Page

Follow

বৈদিক বিবর্তন তত্ব দেহের নয়, চেতনার বিবর্তন , চেতনা অনুসারে দেহ || Page-122

  বৈদিক বিবর্তন তত্ব 

দেহের নয়, চেতনার বিবর্তন

চেতনা অনুসারে দেহ



 বৈদিক বিবর্তন তত্ব অনুসারে, প্রতি জীবদেহে যে ব্যক্তিত্ব ও চেতনার কেন্দ্রীয় উৎস রয়েছে, তাকে বলা হয় আত্মা। আত্মা বিশুদ্ধ, জড়-উপাদানশূন্য, শাশ্বত চেতন বস্তু ;আত্মাই প্রকৃত ব্যক্তি, দেহটি পােশাক মাত্র। জীবাত্মার নিত্য শাশ্বত আলয় চিৎ-পরিবেশ, অর্থাৎ পূর্ণ চিন্ময় সনাতন ভগবদ্ধম। 


জড় জগতে অধঃপতিত হবার পর জীবচেতনা জড় পরিবেশে এসে কলুষিত হয়ে পড়ে। জড়জগতে চেতনার ক্রম-অভিব্যক্তির জন্য ৮৪ লক্ষ রকমের প্রজাতির জীব দেহ রয়েছে। ক্রমান্বয়ে জীবাত্মা চেতনা বিকাশের সাথে সাথে অনুন্নত থেকে উন্নত প্রজাতির জীবদেহে পরিভ্রমণ করতে থাকে। চেতনার অবস্থা অনুসারে সে নির্দিষ্ট ধরণের জীবশরীর লাভ করে থাকে। 


৮৪ লক্ষ ধরণের জীব-শরীর ব্রহ্মান্ডেব বিভিন্ন গ্রহে সবসময় রয়েছে, জীবাত্মা-সমূহ তাদের নিজ নিজ চেতনার অবস্থা অনুসারে বিভিন্ন জীবদেহে জন্মলাভ করছে। যখন পুনরায় জীবাত্মা পরমচেতন ভগবানের (পরমাত্মা) সাথে যুক্ত হবার জন্য উন্মুখ হয়, তখন তার চেতনা পূনরায় বিশুদ্ধ ও নির্মল হয়ে ওঠে, সে বিবর্তনের চরম স্তরে উন্নীত হয় ও দেহান্তে ভগবদ্ধামে ফিরে যায়। সুতরাং, বিবর্তন ঘটে দেহগুলির নয়, চেতনার। দেহগুলি সৃষ্টির সাথেই প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন জীবাত্মা তাদের চেতনা অনুসারে দেহ লাভ করে।



সমগ্র বিশ্বে ভগবদ্গীতাই একমাত্র শাস্ত্র যেখানে পরমপুরুষ পরমেশ্বর ভগবান সরাসরি কথা বলেছেন। ভগবদ্গীতায় তিনি বলেন যে সমস্ত জীব-প্রজাতির দেহগুলি, তার বহিরঙ্গা শক্তি (External potency) জড়া প্রকৃতি অধ্যক্ষতায় সৃষ্টি করে থাকে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্গীতায় বলেন।।



ময়াধ্যক্ষেণ প্রকৃতিঃ সূয়তে সচরাচরম্।

হেতুনানেন কৌন্তেয় জগবিপরিবর্ততে।।।


 “হে কৌন্তেয়, আমার অধ্যক্ষতার দ্বারা ত্রিগুণাত্মিকা মায়া এই চরাচর বিশ্ব সৃষ্টি করে। প্রকৃতির নিয়মে এই জগৎ পুনঃ পুনঃ সৃষ্টি হয় এবং ধ্বংস হয়।” সচর —অর্থাৎ জঙ্গম বা চলৎশক্তিসম্পন্ন জীব –পশু, পাখী, মানুষ। অচরম, স্থাবর, যেসব জীব চলতে পারে না। প্রকৃতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অধ্যক্ষতায় ৮৪ লক্ষ জীব প্রজাতির জড় দেহ, ভৌতিক জড় দেহগুলি প্রকাশ করে থাকে। প্রকৃতি-রূপ মাতার গর্ভে ভগবান শ্রীকৃষ্ণই চিন্ময় অজড় আত্মারূপ বীজ-সমূহকে তার দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে প্রােথিত করেন, সেজন্য তিনিই সমস্ত জীব-প্রজাতির পিতা। “অহং বীজপ্রদঃ পিতা, শ্রীকৃষ্ণ ভগবদগীতায় (১৪/4) বলেন। কেন তাহলে বিভিন্ন জীব উচ্চ-নীচ বিভিন্ন প্রজাতিদেহে জন্মায় ?প্রকৃতির তিনটি গুণের (সত্ত্ব- রজ-তম) বিভিন্ন মাত্রার সঙ্গে সংস্পর্শবশতঃ 


‘কারণং গুণসঙ্গেহস্য সদসদ যােনিজন্মসু (ভ.গী ১৩.২২)।


 প্রকৃতি একজন পােশাক প্রস্তুতকারক টেলার বা দরজীর মতাে জীবাত্মার চেতনা অনুসারে দেহগুলি সরবরাহ করে থাকে। দেহগুলি ঘটনাচক্রে তৈরী হয়ে যায় নি - এগুলি 'Fashioned by materialnature ', জড়া প্রকৃতির তৈরী। আর জড়া প্রকৃতির পরিচালক হচ্ছেন পরম নিয়ন্তা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। 


এই শ্লোকটি (১৩.২২) ব্যাখ্যা করে শ্রীল প্রভুপাদ লিখেছেন : “ভগবদগীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, পােশাক পরিবর্তন করার মতাে জীব এক দেহ থেকে আরেক দেহে দেহান্তরিত হয়। জড় দেহের প্রতি আসক্তিই হচ্ছে এই পােশাক পরিবর্তনের কারণ। জীব যতক্ষণ এই ভ্রান্ত প্রকৃতির দ্বারা মােহাচ্ছন্ন থাকে, ততক্ষণ তাকে এক দেহ থেকে আরেক দেহে দেহান্তরিত হতে হয়। 


জড় জগতের উপর আধিপত্য করার দুরাশার ফলে সে এইরকম অবাঞ্ছিত অবস্থায় পতিত হয়। জাগতিক কামনা বাসনার প্রভাবে সে কখনাে দেবতারূপে জন্মগ্রহণ করে, কখনাে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করে, কখনাে পশু, কখনাে পাখি, কখনাে জলচর প্রাণী, কখনাে পতঙ্গ,কখনাে সাধুসন্তরূপে,কখনাে পােকামাকড় রূপে জন্মগ্রহণ করে। সর্বক্ষণই এই জন্মান্তর ঘটে চলেছে এবং সর্ব অবস্থাতেই জীব মনে করছে যে, সে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার নিয়ন্তা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সর্ব অবস্থাতেই সে জড়া প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণাধীন।”

—ভগবদগীতা যথাযথ, ৩/১৩-২০ তাৎপর্য



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline