Follow

একটি প্রজাতি পরিবর্তিত হতে পারে অন্য প্রজাতিতে,এমন কোনাে প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব কি সত্যিই আছে? ||Page-74

 

 একটি প্রজাতি পরিবর্তিত হতে পারে অন্য প্রজাতিতে,এমন কোনাে প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব কি সত্যিই আছে? 



এইরকম কোনাে পদ্ধতির কথা কারাের জানা নেই, যার দ্বারা এক প্রজাতি রূপান্তরিত হতে পারে অন্য প্রজাতিতে। কিভাবে জীবদেহগুলি গঠিত হয়, সুপ্রজননবিদ বা জেনেটিসিস্ট এবং অণু-জীবতত্ত্ববিদেরা তা ব্যাখ্যা করতে অক্ষম। সেজন্য কিভাবে নতুন জৈব-প্রজাতিদেহের সৃষ্টি হতে পারে, তা ব্যাখ্যা করতেও তারা সমর্থ নয়।। জিনফ্যাক্টরঃ

বিবর্তনবাদীরা সাধারণভাবে অনুমান করেন যে সমস্ত জীবদেহগুলি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় জিন বা বংশানুর দ্বারা, এবং সাধারণ মানুষও তাদের কথা মেনে নেয়। কিন্তু এমন কোনাে।



প্রমাণ নেই যে ব্যাপারটি ঠিক এইরকম।। সুপ্রজননবিদেরা উদ্ভিদ ও প্রাণীর উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্লেষণ করেছেন এবং সিদ্ধান্ত করেছেন যে এই বংশগতভাবে লব্ধ বৈশিষ্ট্যগুলির ধারক বাহক হচ্ছে এমন কিছু পদার্থ, যাকে তাঁরা বলেন ‘জিন। কিন্তু, তাদের এই পরীক্ষা নিরীক্ষা যে জৈব দেহ কাঠামােগুলির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, সেই দেহরূপগুলি পূর্ব থেকেই রয়েছে; কিভাবে তাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটল, সে সম্বন্ধে কোনাে ব্যাখ্যা নেই।



উদাহরণস্বরূপ, আমরা এমন দেখতে পারি যে জিনগুলি আমাদের চোখের রঙ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু খোদ চোখগুলির উদ্ভব হলাে কিভাবে – সে সম্বন্ধে আমরা কিছু জানতে পারি না (Elasser, 1975, 120)।

জিনগুলি একটি সজীব কোষে কিছু নির্দিষ্ট অণু উৎপন্ন করে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কোন সংগঠনকারী নীতিসূত্র (Organising 'Principle) কার্যক্ষম কোষ-সমূহের প্রােটিন গুলির বিন্যাস গড়ে তােলে? এবং কোন নীতিসূত্রই বা কোষগুলিকে বিন্যস্ত করে গড়ে তােলে একটি জীব দেহ? জেনেটিক পরিব্যক্তির মিথ জিনগুলি কোন জীবদেহের বৈশিষ্ট্য-বিবরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জেনেটিক কোডে কোনাে এক পরিবর্তনের ফলে ঐ জীবদেহের কিছু গৌণ রূপান্তর আসতে পারে। সামগ্রিকভাবে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয় না কখনই। তাই আপেল, আম —স্বরূপেই আছে। জেনেটিক মিউটেশানে তৈরী হয়নি নতুন কোনাে ফল।
অতএব সারসত্য হচ্ছে কেউ এমন কোনাে পদ্ধতি জানে না যার সাহায্যে এক প্রজাতি থেকে সৃষ্টি করা যায় নতুন প্রজাতির।



‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’তত্ত্ব

 "Natural selection explains a small part of what occurs.”
—গর্ডন টেলর

 ডারউইন ব্যাখ্যা করেছেনঃ “প্রাকৃতিক নির্বাচন হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া, যা প্রতিদিন প্রতিক্ষণ সারা পৃথিবীতে জীবদেহে অর্জিত সামান্যতম প্রকরণগুলিকেও (Variation) পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করছে, যেগুলি ‘মন্দ ’ সেগুলিকে বর্জন করছে, এবং যেগুলি ভাল, সেগুলিকে যুক্ত করছে।”

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাল বৈশিষ্ট্যগুলি জীবদেহে সঞ্চারিত হচ্ছে বংশানুক্রমে, ফলে দেহ হয়ে উঠছে ক্রমশ জটিল, উন্নত এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সংগে বেশি বেশি করে অভিযােজনে সমর্থ।

কিন্তু এই অতি সরলীকৃত ব্যাখ্যা শ্রুতি মনােহর মনে হলেও তা জীবদেহের প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যাখ্যা করতে পারে না। সিকোইয়া গাছের বীজের কথাই ধরা যাক। আলপিনের মাথার মত বাতাসে ভেসে চলা বীজটিতে এমন প্রােটিন বিন্যাসগত জিনম্যাপ আছে, যাথেকে তৈরী হয় সাড়ে তিনশাে ফুট উঁচ – বিশ্বের সর্বোচ্চ গাছ, যার কাঠ থেকে পাঁচটি করে, কক্ষবিশিষ্ট ৫০টি বাড়ী তৈরী করা যায়। 

ফলতঃ, এই তত্ত্বটি কেবল ‘ব্যায়াম করলে পেশী শক্ত-সবল হয়’ –এই পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পারে; কিভাবে নিউরােণবা স্নায়ুর টেলিগ্রাফিক নেটওয়ার্ক আপনা থেকে তৈরী হল তা ব্যাখ্যা করতে পারে না। পরে আমরা দেখব, ডারউইন নিজেই স্বীকার করছেন যে এইভাবে ‘চোখ’নামক ক্যামেরার উদ্ভবের ধারণাটি ‘চরম মাত্রায় উদ্ভট’absurd to the highest degree)।

এই তত্ত্বের অসামর্থ্য ঢাকতে কিছু বিবর্তনবাদী উপস্থিত করেছেন অত্যন্ত চমকপ্রদ আরেকটি তত্ত্ব ‘পিউর চান্স’বা বিশুদ্ধ আকস্মিকতা(!)।*
আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে ক্লোরােফিল, আকস্মিক ভাবে ধীর-বিবর্তনে উদ্ভব হয়েছে ময়ূরের । কত সহজ হয়ে গেল সব কিছু! কার্যকারণহীন নির্ভেজাল আকস্মিকতা, অ্যাকসিডেন্ট, অ্যাসিডেন্ট।।


‘চান্স ভ্যারিয়েশন ফ্যাক্টরের অদ্ভুত কারসাজি। 

ডারউইনের মতে প্রজাতির উদ্ভবে ‘চান্স ভ্যারিয়েশন ফ্যাক্টর’ বা দৈবক্রমে সংঘটিত প্রকরণ তত্ত্ব এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ কোন বিশেষ প্রজাতির অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যে দু-একটি হঠাৎ পরিবর্তিত হবার সুযােগ পায়। এরই ফলে স্বতন্ত্র, ভিন্ন। প্রজাতির উৎপত্তি হয়।

কিন্তু মেণ্ডেলের বংশগতি-সূত্র এই তত্ত্বকে এক প্রবল ধাক্কা দিয়েছে। মেণ্ডেল দেখিয়েছেন, কিভাবে দেহ-বৈশিষ্ট্যগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে পরবর্তী অপত্যে সঞ্চারিত হতে থাকে – বংশানুক্রমে তা চলতে থাকে। এভাবে কাঁঠাল গাছ থেকে কাঁঠালই হতে থাকবে, আম গাছ থেকে আম। নতুন কিছু সম্পূর্ণ প্রজাতি দৈবাৎ তৈরী হয়ে যাওয়ার কোনাে সম্ভাবনা নেই। নতুন যা বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয়, তা বংশগতির সূত্র মেনেই।।

অত্যাধুনিক জিন-তত্ত্বের আলােকে ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী ডকিন্স ও হলডেনের মতে পিতা-মাতার জিন সন্তানসন্ততিতে ক্রমাগত পরিস্থিতি-উপযােগী সুক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়। আর এটাই হচ্ছে ভ্যারিয়েশন বা প্রকরণ। ভ্যারিয়েশনেব পিছনে রয়েছে জার্মপ্লাজম বা লিংকেজ ও ক্রসিংওভারের দান। ক্রসিং-ওভারের ফলে জনন কোষে বৈচিত্র্য আসে, আর তারই ফলে, তাঁদের মতে, তৈরী হয় ভ্যারিয়েশনের বুনিয়াদ। 

* জীবতত্ত্ববিদ ডেভিড রউপ ঃ “A currently important alternative to natural selection has to do with the effects of pure chance."

কিন্তু শুনতে  যতটা সহজ, এই তত্ত্ব ততটাই গােলমালে ভরা ঃ (ক) জনন কোষ উৎপাদনে কোন কোন জিনগুলি পরিবর্তিত হবে তা কেউ বলতে পারে না; (খ) ক্রসিংওভারের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া আজও অজানা, অব্যাখ্যাত; (গ) ক্রসিংওভার ক্রোমােজোমের কোথায় হবে এবং কোন জিনগুলি রিকবিন্যান্ট বা পুনঃ সংযােজন হবে তা জানা মানুষের স্বপ্নের বাইরে;(ঘ) এই ঘটনার ফলে কি কি আকৃতিগত এবং কতটা আকৃতিগত পরিবর্তন হবে তা বলা অসম্ভব; (ঙ) বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণবিহীন এই পরিবর্তনে অনাকাঙিক্ষত অসঙ্গতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনাই বেশি (চ) আকৃতিগত পরিবর্তন হলেও মাছি থেকে মাছি হবে, আর গাধা থেকে হবে গাধাই।

মােটকথা প্রকৃতিতে আজও কেউ কখনাে শকুন থেকে ময়ূর হবার মতাে ঘটনা দেখেনি; পৃথিবীর ইতিহাসে এক প্রজাতির অন্যপ্রজাতিতে রূপান্তরিত হবার তথ্য প্রমাণ নেই। অর্থাৎ শেষ-অবধি, ভ্যারিয়েশন ফ্যাক্টর নতুন প্রজাতির উদ্ভবের জন্য দায়ী নয়। তাঁর এই গােলমাল জটিলতায় ভরা তত্ত্বটি সম্বন্ধে ডারউইনের নিজের মন্তব্য ঃ “ভ্যারিয়েশন সংক্রান্ত নিয়মগুলি সম্বন্ধে আমাদের অজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর।*

এইভাবে–বিবর্তনবাদীরা কোনাে বাস্তবসম্মত কৌশল-পদ্ধতি বা মেকানিজমের হদিশ দিতে পারেননি, যার সাহায্যে উদ্ভব হতে পারে একটি প্রজাতি থেকে আরেকটি প্রজাতির। ১৯৬৬র এপ্রিলে ফিলাডেলফিয়ার উইস্টার ইনস্টিটিউটে আয়ােজিত হয় নিও ডারউইনিজম বা নয়া-ডারউইনবাদের উপর একটি সিম্পােজিয়াম। সেখানে নয়া ডারউইনবাদী গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরা সমবেত হয়েছিলেন। চারদিনের এই প্রাণবন্ত কনভেনশানে কপিউটার বিজ্ঞানী স্কুজেনবার্গার বলেন, বিবর্তন তত্ত্বের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমপিউটারগুলি এখন যথেষ্টই বড়। কিন্তু তাতে বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে এই তত্ত্ব আসলে ফিকশান কল্পবিজ্ঞান ছাড়া কিছু নয়।

মেরি ইডেন রক্তের হিমােগ্লোবিন প্রােটিন অণুর জেনেটিক ডেটা নিয়ে যে গবেষণা করেছেন, সে সম্বন্ধে বলেন যে ঘটনাচক্রে বা জিনের মিউটেশানে আপনাথেকে হিমােগ্লোবিনের উদ্ভব গাণিতিক হিসাবে দৃশ্যতই অসম্ভব; এটি দূরতম কষ্টকল্পনার একটি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, হিমােগ্লোবিনের দুটি শৃঙ্খল রয়েছে; যাকে বলা হয় আলফা ও বিটা। আলফাকে বিটাতে পরিবর্তিত করতে গেলে অন্ততঃপক্ষে ১২০ বার সুনির্দিষ্ট ক্রমে মিউটেশান ঘটা প্রয়ােজন। এইরকম পরিবর্তনের অত্যন্ত ৩৪টি ক্ষেত্রে দুটি থেকে তিনটি ডি-এন-এ নিউক্লিওটাইডে চেঞ্জওভার’ ঘটা প্রয়ােজন। তাসত্ত্বেও, ইডেন বলেন, মিউটেশানের মাধ্যমে যদি একটি মাত্র নিউক্লিওটাইডের গঠনগত পরিবর্তন ঘটে, তাহলে তার ফলে রক্ত নষ্ট হয়ে যাবে, মারা যাবে জীবটি। 

নােবেলজয়ী বিজ্ঞানী জর্জ ওয়াল্ড এ সময় উঠে দাঁড়ান, এবং বলেন যে তিনি হিমােগ্লোবিনের উপর সুবিস্তৃত গবেষণা করেছেন, এবং রিসার্চে আবিষ্কার আসে, আর তারই ফলে, তাঁদের মতে, তৈরী হয় ভ্যারিয়েশনের বুনিয়াদ। কিন্তু শুনতে  যতটা সহজ, এই তত্ত্ব ততটাই গােলমালে ভরা ঃ (ক) জনন কোষ উৎপাদনে কোন কোন জিনগুলি পরিবর্তিত হবে তা কেউ বলতে পারে না; (খ) ক্রসিংওভারের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া আজও অজানা, অব্যাখ্যাত; (গ) ক্রসিংওভার ক্রোমােজোমের কোথায় হবে এবং কোন জিনগুলি রিকবিন্যান্ট বা পুনঃ সংযােজন হবে তা জানা মানুষের স্বপ্নের বাইরে;(ঘ) এই ঘটনার ফলে কি কি আকৃতিগত এবং কতটা আকৃতিগত পরিবর্তন হবে তা বলা অসম্ভব; (ঙ) বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণবিহীন এই পরিবর্তনে অনাকাঙিক্ষত অসঙ্গতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনাই বেশি (চ) আকৃতিগত পরিবর্তন হলেও মাছি থেকে মাছি হবে, আর গাধা থেকে হবে গাধাই।

মােটকথা প্রকৃতিতে আজও কেউ কখনাে শকুন থেকে ময়ূর হবার মতাে ঘটনা দেখেনি; পৃথিবীর ইতিহাসে এক প্রজাতির অন্যপ্রজাতিতে রূপান্তরিত হবার তথ্য প্রমাণ নেই। অর্থাৎ শেষ-অবধি, ভ্যারিয়েশন ফ্যাক্টর নতুন প্রজাতির উদ্ভবের জন্য দায়ী নয়। তাঁর এই গােলমাল জটিলতায় ভরা তত্ত্বটি সম্বন্ধে ডারউইনের নিজের মন্তব্য ঃ “ভ্যারিয়েশন সংক্রান্ত নিয়মগুলি সম্বন্ধে আমাদের অজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর।*

এইভাবে–বিবর্তনবাদীরা কোনাে বাস্তবসম্মত কৌশল-পদ্ধতি বা মেকানিজমের হদিশ দিতে পারেননি, যার সাহায্যে উদ্ভব হতে পারে একটি প্রজাতি থেকে আরেকটি প্রজাতির। ১৯৬৬র এপ্রিলে ফিলাডেলফিয়ার উইস্টার ইনস্টিটিউটে আয়ােজিত হয় নিও ডারউইনিজম বা নয়া-ডারউইনবাদের উপর একটি সিম্পােজিয়াম। সেখানে নয়া ডারউইনবাদী গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরা সমবেত হয়েছিলেন। চারদিনের এই প্রাণবন্ত কনভেনশানে কপিউটার বিজ্ঞানী স্কুজেনবার্গার বলেন, বিবর্তন তত্ত্বের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমপিউটারগুলি এখন যথেষ্টই বড়। কিন্তু তাতে বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে এই তত্ত্ব আসলে ফিকশান কল্পবিজ্ঞান ছাড়া কিছু নয়।

মেরি ইডেন রক্তের হিমােগ্লোবিন প্রােটিন অণুর জেনেটিক ডেটা নিয়ে যে গবেষণা করেছেন, সে সম্বন্ধে বলেন যে ঘটনাচক্রে বা জিনের মিউটেশানে আপনাথেকে হিমােগ্লোবিনের উদ্ভব গাণিতিক হিসাবে দৃশ্যতই অসম্ভব; এটি দূরতম কষ্টকল্পনার একটি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, হিমােগ্লোবিনের দুটি শৃঙ্খল রয়েছে; যাকে বলা হয় আলফা ও বিটা। আলফাকে বিটাতে পরিবর্তিত করতে গেলে অন্ততঃপক্ষে ১২০ বার সুনির্দিষ্ট ক্রমে মিউটেশান ঘটা প্রয়ােজন। এইরকম পরিবর্তনের অত্যন্ত ৩৪টি ক্ষেত্রে দুটি থেকে তিনটি ডি-এন-এ নিউক্লিওটাইডে চেঞ্জওভার’ ঘটা প্রয়ােজন। তাসত্ত্বেও, ইডেন বলেন, মিউটেশানের মাধ্যমে যদি একটি মাত্র নিউক্লিওটাইডের গঠনগত পরিবর্তন ঘটে, তাহলে তার ফলে রক্ত নষ্ট হয়ে যাবে, মারা যাবে জীবটি। 

নােবেলজয়ী বিজ্ঞানী জর্জ ওয়াল্ড এ সময় উঠে দাঁড়ান, এবং বলেন যে তিনি হিমােগ্লোবিনের উপর সুবিস্তৃত গবেষণা করেছেন, এবং রিসার্চে আবিষ্কার করেছেন যে যদি হিমােগ্লোবিনে একটি মাত্রও পরিব্যক্তিগত পরিবর্তন (mutational change) ঘটে, তাহলে হিমােগ্লোবিন সঠিকভাবে কাজ করবে না। উদাহরণস্বরূপ, হিমােগ্লোবিনের ২৮৭টি অ্যামাইনাে অ্যাসিড অনুর একটি অণুতেও পরিবর্তন ঘটে, তাহলে সিল-সেল অ্যানিমিয়া রােগের সৃষ্টি হয়। এই রােগে আক্রান্তদের হিমােগ্লোবিনের গ্লুটামিক অ্যাসিড ইউনিট পরিবর্তিত হয়ে ভ্যালাইন ইউনিটে পরিণত হয়, সেজন্য এই রােগে আক্রান্তদের ২৫ শতাংশ মারা যায়।

এইভাবে, মিউটেশন বা ভ্যারিয়েশানের ফলে অত্যন্ত জটিল ও নিখুত শরীরের নানা যন্ত্রব্যবস্থা সমন্বিত নতুন একটি প্রজাতির উদ্ভব গাণিতিক দিক দিয়েই অসম্ভব।


Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION