Page

Follow

ইল মাছে ৬০০ ভােল্টবিদ্যুৎ তৈরীর জেনারেটার । টর্পেডাে মাছে বিদ্যুৎ ||Page-89

  ইল মাছে ৬০০ ভােল্টবিদ্যুৎ তৈরীর জেনারেটার ।



 দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নদীগুলিতে দেখা যায় ইলেকট্রিক ইল মাছ, যা বিজ্ঞানীদের কাছে এক অপরূপ বিস্ময়। মানুষ বিদ্যুতের হদিশ"মাত্র ২০০ বছর আগে পেলেও কোটি কোটি বছর এই ইল মাছ ব্যবহার করে আসছে ইলেকট্রিসিটি।


ইল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ইলেকট্রোকোরাস ইলেকট্রিকাস, আর এই নামকরণেই স্পষ্ট এই মাছের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য।


স্বভাবত শান্ত প্রকৃতির এই ইলেকট্রিক ইলের গায়ের রঙ জলপাই বাদামী, তার উপর হলুদ ফোঁটা। ওজন ২০-২৫ কেজি, দৈর্ঘ্যে ৮ ফুট পর্যন্ত হয় (অনেকটা কুচে মাছের মতাে দেখতে, তবে অনেক বড়, মােটা)। দেহের দুপাশে ও মাথার কাছে মুদ্রা বা কয়েনের মতাে জৈব ব্যাটারী-সেল পর পর কলাম বা স্তম্ভ আকারে বিন্যস্ত থাকে;আদর্শ ব্যাটারীর মতােই এই স্তম্ভগুলি পরস্পর সংযুক্ত থাকে।


 এই তড়িভান্ডার থেকে এরা প্রয়ােজন মতাে ইলেকট্রিসিটি উৎপন্ন করে;একবার ডিসচার্জে ৬০০ ভােল্ট পর্যন্ত হতে পারে। এই বিদ্যুৎ বেআমাদের বাড়ীতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সমগােত্রীয়, কিন্তু বাড়ীর বাের্ডের প্লাগের সংগে দেহের স্পর্শ ঘটলে যে পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্ হয়, তার চেয়ে ইলেকট্রিক ইলের লেজস্পর্শ করলে দ্বিগুণ বা তারও বেশি তীব্রতর শক্ অনুভূত হবে। 


এই চার্জ মানুষের মতাে বড় আকারের জীবকেও নিশ্চল করে দিতে পারে বিশেষতঃ জলে এইভাবে শক  পেলে দেহের নিশ্চলতার কারণে মৃত্যুও ঘটতে পারে। কয়েকটি ইলের সমবেত বিদ্যুৎ শকে ঘােড়ার মৃত্যু হতে দেখা গেছে। 


Life on Earth' শিরােনামের টিভি সিরিজে ডেভিড অ্যাটনবরা দেখান কিভাবে ইলেকট্রিক ইলের বিদ্যুতে একাধিক বাল্ব জ্বলে উঠছে। এই মাছের গায়ে ইলেকট্রিক রিসেপটর বা সেন্সরও থাকে, যার সাহায্যে এরা শিকার বা শত্রুর অবস্থান বুঝতে পারে, ইলেকট্রিক সংকেতে স্বজাতীয়দের সঙ্গে আদান প্রদান করে এবং জলে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করে (নেভিগেশান)।


বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে ইলেকট্রিসিটি ডিসচার্জ করার পর ইল-দেহের ব্যাটারীগুলিকে আবার রিচার্জ করার প্রয়ােজন হয়, আর ইলমাছের শরীরের মেটাবােলিজম থেকেই এই চার্জ হয়।।

ইলেকট্রিক ইল ৫০০-৬০০ ভােল্টের বিদ্যুৎ  ধারণ করলেও তাদের নিজেদের এতে ক্ষতি হয় না। এই মাছ আবার বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে, আর অক্সিজেন  গ্রহণ করার ভাস্কুলার যন্ত্রটি বসানাে আছে মুখগহ্বরের মধ্যে।‘প্রাকৃতিক নির্বাচনে’আপনা থেকে এই রকম হাই-টেক দেহের উদ্ভবের যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দেওয়া বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীর সাধ্যাতীত।”



 টর্পেডাে মাছে বিদ্যুৎ



  টর্পেডাে মাছ, বৈজ্ঞানিক নাম টর্পেডাে নােবিলিয়ানা, ৩০ কেজি থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়, লম্বায় ৫-১০ ফুট। এই মাছের মাথার দুপাশে দুটি কিডনীর মতাে যন্ত্র রয়েছে। এই যন্ত্রের মধ্যে “ইলেকট্রোড” থাকে, যা সত্যিকারের ব্যটারির মতাে কাজ করে। একটি বড় টর্পেডাে মাছ ১২০ অ্যাম্পিয়ারের ইলেকট্রিক কারেন্ট উৎপন্ন করে থাকে, যেখানে ইলেকট্রিক রে মাছ উৎপন্ন করে ৪ অ্যাম্পিয়ার, ইলেকট্রিক ইল ১ অ্যাম্পিয়ার। ইন্টারন্যাশনাল ওসিয়ানােগ্রাফিক ফাউন্ডেশানের ‘Sea Frontiers’ পত্রিকায় ইলকেট্রিক মাছের আকর্ষণীয় বিবরণ রয়েছে- “Fishes with Electric Know-How”, “Living Power Plants” প্রভৃতি প্রবন্ধে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটেও এবিষয়ে রয়েছে গবেষক বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত বিস্তর তথ্য।



Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline