Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা || বিশ্বজুড়ে অবিরাম মারণাস্ত্রের সম্ভার বৃদ্ধি || প্রতিরক্ষা ব্যয় || PAGE-14

 

 বিশ্বজুড়ে অবিরাম
মারণাস্ত্রের সম্ভার বৃদ্ধি

PAGE-14


“Knowledge of how to release nuclear energy is new knowledge of the natural world, to which the human world has no choice but to adapt or to be destroyed."

- Richard Rhodes, The Making of the Atom Bomb



“জীবন দীর্ঘায়িত কর”, সপ্তদশ শতকে লিখছেন স্যার ফ্রান্সিস বেকন, রেনেশার অন্যতম পথিকৃৎ তাঁর দ্য নিউ আটলান্টিস বইয়ে, তার অর্থ “ট্রাংকও পাইপের ভিতর দিয়ে দূর অজানায় শব্দ প্রেরণ...বায়ুতে ওড়া... জলের নীচে যাওয়ার উপযােগী জাহাজ ও নৌকা তৈরী... ধ্বংসাত্মক যন্ত্র উপকরণ তৈরী—যুদ্ধের জন্য বিষাক্ত পদার্থ তৈরী.....যুদ্ধের জন্য ইঞ্জিন মেশিন তৈরী —যা হবে আরাে শক্তিশালী, আরাে সহিংস... আমাদের বৃহত্তম কামানগুলির চেয়েও অধিক ধ্বংসদক্ষতা সম্পন্ন•••• |” *



জীবন দীর্ঘায়িত করার স্বপ্নের সাথে সাথে জীবনকে সমূলে খতম করার জন্য আরাে শক্তিশালী সহিংস, আরাে ধ্বংসাত্মক অস্ত্র তৈরীর সংকল্পের স্ববিরােধিতার মধ্যে যে কপটাচার ও হিংস্রতা অন্তর্লীন রয়েছে, সেটিই আধুনিক জড় সভ্যতার সারসত্য। 


মানুষের আয়ু একশাে বছরের বেশী বাড়েনি, কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষকে নিমেষে মৃত্যুর গহ্বরে পাঠানাের হাইটেক ব্যবস্থা দেশে দেশে প্রস্তুত। আরাে ধ্বংসাত্মক, সহিংস অস্ত্র তৈরীর গবেষণা অব্যাহত।


ঐ মহৎ গবেষণা-প্রয়াসের নির্গলিত ফলের মধুর আস্বাদ ইতিমধ্যেই বিশ্ববাসী লাভ করতে পেরেছে কিছুটা। জীবন দীর্ঘায়িত করা আর পাশাপাশি ব্যাপক নরমেধ যজ্ঞের জন্য সহিংস যন্ত্রোপকরণ গড়ে তােলার স্ববিরােধ,নৈতিক ভ্রষ্টাচার, কপটতা ও হিংস্রতা মানুষের সুসভ্য চেহারা ,অনাবৃত করে প্রকাশ করেছে তার বীভৎস চেহারা।


 সবচেয়ে উন্নত,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ বিংশ শতাব্দীর মানুষ দেখেছে নারকীয় গণহত্যা। হিরােশিমা-নামেই শিহরিত হয় মানুষ;  

 লিটল বয় ছােট্ট বালক নামের নিউক্লিয়র বােমাটি একটি প্রাণচঞ্চল শহরকে এক লহমায় পরিণত করেছিল ডেথ ভ্যালি বা মৃত্যু উপত্যকায়

 ---আড়াই লক্ষ মানুষের জীবনে ঘটেছিল আকস্মিক যবনিকাপাত। কেমন রােমাঞ্চময় ছিল সেই মৃত্যু? আমেরিকান সেনাধ্যক্ষ জেনারেল ম্যাক আর্থার তার দি ফাস্ট অ্যাটম বম্ব প্রবন্ধে তার বিভীষিকাময় চিত্র এঁকেছেন।

*"The prolongation of life....... means to convey sound in trunks and pipes strange lines and distances.... flying in the air..... ships and boats for going under water... instruments of destruction as of war and poison... engines of war, stronger and more violent, exceeding our greatest cannons."

- Sir Francis Bacon(1561-1626), The New Atlantis


তেজস্ক্রিয় আগুনে ঝলসে কারও দেহ কুঁকড়ে মন্ড পাকিয়ে গেল, কারও দেহ রবারের মতাে লম্বা হয়ে গেল দেহের ২-৩ গুণ। যাঁরা বেঁচে গেল, মুক, বধির, অন্ধ, বিকলাঙ্গ হয়ে রইল সারা জীবনের জন্য। 

পরবর্তী প্রজন্মগুলােও নিষ্কৃতি পেল না। তেজস্ক্রিয় প্রতিক্রিয়া দেহকোষের জেনেটিক ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটায়, ফলে বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মাতে থাকে হাজার হাজার শিশু।

যারা পরমাণু বােমা তৈরী করেছিলেন, নিক্ষেপের আদেশ দিয়েছিলেন, তাঁরা ভালভাবেই অবহিত ছিলেন এর ধ্বংস-ক্ষমতা সম্বন্ধে, কিন্তু তাঁরা নিবৃত্ত হননি। 

আইনস্টাইন তাঁর চিঠিতে পরমাণু বােমা তৈরী না করার জন্য অনুরােধ করেন রাষ্ট্রনেতাদের, তাঁরা সেই অনুরােধ রাখেননি। এমনকি অনুতাপদগ্ধ হয়ে কেঁদেছিলেন এজন্য এই প্রথিতযশা বিজ্ঞানী। 

নলেজ ইজ পাওয়ার, আর পাওয়ার-মঙ্গার’ লিডাররা নলেজ পেয়েছিলেন আইনস্টাইনের কাছ থেকে, ফলে আমেরিকার লস অ্যালামসে চলল ‘ম্যানহাটন প্রােজেক্ট’—মানুষ নিধন যজ্ঞের পরিকল্পনা।

 পাওয়ার অনুভব করল বিশ্ববাসী। এক ভিন্নতর ভূমিকায় বিজ্ঞানীকে দেখল বিশ্বের মানুষ বিশ্বকল্যাণকারী থেকে বিশ্ব নরমেধ যজ্ঞের হােতা। কিন্তু এখানেই বিরত হননি বিজ্ঞানীরা।

 



লিটল বয়'-এর উত্তরসুরী ছিল ‘ফ্যাট ম্যান’; এখন আরাে বাড়তে বাড়তে সে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দৈত্যকেও ছাড়িয়ে গেছে। তৈরী হয়েছে লিটল বয়ের চেয়ে ১০ হাজার গুণ শক্তিশালী হাইড্রোজেন বােমা। আবিষ্কৃত হয়েছে ধ্বংসাত্মক প্রাণঘাতী, নিউট্রন বােমা। বর্তমানে যে সর্বাধুনিক বােমা, অ্যান্টি-প্রােটন ব্যবহার করে তৈরী অ্যান্টিম্যাটার বােমা আবিষ্কৃত হয়েছে,

 তার ভয়ংকর ধ্বংসক্ষমতা অন্য যেকোন নিউক্লিয়র বােমাকে ‘শিশুদের খেলার সামগ্রী’-তে পরিণত করেছে। পরমাণুবােমা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। রিচার্ড রােডস্ যেমন লিখেছেন, পরমাণুশক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সড়গড় হওয়া অথবা ধ্বংস হওয়া –মানবজাতির এখন দুটির একটিকে বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই।।

বিশ্বে হিংসা, উগ্রতা ও সন্ত্রাসবাদ কোন্ সীমা পর্যন্ত যেতে পারে, সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১-এ আমেরিকার ট্রেডসেন্টারে ও পেন্টাগনে সন্ত্রাসবাদী হানা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। 


উচ্চশিক্ষিত সন্ত্রাসবাদীদের বুদ্ধির সঙ্গে ক্রমাগত পাল্লা দিতে গিয়ে ব্যর্থতা কি আসতে পারে না কোন এক আকস্মিক ক্ষণে ? বিশ্বের সমস্ত পরমাণু শক্তিধর দেশ কি এই নিশ্চয়তা দিতে পারে,বিজ্ঞানীদের কারাে কারাে বিশ্বাসঘাতকতায় পরমাণু অস্ত্র গিয়ে পড়বেনা সন্ত্রাসবাদীদের হাতে?



সেই দিনের বিভীষিকা কেমন হতে পারে? বর্তমানে ইউরােপ এশিয়ার বিভিন্ন ছােট বড় দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে পরমাণু অস্ত্র। অতএব সেই সম্ভাবনা কিন্তু বিরল নয়, বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা মিডিয়াতে জানাচ্ছেন। প্রথম পরমাণু বােমা তৈরীর অন্যতম হােতা, ফাদার অব দি অ্যাটমিক বম্ব’ রবার্ট-জে. ওপেনহাইমারও পরমাণুসন্ত্রাসবাদ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। 




আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী পরমাণু অস্ত্র হানা রুখতে তার পরামর্শ ছিল:  “প্রত্যেকটি জাহাজের কন্টেনারকে স্ক্রুড্রাইভের দিয়ে খুলে পরীক্ষা করে দেখা, অথবা তার বিকল্প হচ্ছে বিশ্বের প্রত্যেক জাতিকে খােলাখুলিভাবে পরমাণু অস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে দেওয়া”।* |



সহজেই অনুমেয় যে এই দুটি বিকল্পের কোনটিরই নির্ভরযােগ্যতা প্রশ্নাতীতনয়। বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি, অবক্ষয় আর নৈতিকতার অধঃপতনের এই যুগে এমন নিশ্চয়তা কোথায় যে মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পড়বেনা এই অস্ত্র, বা বিজ্ঞানীদের কেউ হয়ে উঠবেন সন্ত্রাসবাদী? 

প্রথম পরমাণুবােমার জনক ওপেনহাইমারকেই সন্দেহের তালিকায় ফেলে আমেরিকা। অন্য দেশে (রাশিয়ায়) পরমাণু প্রযুক্তির পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিজ্ঞানী ওপেনহাইমারের সিকিউরিটি লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হয়। 

যে হারে সভ্যতার উন্নতি হচ্ছে ,তাতে বিশ্বের নিরাপত্তা কতদিন সুনিশ্চিত থাকবে কোন বিশারদই তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।
অনেকে বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে, সবাইকে সংযত থাকতে পরমাণু  অস্ত্র সাহায্য করেছে বলে





প্রতিরক্ষা ব্যয় 


সভ্য মানুষের পারস্পরিক হত্যার জন্য বাৎসরিক অস্ত্র প্রতিযােগিতার বাজেট।
 
List by the Stockholm International Peace Research Institute
2020 Fact Sheet (for 2019)[1]
SIPRI Military Expenditure Database[3]

স্টকহোেম ইন্টারন্যাশন্যাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইয়ারবুক ২০২০ -
এর রিপাের্ট অনুসারে প্রতিরক্ষার ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রথম ১৫টি দেশের জন্য ২০২০-২১ -এর প্রতিরক্ষা ব্যয় ১৯১৭ বিলিয়ন  ডলার, অর্থাৎ 1395351711000000.25 টাকা —প্রায় ১৪০ লক্ষ কোটি টাকা। প্রতিরক্ষা ব্যয় ক্রমবদ্ধমান।
Rank Country Spending
(US$ bn) % of GDP
World total 1,917 2.2
1 United States United States 732.0 3.4
2 China China[a] 261.0 1.9
3 India India 71.1 2.4
4 Russia Russian Federation 65.1 3.9
5 Saudi Arabia Saudi Arabia[a][b] 61.9 8.0
6 France France 50.1 1.9
7 Germany Germany 49.3 1.3
8 United Kingdom United Kingdom 48.7 1.7
9 Japan Japan 47.6 0.9
10 South Korea South Korea 43.9 2.7
11 Australia Australia 27.5 2.0
12 Brazil Brazil 26.9 1.5
13 Italy Italy 26.8 1.4
14 Canada Canada 22.2 1.3
15 Israel Israel 20.5 5.3

অস্ত্র কেনাবেচা ও বর্তমানে আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে বাৎসরিক অস্ত্র কেনাবেচার পরিমাণ ঃ ১৯১৭বিলিয়ন ডলার ; অর্থাৎ১৯১ হাজার কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় ১৪,০০০,০০০ কোটি টাকা।



Budget 2020: প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়ে হল ৩.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা!
Budget 2020: বাজেট অনুসারে, মোট বরাদ্দের মধ্যে নতুন অস্ত্র কেনা, বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক হার্ডওয়্যার কেনার জন্য মূলধন ব্যয় বাবদ ১.১৩ লক্ষ কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে।

গত বছরের থেকে বাড়ল প্রতিরক্ষা খাতে (Defence Budget)ব্যয় বরাদ্দ। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ৩.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করা হবে প্রতিরক্ষা খাতে। দীর্ঘস্থায়ী সামরিক আধুনিকীকরণের (Military Modernisation) উদ্দেশে উল্লেখযোগ্যভাবেই যে বরাদ্দ বাড়ানো হবে তার প্রত্যাশা ছিলই। গত অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষে এই বরাদ্দ ছিল ৩.১৮ লক্ষ কোটি টাকা।
বাজেট ২০২০: এলআইসির শেয়ার বিক্রি ঘিরে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের |




অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Finance Minister Nirmala Sitharaman) শনিবার লোকসভায় ২০২০ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। ওই বাজেট অনুসারে, মোট বরাদ্দের মধ্যে নতুন অস্ত্র কেনা, বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক হার্ডওয়্যার কেনার জন্য মূলধন ব্যয় বাবদ ১.১৩ লক্ষ কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাজেটে কৃষক-স্বার্থে ১৬ টি নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা




Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline