Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা || মানুষের ভারবহনে অক্ষম হয়ে পড়ছে পৃথিবী।PAGE-12

  মানুষের ভারবহনে অক্ষম হয়ে পড়ছে পৃথিবী।

PAGE-12

 আর্থকান্টবিয়ার হিউম্যান এ্যানি মাের’ -অর্থাৎ পৃথিবী আর মানুষের ভার বহন করতে পারছে না,  মিলেনিয়াম ইকোসিস্টেম অ্যাসেসমেন্ট বা সহস্রাব্দ পরিবেশ মূল্যায়ন নামে ৯৫টি দেশের ১৩৬০ জন বিশারদবিজ্ঞানীরা বিশ্বজুড়ে একটি পরিবেশ সমীক্ষা করেন।




জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার বিশারদ ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থার বিজ্ঞানীরা এতে অংশ নেন।


বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী উদ্ধৃত করে রয়টার জানায়, "Humans are damaging the planet at an unprecedented rate and raising risks of abrupt collapses in nature, that could spur disease, deforestation or “dead zones" in the seas......" 

বিশেষজ্ঞরা তাদের ব্যাপক সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে বলেন যে গত ৫০ বছরে পথিবীর। মানুষ নির্মল বায়ু থেকে শুরু করে বিশুদ্ধজল—পরিবেশের এই জীবনরক্ষাকারী মৌল উপাদান-গুলির দুই-তৃতীয়াংশ দূষিত বা অতিমাত্রায় শােষণ করেছে। 


মিলেনিয়াম ইকোসিস্টেম অ্যাসেসমেন্টের ৪৫ জন সদস্যের বাের্ড সতর্কবাণী সহ বলেন, পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্যব্যবস্থায় মানুষের ক্রিয়াকলাপ এত প্রবল আঘাত হেনেছে যে এই গ্রহের পরিবেশ ব্যবস্থা পরবর্তী প্রজন্মসমূহকে আর রক্ষা করতে পারবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই।। 


বিশ্বের লাইফ সাপাের্ট সিস্টেম-এর উপর এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমীক্ষার ফলাফল অনুসারে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য মানুষের সভ্যতার উন্নতির চাপে ভয়ংকরভাবে বিপদাপন্ন।

 ইতিমধ্যেই পৃথিবীর ৩০ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে চলেছে। “গত ৫০ বছর মানুষ অত্যন্ত দ্রুত হারে ও ব্যাপক আকারে পরিবেশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটিয়েছে, মানবেতিহাসে কোন সময়েই যা এর আগে কখনাে হয়নি।


 ...এর ফলে পৃথিবীতে স্থায়ীভাবে জীব-বৈচিত্র্যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূরণ হবার নয়। তাঁরা সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে সমীক্ষার রিপাের্টে উল্লেখ করেন, “এই অবক্ষয়ের বিপর্যয়কর পরিণাম আরও লক্ষণীয়ভাবে ভয়ানক হয়ে উঠবে আগামী ৫০ বছরে ” 


("The harmful consequences of this degradation could grow significantly worse in the next 50 years") i

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সেক্রেটারী জেনারেল কোফি আন্নান বলেন যে এই সমীক্ষা প্রমাণ করছে, কিভাবে মানুষের কার্যকলাপ সারা বিশ্বে ব্যাপক আকারে পরিবেশকে বিপর্যস্ত করছে, এবং পৃথিবীর প্রাণের ধারক জীব-বৈচিত্র্য কি বিপজ্জনক হারে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।*




যেমন, ২০০৫-এ আবহাওয়ার খেয়ালিপনা লক্ষ্য করুন। বৃষ্টিতে বিশ্বরেকর্ড করে জলে ভাসল মুম্বাই —দুদিনে 950 mm বৃষ্টি হল, মৃত্যু হল কয়েক হাজার মানুষের। 


আমেরিকান গর্বকে স্রোতে ভাসিয়ে এল সমুদ্র ঝড় হ্যারিকেন রিটা, ২৫ হাজার আমেরিকান ঝড়-জলে মারা গেল, ধ্বংস হল গােটা শহর; লুটপাট-খুন-অপরাধ ঠেকাতে নামানাে হল ইরাক-ফেরত ৩০ হাজার সেনা। 



তারপর আমেরিকার নিউ অর্লিন্সে হ্যারিকেন ক্যাটরিনা। পূর্বাভাসে ভয় পেয়ে গাড়ীতে পরিবার ও জিনিসপত্র ভরে পালানাে শুরু হল। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি ট্রফিক জ্যাম। অচিরেই সেটি বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রাফিক জ্যামে পরিণত হল—১২০ কি.মি দীর্ঘ গাড়ির লাইন! 



গিনেস রেকর্ড। ২০০৬-এ জানুয়ারীতে দিল্লীতে বরফ-স্নাে-ফ্রস্ট পড়ল -৭০ বছরে যা দেখা যায়নি। উষ্ণতাতেও রেকর্ড গড়েছে উত্তর-পশ্চিম ভারত। সারা পৃথিবীতেই তৈরী হচ্ছে নানা আবহাওয়াগত বিশ্বরেকর্ড।


অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অব সায়েন্স অ্যান্ড সােসাইটি, ড্যানিয়েল সারউইজ একটি গবেষণাপত্রে দেখিয়েছেন যে মানুষের প্রকৃতি ধ্বংসকারী কার্যকলাপের ফলে বেড়ে গিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 


তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখিয়েছেন যে ১৯৬০ সালের সময় যখন পৃথিবীতে যেখানে বছরে গড়ে বড় আকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতাে ১০০টি করে, ২০০০ সালের পর সেই গড় বেড়ে হয়েছে ৫০০টি। সুপার সাইক্লোন, সুপারভূমিকম্প, সুপার সুনামি, সুপার বন্যা, সুপার হিটওয়েভ —এসবেই অভ্যস্ত হতে শুরু করছি। 


আমরা আধুনিক সভ্যতাগর্বী মানুষ। মরুভূমি বাড়ছে আয়তনে। সাহারা গত ৫০ বছরে বেড়েছে ৬৫ বর্গ কি.মি.। এখন ইউরােপে সাহারার বিস্তারের পথে পড়েছে ইতালী, স্পেন। ভারতে থর বাড়ছে বছরে প্রায় ১ কি.মি. করে।।



ভূমিকম্পের মতাে বিপুল মাত্রার প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও যে সভ্যতাগর্বী মানুষের হাতের অভ্রান্ত স্পর্শ রয়েছে, তুলে ধরা হয়েছে। সে কথা, সেই সাথে আধুনিক মানুষের অপরিমেয় নিষ্ঠুরতা ও হৃদয়হীনতার ইতিবৃত্ত।


২০০৭-এর জানুয়ারীতে রয়্যাল সােসাইটি অব লণ্ডনের প্রেসিডেন্ট, প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ব্রিটিশ অ্যাস্ট্রোনমার মার্টিন রীজ ভারতে এলেন এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশন্যাল সায়েন্স অ্যাকাডেমিতে ভারতের অগ্রগণ্য বিজ্ঞানীদের সভায় ভাষণ দিলেন। 


রীজের ভাষণে ছিল ভবিষ্যতের জন্য গভীর উৎকণ্ঠা ও আশা। এ নিয়ে তিনি একটি বই লিখেছেন সম্প্রতি – Our Final Century—অর্থাৎ আমাদের শেষ শতাব্দী। বিজ্ঞানীদের সমাবেশে রীজ বলেন, একবিংশ শতাব্দী বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে একটি ডিফাইনিং মােমেন্ট’,নির্ধারক মুহূর্ত, যেখানে পৃথিবীর, সভ্যতার ভবিষ্যৎ মানুষের হাতে, মানুষ সমৃদ্ধ হবেনা তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে, বলে দেবে এই শতাব্দী। 

তিনি বলেন,ইউরােপ-আমেরিকার শিল্প বিপ্লব পৃথিবীতে উষ্ণ গ্লোবাল ওয়ার্মিংএর সূচনা করেছে ও সেই ক্ষতি অব্যাহত। এখন ভারত, চীন, জাপান সহ সমগ্র এশিয়ায় শিল্পায়ন চলছে। এর ফলে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে শিল্প বিপ্লবের পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বায়ুমণ্ডলের কার্বনের পরিমাপ দ্বিগুণ হবে।


 ফলে রীজ বলেন, পরিবেশে যত কার্বন, ততই গুরুতর কোনাে পরিণতির দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। বর্তমানে শক্তি উৎপাদনে বিশ্ব ব্যয় করছে বছরে প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলার। (৩০০০,০০০,০০০,০০০ ডলার)।


রীজ আরও বলেন যে, পৃথিবীর শক্তিধর দেশগুলির মধ্যে ঠাণ্ডা যুদ্ধ হয়তাে শেষ হয়েছে ও পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়েছে। 'But the risk of nuclear devastation remains and new threats that have emerged are challenging and worrying.

" অর্থাৎ পারমাণবিক ধ্বংসের সম্ভাবনা আজও রয়েছে এবং নতুন নতুন যে বিপদের উদয় হয়েছে তা আশংকার কারণ। বিজ্ঞানীদের সভায় রীজ ব্যাখ্যা করেন যে বিজ্ঞান ‘বিনাইন’, নমনীয় না ডিভাস্টেটিং বা বিপর্যয়কর হবে, তা মানুষই ঠিক করতে পারে, সন্দেহ নেই। 


কিন্তু, বীজ বলেন, Science is advancing so fast, and is so much influential by commercial and poltical pressures, that nothing we can do makes any difference." stehts এত দ্রুত এগােচ্ছে, এবং বিজ্ঞান এখন এতটাই বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। যে, আমরা (বিজ্ঞানীরা) যা কিছুই করব না কেন, তাতে কোনই পার্থক্য সূচিত করবে না।”





Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline