Follow

দেহাত্ম বুদ্ধি প্রসূত সমস্যা || বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববােধ ও নির্বিচার গােহত্যা, পশুহত্যাঃ পশুরা কিভিন্ন গ্রহের জীব? || Page-144

  মানবতাবাদের যথার্থ ভিত্তি 

অনেকে নানা ধর্মাচার, ধর্মের নামে সন্ত্রাস, কদাচার, মতান্ধতা আর গোঁড়ামি-কুসংস্কারের জন্য ধর্মের প্রতি বিরূপ হয়ে মানবতাবাদ, হিতবাদ প্রভৃতি মত আশ্রয় করেন। কিন্তু ভগবৎ-চেতনাবর্জিত নাস্তিকতা ও জড়বাদভিত্তিক মানবতাবাদ প্রকৃত পক্ষে এক প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। দু'একটি সীমাবদ্ধতা ঃ 

১. দেহাত্ম বুদ্ধি প্রসূত সমস্যা। 


দেহাত্মবুদ্ধি বিস্মৃত হয়ে আমি আমেরিকান’, ‘আমি রাশিয়ান’‘আমি চীনা’, ‘আমি ভারতীয়—ইত্যাদি অস্থায়ী নশ্বর দেহভিত্তিক পরিচয়ে গর্বিত হলে বিপর্যস্ত হবেই পৃথিবীর শান্তি। রাষ্ট্রসংঘ অসহায়। রাষ্ট্রসংঘের আমন্ত্রণে জেনিভা ভাষণে শ্রীল প্রভুপাদ একটি শক্ত অথচ সত্যি কথা বলেন ঃ স্বজাতীয় কুকুরেরা একত্রিত হয় ;অ্যালসেশিয়ানরা বুলডগদের দেখে তারস্বরে ঘেউ ঘেউ করে—‘এসাে না, আমরা অ্যালসেশিয়ান।

 বর্তমান রাষ্ট্রসংঘে এমন জাতীয়তাবাদী চিৎকারের  প্রাবল্য, তাই এটি ‘এ সােসাইটি অব বার্কিং ডগস’, তার চেয়ে উন্নত কিছু নয়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘই যথার্থ রাষ্ট্রসংঘ, এখানে সকলে নশ্বর দেহের ভ্রান্ত অস্থায়ী পরিচিতিতে নয়, আত্মস্বরূপের পরিচয়ে পরিচিত সকলেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিত্য সেবক, ভক্ত। তারা জলাঞ্জলি দিয়েছে তাদের জাতি-গােষ্ঠীগত দেহজ পরিচয়।। 


২. বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববােধ ও নির্বিচার গােহত্যা, পশুহত্যাঃ পশুরা কিভিন্ন গ্রহের জীব?


মানুষেরা যেমন মাতা বসুন্ধরার সন্তান, পশুপাখীরাও তেমনি ;অতএব কেবল সব মানুষ ভাই ভাই’পূর্ণাঙ্গ আদর্শ নয়। কারও ভাই নিরীহ হলে, অল্পবুদ্ধি হলে সে তাকে হত্যা করে না; তেমনি নিরীহ অবলা পশুরাও মানুষের সহমর্মিতা দাবী করে, তারা তাদের বধ্য আহার্য নয়। 

পশুদেহ ভক্ষণ হিংসা ও নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে উদরপূর্তি মানুষকে মাংসাশী পশুদের মতাে নিষ্ঠুর, সংবেদনহীন, হিংস্র করে তােলে, বিঘ্নিত হয় পরিবার, সমাজ ও বিশ্বের শান্তি।  'If you want to stop war, at first close slaughter houses' – যদি তােমরা যুদ্ধ বন্ধ করতে চাও, প্রথমে কসাইখানাগুলাে বন্ধ করাে’—রাজনীতিকদের সতর্ক করেছিলেন রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয়। 

পৃথিবী জুড়ে হাজার হাজার হাইটেক কসাইখানা প্রতিদিন পশুরক্তে ভাসছে। দুগ্ধদানকারী মাতা-স্বরূপ গাভীকে হত্যাকারী, পশুঘাতীর মানবতাবাদ এক মস্ত প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। বিশ্বে মানবতাবাদ সব দেশে আদর্শ হিসাবে গৃহীত হলেও কমছে না সামরিক খাতে মারণাস্ত্র উৎপাদনে ব্যয়- বরাদ্দ। চিন্তাগত দেউলিয়াপনার এটি প্রকৃষ্ট নিদর্শন।


 ৩. সমাজের ক্রমাবনতি অবক্ষয় ঃ প্রতিরােধ অসম্ভব।


মানবতাবাদের নামেই কদাচারী মানুষ দাবী জানাচ্ছে ‘লিভটুগেদার’, ‘অবাধ যৌনতা,‘দুই পুরুষ বা দুই নারীতে বিবাহ' ও আরও বিকৃত কদভ্যাসকে 'আইনসিদ্ধ কার, আর মানবদরদী রাজনীতিকেরা অজ্ঞ, মূর্খ  জনসাধারণের ভােট পেতে তাদের কদাচারকে নিয়ন্ত্রণ না করে আইনসিদ্ধ করছে। 

পরে আর জীবন নেই', 'যতদিন বাঁচো ভোগ কর  ‘ঋণ  করেও ঘি খাও' – এই চার্বাকীয় উপদেশ স্মরণ করে দুর্নীতিকে হাতিয়ার করেছে বিবেকবর্জিত মানুষ। 


৪. জীবনের পরম সার্থকতা লাভ অসম্ভব।


জড়বাদ মানুষকে পারমার্থিক অন্ধত্ব ও ভগবদ্বিমুখ করে তােলে, ফলে মানুষ জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হতে ভ্রষ্ট হয় —জীবনে লাভ হয় না পরম সার্থকতা – ভগবদুপলব্ধি, পরম জ্ঞান  লাভ করে শাশ্বত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া। 

মানবজীবনের ভয়ানক অপব্যবহারে ফলশ্রুতিতে অবিরাম জন্ম-মৃত্যর চক্রে আবর্তিত হতে হয়। ফলে কাউকে কেবল জড়বাদ শিক্ষা দান তার প্রতি এক ভয়ংকর হিংসাচরণ, অমানবিকতা ছাড়া আর কিছু নয়।




Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION