Adsterra 7

 

Follow

কৃষ্ণভাবনামৃত ও সাম্যবাদ || Page-141

  কৃষ্ণভাবনামৃত ও সাম্যবাদ



 জড়বাদ,নাস্তিকতা ভােগবাদের উৎস;ভােগবাদ তৈরী করে সম্পদ লালসা ও স্বার্থপরতা; সেজন্য জড়বাদ পরিণামে সাম্যবাদ আনতে পারে না। সাম্যবাদী পরিণামে পরিণত হয় নিরেট বিষয়াসক্ত ভােগবাদীতে। জড়দেহটি তার স্বরূপ নয়, এটি উপলব্ধি করলে মানুষ।অস্থায়ী দেহ ও দেহগত বিষয়সম্পত্তিতে অনাসক্ত হতে পারে। 

সারা বিশ্বে এর অজস্র  দৃষ্টান্ত তৈরী হচ্ছে। এছাড়া প্রকৃত সত্য হচ্ছে, সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের নয়-- ঈশরের ঃ

 ঈশাবাস্যম ইদং সর্বং যৎকিঞ্চ জগত্যাং জগৎ। 

তেন ত্যক্তেন ভূঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্য স্বিদ ধনম ।।

-- জগতের যা কিছু রয়েছে, সব ঈশ্বরের সম্পত্তি, অপরের সম্পদে লােভ না করে  ত্যাগের সংগে ভােগ করা এই উপনিষদীয় জ্ঞান যথার্থ সাম্যবাদের ভিত্তি। যেমন, কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করার পর ইওরােপীয়রা সেখানে এসে সব ঈশ্বরের দেশ' এই অধিকারে বসতি স্থাপন করে; কিন্তু বর্তমানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট  অন্যদেশের অধিবাসীকে আটকাবে ঃ “এটি আমাদের দেশ, তুমি এখানে কেন?

” স্ববিরােধিতা স্পষ্ট করেছেন শ্রীল প্রভুপাদ। বৈদিক শাস্ত্র ভ্রান্ত মালিকানাবােধের সমর্থকনয়। এমনকি অপরিমেয় সম্পদ সংগ্রাহক লােভী ধনীদের দন্ডদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শাস্ত্রে, যেমন শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে যে দেহধারী জীবের ভরণপােষণের জন্য প্রয়ােজনীয় সম্পত্তিতে অধিকার রয়েছে। 

এর চেয়ে বেশি যে কুক্ষিগত করবে, সে চোর, দন্ড লাভের যােগ্য ::: 

যাবদ ভ্রিযেদ জঠরং তাবৎ সত্ত্বং হি দেহিনাম /

 অধিকং যেহ পি মন্যতে সস্তেন দন্ডম  অর্হতি  (ভাঃ ৭/১৪/৮)।

এছাড়া শাস্ত্রে জাতিবাদও স্বীকৃত নয়; গুণ বা স্বভাব ও কর্ম অনুসারে চারটি বর্ণবিভাগ রয়েছে ঃ জ্ঞানদাতা - ব্রাহ্মণ, প্রশাসক ~ ক্ষত্রিয় (administrators) উৎপাদক – বৈশ্য (Producer), শ্রমদাতা — শূদ্র (labourer)। এই বর্ণবিভাগ ভগবৎ প্রদত্ত, তাই সব কালে সব দেশে থাকবেই।

 যেমন চীনেও অধ্যাপকেরা পড়ান —কয়লা তােলেন না, রাস্তা মেরামত করেন না। প্রশাসক শাসন করেন, ইমারতে ইট গাঁথেন না। বর্ণাশ্রম-এর উদ্দেশ্য কাউকে ছােট করা নয়, ধীরে ধীরে সকলকে চেতনার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা।

 বর্তমানে পেশাগুলাে জাতিতে পরিণত হয়েছে – যেমন কুম্ভ বা কলস তৈরীকারী কুম্ভকার এখন কুমাের জাতি, স্বর্ণকার জাতি, সূত্রধর বা ছুতাের জাতি। বল্লালসেন এটি করেছিলেন, এর শাস্ত্রগত ভিত্তি নেই।

 শাস্ত্রে চারটি বর্ণবিভাগ –এছাড়া সমাজ থাকে না, ঠিক যেমন দেহের মস্তিষ্ক, বাহু, উদর ও পদ —এই চারটি অংশের নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া দেহ থাকে না। কেউ যখন ভগবৎ-চেতনা লাভ করে, এমনকি শূদ্রের অধম কদাচারী চন্ডালও যদি ভগবৎচেতনা, কৃষ্ণভক্তি লাভ করে, সে ব্রাহ্মণেরও পূজ্য হয় ঃ

 চন্ডালােপি দ্বিজশ্রেষ্ঠঃ হরিভক্তি পরায়ণা ;


ভগবৎ-তত্ত্বজ্ঞ শূদ্রও ব্রাহ্মণের গুরু হতে পারে, বলেছেন মহান সাম্যবাদী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ---

(কিবা ন্যাসী কিবা বিপ্র শূদ্র কেনেনয়

 যেই কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা সেই শুরু হয়)।


 ভগবৎ চেতনাময় হলে মুছে যায় বর্ণভেদ—শ্রেণী বৈষম্য। এইভাবে, কৃষ্ণভাবনামৃত যথার্থসাম্যবাদের প্রকৃত ভিত্তি। জড়বাদ অসাম্যের আকর।।


Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION