Page

Follow

চোখের বর্ণনা ।। চোখের ক্যামেরা বা ল্যান্স ||ফেক্সিবল ল্যান্স ||ফটোরিসেপ্টর ||রডসেল চোখ নামক জটিল ক্যামেরা বিস্মিত ডারউইন নিজেই। Page-108

 

চোখের বর্ণনা ।। চোখের ক্যামেরা বা ল্যান্স ,ফেক্সিবল ল্যান্স ,ফটোরিসেপ্টর ,রডসেল 
চোখ নামক জটিল ক্যামেরা  বিস্মিত ডারউইন নিজেই। 



“চোখ আমাকে শীতল কাপুনি দেয়” “The eye gives me cold shudder”

– ডারউইন।



ক্যামেরা একটি জটিল মেকানিজম, যা আলােক বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যার গভীর জ্ঞানের দ্বারা মানুষ তৈরী করেছে। আমরা যে চোখ ব্যবহার করি, সেটিও একটি  আলােক সংবেদী ক্যামেরা। 2.5 সে.মি, ব্যাসের এই স্ফেরিক্যাল ক্যামেরার ডিজাইনিং রয়েছে আবার ডি.এন-এ-কোডে। সংকেতলিপি বা ব্লুপ্রিন্ট অনুসারে গর্ভস্থ অন্ধ শিশুর চোখ তৈরী হয়। 


আমরা যদি চোখের মেকানিজম বিচার করি, তাহলে এর বিস্ময়কর জটিল টেকনােলজি আমাদের হতবাক করবে, কত জটিল ও নিখুঁত প্রক্রিয়ায় চোখ-ক্যামেরাটি কাজ করে তা জেনে আমরা বিস্মিত হতে বাধ্য হব, অথচ এইরকম জটিল চোখ ব্যবহার করছে গাধা, বিড়াল, কুকুর।


 বিশ্বের কোন বিজ্ঞানীই একটি চোখ তৈরী করতে সক্ষম নন, এজন্য বিশ্বের দেশে দেশে গড়ে তােলা হয়েছে ‘আই-ব্যাংক’, মরণােত্তর চক্ষু দানের জন্য বিজ্ঞানীরা সনির্বন্ধ আবেদন রাখেন মানুষের কাছে।


 চোখের পিছনে কি প্রযুক্তিবিদ্যা - বিজ্ঞান নেই? 

কিভাবে সেই প্রযুক্তি ‘অটোম্যাটিক্যলি’ তৈরী হয়ে যেতে পারে?



চোখ ঃ এক জটিল বৈজ্ঞানিক টেকনােলজি 


বিশদ বিবরণে যাবার আগে আমাদের এই তথ্যগুলি স্মরণ রাখতে হবে ?

বিভিন্ন জলজ ও স্থলজ কীটপােকা, পশু, পাখী-প্রজাতির বিশেষ চোখ রয়েছে—তাদের প্রয়ােজনভিত্তিক “Specific design বা সুনির্দিষ্ট গঠনকৌশল সমন্বিত চোখ-ক্যামেরা। আলােক সংবেদের অর্থোদ্ধারের জন্য মস্তিষ্কে যে সফ্টওয়ার ডেটাবেস প্রয়ােজন, তা বিভিন্ন প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন চোখ-ক্যামেরা ও আলােক রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, প্রতিবিম্ব বা প্রতিচ্ছবি তৈরী,সাতটি আলােক রশ্মির বর্ণালী—ইত্যাদি আলোক  বিজ্ঞানের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ছাড়া চোখ নামক জটিল ও উন্নত প্রযুক্তির নিখুঁত ক্যামেরা সৃষ্টি সম্ভব নয়, ঠিক যেমন নিখুঁত প্রাযুক্তিক জ্ঞানের সমন্বয় ছাড়া টেলিভিশন তৈরী সম্ভবনয়। 



রেটিনায় পড়া আলােকের বর্ণচ্ছটাময় প্রতিবিম্বের হাজার হাজার বাইট তথ্যকে ১০ লক্ষ অপটিক স্নায়ুর কেবলের মাধ্যমে ইলেকট্রিক সংকেতের সাহায্যে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেওয়া, এবং মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট দর্শন কেন্দ্রে দেখার সেনসেশন সৃষ্টি এক জটিল ও সুসমন্বিত প্রক্রিয়া – ধাপে ধাপে বিবর্তনে এর সৃষ্টি কষ্টকল্পনার চূড়ান্ত নিদর্শন স্বীকারােক্তি খােদ ডারউইনেরই।


মানুষের চোখে ব্যবহৃত প্রযুক্তি।


 ১. ফেক্সিবল লেন্স :: ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিকে এসে আলােক বিজ্ঞান পড়ে জানতে পারে লেন্সের কথা। কয়েকশাে বছর পূর্বে গ্যালিলিওর সময়ে মানুষ  লেন্স সম্বন্ধে জানতে পেরে তা দিয়ে চশমা, দুরবীন তৈরী করতে শুরু করে। অথচ মানুষেরই  চোখে ব্যবহৃত হয়েছে, স্বচ্ছ একটি লেন্স, লিগামেন্ট দিয়ে যা ঝােলানাে, এবং যেটি বস্তুর ফোকাস নিখুত করার জন্য লিগামেন্টের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক দূরত্বে এগােতে বা পিছাতে থাকে। 



আমাদের চোখের লেন্সের ব্যাস 11 মিলিমিটার, মাঝখানের পুরুত্ব 3.6 - 3.9 mm – মাপের সূক্ষ্মতা লক্ষ করুন। হেরফের হলে চোখে ঝাপসা দেখবেন। কিভাবে আপনা থেকে জাপানী নিকন ক্যামেরার লেন্সের মতােই উন্নত লেন্স তৈরী হয়ে যেতে পারে? এর পর্যায়ক্রম-গুলি কি এমনকি এনসাইক্রো পিডিয়াতেও সরাসরি  স্বীকার করা হয়েছে, মানুষ সহ সমস্ত প্রাণীর  চোখেরলেন্স চলচ্চিত্রের ক্যামেরার মতােই কাজকরে থাকে । "....The lens of the eye forms an inverted image of objects in front of it on the sensitive retina, which corresponds to the film in a retina" (Encrata Encyclopedia). 


২. ফোটো-রিসেপটর বা আলােক-গ্রাহক রেটিনা ঃ 


সাতটি স্নায়ু -স্তর ও দুটি সীমান্ত পর্দা দিয়ে তৈরী এই রেটিনা বা অক্ষিপট ছাড়া দেখা অসম্ভব। রেটিনায় রয়েছে অজস্র আলােক সংবেদক বা ফোটো রিসেপটার সেল, গ্যাংলিয়ন সেল আট থেকে দশ লক্ষ এবং রড  ও  কোণ সেল। প্রতিটি কোণ কোষ একটি করে নার্ভ-ফাইবার বা স্নায়ু -তন্তুরসংগে সংযুক্ত, আর রড-কোষগুলাে কিছু সন্নিবিষ্ট হয়ে একটি ইমেজের সাধারণ অঞ্চলের স্টিমুলি বা সংবেদ  তৈরী করে। সব মিলিয়ে একটি ডিজিট্যাল ক্যামেরার চেয়েও জটিল ও নিখুঁত প্রক্রিয়া, লক্ষ লক্ষ যন্ত্রাংশের সুসংবদ্ধ ও সুসমন্বিত ক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে তৈরী হয় বস্তুর প্রতিচ্ছবি ও ‘দর্শন। 


৩. রড-সেল ও কোণ সেল ::

সাদাকালাে টিভি আর রঙীন টিভির মধ্যে দাম, প্রযুক্তি ও উ পযযাগিতার ব্যবধান সম্বন্ধে সকলেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাদা-কালাে ও রঙীন সেলফোনেও রয়েছে দাম ও প্রযুক্তির ফারাক। চোখেও সাদা-কালাে আর রঙীন ছবি ধরার জন্য রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত প্রযুক্তি। আলােকের বর্ণহীন মৃদু ঔজ্বল্যের তারতম্যের সংবেদ বহনের জন্য রয়েছে 11,5,000 000 – অর্থাৎ সাড়ে এগারাে কোটি রড কোষ। 


রঙীন বর্ণ দেখার। জন্য রয়েছে বেগুনি রঙের রঞ্জক আয়ােডােপসিন এবং নীল রঙের রঞ্জক সায়ানপসিন। এই দুধরনের রঞ্জক বর্ণদর্শন, বীক্ষণ, তীক্ষ্মতা ও উজ্জ্বল  আলাে দর্শনের জন্য রয়েছে কোণ কোষ—সংখ্যায় 65,000,00। কোণ কোষ দিয়ে এই বর্ণ দেখার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে জন্তুজানােয়ারেরাও। লাল, সবুজও নীল—তিন ধরনের কোণ কোষ রয়েছে। কোন ল্যাবরােটেরিতে গবেষণায় উদ্ভাবন করা হয়েছিল এই মেকানিজম? ।


 ৪. অন্যান্য যন্ত্রাংশঃ 

চোখের রয়েছে আরও বহু সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম যন্ত্র ব্যবস্থা, যার বিস্তারিত বর্ণনা দিলে পুরাে একটি বই হবে।। কিছু যন্ত্রাংশ এই রকম :

• আলাের ফোকাস নিয়ন্ত্রণের জন্য আইরিশ বা কনীনিকা।। 

• রশ্মি প্রবেশের মাত্রা নির্ধারণের জন্য ক্যামেরার অ্যাপার্চারের মতাে যন্ত্র

পিউপিল বা তারারন্ধ্র। 

* তারারন্ধের ঠিক পিছনেই রয়েছে হলদ বিন্দু ম্যাকুলালুটেয়া এবং তার কেন্দ্রে রয়েছে ফেভিয়া সেন্ট্রালিস , যেখানে চলে তার সক্রিয়তা। 


*প্রতিসারক মাধ্যম স্বচ্ছ করনিয়া ; করনিয়া অস্বচ্ছ হলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়।

*ঘর্ষণ থেকে রক্ষার জন্য কনজাংকটিভা। 

• চোখকে ক্যামেরার মতো অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পরিণত করার জন্য কালাে রঞ্জক

মেলানিনপূর্ণ কোরয়েড।

*ঐ কোরয়েডকে রক্ষা করার জন্য আবরণী স্কেলেরা। 

• অ্যাকুয়াস হিউমার। 

• স্বচ্ছ প্রতিসারক ভিট্রিয়াস হিউমার। 

• চোখকে রসসিক্ত রাখার জন্য অশ্রুগ্রন্থি। 


• রড ও কোণ কোষের রােডােপসিন ও আয়ােডােপসিনের উপাদান রেটিনন, ওপসিন স্কোটোসিন, ফোটোপসিন। এগুলির নির্দিষ্ট ফাংশান বা কাজ

রয়েছে, যা ছাড়া দেখা অসম্ভব। 

• আপনার চোখে রয়েছে ১৩১,০০০,০০০ সংখ্যক ফোটো রিসেপটর

আলােক সংবেদক। অথচ চোখের ব্যাস মাত্র ২৫ মিলিমিটার।


 চোখ যখন কোন কিছু দেখে, তখন ১০ লক্ষ পয়েন্টের একটি ইমেজ বা দৃশ্য সেকেন্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগ সময়ে মস্তিষ্কে পৌছায়, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ১ কোটি পয়েন্টের ইমেজ রেটিনা প্রসেস করে মস্তিষ্কে পাঠায়।



৫. অপটিক স্নায়ু  :: 


রেটিনায় গঠিত উল্টো প্রতিবিম্বের সংকেত ধরা পড়ে আলােক সংবেদী স্নায়ুগুলির রিসেপ্টরে। লক্ষ লক্ষ স্নায়ু বা নিউরােন এখন ঐ আলােকশক্তিকে রাসায়নিক ও তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে স্নায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করে, তড়িৎপ্রবাহ যায় গুরু মস্তিষ্কের দর্শন কেন্দ্রে। সেখানে তথ্য বিশ্লেষিত হয়ে বস্তুর সােজা প্রতিবিম্বের প্রতিরূপ আমরা দেখি।


চোখ-ক্যামেরা  কিছু তথ্য 

* প্রতি সেকেন্ডে দেখার সময় রেটিনা ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি হিসাব কষে 

কমপিউটারের মতাে । 

* চোখ একই সংগে দশ লক্ষ ভিসুয়াল ইমপ্রেশান বা দর্শনানুভূতি গ্রহণ করতে

পারে।।

 * আশি লক্ষ ধরনের রঙের পার্থক্য (Color-gradlations) করতে পারে। 

* বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপের চেয়ে চোখ বেশি তথ্য গ্রহণ করতে পারে।

প্রতিবার পলক ফেললে ২০০ পেশি সঞ্চালিত হয়, এভাবে মিনিটে ২৫ বার মানুষ পলক ফেলে।

* জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চোখের আয়তন একই থাকে। জটিল এই ক্যামেরার

আয়তন ‘ফিক্সড’ ।।

 * চোখের করনিয়া সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে, কেননা

এখানে অক্সিজেনের প্রয়ােজন তীব্র। 


*কোন বস্তুকে দেখার জন্য চোখে প্রতি সেকেন্ডের দশ ভাগের ১ ভাগ সময়ে পর্যায়ক্রমিকভাবে ৪০টি প্রক্রিয়া চলে।


 * আলােক রশ্মির 1 টি ফোটন কণা রড কোষকে উদ্দীপিত করে। 

* অপটিক স্নায়ুতে স্নায়ুতন্তুর সংখ্যা-1,200,000। 


*মস্তিষ্কের কর্টেক্সের দর্শনকেন্দ্রে কোষের সংখ্যা 538,000,000।


স্টিরিও ভিশন-

 দুটি চোখে বস্তুকে সুন্দরভাবে ও ত্রিমাত্রিক দেখার জন্য – বিশেষত তৃতীয় মাত্রা বা থার্ড ডাইমেনশান —ডেপ্থ  বা গভীরতার আলােক সংবেদনের জন্য স্টিরিও ভিশন ব্যবহার প্রয়ােজন। মানুষের চোখে এই হাইটেক ব্যবস্থা থাকার জন্য মানুষ উচ্চগতিতে গাড়ী চালাতে পারে। স্টিরিও ভিশানের জন্য নিখুঁত ও জটিল ডিজাইনিং -এর প্রয়ােজন। ফোটোরিসেপটর বা সেন্সিটিভ লাইট-সেন্সর, চোখে নির্দিষ্ট মাত্রার অপটিক্যাল রেজোল্যুশন, চোখের অ্যাংগল বা কৌণিকতা, ইমেজ- ফোকাসিং এবং মস্তিষ্কের অপটিক্যাল স্নায়ু-বাহিত ইমপালস ব্যাখ্যা করার ব্যবস্থা —সব কিছুর সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত সুসমন্বয়ে তৈরী হয় স্টিরিও ভিশন মানুষের চোখে যা রয়েছে। প্রতি জোড়া ফোটোরিসেপ্টর কোনাে দৃশ্যের (Scene) )একটি আলােক বিন্দুর (One point of light) সেন্সর হিসাবে কাজ করে। কোনাে ইমেজের বহুসংখ্যার আলােক বিন্দুর জন্য তত সংখ্যক ফোটোরিসেপটর-জোড়ার প্রয়োজন হয়। মানুষের চোখের স্টিরিও ভিশনের জন্য বিভিন্ন দূরত্বে বক্রতা (Curvature) আবশ্যিক।








Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline