Follow

সনাতন ধর্ম : কালের গন্ডির অতীত ,অন্য সব ধর্ম সনাতন ধর্মেরই অংশ। PAGE-137

  সনাতন ধর্ম : কালের গন্ডির অতীত ,অন্য সব ধর্ম সনাতন ধর্মেরই অংশ। PAGE-137



ইসলাম, খ্রীস্টান ইত্যাদি ধর্মগুলির উদ্ভবের তারিখ আছে, এক একজন ধর্মপ্রবক্তার দ্বারা এগুলি প্রচারিত হয়েছে। পক্ষান্তরে সনাতন ধর্মের উদ্ভবের কোন কাল-সীমা নেই, কোন একজন ধর্মপ্রবক্তার দ্বারাও এটি উদ্ভাবিত নয়। কালানুক্রমঃ ইসলাম ১৪০০ বছর পূর্বে খ্রীস্টান ধর্ম ২০০০ বছর পূর্বে; বৌদ্ধ ধর্ম২৫০০ বছর পূর্বে;ভগবদগীতা –৫০০০ বছর পূর্বেবৈদিক শাস্ত্র —কোটি কোটি বছর।


ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে তিনি এই গ্রহে মনুকে ভগবদ্গীতার দিব্যজ্ঞান প্রদান করেন (৪/১);শাস্ত্রানুসারে অন্ততঃপক্ষে সেটি ১২ কোটি ৪০ লক্ষ বছর পূর্বে। এর পর এখন থেকে ৫০০০ বছর পূর্বে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পুনরায় অর্জুনকে সেই একই জ্ঞান দান করেন। 


বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও গ্রহীতার স্তর অনুসারে শিক্ষার বিভিন্নতা। 


পৃথিবীর সমস্ত ধর্মগ্রন্থই ভগবৎ-চেতনা বিকাশের সহায়ক, তাই সেগুলিও বৈদিক শাস্ত্র (বেদ = জ্ঞান), তবে সেখানে গ্রহীতার নৈতিক ও পারমার্থিক চেতনার মান অনুসারে জ্ঞানের মাত্রার তারতম্য রয়েছে। বেদ ও বেদানুগ শাস্ত্রে, বৈদিক শাস্ত্রের নির্যাস ভগবদ্গীতা (সমস্ত উপনিষদরূপ গাভীর দুগ্দ্ধমৃত স্বরূপ —শঙ্করাচার্য) এবং শ্রীমদ্ভাগবতে (নিগমকতরাের্গলিতফলং – বেদাদি শাস্ত্ররূপ কল্পতরুর সুপক্ক, গলিত ফল) শাশ্বত পূর্ণ জ্ঞান প্রকাশিত হয়েছে।


 যীশু বাইবেলে বলেন, “তােমাদের কাছে আমার অনেক কিছুই বলবার আছে, কিন্তু এখন তােমাদের তা শােনবার সামর্থ্য নেই। পক্ষান্তরে ভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন যে তিনি বিজ্ঞানসহ জ্ঞানের কথা বলবেন, যা জানা হলে আর কিছুই জানার অবশিষ্ট থাকে না” “যজজ্ঞাত্বা নেহভূয়ােঃ অন্যজ জ্ঞাতব্য অবশিষ্যতে।



“দৃষ্টান্তস্বরূপ, আমাদের কাছে একটি পকেট ডিকশনারি রয়েছে, আর একটি বিপুলায়তন চেম্বারস ডিকশনারি রয়েছে। খ্রীস্টান ধর্ম, ইসলাম ধর্ম প্রভৃতি স্বীকৃত ধর্মগুলি পকেট ডিকশনারির মতাে যেখানে শ্রোতাদের চেতনার স্তর অনুসারে আংশিকভাবে পরম সত্যের প্রকাশ রয়েছে, এবং ভগবদ্গীতার মতে সনাতন ধর্মের শাস্ত্রগুলি চেম্বার ডিকশনারীর মতাে (যেখানে পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে যা জানলে আর কিছু জানবার থাকেনা)।


 Come', Go', 'Eat' প্রভৃতি ছােট ছােট শব্দগুলি পকেট ও চেম্বার —উভয় ডিকশনারিতেই রয়েছে।ঠিক সেইরকম সত্ত্বগুণ উন্মােচক বিষয়গুলি— যেমন চুরি করিও না’, ‘প্রত্যেককে ভালবাস, তােমার শত্রুর প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন কর’, সর্বদাই সকলের কল্যাণ কর’ইত্যাদি নির্দেশগুলি সব ধর্মশাস্ত্রেই দেখতে পাওয়া যেতে পারে।


 কিন্তু বড় বড় শব্দ, যেমন— Cataclysm' 'Corroborate'-এগুলি পকেট ডিকশনারিতে পাওয়া যাবেনা, সেজন্য চেম্বারস ডিকশনারি দেখতে হবে। ঠিক তেমনি এইসমস্ত বিষয়বস্তু, যেমন বিশুদ্ধসত্ত্ব’, অহৈতুকী— অপ্রতিহতা ভগবদ্ভক্তি—ভগবানের ইচ্ছার কাছে পরিপূর্ণ নিঃস্বার্থ আত্মনিবেদন’,সমস্ত জড় সুখ বর্জন করে দিনের ২৪ ঘন্টাই ভগবৎ চিন্তায় ও ভগবৎ-সেবায় তন্ময় থাকা’, এমনকি মুক্তিলাভেরও আকাঙ্খ-শূন্য হয়ে জন্ম জন্ম ধরে ভগবানের সেবা করার অভিলাষ'—এই ধরণের অতি উচ্চস্তরীয় বিষয়বস্তু কেবল সনাতন ধর্মের সবচেয়ে উন্নত শাস্ত্রগুলির মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়—যেমন শ্রীমদ্ভাগবতে।” – ভগবদ্গীতার সারতত্ত্ব, পৃ.৫০।


বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্র জ্ঞানের স্তর অনুসারে শিক্ষার বিভিন্নতা। 


শাস্ত্র ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু উদ্দেশ্য এক আত্মার শাশ্বত ধর্ম, সুপ্ত প্রেমপূর্ণ ভগবৎ-সেবাবৃত্তিকে পুনর্জাগরিত করা। বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে, চার লক্ষ প্রজাতির মানুষ রয়েছে অর্থাৎ জীববিজ্ঞান অনুসারে মানুষ একটি প্রজাতি হলেও তাদের চেতনাগত অবস্থা অনুসারে তাদের চার লক্ষ স্তরবিভাগ রয়েছে।


 প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য অধ্যাত্ম বিজ্ঞানের অ,আ,ক,খ, উন্নত শিক্ষার্থীদের  জন্য – পূর্ণ জ্ঞান। উপলব্ধির সামর্থ্য অনুসারে জ্ঞান-এর বিভিন্নতা। এজন্য ভগবান সম্বন্ধে  ধারণার পার্থক্য। প্রাথমিক উপাসকের পক্ষে শুদ্ধ ভগবদপলব্ধি লাভ কঠিন। যেমন ক্লাস সেভেনে বীজ গণিতের এ-বি-সি-ডি পড়ানাে হয়, স্নাতক স্তরে পড়ানাে হয় ইনটোগ্র্যাল  ক্যালকুলাস, ডিফারেনশিয়াল ক্যালকুলাস।।


পূর্ণ-ভগবদুপলব্ধি হচ্ছে কৃষোপলব্ধি। ভগবান শাশ্বত, এবং তাঁর নাম-রূপও শাশ্বত, চিন্ময়। উপলব্ধির ক্ষমতা না থাকায় অন্যান্য দেশে শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপের বা ভগবত্তার বা কেবল মৌল বৈশিষ্ট্যগুলি প্রকাশিত হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ-প্রেরিত যীশু প্রভৃতি প্রতিনিধিদের দ্বারাযেমন ১. ভগবান সর্বশক্তিমান ২. মহান ৩, সর্বজ্ঞ ৪. স্বরাট বা পূর্ণস্বাধীন, অসমােৰ্দ্ধ, ৫. বিশ্বনিয়ন্তা ৬. সর্বজীবের পালক, সুহৃদ ৭. সর্বব্যাপী ৮.ভগবদ্ধামে স্ব-স্বরূপে বিদ্যমান - ইত্যাদি। কিন্তু সেখানে ভগবানের নাম রূপ-গুণলীলা —এই নিগঢ় বিষয়গুলি সম্বন্ধে বিশেষ তথ্য নেই, কেননা গ্রাহকেরা তার অধিকারী নয়।।


ভারতবর্ষে ভগবান স্বয়ং স্বরূপে আবির্ভূত হন এবং নিজেকে প্রকাশ করেন। কেউ যখন নিজের সম্বন্ধে বিশ্লেষণ করেন, তখন তাঁকে সবচেয়ে ভালভাবে জানা যায়। 


ভগবদ্গীতায বলা হয়েছে শ্রীভগবান উবাচ—ভগবান বললেন। এইভাবে, ভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং নিজের সম্বন্ধে বিশ্লেষণ করেন। পৃথিবীতে অন্য কোন শাস্ত্রেই সরাসরি ভগবানের উক্তি নেই । সারা বিশ্বের মানুষ তাই ভগবদগীতার প্রতি আকৃষ্ট। 


ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ সারা পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে আহ্বান করেন----- মন্মনা ভব মক্তোঃ (আমার চিন্তা কর (কৃষ্ণভাবনাময় হও)), আমার ভক্ত হও। সর্বত্র, সকল শাস্ত্রে ধর্ম পালনের নির্দেশ। 


কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরলতম নজির স্থাপন করে পরম প্রেমসন্বিত পুরুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সারা বিশ্বের সব মানুষের প্রতি চরম আহ্বান জানান ঃ “তােমাদের সংস্কার দেশাচার-ধর্মাচার - প্রাতিষ্ঠানিক নৈমিত্তিক (Institutional / methodical) সমস্ত রকম ধর্মপন্থা বর্জন কর, আর কেবলমাত্র, একমাত্র আমার শরণাগত হও’— সর্বধর্মান পরিত্যজ্য (Abandon all varieties of religion) মা-একং শরণং ব্রজ (Surrender unto Me)। 


ভগবদগীতা অ্যাজ ইট ইজ' -এর মাধ্যমে পরমপুরুষ ভগবানের সেই বাণী বিশ্ববাসী শ্রবণ করার পর বিভিন্ন দেশ জাতি-ধর্মের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষ পরিপূর্ণরূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হচ্ছেন, আত্মনিবেদন করছেন। 


ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে পর্যন্ত পালিত হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী। আকৃষ্ট নেলসন মেন্ডেলার মতাে বিপ্লবী। ইন্টারন্যাশন্যাল সােসাইটি ফর কৃষ্ণ শাসনেস, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সঙঘ তাই একটি সাধারণ সংঘ বা প্রতিষ্ঠান মাত্র নয়; পৃথিবীর সমস্ত ধর্মশাস্ত্র সহ ভগবদ্গীতার সার-নির্যাসের ভিত্তিতে আধারিত বিশ্বমানবের প্রকৃত স্বরূপধর্মে, কৃষ্ণচেতনায় স্থিত হওয়ার দিব্য অপ্রাকৃত মিলনক্ষেত্র, প্রকৃত রাষ্ট্রসংঘ, যেখানে কেউ ইহুদী-খ্রস্টান-হিন্দু-ফরাসী-চীনা নয়, সকলেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আত্মনিবেদিত প্রেমশীল সেবক।


 শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রূপে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণই ৫০০ বছর পূর্বে বিশ্ববাসীকে জানাতে আসেন সেই অপরিবর্তনীয় শাশ্বত সনাতন সত্য : জীবের স্বরূপ হয় কৃষ্ণের নিত্য দাস।





Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION