Page

Follow

জড়বাদী তত্ত্বসমূহঃ ক্রমাগত পরিবর্তনশীল অসঙ্গতিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ || Page-124

  জড়বাদী তত্ত্বসমূহঃ ক্রমাগত পরিবর্তনশীল, “অসঙ্গতিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ



 স্টিফেন হকিং:-

"The theories we have so far, are  both inconsistent and incomplete."

৮ই মার্চ, ২০০৩। টেক্সাসের এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিতে চলছিল পৃথিবীর প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলােচনা সভা। ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন নাস্তিক জড়বাদী তাত্ত্বিক বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং-ও। হকিং তাঁর 'Godel and The End of Physics' শীর্ষক ভাষণে সমস্ত বিজ্ঞানীদের সামনে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, যা আধুনিক জড়বিজ্ঞানকে গর্বের সুউচ্চ গজদন্তমিনার থেকে ধূলিধূসরিত ধরণীতলে নিক্ষেপ করে।



 অকৃত্রিম সত্য উচ্চারণ করে হকিং বলেন, বিশ্বজগৎ ও আমদের অস্তিত্বের বস্তুগত বা ভৌতিক তত্ত্ব সবসময়েই অসংগতিপূর্ণ এবং অসম্পূর্ণ হতে বাধ্য, আর এ-পর্যন্ত যত তত্ত্ব আবিষ্কৃত হয়েছে, সবই এমন অসংগতিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ, এবং কোন নির্ভরযােগ্য তত্ত্বসূত্র গঠন করা হয়ত আদপেই সম্ভব নয়।


এজন্য, নােবেলজয়ী বিজ্ঞানী পদার্থবিদ চার্লস টাউনস  বলেন যে প্রকৃতপক্ষে তথাকথিত বিজ্ঞানও বিশ্বাস ছাড়া কিছু নয়: “Science itself requires faith. We don't know our logic is correct....... I have a faith that the world is what it seems like....... I can't prove it from any fundamental point of view ..... yet I have to accept a certain framework in which to operate. The idea that 'religion is faith, science is knowledge, I  think, is quite wrong. this misses the actual basic of science, which is faith. We scientists believe in the existence of the external world and the validity of our logic. We feel quite comfortable about it. Nevertheless, there are acts of faith. We cannot prove them."


গত দুশাে বছরে বিজ্ঞানে একের পর এক মতবাদ উদ্ভাবিত হয়েছে, পরে তা পরিত্যক্ত বা পরিবর্তিত হয়েছে । অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে নিউটনের মেকানিক্স বিজ্ঞানীদের ভীষণভাবে প্রভাবিত করে, কিন্তু বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে ফান্ডামেন্টাল পার্টিকলস  আবিষ্কার হওয়ার ফলে নিউটনের মেকানিকস  তত্ত্বের অসম্পূর্ণতা প্রকট হয়ে পড়ল। উদ্ভাবিত হল কোয়ান্টাম মেকানিক্স। আইনস্টাইন টাইম-স্পেসমােশান-এর জেনারেল থিওরী অব রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতার তত্ত্ব উদ্ভাবন করে চলে এলেন বিজ্ঞান জগতের পাদ-প্রদীপের আলােয়, কিন্তু তিনি নিজে ছিলেন না সন্তুষ্ট। 



আইনস্টাইনের সময় স্ট্রং ফোর্স বা উইক ফোর্স-এর তত্ত্বে অনুপ্রবেশ ঘটেনি;আইনস্টাইন বিশ্বজগতের প্রধান দুটি শক্তি গ্রাভিটি ও ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিজমকে একীভূত করে এমন একটি সমন্বিত তত্ত্ব,Unified field theory' উদ্ভাবনের চেষ্টায় তাঁর চিন্তার জগতে অভিযাত্রা চালিয়ে যান ৩০ বছর ধরে।


 তিনি আশা করেছিলেন, এই দুই শক্তি আসলে একই অন্তর্নিহিত নিয়মের প্রকাশ, আর সেই নিয়মকে সূত্রায়িত করা সম্ভব। তাঁর সেই আশা অপূর্ণ থেকে যায়। শক্তি যত সূক্ষ্ম, তার তীব্রতা, প্রচন্ডতা তত কম না হয়ে কিছু ক্ষেত্রে বেশিও হতে পারে। যেমন গ্রাভিটির চেয়ে ইলেকট্রোম্যাগনেটিজম বা তড়িৎ চৌম্বকীয় শক্তি 10^39 অর্থাৎ এক -এর পর ৩৯টি শূন্য দিলে যা হবে, তত গুণ বেশি শক্তিশালী। 


যাইহােক, পরবর্তীতে তাত্ত্বিক বিজ্ঞানীদের প্রয়াস থাকল অব্যাহত, ফলে উদ্ভাবিত হল ‘দি লুপ কোয়ান্টাম গ্রাভিটি' তত্ত্ব। এই তত্ত্বের অসম্পূর্ণতা ঢাকতে এল স্ট্রিং থিওরি, যার মূল কথা, পরমাণু কেবল হার্ড ম্যাস ইলেকট্রন-প্রােটন-নিউট্রন ইত্যাদির সমাহার নয়, প্রতি পরমাণুর মধ্যে রয়েছে অবিরাম সঞ্চারমান সূত্রাকার শক্তি বিশ্বজগৎ এই শক্তির সমন্বয়, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় বৈচিত্র্যময়। 


কিন্তু এই তত্ত্বেও অসংগতি অসম্পূর্ণতা থাকায় এল নূতন স্ট্রিং থিওরী এবং এই থিওরীর নানা বিবর্তিত রূপ;পাঁচটি String Theory আসার পর, এল সুপার স্ট্রিং থিওরি। তারপর সবশেষে এল M-Theory; এটিই সাম্প্রতিক-তম (যদিনা এই বই প্রকাশের আগে নতুন কোন তত্ত্ব হাজির হয়!)। M-Theory -তে আগের পাঁচটি সুপার স্ট্রিং তত্ত্ব সহ এগারােটি ডাইমেনসা বা মাত্রাকে এক সূত্রভূক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। M-Theory অনুযায়ী, বিগ ব্যাং থেকে বিশ্বের সৃষ্টির হয়নি, এই সৃষ্টি ও ধ্বংস চলছে অনাদি কাল ধরে, পর্যায়ক্রমিকভাবে। আর আমরা যেন ‘বড় রুটির একটি স্লাইস' বা টুকরাের মধ্যে আছি, আমাদের ব্রহ্মান্ডটি যার একটি কণিকা স্বরূপ। এইভাবে এই তত্ত্ব প্যারালাল ইউনিভার্স - তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে। অবশ্য বিশ্বের বিজ্ঞানীরা নিজেরাই স্পষ্টভাবে জানেন না এই MTheory কার্যত কি বস্তু! ‘M’ বলতে কি বােঝায় – কিসের আদ্যাক্ষর এটি ? বিজ্ঞানীরা বলছেন, M হতে পারে Mystery, Magic, Monstrous, বা Modern-এর কোন একটি, সবকটি বা কোনটাই নয় (!); অর্থাৎ নির্গলিতাৰ্থ, একে আমরা বলতে পারি ‘মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং' থিওরী, বা নিদেনপক্ষে ‘মজার থিওরী।


 বিজ্ঞান এইভাবে তার অবজেক্টিভিটি হারিয়ে হয়ে উঠছে ফিলসফি। কিন্তু এই ফিলসফি সত্য-আধারিত নয়, কল্পনা বা স্পেকুলেশান-আধারিত । আর বিপদটা সেখানেই। আপনি যদি 'Genuine Truthseeker', অকৃত্রিম সত্যসন্ধানী হন, তাহলে আপনি কি কিছু মরণশীল শােকবিহ্বল মানুষের ক্ষুদ্র মগজ-নিঃসৃত কল্পনাজালে আটকে সমাপ্ত করবেন আপনার অনুসন্ধান?


 শ্রীল প্রভুপাদ এই সমস্ত মতবাদকে বলেছেন “Mental Speculations', আর এমন মতবাদ উদ্ভাবনের প্রয়াসকে বলেছেন 'Intellectual wrangling' বা ‘বৌদ্ধিক কসরৎ। যথার্থ জ্ঞান নশ্বরদেহী, ক্ষণজীবী মরণশীল মানুষের সীমিত, জড়ভাবাপন্ন কল্পনা নির্ভর নয়; সেই জ্ঞান শাশ্বত, অপরিবর্তনীয়, চিরন্তন, পরম সত্য (Absolute Tiruth)।।



জড়বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা 

জড়বিজ্ঞান প্রকৃতপক্ষে কি?


‘বােস-শ্রীবাস্তব অ্যালজেব্রাস’-এর আবিষ্কর্তা, থার্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমী অব সায়েন্সেব ফেলাে এবং কলােরাডাে ইউনিভির্সিটির গণিতবিদ জে.এন.শ্রীবাস্তব, সুন্দরভাবে বর্তমান বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেছেন : "Science is a study of the universe around us, as it appears to us through our senses, or the extension of the senses in the form of measuring instruments. It also deals with the making of machines which can help us in what we wish to do, by helping us to do it, do it faster, do it at a larger or smaller level, or at a level of smaller precision, etc." 


অর্থাৎ, আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলির কাছে বিশ্বজগৎ যেমন প্রতিভাত হয়, বিজ্ঞান হচ্ছে তারই গবেষণা বা পর্যালােচনা। অথবা, বিজ্ঞান হচ্ছে যন্ত্রোপকরণাদি রুপে ইন্দ্রিয়গুলির বিস্তার। যেমন টেলিস্কোপ চোখ-এর কার্যক্ষমতার বিস্তার। কিন্তু বিজ্ঞান পেরােতে পারেনা ইন্দ্রিয়ের গন্ডি ; চোখ কান-নাক-জিভ-ত্বক দ্বারা অনুভূত যে জড়জগৎ, জড় বিজ্ঞান বা Malerial Science তার বাইরে যেতে পারে না কিছুতেই। সেজন্য, আইজ্যাক নিউটন আপেল নীচে পড়তে দেখে আবিষ্কার করেছিলেন গ্রাভিটি বা মাধ্যাকর্ষণ, বের করেছিলেন গ্রাভিটেশনের সুত্র (F=Gm1m2/d^2)। বিজ্ঞান এইভাবে আপেল ও গাছের প্রতিটি পরমাণুর চালচিত্র দিতে পারে। কিন্তু দিতে পারবে না এই প্রশ্নের উত্তরঃ ঐ সুন্দর আপেলটির ডিজাইনার কে?


.* "May be it is not possible to formulate the theory of a universe in a finite number of statements...... we and our models, are both part of the universe we are describing ..... One might therefore expect it to be either inconsistent or incomplete. The theories we have so far, are both inconsistent and incomplete."


-S. Hawking



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline