Page

Follow

বিবর্তন বা অভিব্যক্তিমতবাদের কিছু মানব অঙ্গের বিষয়ে অসার যুক্তি || Page-119

  বিবর্তন বা অভিব্যক্তিমতবাদের কিছু মানব অঙ্গের বিষয়ে অসার যুক্তি


১. নিষ্ক্রিয় অঙ্গঃ মানুষের অ্যাপেনডিক্স





 অন্য জীবদেহে, যেমন গরুর দেহে এই অঙ্গটি হজমে সহায়তা করে, মানুষের দেহে এর এই কাজ নেই, এটি সত্যি। কিন্তু যে-অন্ত্রে এর অবস্থান, তার শুধু খাদ্য পরিপাক করাই একমাত্র কাজ নয়। অন্ত্রে খাদ্যনালীতে আসা খাদ্যবস্তু থেকে শরীরে সংক্রমণ ঘটা প্রতিরােধ করতে রয়েছে প্রতিরােধ ব্যবস্থা (Humoral immunity)। ইমিউনিটি তৈরী হয় যে লিমফয়েড টিস্যুতে, অ্যাপেনডিক্স প্রধানতঃ লিম্ফয়েড টিস্যুর  সমন্বয় – একে বলা হয় গ্যাট-অ্যাসােশিয়েটেড লিমফয়েডটিস্যু (GALT) , যা ভূক্ত দ্রব্যে ফরেন অ্যান্টিজেনকে সনাক্ত করার মাধ্যমে রােগ প্রতিরােধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষতঃ জন্মের পর শিশু অবস্থায় এই অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে; আর এ-সময়েই অ্যাপেনডিক্স সবচেয়ে বড় বয়ােবৃদ্ধির সাথে সাথে এটি ছােট হতে থাকে। খরগােসের ছানার অ্যাপেনডিক্স কেটে (Wk, Onatal appendectomy) দেখা গেছে, তাদের রােগ প্রতিরােধ শক্তির বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে  । খরগােস ও মানুষের মধ্যে ‘হিস্টোলজিক্যাল’ ও ‘ইমিউনােহিস্টো-কেমিক্যাল’ সাদৃশ্য রয়েছে, সেজন্য মানুষের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযােজ্য, বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন।


 আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা সেকেলে ধারণাকে নস্যাৎ করে উপস্থাপন করছে নূতনতর তথ্য। যেমন ডঃ মুব তাঁর 'Clinically Oriented Anatomy* বইয়ে অ্যাপেনডিক্স সম্বন্ধে জানাচ্ছেন : "In infants and children it has the appearence of a well-developed lymphoid organ and may have important immunological functions.


২. মানুষের ত্রিকাস্থিঃ লেজের অবশেষ?



 বিবর্তন যে কখনাে কখনাে শতাব্দী-সেরা হাস্যরসের বই হয়ে ওঠে, তা এইরকম যুক্তির জন্য মানুষের পূর্বপুরুষ লেজযুক্ত ছিল, লেজ খসে গেছে, তার প্রমাণ মেরুদন্ডের শেষ হাড় ত্রিকাস্থি। প্রশ্ন হল, লেজ-যুক্ত প্রাইমেট থেকে লেজহীন মানুষ হওয়ার অভিযাত্রায় কোটি কোটি জীব থাকবে যাদের লেজ ছােট হতে শুরু করেছে। অতএব পৃথিবীতে মেলার কথা ১ফুট বা ২-ফুট লেজের জীবাশ্ম। মিলতেই হবে, কেননা নিদর্শন লােপাট হবার কোন কারণ নেই। একটিও মেলেনি। 


নার্ভাস সিস্টেমের প্রান্ত-ধারক হিসাবে ত্রিকাস্থির গুরুত্ব রয়েছে, এখানে প্লেক্সাস রয়েছে যাকে যােগের ভাষায় বলা হয় মূলাধার। ভবিষ্যতের শারীর বিজ্ঞান আবিষ্কার করবে এর উপযােগিতার আরাে তথ্য। সে-পর্যন্ত, হারানাে লেজের ব্যর্থ সন্ধানে নিরত থাকুন উৎসাহী বিবর্তনবিজ্ঞানী। শরীরের ডিজাইনের ব্লুপ্রিন্ট রয়েছে জেনেটিক কোডে, সেই কোডে লেজ-খসার জন্য ঠিক প্রয়ােজনীয় অংশে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরিবর্তন আপনা থেকে ঘটল কিভাবে? শরীর কত সূক্ষ্ম, স্ত্রী ও পুরুষের চোখের আকারেও শৈল্পিক পার্থক্য দেখে ধারণা করা যেতে পারে।




৩. ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনঃ খাদ্যনালীর ক্রটি’ 

সায়েন্টিফিক আমেরিকান পত্রিকায় বিবর্তনবাদী এস. অলস্যাভিক অভিযােগ করেছেন, নাক থেকে যাওয়া শ্বাসনালী ও মুখ থেকে যাওয়া খাদ্যনালী পৃথক হলেই ভাল হত, আলজিহার ওখানে সংযােগ থাকায় মাঝে মধ্যেই খাদ্যকণা ঢোকে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীতে। এই ডিজাইনগত ত্রুটি  প্রমাণ করে, ভগবানের পরিকল্পনায় শরীরের সৃষ্টি নয়। ভাল কথা। এখন অলস্যাঙ্কির। ইচ্ছানুযায়ী  যদি ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের ঐরকম দুটি পৃথক নালী হতে শুরু করে, তাহলে কি

হবে?

• দুটি নালীর জন্য পৃথক জায়গা লাগবে। গলা হবে মােটা। সৌন্দর্য চলে যাবে।। 

• নাকে সর্দি বা সংক্রমণ হলে শ্বাস চালানাে যাবে না, মৃত্যু ঘটবে।।


• জোরে দৌড়ানাে যাবে না, কেননা নাকের সরু ছিদ্রের স্বল্প বাতাস প্রয়ােজনীয় অক্সিজেনের যােগান দিতে পারবে না (এসময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়)। না হলে নাকের ছিদ্রটিকে খুব বড় হতে হবে, ফলে কুৎসিত দেখাবে। নাকের দুটি ছিদ্রে পর্যায়ক্রমিকভাবে চার ঘন্টা পরপর শ্বাস পরিবর্তিত হয়ে নাকের এক এক অংশের বিশ্রাম দেওয়ার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অচিরেই অকেজো হয়ে পড়বে নাসিকা।


 * খেতে গিয়ে পাওয়া যাবে না খাদ্যের সুগন্ধ। 

*গান বন্ধ হবে চিরতরে, কেননা নষ্ট হবে সুরমাধুর্য। 


• ভাষা হবে রােবােটিক (নাক টিপে কথা বলে দেখুন)। খারাপ ডিজাইন ? ধন্য অলস্যাঙ্কি, এমন অপূর্ব ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্য।।


৪. সমবৃত্তি (বা সমসংস্থ) অঙ্গ।


 শারীরিক নৃবিজ্ঞান বইতে বলা হয়েছে, ব্যাঙের অগ্রপদ, পাখীর ডানা, বাদুড়ের ডানা, তিমির ‘অগ্রপদ’ (?) , এবং মানুষের হাতের অস্থির গঠন-কাঠামােতে মৌলিক সাদৃশ্য রয়েছে, তাই প্রমাণ হয় একটি থেকে অপরটির উদ্ভব-ভগবানের সৃষ্টি নয়।


তাহলে,চাঁপা , গন্ধরাজ, পদ্ম, গােলাপ, ডালিয়া, সূর্যমুখী, চন্দ্রমল্লিকা -এই ফুলগুলি সবই পাপড়ি দিয়ে তৈরী –এতে কি প্রমাণ হবে একটি হতে অপরটির উদ্ভব? প্রতিটি যে অনন্য শিল্প-সুষমা প্রকাশ করছে, ডিজাইন-বৈচিত্র্য প্রকাশ করছে, তা অনবদ্য শিল্পচেতনাপূর্ণ রূপকারের শৈল্পিক সৃষ্টির অভ্রান্ত স্বাক্ষর। 


ব্যাঙের হাত আর মানুষের হাতের সাদৃশ্য দেখে একটি থেকে অপরটির উদ্ভব – এমন তরল সিদ্ধান্ত করলে নারকেলের সঙ্গে তালের সাদৃশ্যও দেখা উচিত। নারী ও পুরুষের অঙ্গসৌষ্ঠব রূপবত্তার মধ্যে যে নান্দনিক ও শৈল্পিক পার্থক্য রয়েছে – তা কি শিল্প-চেতনাপূর্ণ সৃষ্টির নির্দেশক নয় ? মাছ ও পাখীদের অনন্য রঙবৈচিত্র্য, আর্টওয়ার্কের ব্যাখ্যা কি?



৫.রিক্যাপিচুলেশান তত্ব 


 মানুষ যে অনুন্নত প্রাণীদের বিবর্তিত রূপ, সেটি প্রকাশ পায় যখন মাতৃগর্ভে তার শরীর তৈরী হয় –ভ্রূণ ক্রমান্বিত বিবর্তনের ইতিহাসের বিভিন্ন দশা অভিব্যক্ত করে। মানুষ নয়, কীট-পতঙ্গ পশুপাখী-সকলের ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযােজ্য। একে বায়ােজেনেটিক ল’ -ও বলা হয়। একে বিবর্তনবাদের সপক্ষে একটি প্রমাণ বলে দাবী করেন হেকেল।


বহু যশস্বী-বিজ্ঞানী এই তত্ত্বের অসারতা প্রমাণ করেছেন। নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করলে ধরা পড়ে প্রচুর অসঙ্গতি। যেমন, বিবর্তনের সব স্তর এই ভ্রণ অভিব্যক্ত করে না, সামান্য কয়েকটি।  তাও, ক্রমগুলি প্রায়ই অসংগতিমূলক (wrong order)। যেমন মানুষের ভ্রূণে হৃৎপিন্ড প্রথমে দুটি নিলয় দিয়ে শুরু হয়। তারপর কিছু সময় পর সংযুক্ত হয়ে একটিতে পরিণত হয়, পরে চারটিতে বিভক্ত হয়। সিকোয়েন্স মিলছে না। তাছাড়া, প্রকৃতিতে লক্ষ লক্ষ দৃষ্টান্ত  রয়েছে, যেখানে অসঙ্গতিগুলি হিমালয়ের মতো অলঙ্ঘ্য। যেমন প্রজাপতির ডিম, লাভা, পিউপা এবং আকস্মিকভাবে গুটি থেকে বেরিয়ে আসা পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি বিবর্তনের ইতিবৃত্তের সংগে সম্পূর্ণ সঙ্গতিবিহীন। তাছাড়া কেন কেবল সামান্য কয়েকটি দশা ভ্রূণে দেখা যায়, অবশিষ্টগুলি কোথায় ? তার Process of Evolution বইয়ে জীববিজ্ঞানী পল আর. এরলিচ লিখেছেন, “The shertcomings of this theory have been almost Universally pointed out by modern authors, but the idea still has a prominent place in biological mythology” অর্থাৎ “আধুনিক তাত্ত্বিকগণ প্রায় বিশ্বজনীনভাবে এই তত্ত্বের সীমাবদ্ধতাগুলােকে তুলে ধরছেন, কিন্তু জীববৈজ্ঞানিক রূপকথাকাহিনীতে এখনাে এই ধারণাটির বিশিষ্ট স্থান রয়েছে।


 তাছাড়া, হেকেল তাঁর “অটোজনি রিপিটস্ ফাইলােজনি” তত্ত্ব প্রমাণ করতে তার ন্যাচারাল হিস্ট্রি অব ক্রিয়েশান’ বইয়ের ২৪২ পৃষ্ঠায় যে কুকুর, বানর ও মানুষের ভুণের উডকাটিং -এর চিত্র দেন, সেগুলির অভিন্নতা বােঝানাের জন্য, পরে সেই কাজগুলি যে ‘fake' বা নকল ছিল, বিজ্ঞানী রুটি মেইয়ার ও হিস্ তা প্রমাণ করেন।


 ঐ উড়কাটগুলি হেকেল একটির আদলে অন্য দুটি প্রিন্ট করিয়ে তৈরী করিয়েছিলেন। আধুনিক জীববিজ্ঞানে ঐ তিনটি জীবের ভ্রূণের পার্থক্য সুস্পষ্ট। জেনেটিক কোডের ভিন্নতাই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন, হাজার হাজার নিখুঁত বৈশিষ্ট্যের জীবের দেহগঠনের জন্য দায়ী। কুকুর ও মানুষের অবয়বের ভিন্নতার সব সূত্র জেনেটিক কোডে। হেকেল তার তত্ত্বের বৈধতা দিতে ‘Cheating tricks’ -এর আশ্রয় নেন। মুলগতভাবে মানব ভ্রণ ও কুকুরের ভ্রূণের  প্রতিটি দশায় রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। হেকেল জিন এর নাম শােনেননি তখন।


বিস্ময়ের বিষয়, জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় হেকেল নিজে তার প্রতারণার কথা স্বীকারে বাধ্য হন; কিন্তু তিনি তার কীর্তিকে সমর্থন করেন এই যুক্তিতে যে অন্যরাও এমন করে থাকে।* তবুও, বিবর্তনের একটি প্রমাণ হিসাবে সমানে পড়ানাে চলছে হেকেলের তত্ত্ব।


* বিজ্ঞানী মাইকেল পিটম্যান ঃ “To support his case Haeckel began to fake evidence. Charged with fraud by five professors and convinced by a university at Jena, he agreed ..... drawing were forgeries; he was merely filling in and reconstructing the missing links when the evidence, was thin, and he claimed unblushingly that hundreds of the best observers and biologists he under the same charge." -Quoted in Your Secret Journey TYE -45

Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline