Follow

অভ্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী শাস্ত্রের অভ্রান্ততার একটি প্রত্যক্ষ প্রমাণ। বৈদিক শাস্ত্র কিভাবে সৃষ্টিকে, জীবনীশক্তিকে ব্যবহার করতে হবে, তার ব্যবহার নির্দেশিকা,PAGE-138

   অভ্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী শাস্ত্রের অভ্রান্ততার একটি প্রত্যক্ষ প্রমাণ।

বৈদিক শাস্ত্র  কিভাবে সৃষ্টিকে, জীবনীশক্তিকে ব্যবহার করতে হবে, তার ব্যবহার নির্দেশিকা,PAGE-138

আপনি একটি গাড়ী বা কমপিউটার কিনলে যেমন তার সঙ্গে কোম্পানী ম্যানুয়াল বা নির্দেশিকা দেয় সেটি ব্যবহারের জন্য, ঠিক তেমনি এই সৃষ্টিকে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে, ভগবান মানবসমাজকে তার নির্দেশিকা দেন – বেদ, ভগবদগীতা। 


নির্দেশিকা ছাড়া খেয়ালখুশিমত চলার অর্থ হচ্ছে ১) সঠিক গন্তব্যে না পৌছানাে ২) ভবিষ্যৎ জীবনে বিপর্যয় বরণ। ম্যানুয়াল না দেখে গাড়ী ব্যবহার করতে গেলে সেটি নষ্ট হতে পারে, হতে পারে  প্রাণহানিও।


 ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদের জীবনের পরম কল্যাণ লাভের জন্য সমস্ত বেদউপনিষদের সারাৎসার ভগবদগীতা প্রদান করেছেন, সুতরাং প্রত্যেক মানুষের এটা জানা কর্তব্য –ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার কাছে কি জানাতে চান।


 স্কুল-কলেজেও এই বিষয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা থাকা উচিত। আজকাল মরণশীল, অজ্ঞ, মােহগ্রস্ত মানুষের জল্পনা-কল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শিক্ষা দেওয়া হয়, ভগবানের দেওয়া পূর্ণ জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয় না নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।


 ফলশ্রুতিঃ মানব সমাজ হয়ে উঠেছে ভগবদ্বিমুখ, অন্ধ, দিভ্রান্ত।

বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান এবং বৈদিক জ্ঞান ইন্দ্রিয়গত, আপেক্ষিক (Relative) ও দ্বন্দ্বভাবাত্মক(dual) জড় জ্ঞান (Sensory perceptions) নয়। 


এটি পরীক্ষামূলক জ্ঞানও (Experimental Knowledge Or Empiric wisdom) নয়। বেদ বা জ্ঞানের উৎস পরমেশ্বর ভগবান এবং বৈদিক জ্ঞান পরম সত্য (Absolute Truth) -কে উপস্থাপন করছে।।



জড়জাগতিক ধারণায় মােহাচ্ছন্ন হয়ে অনেকে শাস্ত্রকে কাল্পনিক মনে করেন। তাঁদের ধারণা সভ্যতার শুরুতে প্রাকৃতিক শক্তিগুলির ভয়ে ভীত হয়ে মানুষ বিভিন্ন দেবতার কল্পনা করেছে, ঋক-প্রভৃতি বেদে ঐরকম দেবস্তুতি রয়েছে। এইভাবে অজ্ঞ মানুষ তাদের নিজস্ব ধারণা অনুসারে বৈদিক শাস্ত্রের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে —এগুলি প্রধানত নেতিবাচক ও বিদ্বেষমূলক। 


বেদেই বলা হয়েছে যে দেব-দেবী বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ভারপ্রাপ্ত নিয়ন্তা, এবং তারা সকলেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অধীন। ঋগ্বেদে বলা হয়েছে –


 একো সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্তি’, 

‘ওঁতদ্বিষ্ণ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ

'যঃ স্মরেৎ পুন্ডরীকাক্ষ (বিষ্ণু) স বাহ্য অভ্যন্তরে শুচি’ 


 সমস্ত দেবদেবীর পূজা ও ভােগ নিবেদনের পূর্বে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর উপাসনা ও ভােগনিবেদন বৈদিক নির্দেশ, যা আজও অনুসৃত হয়ে আসছে।


বৈদিক জ্ঞান শাশ্বত, কালজয়ী ও বিশ্বজনীন ,এই বিজ্ঞানের যুগেও আজ সারা পৃথিবীতে পড়ানাে হচ্ছে এবং বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদগণ বৈদিক শাস্ত্রের  প্রতি আকৃষ্ট। সাম্প্রতিক উদাহরণ ভারতের রাষ্ট্রপতি ও পরমাণু বিজ্ঞানী ডঃ আব্দুল কালামের ভাগবতগীতার  প্রতি শ্রদ্ধা, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বুলন্ট এজেভিটের তুর্কী ভাষায় গীতা অনুবাদ।


বর্তমানে ভগবদ্গীতা যথাযথ বিশ্বের ১০৩ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে ও বিশ্বের প্রায় প্রতি গৃহে পৌঁছে যাচ্ছে।

বেদ স্বতঃপ্রমাণ, বৈদিক শাস্ত্রের প্রামাণিকতা অন্য কিছুর উপর নির্ভর করে না। এখানে বৈদিক শাস্ত্রের গভীরতা ও অভ্রান্ততার কয়েকটি বাস্তব দৃষ্টান্ত দেওয়া হচ্ছে।



বৈদিক শাস্ত্র। 

১.পরমাণুসহজড় পদার্থসম্বন্ধে, প্রাচীন শাস্ত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য শ্রীমদ্ভাগবত (৩/১১/১);


চরমঃ সদ্বিশেষণাম অনেকঃ অসংবৃতঃ সদা।

পরমাণুঃস বিজ্ঞেয় নৃণম্ ঐক্য ভ্রমাে যতঃ।।



 “জড়জগতের যে ক্ষুদ্রতম অংশ অবিভাজ্য এবং দেহরূপে যার গঠন হয় না, তাকে বলা হয় পরমাণু। তা সর্বদা তার অদৃশ্য অস্তিত্ব নিয়ে বিদ্যমান থাকে, এমনকি প্রলয়ের পরেও জড় দেহ এই প্রকার পরমাণুর সমন্বয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের সেই সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে।”


 “পরমাণু হচ্ছে ব্যক্ত জগতের চরম অবস্থা।”—ভা ৩/১১/২



 ব্রহ্মসংহিতা ঃ (৫/৩৫)ঃ


একোইপ্যসৌরচয়িতুং জগদত্তকোটিং

 যচ্ছক্তিরস্তিজগদন্ডচয়া যদন্তঃ।। 

অন্ডাস্তরস্থ পরমাণুচয়ান্তরস্থং

গােবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি।।।


 “শক্তি ও শক্তিমানের অভেদত্ব প্রযুক্ত তিনি এক তত্ত্ব, কোটি কোটি ব্রহ্মান্ড রচনাকার্যে তাঁর শক্তি অপৃথরূপে আছে। সমস্ত ব্রহ্মান্ডগণ তার মধ্যে বর্তমান এবং তিনি যুগপৎ সমস্ত ব্রহ্মান্ডগত সমস্ত পরমাণুতে পূর্ণরূপে অবস্থিত। সেই আদিপুরুষ গােবিন্দ (শ্রীকৃষ্ণ) - কে আমি ভজনা করি।”



এছাড়া জীবদেহসহ দৃশ্যমান জড় ব্রহ্মান্ডেব ২৪টি মৌল উপাদান ও তাদের মূলীভূত উপাদান মহত্তত্ত্বের পূখানুপুঙ্খ ও গভীর বর্ণনা বৈদিক শাস্ত্রে রয়েছে। 



২. চিৎ-পরমাণু, আত্মা বা স্পিরিটন-এর পূর্ণাঙ্গ তথ্য।

মুন্ডক উপনিষদ (৩/১/৯) :

“আত্মা পরমাণু-সদৃশ এবং চেতনার দ্বারা তাকে অনুভবকরা  যায়। পরমাণু সদৃশ এই আত্মা পঞ্চবিধ বায়ুতে ভাসমান থেকে হৃদয়ে অবস্থান করে এবং সমগ্র দেহে তার প্রভাব বিস্তার করে। আত্মা যখন পবিধ জড় বায়ুর কুলষিত  প্রভাব থেকে মুক্ত হয়, তখন তা পবিত্র হয়, এবং তার অপ্রাকৃত গুণাবলীর প্রকাশ হয়।”



শ্রীমদ্ভাগবত (১০/৮৭/৩১) : 

“কেশের অগ্রভাগকে শত ভাগ করলে তার শত শতাংশ সদৃশ স্বরূপই জীবের সূক্ষ্ম স্বরূপ —জীব চিৎকন ও সংখ্যাতীত।”ভগবদগীতায় জীবনের আধার অজড় শাশ্বত আত্মার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা জীবতত্ত্ববিদদের গবেষণার বিষয় হতে পারে।




 ৩. বিভূ চিত্ৰস্তু পরমব্রহ্ম পরমেশ্বর ভগবান, তার বহিরঙ্গাশক্তি জড়া প্রকৃতি, তটস্থাশক্তি জীব, অন্তরঙ্গা শক্তি-প্রসূত চিজ্জগৎ প্রভৃতি সম্বন্ধে সামগ্রিক তথ্য


পরমপুরুষ ভগবান ও তার বিভিন্ন শক্তিরাজি সম্বন্ধে নিখুঁত  ও বিশদ তথ্য বৈদিক শাস্ত্রে রয়েছে । জড়া প্রকৃতি-প্রসূত জড়জগতের কোটি কোটি ব্রহ্মান্ডের পর্যায়ক্রমিক ভাবে সৃষ্টিস্থিতি-লয়, আপেক্ষিক জগতে সময়ের প্রবাহ ও ধ্বংসাত্মক শক্তি এবং চিন্ময় জগতে সময়ের অনুপস্থিতি, অণু জীব ও বিভু ভগবানের শাশ্বত প্রেমময় সম্পর্ক, জীবের শাশ্বত অধিষ্ঠানের জগৎ—অপ্রাকৃত চিন্ময় জগৎ, ভগবানের নাম রূপ-গুণলীলা, চিজ্জগতে জীবের ও ভগবানের চিরন্তন কার্যকলাপ - ইত্যাদি সম্বন্ধে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বৈদিক শাস্ত্রে রয়েছে। এমনকি জড় সৃষ্টির সমস্ত জড় উপাদানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনাও সেখানে রয়েছে।



 ৪. জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাবিশ্বতত্ত্ব।


বৈদিক কসমােলজি বা মহাবিশ্বতত্ত্ব বিশ্বের বিস্ময় বিশ্বের নানা বিদগ্ধ পন্ডিতের এনিয়ে লেখা অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে ও হচ্ছে। অপরিসীম এর ব্যাপ্তি, মানুষের ক্ষুদ্র মগজে প্রায় অচিন্ত্যনীয়। আজ পর্যন্ত নটি গ্রহের বেশি একটি গ্রহও সৌরজগতে আবিষ্কৃত হয় নি, বৈদিক শাস্ত্রে যা বর্ণিত হয়েছে। 


ভলক্যান দশম গ্রহ – এই দাবী নস্যাৎ করেছেন বিজ্ঞানীরাই। যেমন একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী বই লিখেছেন -'Is There Any Tenth Planet ? আজও বৈদিক গাণিতিক জ্যোতির্বিদ্যা অনুসারে পঞ্জিকা লেখা হয়, তাতে তিথিনক্ষত্র-দিন মাস, অমাবস্যা-পূর্ণিমা, চন্দ্রগ্রহণ-সূর্যগ্রহণ ইত্যাদির সঠিক সময় নিরূপিত থাকে— যদিও সেই বিদ্যার অনেকটাই বর্তমানে বিস্মৃতির অতলে। 



জ্যোতির্বিদ্যায় কোটি কোটি বছরের হিসাব রয়েছে। যেমন বর্তমানে ২০০৫-এ কলিযুগাব্দ-৫১০৭। সপ্তাহের সাতটি বার বৈদিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সৃষ্টি এবং ইংরাজী বৰ্মসূচীর সাতটি বার এর অনুসারী। যেমন রবিবার ; রবি =Sun, Sunday; সােমবার, সােম শব্দের অর্থ চন্দ্র, moon=Monday, ইত্যাদি। গ্রহগুলির নামানুসারে সাতটি দিনের নাম বিশ্বে প্রচলিত, যার উৎস বৈদিক শাস্ত্র। 


সত্যত্রেতা-দ্বাপর কলি চারটি যুগের যুগচক্র, কল্পারম্ভ, কল্পক্ষয় ব্রহ্মার দিন রাত্রি (৪৩২ + ৪৩২কোটি বছর), ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিক্রম ও বিলয় – নিখুঁত ও মহাজাগতিক বর্ণনা রয়েছে শাস্ত্রে। 


৫. নাসার সাটুল-ইমেজে শ্রীরামচন্দ্রের সেতু


মহাতপস্বী সর্বত্যাগী ঋষি-মুনিরা কাল্পনিক নভেল বা ফিকশন লিখতেন না, কলহ ও প্রতারণার এই যুগে অনেকের পক্ষে এটাই বােঝা শক্ত হয়ে পড়ে। মহাকবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণম-এর প্রভাব ভারতীয় সভ্যতায় গভীর। কিন্তু রামায়ণম কেবল মহাকাব্য নয়, এটি যে বাস্তব ঘটনার কাব্যময় বিবরণ, নাসার সাটল মহাকাশ যান থেকে তােলা ইমেজগুলি তারই প্রমাণ। ভারত-শ্রীলঙ্কার সমুদ্রের পক প্রণালীতে দুই ভুখন্ড সংযােগকরী ৩০ কিমি দীর্ঘ Ancient Man-made Bridge'-এর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। 


অন্য দেশে এমন কিছু আবিষ্কৃত হলে মিডিয়া-হাইপে বিশ্বের কর্ণ বধির হতাে। পাশ্চাত্য জড়বাদের চাকচিক্য প্রলুব্ধ, আত্মগ্লানিতে বিব্রত ভারত এখন অনুকরণ তপস্যায় তন্ময়। এই পাথরের সেতু সাড়ে সতেরাে লক্ষ বছর আগে নির্মিত বলে প্রত্নতাত্ত্বিক কালনির্ণয়ে বলা হয়েছে, আরশাস্ত্র অনুসারে ঠিক ঐ সময়েই পৃথিবীতে চলছিল ত্রেতাযুগ, শ্রীরামচন্দ্রের আবির্ভাব কাল। 


৬. ভবিষ্যৎবাণী

আমাদের বিজ্ঞানীরা বলতে পারবেন না আগামী দশ বছর পরে কি হবে, ফিজিক্স ও কেমিস্টির সমস্ত নিয়ম প্রয়ােগ করেও নয়। শাস্ত্রে হাজার হাজার, এমন কি লক্ষ-কোটি বছরের অভ্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া হয়েছে। মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস পাঁচ হাজার বছর পূর্বে যেসব শাস্ত্র লিপিবদ্ধ ও প্রণয়ন করেছেন, সেখানে বহু প্রসিদ্ধ ঋষ-মুনিদের ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, ইতিমধ্যেই যা মিলে গিয়েছে, বিশেষত বিভিন্ন মহাপুরুষ ও ভগবানের আবির্ভাবের ভবিষ্যদ্বাণী। এছাড়া সভ্যতার গতি-প্রকৃতি, যুগ-বিবর্তন, ব্রহ্মান্ডেব স্থিতিকাল নিয়েও রয়েছেঅভ্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী । 


কিছু দৃষ্টান্ত : ১. ভগবান বুদ্ধের আবির্ভাবের আড়াই হাজার বছর পূর্বে তার আবির্ভারে ভবিষ্যদ্বাণী 


: শ্রীমদ্ভাগবতঃ ১/৩/৪ : “তারপর কলিযুগের প্রারম্ভে ভগবান ভগবৎ-বিদ্বেষী নাস্তিকদের সম্মােহিত করার জন্য বুদ্ধদেব নামে গয়া প্রদেশে অঞ্জনার পুত্র রূপে আবির্ভূত হবেন।”


 ২. রাজা ধননন্দ ও চাণক্য শ্রীমদ্ভাগবত ঃ ১২/১/১১


 ৩. চন্দ্রগুপ্ত ,বারিসার,এবং সম্রাট অশােক ও শ্রীমদ্ভাগবত : ১২/১/১২ (স এব চন্দ্রগুপ্তং বৈ দ্বিজো রাজ্যের অভিষেকয়তি/ তৎসূত বারিসারস্তু অতশ্চ অশােকবর্ধনঃ ।। 


৪. শঙ্করাচার্যের জন্মের ৩৮০০ বছর পূর্বে তার আবির্ভাবের ভবিষ্যদ্বাণী পদ্মপুরাণ


 ৫. হজরত মহম্মদের আবির্ভারে ভবিষ্যদ্বাণী



ভবিষ্যপুরাণ, প্রতিসর্গ, তৃতীয় পর্ব, ৩/৩/৫

অথর্ববেদ, কান্ড ২০, সুক্ত ১২৭, মন্ত্র-১-৩ 


৬. যীশু – ভবিষ্যপুরাণ।

 ৭. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্বয়ং অবতার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের ভবিষ্যদ্বাণী (৩৭৯ পৃষ্ঠায় শাস্ত্রের ভগবত্তা-প্রমাণ ও ভবিষ্যদ্বাণী দ্রষ্টব্য)।


 ৮. বর্তমান যুগ, কলিযুগের লক্ষণ সম্বন্ধে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী।


 শ্রীমদ্ভাগবত :::


“কলিযুগে শুধুমাত্র বিত্তকেই (টাকাকেই) মানুষদের বংশাভিজাত্য, সদাচার ও সগুণাবলীর লক্ষণ বলে গণ্য করা হবে। শুধুমাত্র ক্ষমতার ভিত্তিতেই ধর্ম ও ন্যায় প্রযুক্ত হবে।”

(যেভাবে হােক ব্রিটেন-আমেরিকা বর্তমানে ধনীদেশ হওয়ায় বিশ্ববাসী তাদের শ্রেষ্ঠ মনে করে তাদের অনুকরণ ও অনুসরণে ব্যস্ত)। 


“নারী ও পুরুষ শুধুমাত্র বাহ্য আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে একত্রে বসবাস করবে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের সাফল্য নির্ভর করবে প্রতারণার উপর।


 যৌন দক্ষতার ভিত্তিতেই পুরুষত্ব ও নারীত্বের বিচার হবে এবং শুধুমাত্র পৈতা ধারণের মাধ্যমেই কোন ব্যক্তি ব্রাহ্মণ বলে পরিচিতি লাভ করবেন।”


 “যিনি বাক্-চাতুর্যে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবেন, তিনিই বিজ্ঞ পন্ডিত বলে বিবেচিত হবেন।........ কোন মানুষ যদি দরিদ্র হয়, তাহলে তাকে অসাধু বলে গণ্য করা হবে এবং দম্ভ ও কপটতাকেই গুণ বলে স্বীকার করা হবে।


 মৌখিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে। উদরপূর্তিই হবে জীবনের লক্ষ্য। ধৃষ্ট (প্রতারক) ব্যক্তিকে সত্যনিষ্ঠ বলে গণ্য করা হবে।”



লিঙ্গ পুরাণ ঃ 


“চোরেরা রাজা হবে (বা রাষ্ট্রনেতা হবে), রাজারা চোরে পরিণত হবে।” 


“নীচাশয় ব্যক্তিরা সামান্য কিছু বিদ্যা অর্জন করে (ঐ বিদ্যার সদুপযােগের জন্য প্রয়ােজনীয় সদ্গুণাবলী অর্জন না করেই) ঋষি-মুনির মতাে সম্মানিত হবে।”

 (এমনকি পরমাণু বােমা আবিষ্কার ও তৈরী করেছেন এমন বিজ্ঞানীরাও এখন ঋষির মতাে সম্মানিত) 


“বহু মানুষ থাকবে গৃহ-আবাসহীন, তারা দেশ-দেশান্তরে ঘুরতে থাকবে।” ‘শিকারী প্রাণীরা আরাে হিংস্র হবে।” 

“মাতৃগর্ভেই ভ্রণ-শিশুদের হত্যা করা হবে।”


“মানুষ কাল্পনিক মতবাদগুলি মেনে নিতে পছন্দ করবে।” 


“মানুষ অত্যন্ত ইর্ষাপরায়ণ, হিংসুটে স্বভাবের হয়ে যাবে।” 

“যুবতী-তরুণীরা কুমারী অবস্থাতেই দেহ ব্যবসায়ে নিয়ােজিত হবে।” “অনিয়মিত, অসংগতিপূর্ণভাবে বর্ষণ হবে।”

 “ভিক্ষুক ও বেকারের সংখ্যা প্রচুর রূপে বৃদ্ধি পাবে।”

 “প্রত্যেকেই কঠোর ও অশালীন ভাষা প্রয়ােগ করবে” (এমন কি দেশে দেশে জন-নেতাদের পারস্পরিক নিন্দাবাদ, কাদা ছােড়াছুড়ি এখন নিত্যকার দৃশ্য)। 

“মানুষ কেবল অর্থ উপার্জনে আত্মনিয়ােগ করবে। সবচেয়ে ধনীরাই রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করবে।” 

“জলের সংকট দেখা দেবে।” 

“পূর্বেই রান্না করা খাদ্য অত্যন্ত সহজ প্রাপ্য হবে।”একমাস থেকে ২-১ বছরের রান্না করা বাসি খাবার ফাস্ট ফুড’নামে বিভিন্ন রঙীন মােড়কে সারাবিশ্বে প্রতিনিয়ত বিকোচ্ছে এখন।


পৃথিবীর কোনাে চিন্তাবিদ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না আগামী ১০০ কি ১০০০ বছর পর পৃথিবীর সভ্যতা কেমন হবে। হাজার হাজার বছর পূর্বের ভবিষ্যদ্বাণী অভ্রান্তভাবে মিলে যাওয়া শাস্ত্রীয় জ্ঞানের অভ্রান্ততাকে বিতর্কহীনভাবে প্রমাণ করে।রােগীরা নয়, সুস্থমস্তিষ্কের বিচারবুদ্ধিশীল মানুষ উপলব্ধি করতে পারেন যে শাস্ত্র বিশ্বাসের বস্তু নয়, প্রামাণিক অধ্যাত্মবিজ্ঞান, যা মানবসমাজের অনুসরণীয়।



আধুনিকতম ট্রেন্ডঃ প্রথিতযশা বিজ্ঞানীদের ধর্মগ্রহণ।


 রজার পেনরােজের মতাে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী যখন ধর্মপ্রচারক হন, তখন অনেকে বিস্মিত হন, কিন্তু সত্যকে জানার তৃষ্ণা একজন অকৃত্রিম সত্যানুরাগীকে যদি স্কুল জড়জ্ঞানের পরিধি থেকে বিমুক্ত করে শাশ্বত পারমার্থিক সত্যের উপলব্ধি লাভে উদ্দীপিত করে, তাহলে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই, বরং সেটিই হওয়া উচিত জীবনের স্বাভাবিক গতি। সন্ন্যাসীসুলভ বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বলতে দ্বিধা করেন না তাঁর যা-কিছু আবিষ্কার, সব পরমেশ্বর ভগবানের প্রেরণায় ঃ "Whatever field Thave ploughed, I have ploughed as a humble instrument in the hand of Providence; my failures are my own;

........But my success, if any are to be attributed to the guidance of the Allknowing, who chose me to be His humble instrument. After all, a Divinity shapes our end."

-Acharya P.C. Roy


 বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু জীবন সায়াহ্নে তার আত্মজীবনীতে আক্ষেপ করে বলেন, কেবল জড়ের পিছনে ছুটে তিনি তার জীবনী শক্তির বৃথা অপচয় করেছেন। বর্তমানে, ভক্তিবেদান্ত ইনস্টিটিউটে পাঁচশাের বেশি কৃষ্ণভক্ত বিজ্ঞানী সদস্য রয়েছেন, যাঁদের সবাই বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ডক্টরেট। এই প্রবণতা বিজ্ঞানীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান।।








Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION