Page

Follow

জীবের আত্মার শাশ্বত, অবিচ্ছেদ্য, স্বরূপগত ধর্ম। কৃষ্ণচেতনাই আত্মার সহজাত স্বরূপগত চেতনা। Page-135

  জীবের আত্মার শাশ্বত, অবিচ্ছেদ্য, স্বরূপগত ধর্ম।

কৃষ্ণচেতনাই আত্মার সহজাত স্বরূপগত চেতনা। 


ইলেকট্রন পরমাণুর অংশ। এই ইলেক্ট্রনকে বিচ্ছিন্ন করলে সে তার উৎসে ফিরতে চায়। — তৈরী হয় বৈদ্যুতিক প্রবাহ। এই নিয়মের ভিত্তিতেই সক্রিয় হয় ইলেকট্রিসিটি -চালিত যন্ত্রগুলি।।
স্পিরিটন বা চিৎকণা-বিভুচেতন, পরম চেতন পরম ব্রহ্ম, অর্থাৎ পরমেশ্বর ভগবানের শাশ্বত, সনাতন অবিচ্ছেদ্য অংশ (মম-এব-অংশ জীবলােকে জীবভূত সনাতনঃ -ভঃ গী ১৫.৭)।


 সেজন্য ভগবানের সংগে প্রত্যেক জীবাত্মার নিত্য অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। জীবাত্মা অণু, ভগবান বিভু;ভগবান পূর্ণ, জীব তাঁর অংশ, সেজন্য স্বরূপত জীবাত্মা ভগবানের নিত্য সেবক (Eternal servitor) : 


জীবের শাশ্বত স্বভাবসিদ্ধ প্রবণতা ভগবানের সেবা করা, ভালবাসা, ভগবৎ-সান্নিধ্যে আনন্দময় থাকা। সেব্য ভগবান, সেবক জীব ও প্রীতিময় সেবা ভগবদ্ভক্তি (Loving devotional service) —তিনটি সনাতন, শাশ্বত। 


জড় জগতে পতিত হলে বদ্ধজীবের চেতনা জড়গুণে কলুষিত হয়ে পড়ে, ফলে জড় উপাদানে তৈরী নশ্বর দেহযন্ত্র বা বডি-মেশিনটিকে সে ‘আমি’ বলে মনে করতে থাকে। 


বিভিন্ন দেহে সে ক্রমাগত লক্ষ লক্ষ বার দেহান্তরিত হতে থাকে, আর প্রত্যেক দেহে থাকার সময় সেই দেহের ভিত্তিতে নিজেকে পরিচিত করে — আমি—জলচর, আমি গাছ, আমি গাধা, আমি হাতি’ -তারপর মানব দেহ পেলে— 'আমি জার্মান, আমি রাশিয়ান, আমি যুবক, আমি বৃদ্ধ' ইত্যাদি। সবই অস্থায়ী ও পরিবর্তনশীল পরিচয়। 

প্রকৃতি দেহগুলি বার বার ধ্বংস করার মাধ্যমে সেই মিথ্যা পরিচয় ভেঙে দেয়। মােহ গভীর হলে সে নিজেকে জড়বস্তুর বিক্রিয়ায় উদ্ভুত মনে করে।।


চেতনা যখন ভক্তিযােগের প্রভাবে পূর্ণরূপে বিধৌত, কুলষমুক্ত  হয়, তখন নির্মল , পবিত্র জীবাত্মার শাশ্বত স্বরূপগত ধর্ম অন্তরস্থ শুদ্ধ ভগবৎ-ভক্তি (Pure devotional Service) , ভগবৎ-প্রেম বা কৃষ্ণপ্রেম পুনর্বিকশিত হয়।


 কৃষ্ণভক্তি জীবের অন্তরের নিত্য সহজাত ধর্ম ;এটি সাধ্য (Attainable) নয়; কেবল চিত্ত ময়লামুক্ত হলেই এটি সুপ্ত অবস্থা হতে উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হয়ে পড়ে, ঠিক যেমন মেঘমুক্ত হলে রাতের আকাশে প্রকাশিত হয় দ্যুতিময় চন্দ্র।


 সেইজন্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রচিত শিক্ষাষ্টকম-এর প্রথম শ্লোকঃ চেতােদর্পণ মার্জনম ....... চিত্ত বা চেতনা রূপ দর্পণটি মার্জন করা কলুষমুক্ত করা। শুদ্ধ চিত্তে উদিত হয় দিব্য ভগবৎ প্রেম (নিত্য সিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধ্য কভু নয়,  শ্রবণাদি শুদ্ধ চিত্তে করয়ে উদয় )।


 স্বরূপগত ধর্মে স্থিত হলেই আত্মা জড় সংসারে আবর্তনরূপ দাবানলে দগ্ধ অবস্থা হতে বিমুক্ত হয় (ভবমহাদাবাগ্নি নির্বাপনম) এবং ফিরে পায় তার শাশ্বত আনন্দমগ্ন অবস্থা, চিরন্তন কালের জন্য (আনন্দাম্বুধিবর্ধনং প্রতিপদং পূণামৃতাস্বাদনম)। 




আত্মার নিত্য ধর্ম বা স্বভাব-প্রকৃতির উদ্বোধনের জন্য ধর্মাচার, নৈমিত্তিক ধর্ম, বিভিন্ন ধর্মপন্থাঃ


পারমার্থিক বিজ্ঞান-গ্রন্থ ভগবদগীতার  অষ্টম অধ্যায়ের শুরুতে ব্রহ্ম কি ও অধ্যাত্ম কি —অর্জুনের এই প্রশ্নের উত্তরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে অবিনশ্বর, শাশ্বত চিন্ময় (অ-জড়, চেতন) জীবসত্তাকে বলা হয় ব্রহ্ম, এবং তার শাশ্বত, চিরন্তন বা সনাতন স্বভাব-প্রকৃতিকে (elernal nature) বলা হয় অধ্যাত্ম (স্বভাবম অধ্যাত্ম উচ্যতে - ৮/৩)।



 জড়জগতের পরিবেশে পতিত জীবাত্মাকে যখন স্থুল  ও সূক্ষ্ম জড় দেহে (Gross and Subtle bodies) আচ্ছাদিত হয়। তখন তার স্বরূপচেতনা, তার ভগবৎ-চেতনা বা কৃষ্ণচেতনা বিলুপ্ত হয়। চেতনা কলুষিত হয়। 


কেমিষ্ট্রি, বায়ােলজি বা ফিজিক্সের সাহায্যে জীবাত্মার অধ্যাত্ম বা শাশ্বত শুদ্ধ-স্বভাব —ভগবৎ-প্রেমশীলতার বিকাশ সম্ভব নয়। এজন্য রয়েছে যােগ পন্থা। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, মন্মনা ভব—---'আমার চেতনাময় হও’, ময়ি-আসক্তমনাঃ – ----‘আমার প্রতি আসক্ত হও'।


 জড় আসক্তি, জড় বিষয় চিন্তার পরিবর্তে কৃষ্ণাসক্তি, কৃষ্ণচিন্তার ফলে চেতনা নিষ্কলুষ, পবিত্র হয়, জাগরিত হয় বিশুদ্ধ স্বভাব-ধর্ম।।





জড় ভােগাসক্ত, মােহগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুদ্ধভগবৎচেতনার, আত্মার স্বরূপধর্মের বিকাশের জন্য রয়েছে নানা নিয়ম-পদ্ধতি, আচার-অনুশীলন । এগুলােকেও ‘ধর্ম’ নামে অভিহিত করা হয়, তবে এগুলাে নৈমিত্তিক ধর্ম , অর্থাৎ  উদ্দেশ্য-ভিত্তিক ধর্ম;সেই নিমিত্ত বা পরম উদ্দেশ্য হচ্ছে তার অন্তরস্থ সুপ্ত কৃষ্ণচেতনার বিকাশ। যেমন বর্ণাশ্রম ধর্ম মানুষ তার নিজ গুণ-কর্মানুযায়ী নির্ধারিত বর্ণ (ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ্য-শূদ্র) ও আশ্রম (ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বাণপ্রস্থ, সন্ন্যাস) অনুসারে নির্দিষ্ট বৃত্তি (স্বধর্ম) গ্রহণ করে পরমেশ্বর ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য কর্ম করবে, এটি ভগবৎ প্রণীত নিয়ম। এছাড়া আরও ধর্ম রয়েছে, যেমন কুলধর্ম, পিতৃধর্ম, বিবাহ-আদি ষােলটি সংস্কার ইত্যাদি -সবই নৈমিত্তিক ধর্ম, ভগবৎ-চেতনা বিকাশের সহায়ক।


কিন্তু এইসব ধর্মও মানুষ খেয়ালখুশিমত তৈরী করতে পারেনা। ধর্মংতু সাক্ষাদ ভগবৎ প্রণীতম – যথার্থ ধর্মনীতি প্রণীত হয়েছে পরমপুরুষ ভগবানের দ্বারা। ধর্ম ভগবৎপ্রণীত আইন। তিনি স্বয়ং বা তার প্রতিনিধিদের দ্বারা মানবসমাজে ধর্ম-প্রচার করেন। 


শাস্ত্রে পূর্বেই তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ে ধর্মাচারের বিভিন্নতা থাকলেও মৌল নীতি এক : বিভিন্ন নৈমিত্তিক ধর্ম বা ধর্মাচারের মাধ্যমে নিত্য ধর্মেব জাগরণ। 


বিভিন্ন দেশ-জাতির মানুষ বিভিন্ন চেতনার স্তরে রয়েছে। জীববিজ্ঞানে মানুষ একটি প্রজাতি হলেও অধ্যাত্ম বিজ্ঞান অনুসারে মানুষ চার লক্ষ প্রজাতির— অর্থাৎ চার লক্ষ ধরনের চেতনার স্তরের মানুষ রয়েছে। এদের গ্রহণ বা পালনের ক্ষমতা অনুসারে বিভিন্ন দেশ-জাতিতে ধর্মোপদেশের বিভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু সব ধর্মের চরম উদ্দেশ্য এক — শুদ্ধ ভগবৎ-প্রেম লাভ।


Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline