Page

Follow

জীবাশ্ম প্রমাণ। ফসিল রেকর্ড অন্য কথা বলে।এক প্রজাতির অন্য প্রজাতিতে বিবর্তনেরকোন নিদর্শন নেই ফসিল রেকর্ডে ।বিবর্তনবাদী ডারউইনের সমস্ত তথ্য আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে ভুল প্রমাণিত। Page-110

 

জীবাশ্ম প্রমাণ। ফসিল রেকর্ড অন্য কথা বলে।এক প্রজাতির অন্য প্রজাতিতে বিবর্তনেরকোন নিদর্শন নেই ফসিল রেকর্ডে ।বিবর্তনবাদী ডারউইনের সমস্ত তথ্য আধুনিক  বিজ্ঞানের  কাছে ভুল প্রমাণিত। 




 হার্ভার্ডের বায়ােলজি প্রফেসর আসা গ্রে’- কে লেখা একটি চিঠিতে ডারউইন লিখেছিলেন, "I am quite conscious that my speculations run quite beyond the bounds of true science, ” অর্থাৎ “আমি সম্পূর্ণ সচেতন যে আমার জল্পনাকল্পনাগুলাে পুরােপুরি প্রকৃত বিজ্ঞানের সীমারেখা ছাড়িয়ে বাইরে চলে যাচ্ছে।” 


 এখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে স্বীকার করলেন যে তার তত্ত্বটি তার নিজস্ব মানসিক জল্পনা, (My speculations'), এটি বৈজ্ঞানিক পন্থার ভিত্তিতে গৃহীত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নয়, এবং সেজন্য এটি প্রকৃতি বিজ্ঞানের পরিধির বাইরে।তার অরিজিন বইয়ের ভূমিকাতেও তিনি লিখেছেন যে জল্পনা কল্পনা ছাড়া কোন তত্ত্ব (Speculations) থিওরি হয় না।।


বিবর্তনবাদের বাস্তব প্রমাণ হিসাবে সর্বাগ্রে গ্রহণ করতে হবে জীবদেহের শিলীভূত জীবাশ্ম –ফসিল রেকর্ড। এক প্রজাতির থেকে যদি অন্য প্রজাতি বিবর্তিত হয়, সেটি এক প্রজন্মে ঘটার কথা নয়; যেমন হাতি বা জিরাফের উদ্ভব;হরিণ থেকে জিরাফের উদ্ভব হলে কোটি বছরে সেই বিবর্তন চলাকালীন নিশ্চয়ই মিলবে উভয়ের অন্তর্বর্তী পর্যায়গুলির জীবাশ্ম বা ফসিল। এইভাবে, পৃথিবীর ৮০ লক্ষ জীব প্রজাতির মধ্যে উন্নত প্রজাতিগুলি বিবর্তিত হবার ইতিহাস নিবদ্ধ থাকার কথা ফসিল রেকর্ডে। 


যদি সেই জীবাশ্ম-প্রমাণ না মেলে, তাহলে প্রমাণিত হবে যে বিবর্তন মতবাদ ডারউইনের নিজস্ব জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং তা ডারউইনের কথায় রয়ে যাবে ‘beyond the bounds of true science'- “প্রকৃত বিজ্ঞানের পরিধির বাইরে।


কিন্তু, সত্যিকার অর্থে, এমন একটি ফসিলও পাওয়া যায় নি যা দুটি প্রজাতির অবিসংবাদিত অন্তর্বর্তী যােগসূত্র (Intermediate Links)। ঐ যােগসূত্র ‘মিসিং', সেইজন্য এদের বলা হয় 'Missing Links', হারানাে যােগসূত্র। ডারউইনের সময়েই তীব্র ভাবে প্রকট হয়ে ওঠে ঐসব যােগসূত্রের অভাব এবং ডারউইন নিজেই স্বীকার করেন যে স্তরে অন্তর্বর্তী যােগসূত্রগুলি না মেলাটা তার মতবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও সিরিয়াস’ যুক্তি।।


চালস ডারউইন ঃ “The number of intermediate varieties, which have formerly existed on earth, must be truly enormous. Why is not can be urged against my theory."


ডারউইন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ভবিষ্যতে ব্যাপক খননকার্য চালালে পাওয়া যাবে অন্তত জীবাশ্মের সন্ধান। ডারউইন তাঁর তত্তের বিশাল সমস্যাটি ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ফসিল রেকর্ডের অপর্যাপ্ততার অজুহাত দেখিয়ে ঃ


 “আমি দেখছি যে পৃথিবীর ইতিহাসের এই ভূতত্ত্বগত যে রেকর্ড রক্ষিত হয়েছে তা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত চরমভাবে অপর্যাপ্ত।” তিনি ও তার অনুগামীরা অনুমান করেছিলেন যে মিলবে ঐসব নিদর্শন।।


ডারউইন খােলাখুলি স্বীকার করেছিলেন, “যদি বহুসংখ্যক প্রজাতির..........সত্যিসত্যিহ যুগপৎ একসঙ্গে জীবন শুরু করার প্রমাণ মেলে, তাহলে ঐ ঘটনা হবে বিবর্তনবাদের জন্য মারাত্মক।” তার মতবাদ উপস্থাপনার পব কেটে গেছে দেড়শতাব্দী। জীবাশ্মবিদ বা Palaentologist রা সারা পৃথিবীর ভূস্তর থেকে বের করেছেন কোটি কোটি জীবাশ্ম। এজন্য গড়ে উঠেছে নানা শাখা —যেমন জিওক্রোনােলজি, পেট্রোলজি, সেডিমেন্টাল প্যালিয়ােন্টোলজি, স্ট্রাটিগ্রাফি, প্যালিওজিওগ্রাফি, প্যালিওইকোলজি ইত্যাদি।


পৃথিবীর যাদুঘরগুলি ভরে উঠেছে ফসিলে। তাহলে এখনাে কি ঐ রেকর্ড“অপর্যাপ্ত? স্মিথােশিয়ান ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী পােটার ফিয়ের বলেন, “সারা পৃথিবীর যাদুঘরগুলিতে এখন সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ১০ কোটি জীবাশ্ম —সবগুলিই সনাক্তকৃত ও শ্রেণীবদ্ধ। সেজন্য, এ গাইড টু আর্থ-হিস্ট্রি’-তে ঘােষণা করা হয়েছে, “জীবাশ্মের সাহায্যে এখন জীবাশ্মতত্ত্ববিদেরা অতীত যুগের জীবন-ইতিহাসের এক চমৎকার চিত্র দিতে পারেন।”


তাহলে, গত দেড়শাে বছর ধরে কোটি কোটি ফসিল রেকর্ড কি বলছে ? জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ স্টিভেন স্ট্যালি তার লেখা ‘প্রিন্সিপলস অব প্যলিয়ােন্টলজি বইতে বলেন যে এই জীবাশ্মগুলি “আমাদের জৈব উৎপত্তি-সংক্রান্ত নতুন ও বিস্ময়কর সব তথ্য উপস্থাপন করছে”।


 কি এমন জিনিস ঐ ফসিল রেকর্ডে মিলেছে যা এত ‘বিস্ময়কর’?

 বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীদের যা বিস্ময়-বিমূঢ় করেছে তা হচ্ছে, এই বিপুল জীবাশ্ম ভান্ডারে সেটাই প্রকাশ করছে, যা ডারউইনের সময় থেকেই পীড়িত করেছে তাদের তত্ত্বকে:: জীব-প্রজাতিগুলির আবির্ভাব ঘটেছে হঠাৎ, সেগুলির সুদীর্ঘকাল ধরে একটির পরিবর্তন ও ক্রমবিকাশের মাধ্যমে অপরটির উদ্ভবের কোনাে প্রমাণ নেই। 


একটি মুখ্য প্রজাতি হতে অপর প্রজাতিতে রূপান্তরের অন্তর্বর্তী পর্যায় বা ট্রানজিশনাল লিংকগুলির পাওয়া যায়নি কোনাে হদিশই। “মিসিং-লিংক’গুলি’ অদ্যাবধি ‘মিসিংই’ থেকে গেছে। সুতরাং বিবর্তনবাদ অনুসারে যা প্রত্যাশিত ছিল, জীবাশ্ম-রেকর্ড হাজির করেছে তার ঠিক বিপরীত প্রমাণ।।


ন্যাচারাল সায়েন্সের প্রফেসর জন.এন.মূব তার রিপাের্টে লিখেছেন, “.১২০ জন বিজ্ঞানী সকলেই বিশেষজ্ঞ –একটি বিপুল কর্ম হাতে নিয়ে তা সমাধা করেছেন। তারা উদ্ভিদ ও প্রাণীদের প্রাপ্ত জীবাশ্মসমূহকে প্রায় ২৫০০ শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন এবং তার বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে ৩০টি অধ্যায়-যুক্ত প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার একটি বই প্রস্তুত করেছেন।



 সেখানে প্রত্যেক প্রধান ধরনের উদ্ভিদ বা প্রাণীর ইতিবৃত্ত অন্যান্য সমস্ত ধরনের প্রজাতির থেকে আলাদা, স্বতন্ত্র বলে দেখা যাচ্ছে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর শ্রেণীগুলি হঠাৎই আবির্ভূত হয়েছে বলে ফসিল রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে .....। তিমি,

বাদুড়, ঘােড়া, প্রাইমেটগণ, হাতি, খরগােশ, কাঠবিড়ালী প্রভৃতির সবগুলিই তাদের প্রথম আবির্ভাবের সময়েই পরস্পর হতে স্বতন্ত্র, পৃথক বলে দেখা যাচ্ছে, ঠিক এখন যেমন তাদের দেখা যায়।”



সুইডিশ উদ্ভিদতত্ত্ববিদ হেরিবার্ট নীলসন তার চল্লিশ বছরের রিসার্চের শেষে বর্ণনা করেছেন, “জীবাশ্ম-ভাণ্ডার এখন এতই পরিপূর্ণ যে...... প্রজাতির অন্তর্বর্তী যােগসূত্রগুলির অভাবকে এখন আর উপাদানের দুষ্প্রাপ্যতার উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। ঐ অভাব বা ঘাটতিগুলি বাস্তব, ওগুলিকে কখনােই পূরণ করা যাবে না।”


জীবাশ্মবিদদের কাছে যে সত্যিই অন্তর্বর্তী যােগসূত্রের কোন নির্ভরযােগ্য জীবাশ্ম ভান্ডার নেই, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা সায়েন্স, নেচার, বিশ্বকোষ সহ বিভিন্ন প্রথিতযশা বিজ্ঞানীদের বই, রিপাের্টে প্রকাশিত তথ্য-মন্তব্যেই সেটা পরিষ্কার।


 ১. নিউ সায়েন্টিস্ট, জানুয়ারী 15, 1981 P-129, সারা পৃথিবীর যাদুঘরে রয়েছে 10 কোটি জীবাশ্ম  “There are a hundred million fossils, all catologued and identified, in museums around the world.”

--Porter Kier


 ২. নিউ সায়েন্টিস্ট, vol-90, June, 1981, P-831 “In any case, no real evolutionist, whether gradualist or punctuationist, uses the fossil record as evidence in favour of the theory of evolution as opposed to special creation." "কোনো ক্ষেত্রেই  কোন প্রকৃত বিবর্তনবাদী— তা তিনি নয়া ধীরক্রমবাদী বা স্থিরলয়বাদী, যিনিই হােন - কেউই বিশেষ সৃষ্টিবাদের বিরােধিতার জন্য কোন ক্ষেত্রেই ফসিল রেকর্ডকে বিবর্তনের সপক্ষে প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করেননি (কেননা তেমন প্রমাণ আদৌ নেই)।”





Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline