Page

Follow

বিবর্তনবাদ ||কল্পবিজ্ঞান যখন বিজ্ঞান || অর্ধবিকশিত জীব || Page-66

 বিবর্তনবাদ ||কল্পবিজ্ঞান যখন বিজ্ঞান || অর্ধবিকশিত জীব 


 



উন্নত ও জটিল দেহগুলি যদি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনের ধারায় আপনা থেকে তৈরী হয়ে থাকে, তাহলে এটাই প্রত্যাশিত যে বহু জীব দেখা যাবে-যাদের এক বা একাধিক প্রত্যঙ্গ অর্ধবিকশিত, কেবল তৈরী হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কি দেখা যায় ? উন্নত বা অনুন্নত, প্রত্যেক প্রজাতির জীবদেহ পারফেক্ট ডিজাইনিং-এর এক অনন্য নিদর্শন।


 একটি ছােট্ট মাছি বা ফড়িংএর দেহেও রয়েছে এয়ারাে-ডাইনামিকস্ টেকনােলজি এবং ওড়ার কৌশলের এক অদ্ভুত দৃষ্টান্ত;মাছির দেহ একটি ওয়ান্ডারফুল ফ্লাইং মেশিন’(শ্রীল প্রভুপাদ) —যে কোন মুহূর্তে সে ১৮০ ডিগ্রী বাঁক নিয়ে ঘুরতে পারে, অদ্ভুত দক্ষতায় ওড়ে সে, মানুষের তৈরী কোন ফ্লাইং মেশিনের — বিমানের এই সামর্থ্য নেই। জীবদেহের প্রত্যঙ্গগুলি যদি ক্রমবিকাশের ধারায় উদ্ভূত হতাে, তাহলে কেমন দাঁড়াত বিষয়টা? 


দৃষ্টান্ত মাছের চোখ



ধরা যাক, সমুদ্রের গভীরে, কোটি কোটি বছর আগে কোন চোখহীন অন্ধ মাছের দেহে চোখ তৈরী হচ্ছে। দর্শনেন্দ্রিয় না থাকলে  আলােকের অস্তিত্ব বােঝাই সম্ভব নয়। তবুও ধরা যাক, দেখার ইচ্ছা জাগল মাছের। তখন সেই জলচর মাছের কেমন পরিবর্তন ঘটাতে হবে তার দেহ?

১-প্রথমে কোথায় চোখ হবে, তার স্থান নির্ধারণ।। 

২-মাথার খুলির নির্দিষ্ট স্থানে গহ্বর (Cavity) তৈরী।

৩-এবার আসল চোখ তৈরী — দেহে নির্দিষ্ট রাসায়নিক তৈরী করে আই-বল বা চক্ষু গােলক প্রতিফলক পর্দা বা রেটিনা, নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট মাপের লেন্স তৈরী, রড সেল ও রঙীন দেখানাের জন্য কোণ সেল তৈরী, আইরিশ, ভিট্রিয়াস হিউমার – প্রভৃতি চোখের সমস্ত জটিল যন্ত্রাংশ তৈরী।।

৪-এখানেই শেষ নয়, এরপর আলাের সংকেত মস্তিষ্কে বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। হাজার হাজার স্নায়ুগুচ্ছ –অপটিক নার্ভ তৈরী।।

৫- মস্তিষ্কে আলােক-সংবেদী লাইট-সেন্সিটিভ স্পট তৈরী – এজন্য বিশেষ ব্লেন সেলের ও কোটি কোটি নিউরােনের বিশেষ টেলিগ্রাফিক নেটওয়ার্ক গড়ে তােলা দরকার।

সব বলা হল না। প্রতিটি যন্ত্রাংশের পিছনে রয়েছে শত শত ধরনের টেকনােলজিক্যাল পারফেকশানের প্রাযুক্তিক নৈপুণ্যের মিশ্রণ। যদি কষ্টকল্পনাতেও মেনে নেওয়া হয় যে মাছের চোখ কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের ধারায় তৈরী হয়েছে, তাহলে নিশ্চয়ই এমন পর্যায়ের বহু মাছ ছিল, যাদের চোখ স্বল্প বা অর্ধবিকশিত। মিলত তাদের ফসিলও। এছাড়া প্রকৃতিতে এখনাে লক্ষ লক্ষ অনুন্নত জীব রয়েছে। এদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দেখা যেত অপূর্ণতা, বিকাশমানতা। কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলে। প্রত্যেক জীবের দেহ সম্পূর্ণ, পূর্ণাঙ্গ । একটি মশাও পূর্ণাঙ্গ, হাতিও পূর্ণাঙ্গ। কোন অঙ্গ বিকাশমান, বা অপূর্ণ নেই। সমুদ্রে বা স্থলে—কোথাও দেহের বিকৃতি (Deformity) দেখা যায় না।


আলোকবিজ্ঞানের উন্নত জ্ঞান ছাড়া চোখে লেন্সের ব্যবহার, রড বা কোণ সেল, রেটিনা, অপটিক নার্ভ ইত্যাদি উন্নত ও জটিল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্ভব নয়। মাছের কোনাে . ঠাকুরদাদা এই আই-ডিজাইনিং করে দিল, তারপর জেনেটিক কোডে লিখে রেখেছিল সেই সংকেতলিপি,বংশধারায় যাতে মিউটেশন ঘটতে ঘটতে উদ্ভব হলাে চোখের, সেটাই হতে পারে জীব বিজ্ঞানের সেরা বিস্ময়।পরে আমরা দেখব, অভিব্যক্তি মতবাদের পুরােধাপুরুষ স্বয়ং ডারউইন স্বীকার করে ফেলবেন (“I freely confess”), প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারায় আপনা থেকে চোখের উদ্ভব এক আজগুবি কল্পনা। কিন্তু সে প্রসঙ্গ পরে।


Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline