Page

Follow

জড় দেহ ও চেতন ব্যক্তি পার্থক্য। Page-151

  জড় দেহ ও চেতন ব্যক্তি  পার্থক্য। 



দেহে যতক্ষণ জীবন থাকে ততক্ষণ দেহে পরিব্যাপ্ত থাকে চেতনা (Consciousness)। আমরা সবাই জানি দেহ জড় উপাদানে নির্মিত, নশ্বর । কিন্তু চেতনার উৎস কি জড়? দুই পদার্থ ভিন্নধর্মী চেতনা চেতন পদার্থের থেকে নিঃসৃত হয়—জড় থেকে নয়।।

সেজন্য প্রকৃত জীবন্ত ব্যক্তির সংগে ঐ ব্যক্তিত্বের আধার জড় পদার্থের সমন্বয়ে তৈরী নশ্বর দেহের পার্থক্য রয়েছে, ঠিক যেমন জামা বা পােশাকের সংগে পার্থক্য থাকে একজন মানুষের ।

 চেতন বস্তু অচেতন জড় বস্তুর থেকে পৃথক, তেমনি চেতন ব্যক্তি পৃথকতার জড় দেহরূপ আবরণ হতে দুই বিপরীতধর্মী বস্তুর সহাবস্থানে দেহকে জীবন্ত মনে হয়, কিন্তু

চেতনার উৎস, চিৎকণা (Spiriton) নিষ্ক্রান্ত হলেই অচেতন জড়ধর্মী, ব্যক্তিত্বহীন হয়ে যায় দেহ।। 

দৃষ্টান্ত -১
একজন স্বনামখ্যাত সাহিত্যিক অন্তিম শয্যায়। যে কোন মুহুর্তে হতে পারে প্রাণবিয়োগ, জীবনাবসান, চলছে প্রতীক্ষা। গুণমুগ্ধরা ফুলের তােড়া এনেছেন, সারিবদ্ধভাবে এক এক করে তাঁকে ফুলের তােড়া দিচ্ছেন। সাহিত্যিকের হয়ে একজন তা নিচ্ছেন। শ্রদ্ধায় সকলে প্রণাম করে তার পদধুলি নিচ্ছেন।

এইভাবে চলছিল, কিন্তু সকলকে শােকস্তব্ধ করে অকস্মাৎ প্রয়াত’ হলেন সাহিত্যিক। তারপরও কয়েকজন পদস্পর্শ করে প্রণাম জানাল, পদধূলি নিল। যারা মৃত্যুর পর পদস্পর্শ করেছে, মৃতদেহের স্পর্শ ঘটায় তারা ঘরে ফিরে স্নান করল। 

কিন্তু প্রয়াণের পূর্বে যারা পদস্পর্শ করেছিল, তাদের তা করতে হল না। যে দেহের পদরজ মাথায় নিয়ে নিজেদের ধন্য, পবিত্র করছিল গুণমুগ্ধ পাঠকপাঠিকারা, মৃত্যুর পর সেই একই দেহের স্পর্শ তাদের অপবিত্র করল। পবিত্র ব্যক্তিটি তাহলে কে?

 একই দেহ, কিন্তু কিভাবে সৃষ্টি হল পবিত্রতার এই বিভব-পার্থক্য? কার উপস্থিতি দেহকে পবিত্র রেখেছিল? কে চলে গেলেন’, যার জন্য দেহ হারাল সুষমা, দীপ্তি, প্রভা, পবিত্রতা? সত্যিই কাকে প্রণাম করছিল সাহিত্যানুরাগীরা? জীর্ণ অস্থি-চর্মের খােলসকে? 

দৃষ্টান্ত-২
একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি বিষাদাচ্ছন্ন : মৃত্যুর করাঘাত তিনি তার অন্তিম শয্যায় শুয়ে শুনতে পাচ্ছেন, বিদায়লগ্ন ক্রমেই এগিয়ে আসছে। বহু কষ্টার্জিত, আ-জন্ম সঞ্চিত ধন-সম্পদ লিখে দিতে হবে অন্যদের নামে, শূন্য হাতে বিদায় নিতে হবে। উকিলেরা প্রস্তুত : দুটি সংস্থাকে তিনি দান করবেন তার কিছু সম্পত্তি, এজন্য লেখা শেষ দুটি উইল। উপস্থিত সাক্ষীরাও।  আইনজ্ঞরা প্রথমে উইলটি পড়ে শােনালেন, তারপর তাকে স্বাক্ষর করতে বললেন। প্রায় অসাড় হাতে তিনি সই করতে পারছেন না, সেজন্য নেওয়া হল টিপসই, আঙুলের ছাপ।

 দ্বিতীয় উইলটিও পড়া হল, আঙুলে কালি মাখানাে দ্বিতীয় সংস্থার উকিল ছাপ নিতে উদ্যত। কিন্তু ......... কষ্টার্জিত সম্পত্তি হারানাের বেদনা সহ্য করতে না পেরে মুহূর্তেই ঘটে গেল তার প্রাণ-বিয়ােগ। তবুও, উকিলটি ছাপ নিয়ে নিলেন। বৈধতা দাবী করলেন উইলের। প্রতিবাদ করল পুত্র, এই উইল বৈধ নয়। ব্যাপারটা আদালতে গড়াল ঃ রায়, বৈধ নয় দ্বিতীয় উইল। যদিও একই ব্যক্তির একই আঙুলের হুবহু একই ছাপ দুটি উইলে, তবুও দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ব্যক্তি ছিলেন না উপস্থিত।

 আমি সজ্ঞানে স্বেচ্ছায়...... ইত্যাদি বয়ানগুলি মৃতদেহের হতে পারে না, অতএব......।|

প্রকৃতপক্ষে, কে ঐ দেহ ও দেহগত সব বিষয় সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন ? সেই চেতন ব্যক্তিত্ব দেহে নেই কেন কোন জড়বস্তুই তাে দেহ থেকে বিযুক্ত হয়নি?

Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline