কলসপত্রী গাছের বিবরণ। Page-102

 কলসপত্রী  গাছের বিবরণ। 

কলসপত্রী  গাছের বিবরণ।


পাহাড়ী অঞ্চলে দেখা যায় এই কলসপত্রী গাছ বা pitcher plant, ভারতের হিমালয়ের পাদদেশ অঞ্চলে রয়েছে প্রচুর সংখ্যায়। এই গাছের পাতার ডগায় ঝােলে একটি করে ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা ঢাকনা-যুক্ত কলস।

কেন ও কিভাবে তারা তৈরী করল এই কলস? 


বিবর্তনবাদীদের উত্তর :: পার্বত্য মাটিতে নাইট্রোজেন কম থাকায় এই গাছেরা কীটপতঙ্গ ধরে তাদের দেহ থেকে নাইট্রোজেন শুষে নেওয়ার জন্য তৈরী করেছে এই ফাঁদ ।।


ব্যাখ্যা সুন্দর। কিন্তু এতে সমাধান হল ‘কেন’-র। ‘কিভাবে’-র উত্তরটা কি হবে? কিভাবে কেমন পর্যায়ে তারা এই সুন্দর ফাঁদ তৈরী করেছে? এই উত্তর অনুক্ত।।

কলসপত্রী  গাছের বিবরণ।


পর্যায়গুলি এইরকম হতেই হবেঃ কলসপত্রীদের লক্ষ লক্ষ (কিংবা কোটি কোটি) প্রজন্ম আগের পূর্বপুরুষের ছিল না কলস। নাইট্রোজেনের অভাবে প্রত্যেক দিন পীড়িত (!) হত তারা (না হলে অন্য কে?)। কারণ নিয়ে গবেষণা করে (গবেষণাগার কোথায়?) তারা নিখুঁতভাবে বুঝতে পারল, বিশেষভাবে নাইট্রোজেন উপাদানের অভাব (রসায়ন বিজ্ঞানে ডক্টরেট ছিল কেউ)। তারপর তারা দেখতে পেল (চোখ না থাকা সত্ত্বেও), পােকাদের দেহে নাইট্রোজেন রয়েছে। শুরু হল জিনের ডি.এন-এ কোডের সংকেতের পরিবর্তন ঘটিয়ে (প্রজাতির সচেতন ইচ্ছায় DNA পরিবর্তন যদিও আজগুবি) কলসের ডিজাইন তৈরী (জ্যামিতিক জ্ঞান প্রয়ােজন)।


 পাতার ডগায় তৈরী হল কলস। কিন্তু বয়ে গেছে সেখানে পােকাদের আসতে। তাই পােকাদের ভাল লাগে, এমন গন্ধ উৎপন্নকারী রাসায়নিক (কিভাবে জানল তারা এই খবর, তাদের নাক নেই) রাখতে শুরু করল তারা কলসের নীচে। পােকাদের পালানাে বন্ধ করতে তৈরী হল বিশেষ রাসায়নিকে তৈরী আঠালাে পদার্থ (পূর্বপুরুষেরা কেমিস্ট ছিল) – নির্দিষ্ট রাসায়নিকে তৈরী। 


বানানাে হল প্রতিটি কলসের উপর সঠিক মাপের সঞ্চালনক্ষম ঢাকনা (জ্যামিতি ও পদার্থবিদ্যাও তাদের করায়ত্ত ছিল)। এরপর পােকাদের ধরে কেবল নাইট্রোজেন উপাদানটি শােষণ করার জন্য বিশেষ শােষক কোষ। এত সব গাছেরা করল, করতে পারল নিজেরাই, যদিও তাদের কোন মস্তিষ্ক নেই। মস্তিষ্ক নেই, তাই বুদ্ধির প্রশ্ন ওঠে না, নেই দর্শন, ঘ্রাণ ইত্যাদি ইন্দ্রিয়। তবুও প্রয়ােজনের তাগিদেই তারা এসব করতে পারল। প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া তাদেরকে উপহার দিল এইসব তথ্য, প্রযুক্তি, ডিজাইন।


পরীক্ষাগারে যদি পােকাদের দেহ থেকে কেবল নাইট্রোজেন নিষ্কাশন করার সিস্টেম বানাতে দেওয়া হয়, পারবে না সব বিজ্ঞানের ছাত্র। প্রয়ােজন হবে গবেষণার, সরঞ্জামের। ছােট্ট একটি গাছ সেই কাজ করল কোন সরঞ্জাম, মস্তিষ্ক, দর্শন-ঘ্রাণেন্দ্রিয় ছাড়াই। বিশ্বাসযােগ্য মনে হলে বিশ্বাস করুন।।


Click Here >>>Subscribe






Comments

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner