার জন্য একটিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, অথচ চেতনাকেন্দ্র আত্মার অনুপস্থিতিতে শরীর কেবল পচনশীল জড় পদার্থ ছাড়া কিছু নয়।

তরুণ তরুণীরা আধুনিক শিক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে জড়বাদী মতবাদগুলাের দ্বারা মােহাচ্ছন্ন হয়ে পারমার্থিক জ্ঞান লাভের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, আর সমাজের সকল আবিলতার এটাই উৎস।


 আসলে এইভাবে জীবনের চরম অপব্যবহার হয়;এজন্য তিনি আধুনিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলিকে স্লটার হাউস বলতেও দ্বিধা করেননি। 


Ouest for Enlightnment গ্রন্থে তিনি লেখেন, " We are very serious about the non-permanent things-the body and its extensions, which will not exist, which will be vanquished after a certain period of years-but we do not care about the eternal consciousness, the spirit soul, which is transmigrating from one body to another. Ignorance of the spirit soul is the main defect of modern civilization."  


এখন পিতা-মাতা-শিক্ষকের চাপে প্রত্যেক ছাত্রী-ছাত্রীর মস্তিষ্ক যেন বড় সড় এক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস! কমপিউটারের মতই সেখানে অবিরাম চলছে হাজার হাজার মেগাবাইট তথ্যসঞ্চয়।


 প্রতিযােগিতার পরীক্ষায় থাকছে মশার বংশলতিকা থেকে শুরু করে হলিউড সম্বন্ধেও তথ্য।



 গুচ্ছের জি.কে বইয়ের তথ্যে তারা মগজ বােঝাই করছে কিন্তু সে নিজে কে? এই বেসিক প্রশ্নের উত্তর নেই কারাে কাছে। 


বিদ্যেবােঝাই বাবুমশাই সাঁতার না জানায় ডুবেছিল ঝড়ে নৌকাডুবি হয়ে। তেমনি অস্থায়ী দেহের পরিচিতির বাইরে নিজের প্রকৃত স্বরূপ সম্বন্ধে একটিও তথ্য না থাকায় এই জগৎসংসার-সাগরে আমাদের এইসবনব্য প্রজন্মের বাবুরা কতটা সাঁতার দিতে সক্ষম হবে?


নাকি অসহায় নির্বাক নিমজ্জনই প্রত্যেকের ভবিতব্য? ঝড়, অর্থাৎ মৃত্যু আসবেই;কেবল কমপিটিশান, মার্কস আর অহমিকা বাড়াতে গুচ্ছের ডিগ্রী। কাজে আসবে কতটা?



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline