Page

Follow

বিবর্তন বিজ্ঞান || কিভাবে ভালুক হয়ে উঠল মস্ত তিমি।Page-61

  বিবর্তন বিজ্ঞান ;কিভাবে ভালুক হয়ে উঠল মস্ত তিমি।


 প্রাণীজগতের বৃহত্তম সদস্য তিমি জলে বাস করে। তিমিরা স্তন্যপায়ী হওয়ায় এবং বায়ুতে নিঃস্বাস -প্রশ্বাস নেওয়ায় জল থেকে তাদের উদ্ভবের গল্প তৈরী সম্ভব হয়নি; বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন ভেবেচিন্তে আবিষ্কার করেছিলেন আসল রহস্য—ভ্রমণকারী হিয়ামের কাছে তাঁর এমণ বৃত্তান্ত শুনে।



চার্লস ডারউইন ও উত্তর আমেরিকায় হিয়াম কালাে ভালুককে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চওড়া খােলা মুখে 'জলে সাঁতরাতে দেখেছেন। এইভাবে ঐ ভালুক, তিমির মতাে করে, জলে পােকামাকড় ধরে খাচ্ছিল। এমনকি এইরকম একটি চরম সম্ভাবনাহীন ক্ষেত্রেও, যদি পােকামাকড়ের যােগান অব্যাহত থাকত, আর যদি তাদের খাবার জন্য আরাে উন্নততর অভিযােজিত প্রতিযােগীরা আগে থেকেই ঐ অঞ্চলে না থাকত, তাহলে আমি এইটি দেখতে কোনই অসুবিধা বােধ করি না যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারায় ভালুকদের পরিবর্তন ঘটতে থাকল, ক্রমাগতই তারা তাদের আঙ্গিক গঠন কাঠামােয় এবং অভ্যাস-আচরণে জলমুখী হয়ে উঠতে লাগল, তাদের মুখগুলাে ক্রমশ আরাে আরাে বড় হতে থাকল, যতক্ষণ না এমন এক জীব উৎপন্ন হল যা তিমির মতাে দৈত্যাকার।”


একটি মাত্র বাক্যে তিমির উৎপত্তির বিজ্ঞানভিত্তিক ইতিবৃত্ত, থিওরি তৈরী !


"In North America the black bear was seen by Heame swimming for hours with widely open mouththus catching, like a whale, insects in the water. Even in so extreme a case as this, if the supply of insects were constant, and if better adapted competitors did not already exist in the country. I can see no difficulty in a race of bears being rendered, by natural selection, more and more acquatic in their structure and habits, with larger and larger mouths, ill a creature was produced as monstrous as a whale."

- Charles Darwin,

ডারউইনের এই স্থলের পশুর তিমিতে রূপান্তরিত হবার তত্ত্বের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক বিবর্তনবাদীরা আরাে অগ্রসর হয়েছেন এবং ঐ থিওরীকে করে তুলেছেন  আরও সহজবােধ্য ও যুক্তিগ্রাহ্য’, এবং বৈজ্ঞানিকতাময়। গাম্ভীর্যপূর্ণ মুখে তাঁরা ঘােষণা করেন, মাছ জল থেকে ডাঙ্গায় উঠে এসে হাঁটতে শুরু করার পর, তারা পূর্ণরূপে স্থলের পশুতে নিজেদের রূপান্তরিত করল, তারপর, পরবর্তীতে আরেক ধরনের স্থল-পশুতে পরিণত  হল —কিন্তু এদের কিছু উত্তরসুরী আবার জলে ফিরে গেল, তারপর তিমিতে পরিণত হল।। সেই কালপ্রিটরা কারা? কত আগের ঘটনা সেটা? 

“সিটাসিয়ানরা—যাদের মধ্যে রয়েছে তিমি, ডলফিন, এবং...... পুরােপুরি জলের পরিবেশে অভিযােজন করে নিয়েছে যখন থেকে তাদের পূর্বপুরুষেরা ৭ কোটি বছর আগে জলে ফিরে গিয়েছে। এই সিটাসিয়াস পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে অবশ্য সামান্যই প্রমাণ রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশরা (বিবর্তনবাদী) মনে করেন যে তারা ছিল সর্বভূক-প্রাণী, সম্ভবত আজকের কিছু খুর-বিশিষ্ট প্রাণীদের মতাে কেউ।”

“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছিল প্রাণীদের চলাফেরা ও শ্বাসকার্যের ধরনে। তারা পূর্বদিনের মাছের মতাে—টর্পেডাের মতাে শরীরের আকৃতি পুনরায় গ্রহণ করেছিল ,তাদের মাথা ও কাঁধের  হাড় ক্রমশঃ ছােট হতে শুরু করেছিল— যতক্ষণ না পর্যন্ত ঘাড় একেবারে বিলুপ্ত হয়ে মাথা ও দেহ সংযুক্ত হয়ে গেল। সামনের প্রত্যঙ্গগুলাে (পা-ইত্যাদি) ক্রমশঃ  ফ্লাট (চওড়া) হয়ে প্যাডেলের মতাে হল। তাদের লেজগুলি লম্বা পুচ্ছ ও পুচ্ছপাখনায়। পরিণত হল।”

“আরেকটা যে পরিবর্তন সিটাসিয়ানদের (তিমি, ডলফিন) ঘটেছিল সমুদ্রে পুনরায় প্রবেশের সময় – তা হচ্ছে তাদের নাসারন্ধের অবস্থান। উপরের চোয়ালের অবস্থান থেকে নাসারন্ধ কখনাে সামনে কখনাে পিছনে যতটা সম্ভব সরতে লাগল, যতক্ষণ না আজকে যেমন দেখা যায়, মাথার একেবারে সামনে এসে গেল —কখনাে একটি ছিদ্র, কখনাে দুটি ছিদ্রযুক্ত নাক হল তাদের।”

 এই উদ্ভাবনী প্রতিভার কাছে কি হার মানতে বাধ্য হবেন না রূপকথা লেখক রুডিয়ার্ড কিপলিং? বিজ্ঞানী মিলনারের মতে ভল্লুক নয়, খুরযুক্ত প্রাণী—গরু, হরিণ বা ভেড়া বা এমন কেউ আবার জলে ফিরে গেল— খুরযুক্ত পা-গুলাে হয়ে গেল ডানা বা পাখনা, আর লেজ হয়ে গেল তিমির লেজ, নাক চলে এল সামনে, ফুসফুস হলাে বিশাল- তিমি  একবার শ্বাস গ্রহণ করে এক ঘন্টা জলে ডুবে থাকতে পারে। তিমির লেজ কটা গরুর সমান? 


আসুন, মহাসমুদ্রের গভীরে গিয়ে তিমিকে একটু ভাল করে দেখা যাক। এনসাইক্লোপিডিয়ার তথ্য অনুসারে নীল তিমি ৩০.৫ মিটার বা ১০০ ফুট লম্বা হয়, ওজন প্রায় ১৯০ টন, ১৯০০ কুইন্টাল। স্পার্ম তিমি কিছুটা কম— ৬০ ফুট লম্বা। বিশালাকৃতি ঘরের মতাে ফুসফুসে একবার বায়ু ভরে তিমি সমুদ্রের সাড়ে তিন কিলােমিটার গভীর (নীচে) গিয়ে এক ঘন্টার বেশী সেখানে থাকতে পারে। সেই গভীর অন্ধকারে শিকারের সন্ধান পেতে ব্যবহার করে আধুনিক সাবমেরিনের মতােই Sonar Vibration‘সােনার’ শব্দতরঙ্গ। 

তিমিরা শব্দ বিনিময় করে পরস্পরের উপস্থিতি জানতে পারে, এরা যে নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দ নিঃসৃত করে , সেটি দশ কিলােমিটার দূর থেকেও শােনা যায়। তিমির মুখ এত বড় যে তার জিভের উপর ৫০ জন মানুষ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। তিমির গায়ের চামড়ার ডিজাইনিং অদ্ভুত সবই ভালুকের বিবর্তিত রূপ: জেনে রাখুন, আসলে এটি ভালুক। 

সাড়ে পাঁচ কোটি বছরের বিবর্তনে ভালুকের এই হাল। তবে দুটি জিনিস নিয়ে এই ভালুক-তিমি ইতিকথার কাহিনীকার বিজ্ঞানীরা খুব সমস্যায় পড়েন : একটি তিমির মাথার ব্লো-হােল বা পিচকারি, যা দিয়ে ৩০ ফুট জল-বাষ্পের ফোয়ারা তৈরী করে তিমি।। হট করে এই গর্ত ভালুকের মাথায় কি করে তৈরী হল তারা বুঝতে পারছেন না। দ্বিতীয় সমস্যা তিমির লেজটি হাড়বিহীন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি সুবিশাল প্রত্যঙ্গ -বিবর্তনের সংগে যার কোনাে সম্বন্ধ নেই !

 এনসাইক্লোপিডিয়া ঃ “The broad horizontal tail flukes that provide the main propulsive thrust bear no anatomical connection to the lost hind limbs, but are a separate and distinct development. They contain no bone, and owe their firm and yet flexible shape to underlying fibrous and elastic tissue."

চওড়ায় ২০-৩০ ফুট ওজনে ৩০-৪০ টনের এই বিশাল লেজের উদ্ভবের কোনাে ইতিবৃত্ত নেই; এটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, পৃথক এক অঙ্গ। তবুও, এটি ‘a separate and distinct development, ভালুকের পশ্চাদভাগের বিবর্তিত রূপ! কোনাে ঘর্ম গ্রন্থি, তৈল গ্রন্থি নেই, রােম নেই —মসৃণ রাবারের মতাে।

বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী বন্ধুরা হয়ত এই গল্প হজম করে নিতে চেষ্টার কসুর করছেন না। তবে তার আগে কলকাতা মিউজিয়ামে গিয়ে তিমির লম্বা চোয়ালটা চাক্ষুষ করে এসে ভাবুন। গরু-ঘােড়া বা ভালুকের চোয়াল বেড়ে কতটা লম্বা হতে পারে। তিমির ওপর ও নীচের চোয়ালটাই এক পাল গরুর সমান। তবে এক যাত্রায় পৃথক ফল হয়ে ছিল তাদের, না-হলে একই ভাবে জলে অভ্যস্ত হতে গিয়েও ডলফিনের হাঁসের মতাে দেখতে ক্ষুদ্র ঠোট দুটি নেহাতই বেমানান হলাে না কি? এভােল্যুশন এনসাইক্লোপিডিয়াতে (১৯৯০, পৃ-৪৮৩)। বিবর্তনবাদী-বিশেষজ্ঞ আর. মিলনার তাদের এই মহান আবিষ্কারের জন্য প্রকাশ করেছেন বিস্ময় ও গর্বঃ ।

“অভিযােজনের চরমসীমা – যেমন তিমির অভিযােজন বিস্ময়ের উদ্রেক করে কেমন করে এইরকম একটি জীব বিবর্তনের ফলে উদ্ভূত হতে পারে! কখনাে কখনাে এক পাল হাতির সম্মিলিত আকারের চেয়েও বড়, এই বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণীটি সমুদ্রজলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী (প্লাংকটন) খেয়ে বেঁচে থাকে। যেহেতু এরা বাতাসে শ্বাস নেয়, উষ্ণ রক্তযুক্ত এবং দুগ্ধ দানকারী, সেজন্য অবশ্যই প্রাচীনকালে এটি স্থলের প্রাণী ছিল, যারা জলে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু ১৫০ বছর আগেও কে ভাবতে পেরেছিলাে যে এমন রূপান্তর সত্যিই ঘটতে পারে?”

“চার্লস ডারউইন পেরেছিলেন। তিনি এক ভ্রমণকারীর লেখা বিবরণে দেখেছিলেন যে এক আমেরিকান কালাে ভালুককে “চওড়া মুখ করে তিমির মতাে করে জলে ঘন্টার পর ঘন্টা সাঁতরাতে ওপােকামাকড় খেতে দেখা গিয়েছিল”।

তবে মিলনার এনসাইক্লোপিডিয়াতে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন আসলে কালাে ভালুক তিমির পূর্বপুরুষ নয়। সেরাম প্রােটীন টেস্ট অনুসারে তিমির রক্তের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে তাে গরু, হরিণ আর ভেড়ার সঙ্গে! আর মিলনার ঃ 
"Serum protein tests were made on whales 'blood, to compare it with the bio-chemistry of other living groups. The results linked them not to bears or carnivores, but to hoofed animals (ungulates). Forerunners of whales were closely related to the ancestors of cattle,zontal tail flukes that provide the main propulsive thrust bear no anatomical connection to the lost hind limbs, but are a separate and distinct development. They contain no bone, and owe their firm and yet flexible shape to underlying fibrous and elastic tissue."

চওড়ায় ২০-৩০ ফুট ওজনে ৩০-৪০ টনের এই বিশাল লেজের উদ্ভবের কোনাে ইতিবৃত্ত নেই; এটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, পৃথক এক অঙ্গ। তবুও, এটি ‘a separate and distinct development, ভালুকের পশ্চাদভাগের বিবর্তিত রূপ! কোনাে ঘর্ম গ্রন্থি, তৈল গ্রন্থি নেই, রােম নেই —মসৃণ রাবারের মতাে।

বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী বন্ধুরা হয়ত এই গল্প হজম করে নিতে চেষ্টার কসুর করছেন না। তবে তার আগে কলকাতা মিউজিয়ামে গিয়ে তিমির লম্বা চোয়ালটা চাক্ষুষ করে এসে ভাবুন। গরু-ঘােড়া বা ভালুকের চোয়াল বেড়ে কতটা লম্বা হতে পারে। তিমির ওপর ও নীচের চোয়ালটাই এক পাল গরুর সমান। তবে এক যাত্রায় পৃথক ফল হয়ে ছিল তাদের, না-হলে একই ভাবে জলে অভ্যস্ত হতে গিয়েও ডলফিনের হাঁসের মতাে দেখতে ক্ষুদ্র ঠোট দুটি নেহাতই বেমানান হলাে না কি? এভােল্যুশন এনসাইক্লোপিডিয়াতে (১৯৯০, পৃ-৪৮৩)। বিবর্তনবাদী-বিশেষজ্ঞ আর. মিলনার তাদের এই মহান আবিষ্কারের জন্য প্রকাশ করেছেন বিস্ময় ও গর্বঃ ।

“অভিযােজনের চরমসীমা – যেমন তিমির অভিযােজন বিস্ময়ের উদ্রেক করে কেমন করে এইরকম একটি জীব বিবর্তনের ফলে উদ্ভূত হতে পারে! কখনাে কখনাে এক পাল হাতির সম্মিলিত আকারের চেয়েও বড়, এই বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণীটি সমুদ্রজলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী (প্লাংকটন) খেয়ে বেঁচে থাকে। যেহেতু এরা বাতাসে শ্বাস নেয়, উষ্ণ রক্তযুক্ত এবং দুগ্ধ দানকারী, সেজন্য অবশ্যই প্রাচীনকালে এটি স্থলের প্রাণী ছিল, যারা জলে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু ১৫০ বছর আগেও কে ভাবতে পেরেছিলাে যে এমন রূপান্তর সত্যিই ঘটতে পারে?”

“চার্লস ডারউইন পেরেছিলেন। তিনি এক ভ্রমণকারীর লেখা বিবরণে দেখেছিলেন যে এক আমেরিকান কালাে ভালুককে “চওড়া মুখ করে তিমির মতাে করে জলে ঘন্টার পর ঘন্টা সাঁতরাতে ওপােকামাকড় খেতে দেখা গিয়েছিল”।

তবে মিলনার এনসাইক্লোপিডিয়াতে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন আসলে কালাে ভালুক তিমির পূর্বপুরুষ নয়। সেরাম প্রােটীন টেস্ট অনুসারে তিমির রক্তের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে তাে গরু, হরিণ আর ভেড়ার সঙ্গে! আর মিলনার ঃ 
"Serum protein tests were made on whales 'blood, to compare it with the bio-chemistry of other living groups. The results linked them not to bears or carnivores, but to hoofed animals (ungulates). Forerunners of whales were closely related to the ancestors of cattle,
dear and sheep!” ...... - Encyclopedia of Evolution (1990) p-483 

তাহলে, তিমি-ইতিকথার উপসংহারে একবার ছবিটা মানসপটে এনে ভাল করে দেখুন : গরু (বা ভেড়া বা হরিণ – ভেবে নিন কাউকে) সাঁতরাচ্ছে সমুদ্রে – প্লাংক্টন ধরছে দক্ষতায় (ডাঙার ঘাসে অরুচি বশতঃ ), মুখ বেড়ে যাচ্ছে তার বংশধরদের। ২-৪ কোটি বছর পর — বিরাট গরু – পা দুটি অর্ধ-পাখনা, লেজ চ্যাপ্টা লম্বা ............ অর্ধ তিমি অর্ধ গরু ............। অনেকটা, সুকুমার রায়ের হাঁসজারু !

 অসহিষ্ণু বিজ্ঞানী স্টিফেন জে. গােল্ডঃ “এই অর্ধেক চোয়াল বা অর্ধেক ডানা– এতে কি ভালােটা হবে ? ...... এইসব কাহিনীগুলি ‘জাস্ট-সাে-স্টোরিস্’-এর ধারণায় তৈরী। বিবর্তনবাদ, প্রাকৃতিক ইতিকথা এগুলি কিছুই প্রমাণ করে না ........ কেবল খেয়ালখুশিমূলক কল্পনা হতে প্রসুত এইসব ধারণাগুলি আমার কাছে খুব বেশি আবেদন রাখে না।”*




Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline