Page

Follow

চেতনার ক্রমবিকাশ । Page-180

  চেতনার ক্রমবিকাশ ।



 কারও চেতনা কম বিকশিত, কারাে বেশি আমরা প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতাতেই দেখতে পাই। যেমন, একজন মানুষের চেতনার সাথে একটি পশুর চেতনাগত অবস্থার পার্থক্য রয়েছে। একজন নেশাখাের মাতালের তমােভাবপূর্ণ চেতনার সাথে জগদীশ চন্দ্র বসু কিংবা রবীন্দ্রনাথের চেতনাগত অবস্থার পার্থক্য রয়েছে।' কেন এই চেতনাগত তারতম্য, বৈষম্য? 


স্কুলের শ্রেণীকক্ষে যেমন সব ছাত্র-ছাত্রীকে প্রথম স্থান অধিকারীর মতাে দক্ষ, সপ্রতিভ করে তােলা যায় না। কেন কোন মানুষ জন্ম থেকেই অসাধারণ প্রতিভাবান, অপূর্ব শিল্প-সাহিত্য-কাব্যবােধ সম্পন্ন, কেউ বা জড়ভাবাপন্ন, কম চিন্তাশক্তি সম্পন্ন ? কেন কেউ বীঠোফেন, মােৎসার্ট, রবীন্দ্রনাথ, কেউ বা নিরেট (dull), সাধারণ ?


 এর কারণ, বাইরে থেকে হাত-পায়ের আকার এক হলেও চেতনার বিকাশের স্তরের ভিন্নতা রয়েছে। কারও মধ্যে বহু বহু জন্মের বিকাশের অভিজ্ঞতা সঞ্চিত রয়েছে, কারও মধ্যে রয়েছে তামসিক আচ্ছন্নতা। 


প্রতিভা বহুজীবনের দীর্ঘঅভিজ্ঞতার ফল, উপলব্ধি জনপ্রিয় ফোর্ড কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ফোর্ডেরঃ “Genius is experience. Some seem to think that it is a gift or talent, but it is the fruit of long experience in many lives."

জিন-ডি এন-এ চেতনা উৎপন্ন করে না, চেতনা অভিব্যক্ত করতে সাহায্য করে নির্দিষ্ট আধার তৈরীর মাধ্যমে। যেমন বলা হয় মুখ মনের আয়না (Face is the mirror/ index of mind)। মনের ভাবের প্রতিফলন ঘটে মুখে। দেহের জন্য মন নয়, মনের জন্য দেহ। বাইরের স্থূল শরীরটির ভিতরে থাকে সূক্ষ্ম অদৃশ্য জড় পদার্থে তৈরী সূক্ষ্ম শরীর (Subtle body)—মন-বুদ্ধি অহংকার নামক সূক্ষ্ম উপাদানে যা তৈরী। চেতনার অবস্থা প্রতিফলিত হয় সূক্ষ্ম শরীরে, সূক্ষ্ম শরীর অভিব্যক্ত হয় স্থুল শরীররূপে। আপনি যখন ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেন, তখন স্থূল শরীরটি নিশ্চল থাকলেও সূক্ষ্ম শরীরটি সক্রিয় থাকে —চিন্তাঅনুভূতি ব্যক্তিত্ববােধ থাকে সজাগ।


 এইভাবে, যেমন শরীরের মাপ অনুসারে কোট তৈরী হয়, তেমনি সূক্ষ্ম দেহের চিন্তা-চেতনা-স্বভাব-কর্ম ও বাসনা অভিব্যক্ত হয় স্থূল দেহ রূপে। স্থূল দেহ নষ্ট হলেও সূক্ষ্ম দেহ থাকে, চিন্তা-স্বভাব-বাসনা সূক্ষ্ম দেহ বয়ে নিয়ে যায় অপর একটি দেহে। সূক্ষ্ম দেহটি মৌল জীবনীশক্তি আত্মাকে আশ্রয় করে থাকে।


 ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ দৃষ্টান্ত দিয়েছেন (১৫.৮)ঃ বায়ু যেমন ফুলের গন্ধ বয়ে নিয়ে যায়, স্থূল দেহটি ত্যাগের সময় সূক্ষ্ম শরীর আত্মাকে বহন করে নিয়ে যায় অন্য একটি দেহে। সূক্ষ্ম শরীরে বাহিত হয়। (১) পুণ্য কর্মফল (২) পাপ কর্মফল (৩) ত্রিগুণের প্রভাব (৪) জড় কামনা-বাসনা (৫) ভক্তিমূলক সুকৃতি এবং সেই অনুসারে সেই জীবসত্তা নির্দিষ্ট উপযােগী একটি প্রজাতির বিশেষ শরীর লাভ করে।


 এজন্য বিভিন্ন জীবের মধ্যে এত স্বভাবগত পার্থক্য ও তারতম্য রয়েছে।

সমস্ত জীব-প্রজাতির চেতনার অবস্থা অনুসারে তাদেরকে বৈদিক শাস্ত্রে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। 


১। আচ্ছাদিত চেতন (Consciousness-covered)—জীবাণু, উদ্ভিদ।

 ২। সংকুচিত চেতন (dormant)—কীট পতঙ্গ; জলজ।

 ৩৷ মুকুলিত চেতন (budding)— পশু পাখী 

৪। বিকশিত চেতন (developed)—মানুষ।

 ৫। পূর্ণবিকশিত চেতন (Fully blossomed)ঃ ভগবদ্ভুক্ত।


একটি পদ্মকোরক যেমন সুপ্ত অবস্থা থেকে অভিব্যক্ত হয়, তারপর ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হতে থাকে, সব শেষে সমস্ত পাপড়ি মেলে পূর্ণ প্রস্ফুটিত পুষ্পে চরম পরিণতি লাভ করে, তেমনি একটি জীব-সত্তার চেতনা এইভাবে ক্রমবিকশিত হতে থাকে এবং সেই সাথে জীবাত্মা বিভিন্ন জীব শরীরের মধ্য দিয়ে দেহান্তরিত হতে থাকে। এইভাবে সে মানব শরীরে আসে। যখন সে তার অন্তরস্থ সুপ্ত ভগবদ্ভক্তি বিকশিত করে পূর্ণ ভগবৎ চেতনাময় হয়, তখন তার চেতনা পূর্ণ বিকশিত হয়, সমাপ্ত হয় বিভিন্ন প্রজাতির জীব-দেহে তার দীর্ঘ অভিযাত্রা।



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline