Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা ক্রাইমস্ এগেইনস্ট ক্রিয়েশান’? সৃষ্টির বিরুদ্ধে অপরাধ ...বিজ্ঞানীদের স্বীকারােক্তি PAGE-19

 

 ‘ক্রাইমস্ এগেইনস্ট ক্রিয়েশান’?
সৃষ্টির বিরুদ্ধে অপরাধ ...বিজ্ঞানীদের স্বীকারােক্তি 

PAGE-19


প্রথিতযশা বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের নেতৃত্বে বেশ কিছু নােবেলজয়ী বিজ্ঞানী সহ বিশ্বের অগ্রগণ্য  ৩২ জন বিজ্ঞানী একটি ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করে আবেদন জানালেন বিশ্ববাসীর কাছে, বিশেষতঃ বিশ্বের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের কাছে – মস্কোতে ১৯৯০-এর জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফোরাম অব স্পিরিচুয়াল অ্যান্ড পার্লামেন্টারী লিডার্স -সমাবেশে। 


Preserving and Cherishing the Earth : An Appeal for Joint Commitment in Science and Religion – পৃথিবীকে রক্ষা ও পােষণ ::  বিজ্ঞান ও ধর্মের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আবেদন’ শীর্ষক ঐ আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রীম্যান ডয়সন, জীবাশ্মবিদ স্টিফেন. জে. গােল্ড, পরিবেশ বিজ্ঞানীরজার রেভেল, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনােলজির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেরস উইগনার প্রমুখ।


 বিজ্ঞানীরা বলেন, “আমরা স্ব-আরােপিত, দ্রুতসঞ্চারমান পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটিয়ে পৃথিবীকে, সভ্যতাকে বিপদাপন্ন করে তুলেছি, যার দীর্ঘমেয়াদী জৈব ও বাস্তুতন্ত্রগত পরিণাম সম্বন্ধে আমরা এখনও বেদনাদায়কভাবে অজ্ঞ – 


পৃথিবীকে রক্ষাকারী ওজোন আবরণের ক্ষয়; নজিরবিহীন গ্লোবাল ওয়ার্মিং (পৃথিবীর উষ্ণতাবৃদ্ধি)—বিগত একশাে পঞ্চাশ সহস্রাব্দে (১ লক্ষ ৫০ হাজার বছরে) যা হয়নি; 

প্রতি সেকেন্ডে এক একর বনভূমি ধ্বংস; প্রজাতিগুলির দ্রুত হারে বিলুপ্তি, এবং বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক যুদ্ধের এক সম্ভাবনা, যা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে।


 আরাে অনেক বিপদ থাকতে পারে, যেগুলি সম্বন্ধে আমরা এখনাে আমাদের অজ্ঞতার কারণে সচেতননই। ব্যক্তিগতভাবে বা সমষ্টিগতভাবে এই সব বিপদগুলি মানবজাতির জন্য একমরণফাঁদ, যে ফাঁদ আমরা নিজেরাই আমাদের জন্যই পাতছি।


 মানুষের যেসব কৃতকর্মে  এই বিপদের সৃষ্টি করেছে, তার পিছনে যত নীতিজ্ঞানপূর্ণ ও মহৎ (কিংবা নিস্পাপ অজ্ঞতা বা অদূরদর্শিতা) যুক্তি উপস্থাপন করা হােক না কেন, আলাদা আলাদাভাবে ও একত্রে এই বিপদগুলি এখন আমাদের প্রজাতিকে ও সেইসাথে অন্যান্য অনেক প্রজাতিকেই বিপন্ন করে তুলেছে। 


আমরা প্রায় সেটাই করতে চলেছি, অনেকে যুক্তি দেখাবেন যে আমরা ইতিমধ্যেই করেছি – ধর্মীয় ভাষায় যাকে কখনাে কখনাে বলা হয় “সৃষ্টির বিরুদ্ধে অপরাধ........।। 


 “এইরকম এক বিপুল পরিসরের সমস্যা, যার সমাধানের জন্য এক বিস্তৃত পরিপ্রেক্ষিত প্রয়ােজন—শুরু থেকেই তাকে ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক উভয় প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে হবে। আমাদের দায়দায়িত্বের কথা মনে রেখে আমরা বিজ্ঞানীরা ..........

আমাদের অনেকেই পরিবেশ সংকটের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল কাজ করছি....... 


বিশ্ব ধর্মসমাজের নিকট সানুনয়ে অনুরােধ করছি, তাঁরা যেন তাদের কথায় ও কাজে, যথােচিত সাহসের সঙ্গে পৃথিবীর পরিবেশকে রক্ষা করেন। .........1"


* "I believe that the indefinite combination of human fallibility and nuclear weapons will lead to destruction of nations. Therefore, I predict the next millenium will witness either nuclear catastrophe or the elimination of nuclear weapons.”**

--Robert McNamare, Former US Secretary of Defence.


পৃথিবীতে মানুষ সবচেয়ে বেশি কোন খাতে অর্থব্যয় করে ? 

নরহত্যার আয়ােজনে, গবেষণায় (“for butchering human being.")। পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ আমেরিকা তার বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করে প্রতিরক্ষায়, পিছিয়ে নেই চীন , রাশিয়া, ব্রিটেন। 


আমেরিকা, ইউরােপ ছাড়িয়ে পরমাণু অস্ত্র এখন এশিয়ায় বিস্তৃতির পথে। দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে পরমাণু বােমার প্রযুক্তি।।


ভারন্ত্রে সংসদভবনে ২০০২-এ সন্ত্রাসবাদী হামলা যুদ্ধের মুখােমুখি এনে দাঁড় করিয়েছিল পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত পাকিস্তানকে। সীমান্তের দুইপাশে যুদ্ধের জন্য প্রহর গুণছিল লক্ষ লক্ষ সৈন্য। 



স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী পাঁচমাস ধরে ছিল চরম সতর্ক অবস্থায়।। ভয়ংকর অস্ত্রে পূর্ণ বর্তমান বিশ্ব যেন বারুদের তূপের মতাে, এক ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ সংযােগে ঘটতে পারে মহা বিপর্যয়। 


প্রতি বছর সারা বিশ্বে ঐক্য ও শান্তির জন্য ওড়ানাে হয় শ্বেত পারাবত, কিন্তু পাশাপাশি সমানে চলে নরমেধ যজ্ঞের আয়ােজন, বিপুল ধ্বংসক্ষমতার অস্ত্র তৈরী।


 শিশুরা ভুগতে থাকে অপুষ্টিতে, অনাহারে উর্বর জমিতে চাষ করা হয় কোটি কোটি টন তামাক, আফিম, চা, কফি——তমসাবৃত হতে থাকে সভ্যতা। 



বিশ্ব মানব পরিবার’-এর এই চেহারা দেখে মর্মাহত, ১৯৭৬-এ শান্তির জন্য—নােবেল পুরস্কার প্রাপ্ত পিস অ্যাক্টিভিস্ট বেটি উইলিয়ামসের কণ্ঠে ঝরে পড়ে তীক্ষ্ণ ক্ষোভ আর হতাশা :


“বিজ্ঞান দূর নক্ষত্রলােকে বা তার চেয়েও দূরে পৌঁছে গিয়েছে, আর মানুষ পদচারণা করেছে চাঁদের মাটিতে। ভগবানের ইচ্ছায়, আমরা অন্যান্য গ্রহে কোন জীবন খুঁজে পাবনা, কেননা নিশ্চিতভাবেই আমরা তা ধ্বংস করে ফেলব। 


বিজ্ঞানের আরাে অগ্রগতির আগে, যারা মৃত্যু ও ধ্বংসের বিজ্ঞানে নিয়ােজিত, ভগবান যেন তাদের চিত্তে, অন্তরে ও মস্তিষ্কে পৌঁছান, এবং তাদের হৃদয়মনকে যথেষ্টভাবে পরিবর্তিত করেন, যাতে তারা জীবন ও সৃষ্টির জন্য কাজ করতে উদ্যোগী হয়।”



“ মানব পরিবার’, কত সহজেই না জিভ থেকে এই শব্দগুলি গড়িয়ে আসে। আমার মন বিষন্নতায় ভরে যায় যখন অবাক হয়ে ভাবি, আমাদের এ কেমন বিশ্ব পরিবার, যেখানে সকলের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে, সেখানে এই পরিবার তাদের শিশুদের অনাহারে থাকতে দেয়? কোন ধরনের পরিবারে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরী ও প্রয়ােগের অনুমতি দেওয়া হয় ?


কোন ধরনের পরিবারে বয়স্করা, পরিচালকরা এইরকম অস্ত্র তৈরীর সাফাই দিয়ে সদস্যদের বলে যে এগুলি “প্রতিরক্ষার জন্য”? আমি নিশ্চিত যে পরিবারের যেসব সদস্যরা তথাকথিত এই প্রতিরক্ষার ফলে নিহত হয়, তারা এমন অপূর্ব সুন্দরভাবে সুরক্ষিত হওয়ার জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা অনুভব করবে!




Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline