Page

Follow

একটি প্রজাতির অপর একটি প্রজাতিতে রূপান্তরিত হওয়ার কোনাে প্রত্যক্ষ, সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে কি?

 

 একটি প্রজাতির অপর একটি প্রজাতিতে রূপান্তরিত হওয়ার
কোনাে প্রত্যক্ষ, সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে কি?



 কেউ কখনাে এক প্রজাতির অপর প্রজাতিতে রূপান্তরিত হতে দেখেনি। পৃথিবীর কোনাে ইতিহাস কাব্যে এর একটিমাত্রও কোনাে নজির নেই; রেকর্ড নেই। বর্তমানে বিবর্তন স্তব্ধ:কোন প্রজাতিকেই বিবর্তিত, রূপান্তরিত হতে দেখা যাচ্ছে না। কোনাে অর্ধবিকশিত জীব-প্রজাতির খোঁজ নেই। বিবর্তন যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি বছরের ক্রমবিবর্তনের রেখে যাওয়া নিদর্শন হতাে বিপুল। ফসিল রেকর্ডে এমন কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই যে এক প্রজাতির জীব অন্য প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে, প্রজাতিগুলি সবই স্থির, স্থায়ী দেহরূপ সম্পন্ন।



প্রজনন বা সঙ্করায়ণ বিবর্তন নয়।


 বিবর্তনবাদীরা কখনাে কখনাে দাবী করেন যে তারা নতুন প্রজাতির জন্ম ঘটিয়েছেন বা প্রত্যক্ষ করেছেন। কিন্তু তাঁদের এই দাবীর ভিত্তি হচ্ছে দু'ধরনের প্রজাতিকে গুলিয়ে ফেলার কৌশল, যাদের আমরা বলতে পারি “কৃত্রিম প্রজনন বা সঙ্করায়িত প্রজাতি” এবং “বিবর্তনে উৎপন্ন প্রজাতি”। যেমন গাছের কলম তৈরীর মতাে বিভিন্ন ফুল ফল ও প্রাণীর সঙ্করায়ণ করে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে নতুন দেখতে কিছু প্রজাতি সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু এই ধরনের নতুন প্রজাতিগুলির বাহ্যিক পার্থক্য থাকলেও মূলগতভাবে তারা তাদের পিতা-মাতা প্রজাতির (Parent species) সংগে এক, এবং প্রায়ই তাদের বাহ্যিক পার্থক্য বের করা কঠিন। 


অথাৎ এরা একই প্রজাতির – নতুন কোনাে প্রজাতি নয়। যেমন হাইব্রিড পেঁপে কিংবা টমাটো আসলে পেঁপে ও টমাটোই, নতুন কোনাে প্রজাতি নয়। এমন নয় যে পেঁপে গাছের হাইব্রিডাইজেশন ঘটিয়ে চললে কয়েক প্রজন্ম পরে সেগুলি আপেল গাছ, নারকেল গাছ কিংবা তাল গাছে রূপান্তরিত হবে। পেঁপে পেঁপেই থাকবে। 


ইউরােপীয় ও ইন্ডিয়ান মানুষের বিবাহের ফলে অ্যাংলাে ইন্ডিয়ান সৃষ্টি হয় – চেহারার পার্থক্য থাকলেও এটি নতুন প্রজাতি নয়। ক্রসব্রিডিংয়ের মাধ্যমে ২০০ রকমের গােলাপ তৈরী করা যায়, কিন্তু তা গােলাপই থাকে, আপেল থেকে যায় আপেল।


এইভাবে, প্রজনন বা সঙ্করায়ন কিছু বাহ্য পরিবর্তন বা ভ্যারিয়েশন’ ঘটাতে পারে, নতুন প্রজাতি উৎপন্ন করতে পারে না। বিজ্ঞানীরা ক্রমাগতভাবে বহুবার ক্রস ব্রিডিং-এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের পরিবর্তন ঘটানাের চেষ্টা করেছেন। তাঁরা দেখতে চেয়েছেন, এইভাবে এক সময় নতুন কোনাে প্রজাতির সৃষ্টি হয় কি না। অন কল’-(On Call) এর নিবন্ধে বলা হয়েছে, “প্রজননবিদরা  দেখেছেন যে কয়েক পুরুষ পর জীবদেহের পরিবর্তন চরম সীমায় পৌঁছায়, তারপর তাদের আর কোনাে উন্নতি সাধন অসম্ভব, এবং এভাবে কোনাে নতুন প্রজাতিরও সৃষ্টি হয় না। সেজন্য, প্রজনন পদ্ধতিসমূহ বিবর্তনবাদকে সমর্থন করার পরিবর্তে খণ্ডন করছে বলে মনে হয়।




... জিনগত পরিব্যক্তি গৌণ পরিবর্তন ঘটাতে পারে, নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করতে পারে না।


বিবর্তনবাদীরা বলেন যে নূতন প্রজাতির উদ্ভবে কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে। আর এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য হচ্ছে“অ্যাকসিডেন্টাল” বা আকস্মিক পরিবর্তন, যাকে তারা বলেন ‘মিউটেশনস ’ বা পরিব্যক্তি।


 কিভাবে এই পরিবর্তনগুলির উৎপত্তি হয়? মনে করা হয় যে কোষ বিভাজনের সময়েই অধিকাংশ আকস্মিক পরিবর্তন বা পরিব্যক্তিগুলি ঘটে থাকে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে বাইরের  কিছু বিষয়ও এইরকম পরিবর্তন সূচিত করতে পারে, যেমন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, এক্স-রে রশ্মি, রাসায়নিক পদার্থ, ইত্যাদি।


 এই পরিব্যক্তি বা মিউটেশনকে জিন-ব্যবস্থা বা জেনেটিক মেশিনারিতে “অ্যাকসিডেন্ট”বলে মনে করা হয়। কিন্তু, অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে আকসিডেন্ট ক্ষতিই করে, ভাল কিছু করে না।


বিংশ শতাব্দীর গােড়া থেকে বিজ্ঞানীরা লক্ষ লক্ষ ফলের মাছি বা ফুট ফ্লাইকে এক্স-রে রশ্মির মধ্যে রেখে দেখেছেন তাদের মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু নতুন কিছুর সৃষ্টি হয়নি। ঐ ফুট ফ্লাইগুলির নানা প্রজন্ম নানা অঙ্গবিকৃতি নিয়ে জন্মেছে, তাদের পা, ডানা, দেহের বিকৃতি ঘটেছে, ঘটেছে অন্যান্য নানা শারীরিক কার্যকলাপের বিকৃতিও। এরপর ঐ পরিবর্তিত মাছিগুলি যখন মিলিত হয়েছে, তখন কয়েক প্রজন্ম পর আবার স্বাভাবিক ফুট-ফ্লাইয়ের জন্ম হতে আরম্ভ করেছে। 


এভাবে জিনগত পরিব্যক্তি দেহের বিকৃতি ঘটালেও “নতুন প্রজাতির আবির্ভাবের সংগে বিবর্তনবাদের কোনাে সম্বন্ধ নেই, কেননা বিবর্তনের মাধ্যমে উৎপন্ন প্রজাতিগুলির অবশ্যই স্বতন্ত্র দৈহিক রূপ থাকতে হবে (নিউওয়েল, ১৯৮২)। কুকুর প্রজাতির অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে নানা ধরনের কুকুর রয়েছে, ব্রিডিং বা মিউটেশন ঘটানাের পর কুকুর কুকুরই থাকে – অন্য কিছুতে পরিণত হয় না। এইভাবে, বিজ্ঞান বিষয়ক অগ্রণী পত্রিকা ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান এ মন্তব্য করা হয়েছেঃ “জীবসমূহের দেহ রূপের বিপুল বৈচিত্র্য রয়েছে, কিন্তু এক একটি প্রজাতির রূপ-বৈচিত্র্যের অনন্যতা চলতে থাকে। বংশানুক্রমে – শূকর থাকে শূকর, ওক গাছ থেকে যায় ওক গাছ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।”


*"Breeders ususally find that after a few generation, an optimum is reached beyond which further improvment is impossible, and there has been no new species formed. Breeding procedures, therefore, would seem to refuse, rather than support evolution .



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline