Follow

স্পিরিটন বা আত্মার ধর্ম,আত্মার প্রকৃত ধর্ম কি ||Page-134

  স্পিরিটন বা আত্মার ধর্ম,আত্মার প্রকৃত ধর্ম কি 



 প্রথমত: অবিনশ্বরত্ব – আত্মা বা স্পিরিটন অবিনশ্বর (Indestructible Imperishable); কোন জড় উপায়ে, আগুন দ্বারা, অস্ত্র প্রয়ােগ করেও আত্মা বা স্পিরিটনকে ধ্বংস করা যায় না, ঠিক যেমন ধ্বংস করা যায় না পরমাণুকণা ইলেকট্রন, প্রােটন বা নিউট্রনকে।


দ্বিতীয়ত, ইলেকট্রন স্রোতকে ব্যবহার করে যেমন একটি রােবট বা কমপিউটারকে সক্রিয় করা হয়, বাল্ব জ্বালানাে হয়, বা পাখা-এসি-ফ্রীজ -মাইক্রোওভেন সহ হাজার রকমের ইলেকট্রনিক যন্ত্র চালানাে হয়, তেমনি চেতন বস্তু স্পিরিটন লক্ষ লক্ষ প্রজাতির দেহযন্ত্র বা বডি-মেশিনকে সচল, সক্রিয় রাখে।


 অজ্ঞ জীবজন্তু ও মানুষেরা এইসব নশ্বর ক্ষণস্থায়ী দেহযন্ত্রগুলিকেই ব্যক্তি বলে ভূল করে। দেহ-যন্ত্রগুলি জড় উপাদান দিয়ে তৈরী (কার্বন, ক্যালসিয়াম, ফসফেট, জল ইত্যাদি), আর জড় উপাদানগুলির কোন ব্যক্তিত্ব (Personality) নেই।


তৃতীয়তঃ আত্মা বা স্পিরিটনের মৌল স্বভাবগত কিছু প্রবণতা, বৃত্তি বা ধর্ম রয়েছে। 


১, সেবা : প্রত্যেকেই কারও না কারও সেবা করে থাকে –পিতামাতা সন্তানের, সন্তান পিতামাতার, বন্ধু বন্ধুর, অফিসকৰ্মী তার বসের, রাষ্ট্রপতি জনগণের। 


২. ভালবাসা : চেতন জীব, আত্মা অন্যদেরকে ভালবাসবেই এই ভালবাসা পাঁচরকমের সম্পর্কে প্রকাশিত হয় (১) শান্ত (Neutrality), (২) দাস্য—Servitorship), (৩) সখ্য বা বন্ধুত্ব(Friendship), (৪) বাৎসল্য (Parenthood) এবং (৫) মাধুর্য (Conjugal love)। 


মানুষ সহ এমনকি নিম্নতর প্রজাতির মধ্যেও বিভিন্নভাবে ভালবাসা অভিব্যক্ত হয়। কোন কোন মানবাত্মার ভালবাসা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বমানবতা, এবং তারপর সর্বজীব ও সকলের উৎস পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি অভিব্যক্ত হয়। 


৪. আনন্দ-তৃষা : প্রত্যেক চিৎ-পরমাণু আত্মার স্বভাবই হচ্ছে অনুক্ষণ আনন্দমগ্ন থাকা বিশেষতঃ অন্যদের সাহচর্যে। জড় – জড়ই, নিস্পৃহ, নিথর।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয় বিনােদনে, খেলাধুলা, সঙ্গীত, কাব্য-সাহিত্যচলচ্চিত্র ;-মেলা-উৎসব-আমােদ-প্রমােদে । আত্মা স্বরূপতঃ আনন্দময়, সেজন্য নানা কিছুর মাধ্যমে সে প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষণ আনন্দমগ্ন থাকতে চায়।।

জড় পরিবেশে, জড়জগতে পতিত হলে

 আত্মার শুদ্ধ চেতনা আচ্ছাদিত হয়, স্বভাব প্রকাশিত হয় বিকৃতরূপে ঃ 


 আত্মা জড়ের ভিন্নধর্মী; তাই জড় পরমাণু দিয়ে তৈরী এই জড়জগৎ শাশ্বত চিন্ময় আত্মার স্বাভাবিক পরিবেশ নয়। কিরণ কণিকারাশি যেমন পাহাড়, বনানী, সমুদ্র—সর্বত্র প্রতিফলিত হয়, কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই জানে যে পাহাড়-সমুদ্র কিরণ রশ্মির উৎস নয়। —উৎস নিত্য জ্যোতির্মান সূর্য। 


তেমনি চিৎকন আত্মসমূহের শাশ্বত আলয় চিন্ময় জগৎ, ভগবদ্ধাম—জড়জগৎ নয়। আত্ম-সমূহ জড়জগতে পতিত হলে – জড় পরিবেশে, জড় গুণে (সত্ত্ব,রজ,তম) তাদের চেতনা কলুষিত হয়ে পড়ে, ফলে স্বভাব প্রকাশ পেতে থাকে বিকৃত রূপে।


 যেমন (১) সেবা পরিবর্তিত হয় প্রভুত্ব আকাঙ্খায় ;এজগতে প্রতিটি জীব, মানুষ অন্যান্যদের উপর প্রভুত্ব করতে চায়;

(2) ভালবাসা পরিবর্তিত হয় বিকৃত কাম ও স্বার্থপরতায়;

(৩) শুদ্ধ ভগবৎ প্রেম, ভগবানের দিব্য সান্নিধ্য ও তার সাথে প্রীতিবিনিময় ও উৎসব মুখরতায় আনন্দময়তা পরিবর্তিত হয় বিকৃত আমােদ-প্রমােদে, বিকৃত রুচির সঙ্গীতকাব্য-সাহিত্য, এমনকি নেশা-মাদকতায়।



Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION